আমার মাতৃভূমি নীলফামারী
হ্যালো আমার বাংলা ব্লগ পরিবার। আপনারা সবাই কেমন আছেন? আশা করছি আপনারা সকলেই অনেক ভালো আছেন। আলহামদুলিল্লাহ আল্লাহ তাআলার অশেষ রহমতে আমিও মোটামুটি ভালো আছি। তবে উত্তরবঙ্গে মাত্রা অতিরিক্ত শীত পড়েছে জন্য খুব একটা বেশি ভালো নেই। সবাই বিভিন্ন ধরনের শীতবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। জ্বর ঠান্ডা সর্দি এগুলোতে লেগেই রয়েছে। তারপরও সৃষ্টি কর্তার কাছে অনেক শুকরিয়া রয়েছে, কারণ অন্যান্য মানুষের তুলনায় আমরা অনেক ভালোভাবেই জীবন যাপন করতে পারছি।
আমার মাতৃভূমি বাংলাদেশের একদম উত্তরাঞ্চলের একটি জেলায়। যার নাম নীলফামারী। এই নীলফামারীকে ঘিরেই আমার বেড়ে ওঠা এবং বিভিন্ন ধরনের স্মৃতি রয়েছে আমার এই মাতৃভূমিকে ঘিরে। আমাদের এই উত্তরাঞ্চলের একটি জেলা নীলফামারী। এটা খুব বেশি একটা উন্নত শহর নয়। তবে অন্যান্য জায়গার তুলনায় এটা অনেক শান্তশিষ্ট একটি শহর। যেখানে রাজনৈতিক নিয়ে কোন ধরনের মারামারি কিংবা কাটাকাটি এগুলো খুব কম দেখা যায়, খুব বেশি অস্থিরতা পূর্ণ রাজনৈতিক বিষয় না হলে আমাদের এই নীলফামারী একই ধরনের একেবারেই শান্তশিষ্ট একটি শহর হিসেবে বিবেচিত হয়।
আমাদের এই নীলফামারী শহর আস্তে আস্তে উন্নতির শিখরে পৌঁছে যাচ্ছে তবে এখনো এখানে গ্রামীন পরিবেশ দেখা যায়। শহর থেকে খুব বেশি একটা দূরে যেতে হয় না। এর আশেপাশেই রয়েছে বিভিন্ন ধরনের পর্যটক কেন্দ্রগুলো। বিশেষ করে উত্তর অঞ্চলে শুধুমাত্র একটাই এয়ারপোর্টে রয়েছে সেটাও নীলফামারী জেলার সৈয়তপুর উপজেলায় অবস্থিত এবং সেই একই জায়গায় এশিয়া মহাদেশের সবথেকে বড় রেলওয়ে কারখানা রয়েছে। যেখানে বিভিন্ন ধরনের যান্ত্রিক বিষয়বস্তুগুলো মেরামত করা হয়।
পর্যটক খাতে অন্যান্য জেলার থেকে একটু পিছিয়ে থাকলেও এখানে কিন্তু প্রাকৃতিক পরিবেশের অনন্য সমাহার দেখতে পাওয়া যায়। এই ধরুন বর্তমানে শীতকাল চলছে। এই সময়টা আমাদের এই উত্তরাঞ্চলে প্রাকৃতিক পরিবেশে ভরপুর হয়ে ওঠে। বিশেষ করে নীলফামারীর নীল সাগরে অতিথি পাখির আগমন দেখতে হাজার হাজার পর্যটক এই শীতের কালে নীলফামারীতে ছুটে আসে নীলসাগর দেখার জন্য।
নীলফামারী শহরেই আমার বেড়ে ওঠা। নীলফামারী শহরেই আমার স্থানীয় বাসা এবং এই নীলফামারী শহরেই আমার সেই ছোটবেলার অনেকগুলো স্মৃতি রয়েছে। এখনো যখন নীলফামারীর বিভিন্ন জায়গা দিয়ে অতিক্রম করি তখন সেখানে কাটানো সেই অতীতের স্মৃতিগুলো মনে পড়ে যায়। মনে পড়ে যায় সেসব দিনগুলোর কথা, যে সময়ে এই পুরো এলাকায় আমরা ঘুরে বেড়াতাম, বন্ধু-বান্ধবের সাথে আড্ডা দিতাম, একসাথে স্কুলে যেতাম, স্কুল থেকে বাসায় ফেরার সময় বিভিন্ন ধরনের মজ মস্তি করতাম, সেই দিনগুলো এখনো বেশ মনে পড়ে।
গত ৯ বছর ধরে ঢাকায় অবস্থান করছি এবং এই বছরই হয়তো আমার পড়াশোনা শেষ হয়ে যাবে। তখন আমি চিন্তা ভাবনা করছি ঢাকা থেকে আবার আমি আমার মাতৃভূমিতে ফিরে আসবো এবং এখানে কিছু একটা করার চেষ্টা করব। আসলে নিজের মাতৃভূমি ছাড়া বসবাস করতে খুব একটা বেশি ভালো লাগে না। এই সিদ্ধান্তটা খুব ভালোভাবেই নেওয়ার চেষ্টা করছি। যেন আমি আমার মাতৃভূমিতেই নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারি এবং নিজের পরিবারের দেখাশোনা করতে পারি। যাই হোক আজকের মত এখানেই শেষ করছি, আপনারা সবাই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন, ধন্যবাদ সবাইকে।
VOTE @bangla.witness as witness
OR
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
আমি আল সারজিল ইসলাম সিয়াম। আমি বাঙালি হিসেবে পরিচয় দিতে গর্ববোধ করি। আমি বর্তমানে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের বিএসসি-র ছাত্র। আমি স্বতন্ত্র স্বাধীনতা সমর্থন করি। আমি বই পড়তে এবং কবিতা লিখতে পছন্দ করি। আমি নিজের মতামত প্রকাশ করার এবং অন্যের মতামত মূল্যায়ন করার চেষ্টা করি। আমি অনেক ভ্রমণ পছন্দ করি। আমি আমার অতিরিক্ত সময় ভ্রমণ করি এবং নতুন মানুষের সাথে পরিচিত হতে ভালোবাসি। নতুন মানুষের সংস্কৃতি এবং তাদের জীবন চলার যে ধরন সেটি পর্যবেক্ষণ করতে ভালোবাসি। আমি সব সময় নতুন কিছু জানার চেষ্টা করে যখনই কোনো কিছু নতুন কিছু দেখতে পাই সেটার উপরে আকর্ষণটি আমার বেশি থাকে।
বিষয়: আমার মাতৃভূমি নীলফামারী
কমিউনিটি : আমার বাংলা ব্লগ
আন্তরিক ভাবে ধন্যবাদ জানাই এই কমিউনিটির সকল সদস্য কে, ধন্যবাদ......
একেবারে যথার্থ বলেছেন ভাই। আমার কাছেও এটাই মনে হয়। নিজের মাতৃভূমিতে বসবাস করার মধ্যে আলাদা প্রশান্তি কাজ করে। যাইহোক এই বছর পড়াশোনা শেষ করে, নীলফামারিতে গিয়ে যাতে আপনি ভালো কিছু করতে পারেন,সেই কামনা করছি। আপনার জন্য শুভকামনা রইলো ভাই।
বাংলাদেশের উত্তর দিকের একটি শহর নীলফামারী নিয়ে সুন্দর একটি পোস্ট শেয়ার করলে আমাদের সঙ্গে। মাতৃভূমির সঙ্গে মানুষের আলাদাই একটা যোগ থাকে। তুমি যেখানেই যাবে, তবুও এই মাতৃভূমির গুরুত্বই হবে আলাদা। তোমার লেখা পড়তে পড়তে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়ছিলাম। দারুন সুন্দর এই পোস্টটি শেয়ার করবার জন্য ধন্যবাদ।
নিজের জন্মভূমি এবং বেড়ে ওঠার জায়গা নিয়ে খুব সুন্দর পোস্ট লিখেছো। জন্মভূমির প্রতি সবারই আবেগ থাকে। দীর্ঘ ৯ বছর ধরে ঢাকায় থাকার ফলে তুমি অন্যান্য দিক থেকে অনেক বেশি বুঝবে মাতৃভূমির প্রতি টান। ভেবেচিন্তে ভবিষ্যতের সিদ্ধান্ত নিও। সবচেয়ে বড় কথা মানসিক শান্তি ও ভালো থাকা। এইটাই জীবনের সম্পদ।
আমাদের রংপুর জেলার পাশের জেলা হচ্ছে নীলফামারী। আমি বলব অন্যান্য জেলাগুলি থেকে নীলফামারী বর্তমান সময়ে অনেক উন্নত। এখানে সৌন্দর্যের অপার কৃতি লক্ষ্য করা যায়। বিশেষ করে নীল সাগর সৈয়দপুর এয়ারপোর্ট এবং রেল মেরামত এর শ্রেষ্ঠ জায়গা। নীল সাগরে অবশ্য গিয়েছিলাম কয়েকবার আসলেই সেখানে অনেক অতিথি পাখি দেখতে পাওয়া যায়। আপনার জন্য প্রার্থনা রইল যেন আপনার ইচ্ছা প্রিয় মাতৃভূমি নীলফামারীতেই নিজের কর্মসংস্থান তৈরি করে ফেলতে পারেন। পরিবারের সাথে এবং মাতৃভূমির সাথে নিজের জীবন অতিবাহিত করতে পারেন।