বড়দিনের হৈ চৈ(১০% @shy-fox এর জন্য)
তারিখ-০৩.০১.২০২৩
নমস্কার বন্ধুরা
আশা করি ঈশ্বরের আশীর্বাদে সকলে ভালো আছেন।আমিও ভালোই আছি। এই পোস্টটা ২৫শে ডিসেম্বরের। কিন্তু আগেই বলেছি বেশ কিছু পোস্ট জমে যাওয়ায় ইনস্ট্যান্ট পোস্টগুলো করা হয় নি। এই কারণে আজকেই আগের বছরের পোস্ট নিয়ে এলাম। আসলে ২৫ ডিসেম্বর সেরকম কোন প্ল্যান কোন বারই থাকে না। যে কোথাও যাবো।বড় জোড় রামপ্রসাদের ভিটেতে যাওয়া হয় বা একটু খাওয়া দাওয়া করতে বাইরে যাওয়া হয় দুজন বান্ধবী মিলে।এবার শর্মিষ্ঠা বলল যে ২৫ ডিসেম্বর কোথাও যাবি? আমি বললাম কোথায় যাব? তখন বলল যে, "চল কোথাও সিনেমা দেখে আসি।হামি-টু রিলিজ করছে।আমি বললাম,"হামি-২ কে দেখবে? চলনা অভতার-২ দেখি! "ও আবার এসব মুভি পছন্দ করে না ।ওর ওই মিষ্টি মিষ্টি মুভি ভালো লাগে।এবার যেহেতু সামনে ওর বিয়ে হয়ে যাচ্ছে, সেই কারণে আমি আর ওকে মানা করিনি।
বললাম," চল যাই।কোথায় যাওয়া হবে?" ও বলল যে, "চল আমরা ডায়মন্ড প্লাজা যাই।"ডায়মন্ড প্লাজা হলো একটিকমপ্লেক্স। আমাদের কলকাতাতে মোটামুটি বেশ বড় একটা কমপ্লেক্স। সেখানে পিভিআর সিনেমা হল আছে। ও ঘরে বসে টিকিট কেটে ফেলল পিভিয়ারে আমরা দেখব। আমাদের সাথে যাবে ওর হবু ননদ অন্বেষা। টিকিট কাটতে বলেছিলাম একদম সকাল বেলার ফাস্ট শো। না হলে বাড়ি ফিরতে দেরি হয়ে যাবে অনেকটা।আর আমাদের বাড়িতে যথেষ্ট রেস্ট্রিকশন আছে যে বেশি রাতে বাড়িতে ফেরা যাবে না বাইরে থেকে। সেই কারণে আমরা সব কাজই অনেক সকাল সকাল করে তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরি।
যথারীতি ২৫ তারিখ সকাল বেলা রেডি হয়ে চলে গেলাম স্টেশনে। গিয়ে দেখছি যেহেতু রবিবার ছিল বেশিরভাগ ট্রেন ক্যান্সেল। অথবা দেরিতে তে চলছে। মাকে ফোন করে বললাম, "মা মনে হয় যাওয়া হবে না।ট্রেন লেটে চলছে। যদি আটকে যায় মাঝপথে!"মা বলল যে তাহলে চলে আয় বাড়িতে। আমি বললাম কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে দেখি।আমি তোমাকে জানাবো যদি না যাই। কিছুক্ষণ পরেই দেখলাম ট্রেন এলো।চলে গেলাম ট্রেনে ভাবলাম যা হবে দেখা যাবে।টিকিট কাটা আছে নয়তো টিকিট নষ্ট হবে।অবশেষে ভালোই পৌঁছে গেলাম দমদম স্টেশনে। দমদম স্টেশন থেকে গেলাম নাগেরবাজার অটোতে করে।আর নাগেরবাজার থেকে সোজা ডায়মন্ড প্লাজা দ্বিতীয় অটোতে। আমরা যখন ডায়মন্ড প্লাজাতে ঢুকলাম তখনও সিনেমা শুরু হতে দশ-পনেরো মিনিট বাকি। তাই একটা পপকর্নের কম্বো প্যাক নিয়ে নিলাম। যাতে ছিল বড় একটা পপকর্নের টাব এবং তিনটে কোল্ডড্রিংস।
সিনেমাটা কেমন লাগলো তা রিভিউ অন্য কোন পোস্টে বলবো। ওভারঅল হামি ওয়ান যতটা ভালো হয়েছিল, আর বেশ হাসির হয়েছিল,হামি টু টা ততটা হাসির নয়। তবে শিক্ষনীয় বটে। মোটামুটি খারাপ লেগে নি।
যাই হোক সিনেমা দেখে তো বেরিয়ে ভীষণ খিদে পেয়েছিল। চলে গেলাম ফুড কোর্টে। প্রথমে শর্মিষ্ঠা বলল চল আমরা ফিশ কবিরাজি খাই।আমি বললাম ভালো হবে তো? ও বলল হ্যাঁ ভালো হবে ফিশ কবিরাজি টা। সত্যিই দুর্দান্ত ছিল।খাবারের রিভিউ নিয়ে পরে আমি একদিন আপনাদের কাছে ডিটেলসে বলবো। আমরা নিয়েছিলাম দুটো ফিস কবিরাজি মিত্র ক্যাফে থেকে, একটা চাইনিজ বোউল নেওয়া হয়েছিল ,একটা নান আর খাসির মাংসের প্লেট নেওয়া হয়েছিল আর একটা পিৎজা,কোলড্রিংস নেওয়া হয়েছিল।সব খাবারের ডিটেলস রিভিউ এর পরে একটা পোস্টে অবশ্যই দেব। ওভারঅল বেশ খাওয়া-দাওয়া হলো সেদিন। আসলে যত বেশি লোঅ যাওয়া হয়,খাবার তত বেশি ট্রাই করা যায়। আমাদের ক্ষেত্রেও ব্যাপারটা তাই হয়েছিল। খেয়েদেয়ে পেটটা পুরো টান হয়েছিল।হঠাৎ করে অন্বেষা বলল,"আমি একটা টার্কিশ আইসস্ক্রিম খাব।"
গিয়ে দেখে টার্কিশ আইসক্রিম যে দেবেন তিনি নেই। শর্মিষ্ঠা বলল, "আমার একটা হট প্যান্ট কেনার আছে আর বীচ ড্রেস কেনার আছে। চল বরং দেখে আসি।"
চলে গেলাম প্যান্টালুনসে। তার আগে যদিও ম্যাক্স এবং ট্রেন্ডস ঘোরা হয়েও গেছে এবং পছন্দ কিছুই হয়নি। অবশেষে প্যান্টালুনসে একটা ভালো হট প্যান্ট পছন্দ হলো। তারপরে ফিরলাম টার্কিশ আইসক্রিমের সেন্টারে। দেখলাম মেয়েটি সবে খেতে বসেছে। আমরা বললাম, "তুমি খেয়ে নাও নয়তো!"ও বলল, "না না এরকম তো হতেই থাকে।এর ফাঁকেই খেয়ে নেব।"তারপরে আইসক্রিম নিয়ে বেশ খানিকক্ষণ খেলা দেখালো।আমি আবার সেই ভিডিওটা করলাম।
আমরা আর আইসক্রিম খাইনি।অন্বেষাই খেয়েছিলো। যদিও ওর থেকে এক বাইট করে খেয়ে দেখেছিলাম। মিষ্টিটা একটু কম হয় টার্কিশ আইসক্রিমের। তারপরে ভীষণ ক্লান্ত লাগছিল শরীর।আসলে অত সকালে উঠে গেছি। তারপরে এতটা ট্রেনের জার্নি।বললাম আর ভালো লাগছে না। এবার চল রওনা দেওয়া যাক। দিব্যি বেরিয়ে পড়লাম ডায়মন্ড প্লাজা কে টাটা করে।বাড়ি যখন ফিরলাম পৌনে আটটা বাজে রাত্রি। বাড়িতে ফিরে বিছানায় গা এলিয়ে দিলাম।
আজ পোস্টটা এখানেই শেষ করছি। আপনাদের কেমন লাগলো অবশ্যই জানাবেন। আবার আসবো নতুন কোন উপস্থাপনা নিয়ে। সকলে ভালো থাকবেন।
🌸🌸🌸ধন্যবাদ🌸🌸🌸
পরিচিতি
আমি পায়েল।ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের রাজধানী কলকাতার কাছাকাছি ডাক্তার বিধান রায়ের স্বপ্নের শহর কল্যাণীর বাসিন্দা।একসময় যদিও চাকরী করেছি কিন্তু বর্তমানে ফুলটাইম ব্লগার এবং ভ্লগার।যদিও নিজেকে এখনও শিক্ষানবিশ মনে করি। আর তা ই থাকতে চাই ।সফল হয়েছি কিনা বা কতদিনে হব তা জানি না, কিন্তু নিজের প্যাশনকেই লক্ষ্য করে এগিয়ে চলেছি।বাকিটা আপনাদের হাতে।আশাকরি আমার সাথে যুক্ত থাকলে আশাহত হবেন না।
বেশ ভালই এনজয় করলেন বান্ধবীর সাথে ২৫শে ডিসেম্বর। তবে আপনার ডাইটতো ফেল করল। তবে মাঝে মাঝে এক্টু ব্রেক করা যায়।অনেক অনেক শুভ কামনা আপনার বান্ধবীর নতুন জীবনের জন্য। আপনাকেও অনেক ধন্যবাদ আপনাদের আনন্দময় দিনটি শেয়ার করার জন্য।
না না তখনও কঠোর ডায়েট শুরু করি নি। ২রা জানুয়ারি থেকে করেছি। 😄
বাহ! দারুন হয়েছে বড় দিনের ঘোরাফেরা আর মুভি দেখার মুহূর্ত।এভাবে যদি বান্ধবীরা মিলে মুভি দেখা হয় তাহলে দেখতে বেশ মজার লাগে।তবে আমাদের এখানে এত বেশি সুযোগ নেই মুভি দেখার যদি যেতে হয় তাহলে ফ্যামিলি নিয়ে যেতে হয়।বড় দিন উপলক্ষে বেশ হৈচৈ করে মুভি দেখলেন বান্ধবীকে সাথে নিয়ে।পিভিআর তো দেখতে বেশ চমৎকার একটি কমপ্লেক্স।অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে সুন্দর একটি মুহূর্ত শেয়ার করার জন্য।
হ্যাঁ খুব সুন্দর আর একটু বাজেটের মধ্যে পিভিআর। ধন্যবাদ দিদি।
ভালোই তো খুব আনন্দ উদ্দীপনে আর সিনেমা দেখে বড়দিনে ঘোরাফেরা শেষ করলেন। আমাকে একটু জানালেনও না। এটা কি ঠিক হলো দিদি। ঘুরলেন আর এত মজার মজার খাবার খেলেন। আপনাদের আনন্দ দেখে আমারও বেশ ভালো লাগলো।
আপনি কোলকাতা আসেন। মজা হবে।
আপু বান্ধবীদের সাথে বড় দিনে খুব ভালো মজা করেছেন আপনার ফটোগ্রাফি দেখে বুঝতে পারছি। বান্ধবীদের সাথে এভাবে বাহিরে ঘুরাঘুরির মজাই আলাদা। এর সাথে আপনি খুব সুন্দর সুন্দর ফটোগ্রাফি করেছেন। আপু আপনার সিনেমা রিভিউর অপেক্ষায় রইলাম।
সব রিভিউ আসবে।
হামি-২ সিনেমার নামটা আজ নতুন শুনলাম মনে হচ্ছে! মুভি শিক্ষণীয় হলে দেখতেও ভালো লাগে! শর্মিষ্ঠা দিদির সাথে সিনেমাটা ভালোভাবেই উপভোগ করেছেন! তবে আমরাফিস কবিরাজি এমন খাবারের নাম প্রথম শুনলাম! আর টার্কিশ আইসক্রিম খেতে মজা! যদিও মিষ্ট কম!
হ্যাঁ আনন্দ তো খুব ভালই হয়েছিল।আর ওটা আমরাফিস কবিরাজি নয়।😄মাঝে স্পেসটা পড়ে নি। ওটা ফিশ কবিরাজি। আসলে মাছের ফিলে কে ডিমের মুচমুচে লেয়ারে এ কভার করে দেওয়া হয় বলে কভারেজ থেকে কবিরাজি নামটা হয়েছে।
ওহহ! বিহাইন্ড দা স্টিরিটা তাহলে জানতে পারলাম দিদি 😁
বান্ধবীকে নিয়ে বড়দিনে খুব সুন্দর মুহূর্ত অতিবাহিত করেছেন। বড়দিনের সময় গুলো খুব সুন্দর কাটিয়েছেন ঘুরাঘুরি আর মুভি দেখায় বেশ অসাধারণ মুহূর্ত পার করেছেন। নিশ্চয়ই অনেক আনন্দ উপভোগ করেছেন। এত সুন্দর মুহূর্তের অনুভূতি আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ আপনাকে।
ধন্যবাদ ভাই।
আপনার ফটোগ্রাফি গুলো দেখেই বুঝা যাচ্ছে খুব ভালো সময় কাটিয়েছেন বন্ধুদের সাথে। কত দিন সিনেমা হলে গিয়ে সিনেমা দেখা হয়না। ধন্যবাদ দিদি আপনার সুন্দর মহূর্ত গুলো শেয়ার করার জন্য।
ধন্যবাদ বৌদি।
ফটোগ্রাফি গুলো দেখে বোঝা যাচ্ছে আপনি বড়দিনে খুব সুন্দর সময় কাটিয়েছিলেন।দারুন লাগলো। আমি সেই ছেলেবেলায় মুভি হলে গিয়ে দেখেছি।আর দেখার সুযোগ হয়নি আসলে। আজকাল তো সব ঘরে বসেই দেখা যায়, তাই যাওয়া হয় না আর কি।যাক,অনেক ধন্যবাদ দিদি শেয়ার করার জন্য।
ধন্যবাদ দিদি।
এক সিনেমা দেখতে গিয়ে কত জায়গায় ঘোরাঘুরি করেছেন....?🥺🥺
এতকিছু খাওয়া দাওয়া করেছেন যে রীতিমত আমার খিদে লেগে গেল আপনার পোস্ট পড়তে গিয়ে। আমি টার্কিশ আইসক্রিম কখনো ট্রাই করিনি, তবে খুব ইচ্ছা আছে একবার খাওয়ার।
হ্যাঁ উদ্দেশ্য সিনেমা কিন্তু অন্য সব ফ্রী। 😂