ধান থেকে চাল তৈরি
আসসালামুআলাইকুম সবাইকে।
আমার বাংলা ব্লগের বন্ধুরা কেমন আছেন? আশা করি সবাই ভাল আছেন। আমিও ভাল আছি আলহামদুলিল্লাহ।
আজকে আপনাদের সঙ্গে অন্য রকমের একটি পোস্ট শেয়ার করবো। এটিকে কি পোস্ট বলবো ফটোগ্রাফি, নাকি অন্য পোস্ট? যাই হোক না কেন আমার কাছে মনে হয়েছে যে এটি অনেকটা শিক্ষনীয় বলা চলে। আমরা যারা ছোটবেলা থেকেই শহরে বড় হয়েছি গ্রামে খুব কম যাওয়া হয়েছে তাদের জন্য এটি অনেকটা শিক্ষনীয় পোস্টই বলা চলে। ধান থেকে কিভাবে চাল হয় তার ধাপগুলো আজকে আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করবো। অনেক ছোটবেলায় যদিও এগুলো দেখেছি কিন্তু বড় হওয়ার পর এগুলো তেমন একটা চোখে পড়েনি। এবার গ্রামে গিয়ে এই ধান থেকে চাল হওয়ার পুরো প্রসেসটা দেখলাম। তাই ভাবলাম আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করি। অনেকেই হয়তো জানেই না যে কিভাবে ধান থেকে চাল হয়।
উপরের ছবিটা অনেকদিন আগের। মনে হল যে কাঁচা ধানের একটি ছবি না দিলে পোস্টটি অসম্পূর্ণ থেকে যাচ্ছে। এখন মাত্র ধান লাগানো হয়েছে। বেশ কয়েক মাস পরের ছবি নিচেরটি। ধান পেকে গিয়েছে কাটার সময় ও হয়ে গিয়েছে। এই মুহূর্তে কৃষকরা দোয়া করতে থাকে যেন কোনরকমে শিলাবৃষ্টি না হয়। তাহলে পাকা ধান সব মাটির সঙ্গে মিশে যায়।
ধান পুরোপুরি পেকে ধান কাটার সময় চলে এসেছে। উপরে ছবিতে দেখতে পাচ্ছেন যে কৃষকরা ধান কাটছে। ধান কেটে কৃষকরা এভাবে ঘাড়ে করে নিয়ে আসে ধান বাড়িতে। বাড়িতে এনে ধান সব এক জায়গায় জমা করা হচ্ছে।
ছোটবেলায় যখন ধান গাছ থেকে ধান বের করা দেখেছি তখন দেখেছি যে শক্ত একটা কাঠের উপরে ধান বাড়ি দিয়ে দিয়ে ধান মাড়াই করা হয়। কিন্তু এখন আধুনিক পদ্ধতিতে ধান মাড়াই করা খুবই সহজ। এই নিচের মেশিনটি দেখতে পারছেন এই মেশিনে ধান গাছগুলো দিলে একদিকে ধান পরে এবং অন্যদিকে খড়গুলো গিয়ে পড়ে।
ধানগুলো সুন্দর মাড়াই করা হয়ে গিয়েছে। ধান এবং খড় আলাদা হয়ে গিয়েছে। ছবিগুলোতে নিশ্চয়ই দেখতে পাচ্ছেন । এখানে ধানগুলো আলাদা করে পরিষ্কার করার কোন ঝামেলা নেই।
এখন এই ধানগুলোকে বড় বড় পাতিলে পানি দিয়ে সিদ্ধ করা হচ্ছে। সিদ্ধ করা শেষ হয়ে গেলে ধানগুলো রোদে শুকানো হচ্ছে।
ধান রোদে শুকানোর একটি পরিমাপ আছে। বেশিও শুকানো যাবে না, আবার কমও শুকনো যাবে না। যারা নিয়মিত কাজ করে তারা খুব ভালো বোঝে পরিমাপটা। ধান শুকানো হয়ে গেলে ধানগুলো নিয়ে ভাঙ্গিয়ে চাল বের করা হয়। আমরা শহরে থেকে কত সহজে এই চাল পেয়ে যাই। ধান থেকে চাল তৈরি করা কত কঠিন তা এবার দেখলাম।
আশাকরি আমার পোস্টটি আপনাদের ভালো লেগেছে। সময় নিয়ে আমার পোস্টটি দেখার জন্য সকলকে ধন্যবাদ। সবাই ভাল থাকবেন, সুস্থ থাকবেন। পরবর্তীতে দেখা হবে আবার নতুন কিছু নিয়ে।
ধন্যবাদ
@tania
| Photographer | @tania |
|---|---|
| Phone | i phone11 |
| আমি তানিয়া তমা। আমি বাংলাদেশে থাকি। ঢাকায় বসবাস করি। আমি বিবাহিত। আমার দুটি ছেলে আছে। আমার শখ রান্না করা, শপিং করা, ঘুরে বেড়ানো। আমি বাংলায় কথা বলতে ভালোবাসি। আমি আমার বাংলাদেশকে ভালবাসি। |
|---|
VOTE @bangla.witness as witness OR SET @rme as your proxy
যদিও বা আমাদের এলাকায় এসব অহরহ দেখা যায় তারপরেও আপনার পোষ্টের মাধ্যমে ধান থেকে চাল তৈরির ধাপ গুলো দেখে ভালো লাগলো। আসলে এগুলো করতে পরিশ্রম করতে হয়। যদিও বা আধুনিক প্রযুক্তির কারণে এখন অনেকটাই সহজ হয়ে গিয়েছে। তারপরেও অনেকটা পরিশ্রম করা লাগে। যাই হোক ধন্যবাদ আপনাকে এই সুন্দর পোস্টটি আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য।
যারা গ্রামে থাকে তারা এগুলো অরহই দেখে। আমাদের মত যারা শহরে থাকে তাদের জন্য এগুলো একেবারেই নতুন। যাই হোক ধন্যবাদ আপনার মন্তব্যের জন্য।
আপু গ্রামে এখন সবার ঘরে ঘরে ধান থেকে চাল তৈরির প্রক্রিয়া চলছে। আপনার আজকের পোস্ট দেখে ছোটবেলার কথা মনে পড়ে গেল। এই সময় প্রচুর কাজ থাকতো কিন্তু আমি একটা কাজও না করার জন্য খুব বকা খেতাম। আমরা চাল তৈরির সময় মেশিনের পাশে গিয়ে দাড়িয়ে থাকতাম। ধন্যবাদ আপু এত সুন্দর পোস্ট শেয়ার করার জন্য।
এই সময় আসলেই সবাইকে অনেক কাজ করতে দেখতাম আমার পোস্ট দেখে ছোটবেলার কথা মনে পড়ে গেল জেনে ভালো লাগলো। ধন্যবাদ আপনাকে।
ঠিকই বলেছেন আপু যারা গ্রাম্য পরিবেশের সাথে সম্পৃক্ত নয় বা ধান থেকে কিভাবে চাউল হয় এগুলো সম্পর্কে কোন ধারণা নেই তাদের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ এই পোস্টটি।।
আমরা ছোটবেলা থেকে এগুলা হর হামেশায় দেখে আসছি।
আপনি ফটোগ্রাফির মাধ্যমে অনেক সুন্দর ভাবে ধানক্ষেত থেকে শুরু করে বাড়িতে ধান সিদ্ধ পর্যন্ত ফটোগ্রাফি আমাদের সাথে শেয়ার করেছেন এবং চাউল বানানোর প্রসেস গুলো উল্লেখ করেছেন খুবই ভালো লাগলো আপনার পোস্টটি পড়ে।।
অনেকের কাছেই হয়তো এই পদ্ধতিটা নতুন। এজন্যই শেয়ার করেছি ভাইয়া। ধন্যবাদ পোস্টটি পড়ে সুন্দর মন্তব্য করার জন্য।
আপু, আমার দাদা ও নানার বাড়ি গ্রামে হওয়ার কারণে ধান থেকে চাল তৈরির প্রসেসিং খুব কাছ থেকেই দেখার সুযোগ পেয়েছি। তবে এই প্রসেসিং গুলো খুবই কষ্টসাধ্য কাজ। তবে অনেকদিন হয়ে গেল এই দৃশ্যগুলো দেখা হয়নি। তাই আপনার পোস্টে দেখতে পেয়ে ভীষণ ভালো লাগলো। যাইহোক আপু, ধান থেকে চাল তৈরি করা নিয়ে খুব সুন্দর পোস্ট উপস্থাপন করেছেন এজন্য আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।
অনেক ছোটবেলায় আমরাও গ্রামের বাড়িতে গিয়ে এগুলো দেখেছি। এখন আর তেমন একটা দেখা হয় না । অনেকদিন পর দেখলাম তাই আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করলাম। ধন্যবাদ ভাইয়া মন্তব্যের জন্য।
কৃষকেরা আসলেই এই ধান কে নিয়ে পরিমাণে পরিশ্রম করে। শুধুমাত্র যে তারা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে ধান উৎপাদন করে তা কিন্তু নয়। এই ধানগুলো থেকে চাল তৈরি হতেও অনেক পরিশ্রম করতে হয় সকলকে। এটা ঠিক বলেছেন কৃষকেরা ধান পাকার সময় দোয়া করে যেন শিলা বৃষ্টি না হয়।
সবাইকে বলতে শুনছিলাম যে দোয়া করতে যেন শিলাবৃষ্টি না হয়। শিলা বৃষ্টি হলে নাকি সব ধান নষ্ট হয়ে যায়। যাই হোক ধন্যবাদ ভাইয়া গঠনমূলক মন্তব্যের জন্য।