পাসপোর্ট অফিসে গিয়ে নতুন অভিজ্ঞতা।।
নমস্কার বন্ধুরা
এপ্রিল মাসের ২৪ তারিখ আমার পাসপোর্ট অফিসে যাওয়ার ডেট ছিল। যেহেতু অভিজ্ঞতাটা একেবারেই নতুন তাই অনেকটা ভয় লাগছিল, আবার বেশ কিছুটা কৌতূহল হচ্ছিলাম যে কি হতে পারে সেখানে গিয়ে। আমাদের পরিবারের ভিতর আমিই প্রথম পাসপোর্ট করছি সুতরাং সব বিষয়ে অভিজ্ঞতা একেবারেই নতুন। আসলে পাসপোর্ট করার পিছনে বেশ কিছু কারণ ছিল সেটা না হয় নাই বললাম। প্রথমে পাসপোর্ট করার আগে কিছু নিয়মকানুন জেনে নিলাম যে কি কি করতে হয় এবং সেখানে কি কি ডকুমেন্টস সাবমিট করতে হয়। মোটামুটি একটা ক্যাফে তে গিয়ে পাসপোর্ট তৈরি করার জন্য ফরম ফিলাপ এবং ছবি তুলে চলে আসলাম বাড়িতে। যেদিন ফরম ফিলাপ করেছিলাম সেদিনই আসলে একটা ডেট দিয়ে দিয়েছিল অর্থাৎ ঐদিন থেকে পরবর্তী সাত দিনের ভিতরে গিয়ে পাসপোর্ট তৈরির কাজ সম্পন্ন করতে হবে। ভেবেছিলাম আরও দু এক দিন পরে যাব তবে এপ্রিলের ২৪ তারিখ বেশ ফাঁকা ছিলাম তাই সিদ্ধান্ত নিলাম ওইদিনই পাসপোর্ট অফিসে গিয়ে পাসপোর্ট এর যাবতীয় কাজ শেষ করে আসবো।
আমাদের বারাসাত থেকে সরাসরি একটা গাড়ি যায় পাসপোর্ট অফিসের সামনে। তাই সেই গাড়িতে করে চলে গেলাম পাসপোর্ট অফিসে। কিন্তু সেখানে গিয়ে বেশ খানিকটা চিন্তায় পড়ে গেলাম, যেহেতু প্রথম বার ছিল তাই পাসপোর্ট অফিস খুঁজে পাচ্ছিলাম না। পরবর্তীতে লোকজনের কাছে শুনে পাসপোর্ট অফিসের সামনে গিয়ে দেখি যে সামনের গেট বন্ধ। সুতরাং এইবার আমাকে পেছনের গেট দিয়ে যেতে হবে। পেছনের গেট আবার চিনি না, তাই লোকের কাছে শুনতে শুনতে পৌঁছে গেলাম পেছনের গেট দিয়ে পাসপোর্ট অফিসের বিল্ডিং এ। তবে সমস্যা হচ্ছিল এ রোদের ভিতর আমাকে বাইরে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছিল। কারণ আমাকে সময় দিয়েছিল দুপুর দুটো নাগাদ অর্থাৎ যখন আমার ডেট দিয়েছে ঠিক তার এক ঘণ্টা আগে ভিতরে ঢুকতে দেবে, কিন্তু আমি অনেক আগেই সেখানে পৌছে গেছিলাম। যাই হোক যথা সময়ে আমাদের ঢোকার অনুমতি পেলাম। কিন্তু ভেতরে ঢুকে আরো কিছু সময় আমাদের দাঁড়িয়ে থাকতে হলো। এদিকে আবার আরেকটা ঘটনা ঘটলো যে, আমার পাসপোর্ট তৈরির জন্য যাবতীয় ডকুমেন্টসগুলো যখন জেরক্স করে নিয়ে আসছিলাম তখন সেগুলো আচমকা এক দমকা হাওয়াতে হাত থেকে উড়ে চারিদিকে ছড়িয়ে গেল। তবে সেখানকার একজন লোক যাকে দেখে আমার খুব ভালো মনে হয়েছিল, লোকটা সেগুলো তুলে আবার আমার কাছে দিয়ে গেল।
যাইহোক ভিতরে ঢুকে একটা টোকেন নিয়ে নিলাম। তারপর কম্পিউটার স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকলাম কখন আমার নাম্বার আসবে। মোটামুটি আধাঘন্টা বসে থাকার পরেই আমার নাম এবং নাম্বার ধরে ডাক দিল। কাউন্টারে যেতেই আমাকে টুকটাক কিছু প্রশ্ন করলে এবং ডকুমেন্টস গুলো দেখাতে বলল। আমি তো প্রথম দিকে তাদের সাথে কথা বলতে ভয় পাচ্ছিলাম তাই পরবর্তীতে আমাকে কিছুটা সাহস দিয়ে বলল তোমার ভয়ের কোন কারণ নেই, তুমি সবকিছু নির্দ্বিধায় বলতে পারো। যাই হোক সেখান থেকে আমাকে কিছু প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করা হলো এবং আমার ডকুমেন্টস সব দেখতে চাইলো তারপর ক্যামেরার সামনে দাঁড় করিয়ে একটা ফটো তুলে অন্য একটা কাউন্টারে আমাকে পাঠিয়ে দিল। সেই কাউন্টারে যেতে পুনরায় আমার সমস্ত অরজিনাল ডকুমেন্টস দেখতে চাইলো আর সেগুলো দেখার পর আমাকে কিছু ব্যক্তিগত প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করল। কেন পাসপোর্ট করতে চাইছি...? কোথায় যেতে চাইছি...? এসব আর কি। যাই হোক সেসব প্রসেস শেষ হলে আমাকে পরবর্তীতে অন্য একটা কাউন্টারে পাঠিয়ে দেওয়া হলো লাস্ট চেকআপের জন্য।
এই কাউন্টার এ এসে আবার আমাকে পুনরায় সব ডকুমেন্ট রি চেক করার জন্য বের করতে বলল। আসলে বুঝতে পারছিলাম না বারবার একই জিনিস কেন জিজ্ঞাসা করছে এবং একই ডকুমেন্টস কেন বারবার দেখতে চাইছে। যাই হোক সেখান থেকে সব প্রসেস কমপ্লিট করার পর আমাকে একটা টোকেন দিয়ে দিল। যেখানে খুব সম্ভবত আমার পাসপোর্ট নাম্বার এবং কবে পাসপোর্ট পাবো সে সম্পর্কে বিস্তারিত লেখা ছিল। যদিও পুলিশ ভেরিফিকেশন কমপ্লিট না হওয়া পর্যন্ত পাসপোর্ট এর তেমন কোন মূল্য থাকেনা তাই আগে আমাকে পুলিশ ভেরিফিকেশনের জন্য একটা ডেট দিয়ে দিল। ওই দিন আমাকে থানায় গিয়ে পুলিশ ভেরিফিকেশন করতে হবে। তবে এই পুলিশ ভেরিফিকেশন নিয়ে রয়েছে আরও একটা বড় গল্প, সেটা না হয় অন্য কোন একদিন শেয়ার করব। পাসপোর্ট অফিসে গিয়ে বেশি ভালো রকম অভিজ্ঞতা হয়েছিল আমার।যেহেতু প্রথমবার ছিল তাই বেশ খানিকটা ভয়ের মধ্যে ছিলাম।
| ডিভাইস | realme 8i |
|---|---|
| ফটোগ্রাফার | @pujaghosh |
| লোকেশন | কলকাতা। |
| পোস্ট টাইপ | জেনারেল রাইটিং। |
আজ আর নয়। আজ এই পর্যন্তই শেষ করছি ।ভালো থাকবেন সকলে আর সুস্থ থাকবেন। দেখা হবে পরবর্তীতে আবারও নতুন কোনো পোস্ট নিয়ে আপনাদের মাঝে হাজির হব।
আসলে নতুন কোনোকিছু করার আগে একটু হলেও ভয় কাজ করে।কিন্তু যখন কাজ টা শেষ হয়ে যায় তখন মনে হয় এতো ভয় পাওয়ার মতো কোনো বিষয় ছিলো না,এরকম আমাদেরও হয়ে থাকে।হঠাৎ দমকা হাওয়া এসে সব কাগজ উড়ে চলে যাওয়া টা একটু ভীতির কারন ছিলো যদি গুরুত্বপূর্ণ কোনো কাগজ হাড়িয়ে যেতো তাহলে বেশ ঝামেলায় পড়তে হতো তোমাকে।যাইহোক ভয়ভীতি কাটিয়ে কাজ অনেক টা হলেও এগিয়ে গেছে বাকিটাও নিশ্চয়ই ভালোভাবেই হয়ে যাবে এই প্রত্যাশা করি।সুন্দর করে অভিজ্ঞতার কথা গুলো তুলে ধরার জন্য অনেক ধন্যবাদ বনু।পরবর্তী গল্পের অপেক্ষায় রইলাম।
অনেক সুন্দর করে একটা সুন্দর মন্তব্য করার জন্য ধন্যবাদ দিদি আপনাকে। সত্যিই আমরা অনেক সাধারন বিষয় নিয়েও অনেক ভয় পেয়ে থাকি, আসলেই সেটা নিয়ে হয়তো ভয় পাওয়ার কোনো কারণ থাকে না। তবুও প্রথমবার হিসেবে একটা ভয় কাজ করেই থাকে। একদমই তাই ,গুরুত্বপূর্ণ কাগজগুলো হারিয়ে গেলে অনেক ঝামেলায় পড়তে হতো।
আসলে নতুন কিছু জায়গাতে গেলে অনেক হিমশিম খাওয়া হয়। আপনি যেমন পাসপোর্ট বানাতে নতুন গিয়েছেন এই কারণে অনেক কিছু নতুন লাগলো সেই কারণে বুঝতে পারেন নাই। যাক সম্পূর্ণভাবে আপনি কাজগুলো সুন্দরভাবে করতে পেরেছেন এটাই ভালো লাগলো। তবে আমাদের এই দেশে ও পাসপোর্ট বানাতে অনেক কষ্ট হয়। আপনি অনেক সুন্দর করে পাসপোর্ট বানানোর অভিজ্ঞতা করেছেন। আপনার অভিজ্ঞতা আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ আপনাকে।
হ্যাঁ আপু, নতুন জায়গাতে গেলে অনেক বেশি হিমশিম খেয়ে যেতে হয় ।ঠিক সেরকমই আমার সাথে হয়েছিল, তবে ভয়ের কোন কারণ ছিল না ,পরবর্তীতে বুঝতে পারলাম। আপনাদের দেশেও দেখছি তাহলে ভালোই ঝামেলা পাসপোর্ট তৈরি করতে।
আপনি পাসপোর্ট অফিসে গিয়ে নতুন অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছেন আর এ নতুন অভিজ্ঞতা আমাদের মাঝে খুব সুন্দর ভাবে উপস্থাপন করেছেন, যা পড়ে আমার অনেক ভালো লেগেছে এবং নতুন কিছু জানতে পারলাম আপনার এ পোস্ট এর মধ্য থেকে। আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ এত সুন্দর একটি পোস্ট আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য।
আমার সাথে ঘটে যাওয়া , নতুন অভিজ্ঞতাটি আপনার ভালো লেগেছে জেনে অনেক খুশি হলাম ভাই। ধন্যবাদ আপনাকে সুন্দর মন্তব্য করার জন্য।
পাসপোর্ট অফিসে আমিও যখন প্রথমবার গেছিলাম বেশ ভয় লাগছিল। নতুন জায়গায় গিয়ে কি কি করতে হবে এই নিয়ে একটা কনফিউশন এর মধ্যে ছিলাম। দিদি আপনার যে যে অভিজ্ঞতা গুলো হলো সেগুলোর সাথে আমিও আমার অভিজ্ঞতা গুলো কানেক্ট করতে পারলাম। আমারও প্রায় একই ধরনের অভিজ্ঞতা হয়েছিল আমি যখন গেছিলাম পাসপোর্ট করার জন্য। হ্যাঁ দিদি ঠিক কথা বলেছেন পাসপোর্ট করার ক্ষেত্রে মেইন হলো পুলিশ ভেরিফিকেশন। এটা না হলে হাতে পাসপোর্ট পাওয়া যায় না।
আমার অভিজ্ঞতা গুলোর সাথে আপনার অভিজ্ঞতাগুলো কানেক্ট করতে পারলেন জেনে অনেক খুশি হলাম ভাই। ধন্যবাদ আপনাকে আমার পোস্টটি পড়ে সুন্দর মন্তব্য করার জন্য।
আপু আপনার পাসপোর্ট অফিসে গিয়ে নতুন অভিজ্ঞতার গল্প পড়ে কয়েকটি প্রশ্ন রয়ে গেল। একটি হলো কি কারনে পাসপোর্ট বানাচ্ছেন আর পুলিশ ভেরিফিকেশন নিয়ে কি গল্প ছিল। আশা করি পরেবার এগুলো জানতে পারবো। ধন্যবাদ আপু।
মূলত পাসপোর্ট বানাচ্ছি, একবার বাংলাদেশে ঘুরতে যাওয়ার জন্য। পুলিশ ভেরিফিকেশন নিয়ে ঘটনা বলতে, দীর্ঘদিন হয়ে গেল তবুও এখনো পাসপোর্ট অফিস থেকে ফোন করল না। এই নিয়ে পরবর্তীতে একটি পোস্ট লিখব ।দেখা যাক, কবে ফোন আসে?