সাতক্ষীরা শহর থেকে রং তুলি কেনার অনুভূতি

in আমার বাংলা ব্লগ3 years ago (edited)

আজ - মঙ্গলবার

০২ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ
১৬ মে, ২০২৩ খ্রিষ্টাব্দ


আসসালামু আলাইকুম

IMG_20230323_124728064_BURST0010.jpg
Photography device: Infinix hot 11s
লোকেশন





হ্যালো বন্ধুরা,

আপনারা সবাই কেমন আছেন? আশা করি, সৃষ্টিকর্তার অশেষ রহমতে অনেক অনেক ভালো রয়েছেন। আমিও আপনাদের দোয়ায় অনেক ভালো রয়েছি। 'আমার বাংলা ব্লগ'এর সকল ভাইবোন বন্ধুদেরকে আমার পক্ষ থেকে সালাম এবং অভিনন্দন জানিয়ে শুরু করতে যাচ্ছি আজকের নতুন একটি পোস্ট। আজ আমি আপনাদের মাঝে তুলে ধরতে চাই অনেকদিন যাবত আর্ট করার জন্য যে সমস্ত রং তুলি প্রয়োজন তা দীর্ঘ খুঁজে বেড়ানোর পরে হাতে পাওয়ার ভালো লাগা অনুভূতি। তাই চলুন আর দেরি না করে সাতক্ষীরা শহর থেকে রং তুলি কেনার অনুভূতিটা খুব সহজেই জেনে নেওয়া যাক।


ফটোগ্রাফি সমূহ:



দীর্ঘ এক বছর ধরে চারুকলা বিভাগে কোর্স করছিলাম। তবে চারুকলা বিভাগের সঠিক সময় মত ক্লাস করতে পারেনি। আবার অনলাইনে ক্লাস তাই শুধুমাত্র মোবাইল অন রেখেই মনোযোগী হতে পারেনি আমার অনলাইনে ক্লাসের প্রতি, যেহেতু ওই টাইমে আমার স্কুলে তৃতীয় পিরিয়ডের ক্লাস নিতে হত। যাই হোক এভাবেই সকাল বিকাল বিভিন্ন ক্লাসে বিভিন্ন ব্যস্ততার ফলে সঠিকভাবে আমি ক্লাস করতে না পারায় একটু হতাশা হয়েছিলাম। তবে দীর্ঘদিন আমার ইচ্ছে ছিল আমি থ্রিডি আর্ট শিখব এছাড়া অন্যান্য ছবি আঁকানো গুলো আমি শিখব। এরি মধ্যে আমার এক বান্ধবীর সহায়তায় এই কোর্সে অংশগ্রহণ করা। তবে মাঝেমধ্যে ইচ্ছে হয় আমার বাংলা ব্লগ কমিউনিটিতে যে কোন কিছু অঙ্কন করে শেয়ার করি। তবে আমার কাছে বিশেষ কোনো রং না থাকায় শেয়ার করতে পারতাম না। প্রথম সেমিস্টারের পরীক্ষা দিতে গিয়েছিলাম এবং আমরা যেই হাসান হোটেল সাতক্ষীরায় থেকে ছিলাম তার আশপাশের কোন দোকানে এই সমস্ত আর্ট করা রং গুলো পেয়ে ছিলাম না। অবশ্য ওই মুহূর্তে আমরা দীর্ঘদিন অবস্থান করেছিলাম তাই চার পাঁচ দিন তারপরেও এদিক সেদিকে না যেতে পেরে এবং সামনে না পেয়ে ব্যর্থ মতই হয়েছিলাম তবে এবার তিন বন্ধু আদা জল খেয়ে লাগার মত বাজারের এ প্রান্ত থেকেও প্রান্ত যেখানেই হোক না কেন আর্ট করা যে সমস্ত রং তুলি গুলো লাগে তা নিয়ে যাব এবার এমন মনোভাব নিয়ে বাজারের দিকে অগ্রসর হয়েছিলাম। সাতক্ষীরা স্টেডিয়াম এর কিছুটা অপোজিট দিকে অর্থাৎ লেকের পরে দীর্ঘ দুই সারিতে বিভিন্ন প্রকার দোকান লাইব্রেরী রয়েছে আমরা উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলাম আমরা চারুকলা বিভাগের সেন্টার থেকে আমরা এই বাজারে এসে একটু পায়ে হেঁটে চলবো এবং খোঁজ করব কোথায় এই জাতীয় রং তুলিগুলা পাওয়া যায়। তাই গত ২৩ শে মার্চে আমরা তিন বন্ধু পথ চলছিলাম কোথায় সঠিক রং তুলি গুলো পাওয়া যায় তা কিনে নিয়ে যাব অবশ্য মনে একটাই লক্ষ্য ছিল প্র্যাকটিস করতে হবে আর তা শেয়ার করতে হবে আমার বাংলা ব্লগে। আর এই বিষয়গুলো নিয়ে বন্ধুদের সাথে বলাবলি করছিলাম পথ চলতে। কারণ ফাইনাল পরীক্ষা শেষে আর রং তুলির কি প্রয়োজন এ বিষয়টায় প্রশ্ন করেছিল বন্ধুরা তাই সঠিক কথাটা বলাটাই বেটার মনে করেছিলাম যায় হোক রং তুলি কেনার পূর্বে তাদেরকে সঠিক কথাটা জানালাম।

IMG_20230323_131645_184.jpg

IMG_20230323_131300_945.jpg

IMG_20230323_131305_305.jpg

IMG_20230323_125721_959.jpg

IMG_20230323_125714_293.jpg

IMG_20230323_125703_774.jpg

IMG_20230323_125712_441.jpg
Photography device: Infinix hot 11s
লোকেশন



সাতক্ষীরা পানসি রেস্তোরা পার হয়ে এসে আমরা তিন বন্ধু যখন পথ চলছিলাম এবং বিভিন্ন লাইব্রেরী লক্ষ্য করছিলাম তখন হঠাৎ আমাদের চোখে বাঁধলো 'হাবিব এন্টারপ্রাইজ' আমরা তিন বন্ধু সেখানে প্রবেশ করলাম এবং আমি প্রথমেই লক্ষ্য করে দেখলাম ফেভারিক কালার এখানে রয়েছে। যে কালারের অনেক গুনাগুন এবং সুনাম শুনতে পাওয়া যায় বিভিন্ন ক্ষেত্রে। যাই হোক সালাম দিয়ে দোকানের সামনে প্রবেশ করলাম এবং হাবিব সাহেবকে প্রশ্ন করলাম এই সমস্ত রং তুলি গুলা আপনার কাছে পাওয়া যায় কিনা যেগুলো আমি প্রয়োজন বোধ করেছিলাম উনি বললেন অবশ্যই আমার দোকানে রয়েছে এবং একদম পিওর মাল গুলা সব পাবেন। দীর্ঘ পথ চলতে চলতে ক্লান্ত থাকা সত্ত্বেও যেন উনার মুখের কথা শুনে ক্লান্ত দূর হলো। তাই ওনাকে বললাম কিছু জলরং,পোস্টার রং, পেন্সিল কালার, তুলি আমাদের মাঝে দেখান। উনি সমস্ত উপকরণগুলো আমাদের মাঝে উপস্থাপন করলেন এবং তার বিস্তারিত আমাদের মাঝে বললেন আমিও অনেকদিন ধরে অনলাইনে বিভিন্ন জলরং পোস্টার রং দেখে আসছি এবং ভালো মন্দটাও জেনে আসছি তাই নিজে থেকে বুঝতে পারলাম সত্যি এই রংগুলো অনেক ভালো এবং কার্যকরী। তাই তার কথা শুনে আমি তখনই বললাম নিজের প্রয়োজন মত এই কয়টা করে আমাদের মাঝে প্যাকেট করে দিন। আপনারা ফটোগ্রাফিতে লক্ষ্য করলে বুঝতে পারবেন রং তুলি বোর্ড সহ পেন্সিল যে কয়টা আমি কিনেছিলাম তা স্কিনে দেখা যাচ্ছে। আর এই জিনিসগুলো আমি দীর্ঘদিন ধরে খুঁজে আসছি ছবি অংকন বা আর্ট প্র্যাকটিস করার জন্য। যাইহোক প্রথম সেমিস্টার পরীক্ষা দিতে এসে এই সমস্ত উপাদান গুলো না পেলেও এবার যেন পেয়ে গেছি বলে একটু অন্যরকম আনন্দ বোধ করছিলাম।

IMG_20230323_125701_519.jpg

IMG_20230323_125658_747.jpg

IMG_20230323_125709_733.jpg

IMG_20230323_125716_623.jpg

IMG_20230323_125918_823.jpg
Photography device: Infinix hot 11s
লোকেশন



এরপর আমার প্রয়োজনীয় রং তুলি গুলো হাবিব ভাইকে বললাম একটি প্যাকেটে পুরে দিন এবং এর মূল্য কত তা আমাকে বলুন। উনি প্রত্যেকটা উপকরণ আলাদা আলাদা করে রাখলেন এবং ক্যালকুলেটরে হিসাব করলেন এবং প্রত্যেকটা উপকরণ সম্পর্কে আমাকে ধারণা দিলেন কিভাবে আর্ট করতে হয় এবং এর কার্য কারিতা কেমন। যাইহোক তার এত সুন্দর আন্তরিকতায় আমাদের খুবই ভালো লেগেছিল এমনিতেই সাতক্ষীরায় আমরা যেই কয়দিন অবস্থান করেছিলাম সেখানকার মানুষের ব্যবহার আমাদের খুবই ভালো লেগেছিল সুন্দর সাহায্যপূর্ণ আচরণের মধ্য দিয়ে আমাদের সাথে কথাবার্তা বলতো। তবে হাবিব ভাই একজন পারফেক্ট ব্যবসায়িক হিসেবে আমার মনে হয়েছিল আর বেশি ভালো লেগেছিল ১ নাম্বার ২ নাম্বার অর্থাৎ ভালো মন্দ উপকরণগুলো আমাদের মাঝে সঠিকভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করছিল।

IMG_20230323_130355_700.jpg

IMG_20230323_131241_949.jpg

IMG_20230323_131256_272.jpg

IMG_20230323_131249762_BURST0002.jpg
Photography device: Infinix hot 11s
লোকেশন



উপকরণ গুলো কেনার মুহূর্তে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ফটোগ্রাফি করছিলাম উনি প্রশ্ন করেছিলেন ফেসবুকে ছাড়বেন? আমরা বলেছিলাম না ফেসবুকে নয় আমরা অনলাইনে আরেকটি জায়গায় ছাড়বো। উনি আরো আন্তরিকতার সাথে আমাদের বলেছিলেন আমাদের মোবাইল নম্বর উপরে দেওয়া রয়েছে ওটা ভালো করে ফটো তুলে নিয়ে যান যেন অন্যান্যরা মোবাইল করে ঠিকানা জেনে আসতে পারে যেহেতু অনেক মানুষ এখানে সাতক্ষীরা চারুকলা বিভাগে পরীক্ষা দিতে আসে আপনাদের মত অনেকে আমার কাছ থেকে এগুলা কিনে নিয়ে যায়। আবার অনেকেই জানে না কোথায় এগুলো পাওয়া যায়। আপনারা যারা পরীক্ষা দিতে এসেছেন তারা যেন জানতে পারে আমার এই দোকানের ঠিকানা। যাইহোক এভাবেই অনেক সুন্দর কথা বাত্রার মধ্য দিয়েই চলতে থাকলো আমাদের কাঙ্ক্ষিত সময় আর টাকা পরিশোধ করে উপকরণগুলো হাতে নিয়ে যেন আমরা পুনরায় আমাদের গন্তব্যস্থল অর্থাৎ আমরা টাইগার হোটেল প্লাজায় উঠেছিলাম সেখানে যাওয়ার জন্য একটি অটো ভাড়া করলাম এবং চলে গেলাম। আর এরই মধ্য দিয়ে সুন্দর একটা মুহূর্ত আমাদের অতিবাহিত হয়েছিল এবং আমরা খুবই আনন্দবোধ করছিলাম উপকরণ গুলো পাওয়ার জন্য। বিশেষ করে আমার তো খুবই ভালো লাগছিল এই জন্য যে আমি বাসা থেকে প্র্যাকটিস করব বিভিন্ন কিছু অঙ্কন করার জন্য এবং তা আপনাদের মাঝে শেয়ার করতে পারব বলে। আশা করি খুব শীঘ্রই আমি আপনাদের মাঝে বিভিন্ন প্রকার আর্ট তুলে ধরব, তবে চেষ্টা করব সেগুলো আপনাদের আর্ট দেখেই অংকন করার।

IMG_20230323_131505_395.jpg

IMG_20230323_131648_479.jpg

IMG_20230323_131701_564.jpg
Photography device: Infinix hot 11s
লোকেশন


পোস্টটি পড়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।

received_434859771523295.gif


পুনরায় কথা হবে পরবর্তী কোন পোস্টে, ততক্ষণ ভালো থাকা হয় যেনো। আল্লাহ হাফেজ।

TZjG7hXReeVoAvXt2X6pMxYAb3q65xMju8wryWxKrsghkLbdtHEKTgRBCYd7pi9pJd6nDf4ZPaJpEx3WAqvFVny2ozAtrhFXaDMnAMUAqtLhNESRQveVFZ7XHcED6WEQD48QkCkVTAvNg6.png

Sort:  
 3 years ago 

ভাই আপনি সহ আপনার শশুর এবং শালিকা আপনার আত্মীয়ের বিয়ের জন্য পাত্রী দেখতে গিয়েছেন। পাত্রী দেখতে গিয়ে তো অনেক কিছুই জিজ্ঞেস করেছেন দেখছি। পাত্রীও সুন্দর ভাবে উত্তর দিয়েছে। তবে পাত্রী মাত্র অষ্টম শ্রেণীতে পড়ে। দেখেও মনে হচ্ছে বয়স একেবারে কম। পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত কি হলো সেটা জানার অপেক্ষায় রইলাম। যাইহোক এতো সুন্দর অনুভূতি আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে।

 3 years ago 

আমি তো প্রথমে ভেবেছিলাম আপনার বিয়ে🤭কিন্তু পোস্ট পড়ে বুঝতে পারলাম আপনার কুটুমের বিয়ে। পাত্রী দেখতে গেলে হালকা পাতলা খাওয়া দাওয়া হয় জানি। কিন্তু এভাবে ভরপুর খাওয়া দাওয়া হয় জানা ছিল না। তাহলে তো পাত্রী দেখতে গেলে একদিক দিয়ে লাভ আছে। যাই হোক পাত্রী তো খুবই ছোট আর এই বিয়ে হলে তো বাল্য বিয়ে হবে। বিয়ের জন্য পাত্রী দেখার অনুভূতি খুব সুন্দর ভাবে বর্ণনা করেছেন।

 3 years ago 

ভাইয়া আপনার পাত্রী দেখার অনুভূতি পড়ে অনেক ভালো লাগল। পাত্রীকে তো দেখছি অনেক কিছু জিজ্ঞেস করলেন। আসলে ভাইয়া আপনি এত অল্প বয়সের পাত্রী কেনো দেখতে গেলেন? আর পাত্রীর বাবা মাই কেনো এত তারাতাড়ি বিয়ে দেবে?পরবর্তী ঘটনার জন্য অপেক্ষায় থাকলাম।

আপনার পোস্টটি পড়ে খুবই খারাপ লাগলো। আপনার পোস্টটি পড়ছিলাম আর মনে হচ্ছিল ৭০ দশকের কোন বাংলা সিনেমা দেখছি। আগেকার দিনের বাংলা সিনেমায় দেখা যেত এমন ভাবে পাত্রী দেখতে যাওয়া। আপনাদের তো সৌভাগ্য যে পাত্রীপক্ষ পুলিশ ডাকেনি। তারপর পাত্রী মাত্র ক্লাস এইটে পড়ে। আপনারা তো রীতিমতো শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন এই পাত্রী দেখতে গিয়ে। তাছাড়া আপনার পোস্টে প্রচুর ভুল রয়েছে। আশা করি ভুলগুলো সংশোধন করে নেবেন।

 3 years ago (edited)

আপনি মেয়েটির ছবি শেয়ার করেছেন। মেয়েটির কাছে অনুমতি নিয়েছেন সোশ্যাল মিডিয়ায় তার ছবি পাবলিস্ট করলেন??

মেয়েদেরকে সম্মান করতে শিখুন। সম্মান দিয়ে কথা বলতে শিখুন।

 3 years ago Reveal Comment

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.33
JST 0.098
BTC 64543.68
ETH 1871.77
USDT 1.00
SBD 0.38