একটি জনপ্রিয় নাটক -বাবার জুতা এর রিভিউ
আসসালামু আলাইকুম
কেমন আছেন বন্ধুরা ? আশা করি আপনারা বেশ ভালই আছেন। আমিও আল্লাহর রহমতে এবং আপনারদের দোয়ায় বেশ ভালই আছি। আমি মাকসুদা আক্তার। তবে স্টিমিট প্লাটফর্মে আমি @maksudakawsar হিসাবে পরিচিত। সবসময়ই আমি চেষ্টা করি আপনাদের মাঝে ভিন্নধর্মী কিছু নিয়ে উপস্থিত হতে।
আমি প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে যাচ্ছি কিছু ভিন্ন ধরনের পোস্ট আপনাদের মাঝে শেয়ার করার। হয়তো আমার পোস্টগুলো আপনাদের কারো ভাল লাগে। আবার হয়তো কারো ভাল লাগে না। তাই যাই হোক একদিন হলেও আমি আপনাদের মনের মত পোস্ট করতে পারবো। বন্ধুরা আজ আমি আপনাদের মাঝে একটি নাটকের রিভিউ নিয়ে উপস্থিত হলাম। আশাকরি আমার আজকের নাটকের রিভিউটি আপনাদের বেশ ভাল লাগবে।
প্রাপ্তি: YouTube
| নাটক | বাবার জুতা | |
|---|---|---|
| পরিচালক | তানিয়া আহমেদ | |
| অভিনয়ে | শহীদুজ্জামান সেলিম, সেলিন শুভ, মোমেনা খাতুন, সাফা কবির এবং আরও অনেকে | |
| দেশ | বাংলাদেশ | |
| ভাষা | বাংলা ভাষা | |
| প্রচার | ২০১৮ | |
| সময় | ৪ ৩মিনিট | |
| প্লাটফর্ম | ইউটিউব |
শহীদুজ্জামান সেলিম খুব ছোট একটি চাকুরী করে । পরিবারে তার ১ছেলে আর ১ মেয়ে। সন্তানের কথা ভেবে নিজে কোন দিন ভাল একটি জামা বা জুতা কিনে পড়েন না। এদিকে এলিন শুভ শহীদুজ্জামান সেলিম এর সন্তান। সে আবার সাফা কবির কে পছন্দ করেন। সাফা কবির থাকে ধনীর পরিবারের মেয়ে। তবুও একসময়ে সাফা কবির আর এলিন শুভর মাঝে ভালবাসার সম্পর্ক গড়ে উঠে। তাই এলিন শুভর বন্ধুরা সবাই পার্টি করার জন্য অনুরোধ করে। এজন্য এলিন শুভ মায়ের কাছে টাকা চায়। কিন্তু তার মা তাকে টাকা দিতে রাজি হন না। এদিকে শহীদুজ্জামান সেলিম এর পড়ার মত এক জোড়া জুতা যার দুটোই ছিড়ে যাওয়ায় মুচির কাছে সেলাই করতে দেয়। এদিকে শহীদুজ্জামান সেলিম মুচির কাছে জুতা আনার জন্য যেতে চাইলে এলিন শুভর মা বাধা দেয়। তিনি বলেন নতুন জুতা কিনে নিতে। এর জন্য এলিন শুভর মায়ের কাছে জমানো টাকা এনে সে শহীদুজ্জামান সেলিম কে দেয় নতুন জুতা কেনার জন্য। এসব দেখে এলিন শুভ রাগারাগি করলে শহীদুজ্জামান সেলিম নতুন জুতা না কিনে সেই টাকা এলিন শুভ কে দিয়ে দেয়।
এলিন শুভ তার ভালবাসার মানুষ কে নিয়ে পার্টি করার পর সাফা কবির এলিন শুভকে তার গাড়ী করে বাড়ি পৌঁছে দিতে আসে। হঠাৎ এলিন শুভ লক্ষ্য করে যে তার বাবা মুচির কাছে জুতা সেলাই করছে। তাই সে পথের মধ্যে গাড়ী হতে নেমে যেতে চায়। কিন্তু সাফা কবির এলিন শুভ কে শহীদুজ্জামান সেলিম কে দেখিয়ে বলে ঐ যে তোমার বাবা। কিন্তু এলিন শুভ তার বাবাকে অস্বীকার করে এবং বলে উনি আমার বাবা না। এদিকে মুচি শহীদুজ্জামান সেলিম কে বলে এই জুতা আর ঠিক হবে না। তার কাছে পুরান এক জোড়া জুতা আছে ৩০০ টাকা সেটা কিনে নিতে। কিন্তু শহীদুজ্জামান সেলিম ৩০০ টাকার জুতা না কিনে তার ছেড়া জুতা ঠিক করে দিতে বলে।
(ইউটিউব হতে লাইট শর্টে স্কিনশর্ট)
এদিকে সাফা কবির এলিন শুভকে নামিয়ে দিয়ে বাসায় যাওয়ার পর এলিন শুভর সাথে আর যোগাযোগ করে না। এমন কি এলিন শুভ তাকে ফোন করলে সাফা কবির তাকে জানিয়ে দেয় যে সে আর তার সাথে সম্পর্ক রাখতে চায় না এবং তাকে কোন রকম ফোন করতে নিষেধ করে দেয়। এ নিয়ে এলিন শুভ বেশ ভেঙ্গে পড়ে। এলিন শুভ কিছু্ই বুঝতে পারে না। কি বিষয় কি হলো। সে খুব ভেঙ্গে পড়ে। তাই এলিন শুভ বন্ধুদের সাহায্যে সাফা কবির এর সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে। একসময়ে সাফা কবির এলিন শুভর সাথে দেখা করে। সাফা কবির এলিন শুভ কে বলে আমি তোমার পরিবার সমন্ধে সব জেনে নিয়েই তোমার সাথে প্রেম করেছি। আমি জানতাম তোমার বাবা ছোট একটা চাকুরী করে। যে বাবা নিজে ছেড়া জুতা পড়ে তা বার বার মুচির কাছে সেলাই করে পড়ে, আর তুমি সেই বাবা কে অস্বীকার করলে? নিজের বাবা কে যে পরিচয় দিতে দ্বিধা বোধ করে না সে আমাকে কি সম্মান করবে। তাই তোমার সাথে আমার সম্পর্ক রাখা সম্ভব না। আশা করি আমার উত্তর পেয়ে গেছো। এই বলে সাফা কবির চলে যায়।
(ইউটিউব হতে লাইট শর্টে স্কিনশর্ট)
এদিকে এলিন শুভ সাফা কবিরের কথা শুনে বেশ ভেঙ্গে পড়ে । আর অন্য দিকে এলিন শুভর এই ভেঙ্গে পড়া শহীদুজ্জামান সেলিম লক্ষ্য করে। সে এলিন শুভর মাকে বলে যে এলিন শুভর কি হয়েছে তা জানার জন্য। বাবা হিসাবে সে যে সন্তানের কোন চাহিদা পূরণ করতে পারে না সেটাও বলে। আর বাবা মায়ের এসব কথা এলিন শুভ দরজার বাহির হতে শুনতে পায়।
(ইউটিউব হতে লাইট শর্টে স্কিনশর্ট)
এদিকে এলিন শুভ নিজের ভুল বুঝতে পারে। সে এখন তার পরিবারের জন্য কিছু করতে চায়। তাই সে তার বন্ধুদের কাছে সাহায্য চায়। কিছু একটা করার জন্য। বন্ধুদের থেকে আইডিয়া চায়। সে মুচির থেকে তার বাবার পুরানো জুতাটা কিনে নেয়। তারপর বন্ধুদের কে নিয়ে একটি জুতার দোকান দেয় তাও আবার ভ্যান গাড়ীতে। দোকানটির নাম দেয় বাবার জুতা। আর এলিন শুভর এই নতুন ব্যবসা সাফা কবিরও একদিন দেখে।
(ইউটিউব হতে লাইট শর্টে স্কিনশর্ট)
এদিকে এলিন শুভর বোন অসুস্থ্য হওয়ায় তার বাবা মা ভেঙ্গে পড়েছে। এসব দেখে এলিন শুভ কষ্ট পায়। তাই সে তার বাবা কে টাকা সাধে। কিন্তু তার বাবা তার টাকা নিতে চায় না। কারন তার বাবা ভাবে যে তার ছেলে খারাপ হয়ে গেছে।
(ইউটিউব হতে লাইট শর্টে স্কিনশর্ট)
এদিকে সাফা কবিরের সাথে এলিন শুভর আবার মিল হয়ে যায়। তখন এলিন শুভ সাফা কবির কে বলে যে তুমি আমার জীবন টা বদলে দিয়েছো। কিন্তু আমার বাবা আমাকে বিশ্বাস করে না। আমি এত টাকা কোথায় পেলাম। তারপর সাফা কবির শহীদুজ্জামান সেলিম কে নিয়ে তার ছেলের দোকান দেখায়। এতে করে শহীদুজ্জামান সেলিম ছেলেকে বুকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে। আর এই দৃশ্যের মধ্য দিয়ে শেষ হয়ে যায় বাবার জুতা নাটকটি।
(ইউটিউব হতে লাইট শর্টে স্কিনশর্ট)
নাটকটিতে এক গরীব বাবার স্বল্প আয়ের মাঝে তার সন্তানদের জন্য কতটুকু ত্যাগ স্বীকার করে তা যেমন ফুটে উঠেছে। তেমনি ভাবে ফুটে উঠেছে যে একটি মেয়ে চাইলে তার ভালবাসা দিয়ে একটি ছেলের জীবন কে পালটে দেওয়ার উপায় বা ঘটনা। একজন দরিদ্র বাবা রোজ ছেড়া জুতে সেলাই করে অফিসে যায়। এক সময় ছেলে তার বাবার কষ্ট বুঝতে পারে। নাটকটিতে পরিচালক তানিয়া আহমেদ তার দক্ষতা দিয়ে একটি বাবার জুতা নাটকটি বেশ সুন্দর করে ফুটিয়ে তুলেছেন।
| পরিচালনা | ১০ |
|---|---|
| কাহিনী | ১০ |
| অভিনয়ে | ১০ |
ভাল থাকবেন , সুস্থ্য থাকবেন।
Thank you, friend!


I'm @steem.history, who is steem witness.
Thank you for witnessvoting for me.
please click it!
(Go to https://steemit.com/~witnesses and type fbslo at the bottom of the page)
The weight is reduced because of the lack of Voting Power. If you vote for me as a witness, you can get my little vote.
চমৎকার একটি নাটক রিভিউ পড়ে ভালো লাগলো। সত্যি বাবা আমাদের মাথার ছাদ। নাটক -বাবার জুতা এর রিভিউ অনেক সুন্দর হয়েছে। সময় করে অবশ্যই নাটকটি দেখবো।
আমি জাষ্ট স্তব্ধ হয়ে গেলাম, নাটকের গল্পটা যেন কিভাবে মনে গেঁথে গেছে। অসাধারণ এবং বাস্তবধর্মী একটি নাটক। এরকম অনেক বাবাই তাদের সন্তানদের জন্য ছেঁড়া জামা জুতো পরে, কিন্তু সন্তানরা তাদের প্রাপ্য সম্মানটুকু দেয় না 😕
যাক নাটকের শেষ অংশ আমার অসাধারণ লেগেছে আপু। আমিও এটাকে ১০ এ ১০ দেবো।
সেই সাথে আপনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই আপু চমৎকার নাটকটি রিভিউ করার জন্য।
চমৎকার একটি নাটক রিভিউ করেছেন ৷ নাটকটির গল্প আসলেই অনেক সুন্দর ছিলো ৷ বাবা এমন একজন মানুষ যিনি সন্তানের জন্য পরিবারের জন্য কত শত ত্যাগ স্বীকার করেন ৷ অন্য দিকে একটা মেয়ে ভালোবাসা দিয়ে বদলে দিতে পারে একটি ছেলের জীবন ৷ নাটকটি সুন্দর ছিলো ৷ আপনিও সুন্দর ভাবে সম্পূর্ণ নাটকটি রিভিউ করেছেন দেখে অনেক ভালো লাগলো ৷ ধন্যবাদ আপনাকে...