ঝিনাইদহ ড্রিম ভ্যালি পার্ক ভ্রমণ-প্রথম পর্ব
আজ - সোমবার
হ্যালো বন্ধুরা,
আপনারা সবাই কেমন আছেন? আশা করি, সৃষ্টিকর্তার অশেষ রহমতে অনেক অনেক ভালো রয়েছেন। আমিও আপনাদের দোয়ায় অনেক ভালো রয়েছি। 'আমার বাংলা ব্লগ'এর সকল ভাইবোন বন্ধুদের কে আমার পক্ষ থেকে সালাম এবং অভিনন্দন জানিয়ে শুরু করতে যাচ্ছি আজকের নতুন একটি পোস্ট। আজ আমি আপনাদের মাঝে উপস্থিত হয়েছি ঝিনাইদহ ড্রিম ভ্যালিতে অবস্থান করা কিছু মুহূর্তের ফটোগ্রাফি নিয়ে। আশা করি সীমিত এই সময়টা আপনারা আমার সাথেই থাকবেন।
'আমার বাংলা ব্লগ' কোয়ালিটি সম্পন্ন পোস্ট |
|---|
ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজে ভর্তি পরীক্ষা শেষে ছাত্রদের নিয়ে যখন বাড়ি ফিরছিলাম তখন কিছু শিক্ষক আর ছাত্রের অভিভাবক আমার কাছে অনুরোধ জানাতে থাকলেন পথে ড্রিম ভ্যালি পার্কে যাওয়ার জন্য। আমি বলেছিলাম মাইক্রো ড্রাইভারকে আপনারা বলুন,পরে আমি দেখছি। যেহেতু স্কুল পরিচালক মাইক্রো ভাড়া করে দিয়েছিলেন তাই উনি কিছুতেই রাজি হচ্ছিলেন না। এদিকে বারোটার সময় পরীক্ষা শেষ হয়ে আমাদের কলেজ ছাড়তে একটা বেজে গেছিল। এদিকে বাসায় পৌঁছাতে আরো দেড় দু'ঘণ্টা টাইম লাগবে। তাই তাদের কথায় মাইক্রো ড্রাইভার কোনমতে রাজি হচ্ছিলেন না। পরে আমি তাকে যেয়ে বুঝিয়ে বলাই রাজি হতে পারলেন। যাই হোক পরীক্ষা দিতে এসে সামনে একটি পার্কে না প্রবেশ করে চলে যাওয়াটা সত্যি মানায় না। যেহেতু ছাত্রছাত্রীদের বায়না, যে করে পূরণ করতে হবে আমার। বাড়ির দিকে ব্যাক আসার সময় প্রায় ১০ কিলো পথ পার হয়ে এই পার্ক। পার্কে আসার পূর্বে আমাদের সামনে একটি হাতি দেখা পড়লো। এরপরই পার্কের নিকটে চলে এলাম।
Photography device: Infinix hot 11s
সোর্স
ঝিনাইদহ ড্রিম ভ্যালি পার্কের নাম পূর্বে শুনেছি কিন্তু কোনদিন আসা হয়নি আমার। যাই হোক ক্যাডেট কলেজের ভর্তি পরীক্ষার সূজকে সবাই মিলে প্রবেশ করতে পারলাম। ৯ জন মানুষ সাড়ে ৪০০ টাকা টিকিটের মূল্য অর্থাৎ যৌন প্রতি ৫০ টাকা করে টিকিট। আমি সবার থেকে টাকা তুলে টিকিট কেটে তাদের পার্কে প্রবেশের ব্যবস্থা করে দিলাম। সকলে তো খুবই আনন্দ বোধ করছিল পার্কে প্রবেশ করতে পারি। ভেতরে প্রবেশ করার পর বুঝতে পারলাম পার্ক টি অনেক বড়। তবে চিড়িয়াখানার ব্যবস্থা তেমন একটা নাই বিভিন্ন ফুল গাছ আর এই সেই দিয়ে দারুন ভাবে সাজিয়েছে পার্কটি।
Photography device: Infinix hot 11s
সোর্স
যেহেতু আমরা দুপুর টাইমে পার্কে প্রবেশ করেছিলাম তখন ফোয়ারার বৃষ্টি চালু ছিল না। যেহেতু সবগুলোই সাবমারসিবল পাম্প এর মাধ্যমে চালিত হয় তবে এটা সকাল ও বিকাল টাইমে ব্যবহার করে থাকে। জয় হোক সবাই যে যার মতো ভিতরে প্রবেশ করে ছবি উঠানোর কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়লাম। আমার মোবাইলে খুব সুন্দর ফটোগ্রাফি হয়ে থাকে তাই অনেকেই চেষ্টা করলো আমার মোবাইলে ছবি উঠার জন্য, যাদের ছবি তুলে দিয়েছিলাম এখন হোয়াটসঅ্যাপ এর মাধ্যমে তাদের মোবাইলে দিতে হচ্ছে। আমার নিজের এবং তাদের আর পার্কের বিভিন্ন স্থানের ফটোগ্রাফি মিলে কয়েকশো ফটোগ্রাফি করা হয়েছিল সাথে সেলফি। যেহেতু সময় শর্ট ছিল তাই খুব দ্রুত এদিক-ওদিক চলাচল করতে হয়েছিল। চোখের দেখা যায় হোক সর্বস্থানের ফটো আর ভিডিও করাটাই ছিল মূল উদ্দেশ্য। তবে ভিডিওগুলো ভালো উপস্থাপন করতে পারি নাই শুধু ভিডিও করা হয়েছে আর কি। ভিডিওগুলো খুব শীঘ্র আপনাদের মাঝে তুলে ধরব।
Photography device: Infinix hot 11s
সোর্স
জান্নাতুল ম্যাডাম ও রুকসানা ম্যাডামের মোবাইলের ক্যামেরা ভালো না হওয়ায় আমার সাথে চলছিল এবং ছবি তুলে দিচ্ছিল। আমাদের ছাত্রনয়ন বাইরে চলাচলে খুবই কমা গাড়িতে উঠলেই তার সমস্যা সৃষ্টি হয় তাই সে খুবই বিরক্ত ফেল করছিল পার্কে প্রবেশ করে। সে বারবার বলছিল স্যার বাসায় চলে যাব বাসায় চলে যাব। তারপরে ম্যাডামদের পাশে দাঁড় করিয়ে তাকে ফটো উঠানোর চেষ্টা করছিলাম যেহেতু ছেলেটা একটু অসুস্থ হয়ে গেছিল। পার্কের মধ্যে সাজানো বিভিন্ন পাতাবাহার আর সুন্দর পরিচর্যা করে কাউন্ট করে রাখার দৃশ্যটা আমাকে মুগ্ধ করেছে। গাছের কাটিং গুলো বেশ চমৎকার ছিল আর একটা খুবই সুন্দরভাবে পরিষ্কার করে রেখেছে পার্ক মালিক। সব মিলিয়ে আমার কাছে বেশি ভালো লেগেছিল। মনরম একটা পরিবেশ, যেখানে টিকিটের মূল্যটা মেনে নেওয়ার মতো। ভেতরে লোক সংখ্যা হাজারেরও অধিক ছিল। লক্ষ্য করেছিলাম বিভিন্ন স্থান থেকে এখানে মানুষ পিকনিকের জন্য এসেছে। বিশেষ করে স্কুল কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের সংখ্যা বেশি ছিল। সব মিলিয়ে বোধ করা একটি পার্ক বললে চলে। এদিকে আমাদের জান্নাতুল ম্যাডামকে বেশ ভালো লাগছিল। উনি খুব সুন্দর পোচ দিয়ে ছবি উঠার চেষ্টা করছিলেন। উনার মোবাইলে বেশ সুন্দর ছবি হয় তবে আমার মোবাইলের মতো ভালো নয়, যার জন্য উনি উনার মোবাইলটা হাতে রেখেই বারবার আমার মোবাইলে ছবি উঠার চেষ্টা করছিলেন। আমি যখন সুন্দর লোকেশন খুঁজে বেড়াছিলাম নিজের সেলফি উঠার জন্য হঠাৎ পিছন থেকে দেখে উনি আমাকে ডাকছেন ছবি উঠার জন্য। আর আমি যে দিকটায় যাওয়ার চেষ্টা করছিলাম উনি আমার সাথেই চলছিলেন। বিস্তারিত আলোচনা নিয়ে পরবর্তী পর্বতে উপস্থিত হব।
Photography device: Infinix hot 11s
সোর্স
💌আমার পরিচয়💌
| আমি মোঃ নাজিদুল ইসলাম (সুমন)। বাংলা মাস্টার্স ফার্স্ট ক্লাস মেহেরপুর গভমেন্ট কলেজ। আমার বাসা গাংনী-মেহেরপুর। মড়কা বাজার, গাংনী,মেহেরপুর এ গ্রীনরেইন ল্যাবরেটরি স্কুল নামক প্রি-ক্যাডেট স্কুলের সহকারি শিক্ষক । ইলেকট্রনিক্সের যন্ত্রপাতি মেরামত ও সৌর প্যানেল নিয়ে রিসার্চ করতে পছন্দ করি। প্রাকৃতিক দৃশ্য ফটোগ্রাফি করা আমার সবচেয়ে বড় ভালোলাগা। দীর্ঘদিনের আমি পাঙ্গাস মাছ চাষী এবং বিরহের কবিতা লেখতে খুবই ভালোবাসি। |
|---|
পোস্টটি পড়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।
| আমার পরিচিতি | কিছু বিশেষ তথ্য |
|---|---|
| আমার নাম | @sumon09🇧🇩🇧🇩 |
| ফটোগ্রাফি ডিভাইস | মোবাইল |
| ব্লগিং মোবাইল | Infinix hot 11s |
| ক্যামেরা | camera-50mp |
| আমার বাসা | মেহেরপুর |
| আমার বয়স | ২৬ বছর |
| আমার ইচ্ছে | লাইফটাইম স্টিমিট এর 'আমার বাংলা ব্লগ' এ ব্লগিং করা |
| পুনরায় কথা হবে পরবর্তী কোন পোস্টে, ততক্ষণ ভালো থাকবেন সবাই। আল্লাহ হাফেজ। |
|---|
সবার কথা রাখতে পেরেছেন জেনে খুব ভালো লাগলো। যাই হোক পার্কের পরিবেশ দেখে বুঝতে পারছি খুব সুন্দর একটি পার্ক। পার্কের প্রতিটা ফটোগ্রাফি অসাধারণ হয়েছে। এমন পার্কে ঘুরাঘুরি করার মজাই আলাদা। দুপুরের টাইম বলে একদমই মানুষ জন দেখা যাচ্ছে না। পার্কের নাম যেমন সুন্দর তেমনি পার্কের ভিতরের পরিবেশও দেখতে খুবই সুন্দর লাগছে। ধন্যবাদ সুন্দর কিছু মুহূর্ত আর সুন্দর সুন্দর ফটোগ্রাফি আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য।
পার্কের মধ্যে থাকা বিভিন্ন সুন্দর সুন্দর জিনিস আর এমন মনোমুগ্ধকর পরিবেশ বেশ ভালো লেগেছে আমার
ধন্যবাদ আপনাকে এমন একটা মুহূর্ত আমাদের সঙ্গে শেয়ার করার জন্য।
সবার অনুরোধ রাখতে পেরেছেন এটাই আপনার সার্থকতা। পার্কের ভেতরে ফটোগুলো অনেক সুন্দর হয়েছে। অনেক মজা করেছেন সবাই।
হাজার হলোও তারা প্রাণপ্রিয় ছাত্র
ড্রিম ভ্যালি পার্কের ভেতরের পরিবেশ দেখে অনেক ভালো লাগল। আপনারা যেহেতু বাচ্চাদের পরিক্ষা দেওয়াতে নিয়ে গেছেন,তাই সবাই পার্কে যাবে।যাইহোক সবার আবদার রেখেছেন জেনে অনেক ভালো লাগল। আশাকরি পার্কের ভিডিও তারাতাড়ি আমরা দেখতে পাব।আপনাকে অনেক ধন্যবাদ সুন্দর মূহুর্ত আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য।
চেষ্টা করেছিলাম সবার মুখে হাসি রাখার।
ঝিনাইদাহের এই পার্ক সম্পর্কে এর আগেও আমাদের কমিউনিটিতে পোস্ট পড়েছি। তবে বাড়ির পাশে হওয়ার পরেও এখনো যাওয়া হয়নি। ছাত্র-ছাত্রীদের পরীক্ষার পাশাপাশি পার্ক থেকে ঘুরে এসেছেন আর সেখানকার বেশ কয়েকটি সুন্দর চিত্র আমাদের মাঝে তুলে ধরেছেন। ছবিগুলো সুন্দর ছিল ভাইয়া। আপনার কাটানো সুন্দর সময় টুকু আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।
একদিন সুযোগ করে দেখে আসতে পারেন ভাই। কিছুদিন পরে স্কুল থেকে শিক্ষা সফরে যাব কোথায় যাব ভেবে পাচ্ছি না তবে স্কুলের স্টাফরা যারা দেখতে পারেনি তারা পুনরায় যেতে চাচ্ছে আমি রাজি নই।
দারুণ ব্যাপার তো ভাই। ছাত্রদের নিয়ে পরীক্ষা শেষে এভাবে পার্কে ঘুরতে যাওয়া কয়জন এর ভাগ্যেই বা পরে। কষ্ট করে হলেও ড্রাইভার কে মানানোতে ভালোই হয়েছে। ঘুরে যেতে পারলেন। দুই একটা বানান সম্ভবত ভয়েজ টাইপিং এর জন্য ভুল হয়েছে। ঠিক করেনেন ভাই। শুভেচ্ছা রইলো।
ড্রাইভার যখন অন্যদের কথা শুনছিল না তখন আমি কিছুই বলিনি দূরে ছিলাম। পরবর্তীতে যখন সুন্দর ভাবে বুঝিয়ে বললাম বিস্তারিত তখন সে বুঝতে পারল। কারণ মানুষের সাথে সুন্দর করে বলা ও ব্যবহারের একটা বিষয় রয়েছে।
ঝিনাইদহ ড্রিম ভ্যালি পার্কে খুব চমৎকার কিছু ফটোগ্রাফি ও কোয়ালিটি ফুল ভাবে নিজেদের সময় অতিবাহিত করেছেন। অনেক ভালো লাগলো আপনার এই পার্কের ফটোগ্রাফি গুলো দেখে। আর ঝিনাইদহ শহরে আমার একটি ফ্রেন্ড রয়েছে। যদিও তার সাথে আমার সাথে কখনো দেশে দেখা হয়নি। বিদেশ থাকাকালীন সে আমার একই রুমে থাকতো, যাক অনেক ভালো লাগলো ধন্যবাদ আপনাকে।
ঝিনাইদহ শহরে আপনার ফ্রেন্ড রয়েছে জেনে খুশি হলাম।
একটা জিনিস আমার অনেক বেশি ভালো লাগলো যে আপনি ছাত্র-ছাত্রীদের আবদার কখনো অপূর্ন রাখেন না যেটা আপনার এই পোস্ট পড়েই বুঝতে পারলাম। আমি মনে করি এরকম একটি শিক্ষক পেয়ে আপনার ছাত্র-ছাত্রীরা অবশ্যই অনেক বেশি গর্বিত। পার্কের মধ্যে গিয়ে খুবই চমৎকার একটি মুহূর্ত অতিবাহিত করেছেন সেই সাথে কিছু সুন্দর ফটোগ্রাফিও দেখলাম। আপনাদের কাটানো এই সুন্দর মুহূর্ত টা শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ।
তারা দীর্ঘদিন ক্যাডেটের পরীক্ষা দেওয়ার জন্য খুবই পরিশ্রম করেছে। পরীক্ষা শেষে আমার সহযোগিতায় পার্কে ঘুরতে পারলো এটা অনেক আনন্দ উপভোগ করতে পেরেছে যা আমার কাছে অন্যরকম ভালো লাগা। আর এই ভেবেই আমি চেষ্টা করেছিলাম যেভাবে হোক তাদের ড্রিম ভ্যালি পার্ক দেখিয়ে যাব।