নাটক রিভিউ :- আরমান ভাই ফাইসা গেছে।
আসসালামু আলাইকুম। আমার বাংলা ব্লগ স্টিম কমিউনিটির বন্ধুগন আমি @tuhin002 বাংলাদেশ থেকে বলছি আজ (২৬ - ০৬ - ২০২৩)
আসলামু আলাইকুম,আমার স্ট্রিম বন্ধুগন। আশা করি আল্লাহুর রহমতে আপনারা সবাই অনেক ভালো আছেন। আপনাদের দোয়ায় আমিও ভালো আছি। আমি @tuhin002। আজকে আমি খুব সুন্দর একটি নাটক রিভিউ করতে ইচ্ছা পোষণ করেছি। আর তাই আজকে আমি যে নাটকটি শেয়ার করতে যাচ্ছি, সেই নাটকের নাম" আরমান ভাই ফাইসা গেছে। " নিচে স্ক্রিনশটের মাধ্যমে ধাপে ধাপে তুলে ধরা হলো ....
নাটকের গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য। |
|---|
| নাটকের নাম | আরমান ভাই ফাইসা গেছে। |
|---|---|
| পরিচালক | সাগর জাহান। |
| অভিনয় | জাহিদ হাসান , তিশা, আরফান,মুনিরা,মিঠু আরো অনেকে। |
| দৈর্ঘ্য | ৪৫ মিনিট ০০ সেকেন্ড |
| ভাষা | বাংলা |
| মুক্তির তারিখ | ০৬ মে ২০২০ ইং। |
নাটকের সারসংক্ষেপ । |
|---|
নাটকের শুরুতে দেখা যায় জাহিদ হাসান বিয়ের পাগড়ি মাথায় দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তার সাথে যারা থাকে তাকে বলে ভাই তাহলে এবার আপনি বাসর ঘরে যান। কিন্তু সে বাসর ঘরে যেতে খুব ভয় পায়। বিভিন্ন ধরনের কথাবার্তা বলে সে তাদেরকে বিভ্রান্তি করে।
এরপরে সাহস করে যখন বাসর ঘরে ঢুকে তখন ঘরের মধ্যে ঢুকে আবার বাইরে চলে আসে। অবশেষে তিশার চোখে চোখ পড়ে তখন তিশা তাকে ডেকে খাটের উপরে বসতে বলে। তিশার সাথে কথা বলে আর সে অনেক ঘামতে থাকে। যখনই তিশা তার মাথায় হাত দেয় সে অন্যরকম একটা অনুভূতি তার মধ্যে কাজ করে। অবশ্য সে অনুভূতিটা হলো ভয়ের অনুভূতি।
জাহিদ হাসানের জন্য তিশা সকালে নাস্তা নিয়ে আসে, নাস্তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য থাকে ডিম কুসুম বিহীন,সবজি, রুটি। এটা দেখে তো জাহিদ হাসানের চোখ কপালে উঠে যায়। সে বলে বউ আমি তো এগুলো কখনো খাই না। তখন তার স্ত্রী বলে যে না এখন থেকে এগুলো খেতে হবে কারণ এগুলো তোমার শরীরের জন্য উপকার।
জাহিদ হাসান মনটা ভার করে তার আড়তে যায়। আরফান সেটা লক্ষ্য করে। সে তার কাছে গিয়ে বলে ভাই আপনার কি হয়েছে আমাকে বলেন। প্রথমদিকে সে কোন কথা বলে না তখন আরফান বলেন আপনি যদি চুপ থাকেন তাহলে আমি কেমনে করে বুঝবো আপনার কি হয়েছে। তখন জাহিদ হাসান বলে আরে ছোট ভাই আমি তো বিয়ে করে ফাইসা গেছি।
এভাবে যখন তিশা তাকে নিয়মমাফিক ভাবে খেতে দেয় এবং সে একদিন যেগুলো খেয়েছিল সেগুলো সবকিছু বাদ দিয়ে নতুন খাবারের আইটেম তার সামনে দেয় এবং এটা নিয়ে এসে খুব অসন্তুষ্ট থাকে। এগুলো যখন আরফান কাছে বলে তখন আরফান বলে ভাই প্রথম প্রথম পরে সব ঠিক হয়ে যাবে।
হঠাৎ একদিন তিশা তার আড়তে আসে। এর আগে সবাই মিলে পোলাও বিরানি লাগছে একত্রে বসে খাচ্ছিল। খেতে খেতে জাহিদ হাসান যখন তিশাকে দেখতে পেল তখন সবাইকে সে বলতে লাগলেই তোর এগুলো খাস না এগুলো শরীরের জন্য খুবই ক্ষতিকর। তোদের এত করে বলে তোরা একটা খাস না তারপরও তোরা কেন খাস।
যখন তিশা ওখান থেকে চলে যায় তখন আরফান বলে ভাই সবকিছু ঠিক আছে কিন্তু আমি একটা বিষয় মেনে নিতে পারলাম না ভাবি কেন এখানে আসবে নিশ্চয়ই কেউ ওখানে পাঠাইছে এ সত্যতা না বের করে আমি শুনবো না। এরপরে যে ব্যক্তি এই কথা বলছিল তাকে বুড়িগঙ্গা নদীতে কান ধরে পানির মধ্যে ১০০ বার ওঠাবসা করাই ।
এরপরে জাহিদ হাসান অনেক ছলে বলে কৌশলে তৃষাকে তার বাবার বাসায় পাঠায়। সেখানে পাঠানোর একমাত্র উদ্দেশ্য হলো সে একটু মজা করে পোলাও বিরানি কোরমা লাচ্ছি এগুলো যেন খেতে পারে এটাই ছিল তার উদ্দেশ্য।
এরপরে তিশা তার মামার বাড়িতে চলে যায় এবং এরা সবাই মিলে আবারও সেই পোলা বিরানি লাচ্ছি ইত্যাদি খেতে বসে। তিশা পথের মধ্যে একটা জিনিস ফেলে যায় এর জন্য আবার পুনরায় সে বাসায় ফিরে আসে। এসে এগুলো খাওয়া দেখে দেখে সে খুব কষ্ট পায় এবং জাহিদ হাসানের সাথে একপ্রকার বাক বিতর্ক হয়। এবং তিশা রাগ করে বাবার বাসায় চলে যায়।
এরপরে দুজনা বিরহ চলতে থাকে। যদিও দুজন একে অপরকে খুব ভালোবাসে তাই দুইজন দূরে থাকাটা তাদের জন্য কষ্ট হয়ে পড়েছে। এভাবে তাদের দিন চলতে থাকে।
শেষ পর্যন্ত যখন জাহিদাসে না আর তার বউকে ছাড়া থাকতে পারে না তখন তার ছোট ভাইদের বলে তোরা যা গিয়ে তোর ভাবিকে নিয়ে আয়। এই কথা অনুযায়ী তারা মিষ্টি নিয়ে তার ভাবিকে নিয়ে আসতে যায়। তার ভাবি বলে তোমার ভাইয়া আমার কথা মনেই করে না। তখন আরফান বলে কে বলেছে ভাবে আপনার কথা মনে করে না আপনার জন্য তার গায়ে এখন ১০৬° জ্বর। এই কথা শুনে তিশা তাড়াহুড়া করে তাদের সাথে চলে যায়।
এদিকে জাহিদ হাসান জ্বরে নাটক করে। যে দেখে তার বউ তার বাড়িতে পৌঁছে গেছে অমনিতে এসে চাঁদর গায়ে দিয়ে শুয়ে পড়ে। এবার তিশা এসে তার সাথে কথা বলে আসে তখন বলে আমার কেউ আছে নাকি আমি মরলে কি আর বাঁচলে কি। কথা শুনে তিশা অনেকটা কেঁদে পড়ে।
এরপরে তাদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটে। তারা তাদের জীবন চলাফেরা খাওয়া-দাওয়া সবকিছু সমানভাবে ভাগ করে। কোন বিষয় যেন একে অপরের কোনো অসুবিধা না হয় সে বিষয়টা তারা একে অপরের ঠিক করে নেয়। সবমিলে স্বামী স্ত্রী ভালোবাসা যেমন হওয়া দরকার ঠিক তেমনটাই তারা একে অপরে তৈরি করে নেয়।
এই সমস্ত গুলো দেখে আরফান বলে কে বলেছে আরমান ভাই ফাইসা গেছে আরমান ভাই এখন তো দেখছি ভালবাসার জোয়ার ভাইসা গেছে। এই তোরা কে কোথায় আছিস। এই বলে ঢোল বাজাতে থাকে আর সবাই নাচতে থাকে। আর এখানে এই নাটকটি পরিসমাপ্ত ঘটে।
আমরা সবাই কমবেশি জানি যে বাংলাদেশ নাটকে বিখ্যাত। নাটকে অনেকেই অভিনয় করে থাকেন। বর্তমান এবং অতীত সময় যখনই বলেন না কেনো জাহিদ হাসান আমার সবথেকে প্রিয় অভিনেতা। এই নাটকটি আমার এত ভালো লেগেছে যা বলার ভাষা নাই। স্বামীর প্রতি স্ত্রী ভালোবাসা স্ত্রীর প্রতি স্বামীর ভালোবাসা। এতিমের প্রতি মানুষের ভালোবাসা।মানুষের প্রতি মানুষের ভালোবাসা। সব জায়গায় তুই কমবেশি এই নাটকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। সবাই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন। ভুল ত্রুটি থাকলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন,ধন্যবাদ সকলকে।
ব্যক্তিগত রেটিং । |
|---|
নাটকটিতে আমি আমার ব্যক্তিগত রেটিং পয়েন্ট ১০ এর মধ্যে ৯.৯ দিবো।
👨🦰আমার নিজের পরিচয়👨🦰
আমি তুহিন, আমার পক্ষ থেকে আপনাদের জানাই প্রাণঢালা শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।আমার মাতৃভাষা বাংলা। আমি বাংলা ব্লগে কাজ করতে অনেক ভালোবাসি। এই ব্লগে কাজ করার মধ্যমে আলাদা প্রশান্তি পায়। এছাড়াও আমার একটি বাগান আছে। বাগানে অনেক ফল ও সবজির চাষ করে থাকি। আমি ছবি আঁকতে পছন্দ করি। এছাড়া আমি বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতে খুব পছন্দ করি। সংক্ষিপ্ত আকারে আমার নিজের পরিচয় আপনাদের মাঝে শেয়ার করলাম। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন। আমার পক্ষ থেকে আপনাদের জন্য শুভকামনা রইল।
(১০% প্রিয় লাজুক খ্যাঁক এর জন্য )
VOTE @bangla.witness as witness
OR
https://twitter.com/ABashar45/status/1673290424075833344?t=f1dfTqXb0XtMhnJrY5QZXg&s=19
ভাইয়া এই নাটকটির কয়েকটা পর্ব ই হয়েছিল।আমি একটা পর্ব দেখেছিলাম।বেশ ভালোই লেগেছিল।আর জাহিদ হাসানের নাটক আগে অনেক দেখতাম।খুব ভালো লাগতো।আপনি সুন্দর একটি নাটকের রিভিউ খুব সুন্দর ভাবেই করলেন।অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে শেয়ার করার জন্য।
জি আপু আপনি ঠিকই বলেছেন এই নাটকের অনেক গুলো পর্ব আছে। ওই পর্ব গুলোর মধ্যে এটি একটি। এই নাটকগুলো প্রত্যেকটা দৃশ্য আমার খুবই ভালো লেগেছে এবং খুবই মজার একটি নাটক। বর্তমানে এত সুন্দর নাটক তৈরি করা অনেক কঠিন ব্যাপার।
আরমান ভাই কিন্তু সবার কাছেই বেশ জনপ্রিয়। সত্যি কথা বলতে এই নাটকটি সবাই অনেক পছন্দ করেছিল। আমার কাছেও বেশ ভালো লেগেছিল। অনেকদিন আগে এই নাটক দেখেছিলাম। আজকে এই দারুন নাটকের রিভিউ পড়ে অনেক ভালো লেগেছে ভাইয়া।
বাংলাদেশের কিছু নাটক আছে আপু যেসব নাটকগুলো দেখে মন ভরেনা। বর্তমানে নাটকগুলো থেকে ওই সময় নাটক গুলো খুবি দারুন।
আর জাহিদ হাসান এসো নাটকগুলো করেছে এসব নাটক গুলো খুবই সুন্দর। ধন্যবাদ আপু।
খুব সুন্দর একটি নাটকের রিভিউ দিয়েছেন আপনি। পুরো নাটকের রিভিউ পড়ে আমার কাছে খুব ভালো লেগেছে। জায়েদ হাসানের নাটক গুলো আমার কাছে ভালো লাগে। যদিও এই নাটকটি দেখা হয়নি। তবে সময় করে নাটকটি দেখার চেষ্টা করব। এত সুন্দর একটি নাটকের রিভিউ আমাদের শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ।
আপু জায়েদ হাসান না জাহিদ হাসান। যাহোক আপনি নাটকটি পড়েছেন ধন্যবাদ।
তিশা ও জাহিদ হাসানের অভিনীত নাটক গুলো আমার বেশ পছন্দ। তাদের অভিনয় দুর্দান্ত হয়। এই নাটকটি আমার দেখা হয়নি। তবে রেটিং পয়েন্টে দেখে মনে হচ্ছে নাটকটি দেখতে হবে। পোস্টটি আমি পড়িনি, পড়লে নাটকটি মজা বোঝা যাবে না।
বাংলাদেশে এই নাটকটি খুবই জনপ্রিয়। আমার মনে হয় খুব কম লোকই আছে যে এই নাটকটি সে দেখেনি। আপনি ঠিকই বলেছেন পড়ে নাটকটি মজা যাবে না দেখতে হবে।
এই নাটকটি অনেক পুরনো একটি নাটক এটি আমি অনেক আগে একবার দেখেছি। এখানে তিশা ও জাহিদ হাসানের অভিনয় খুবই চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে। বিশেষ করে জাহিদ হাসানের কথাগুলো বেশ ভালো লেগেছে আমার কাছে এই নাটকে।
আপনি ঠিকই বলেছেন আপু জাহিদ হাসানের কথাগুলো খুবই ভালো লাগে। ধন্যবাদ সুন্দর মন্তব্য করার জন্য।
মামা আপনি আজকে আমাদের মাঝে দারুন একটি নাটক রিভিউ এর মাধ্যমে শেয়ার করেছেন। আপনার শেয়ার করা নাটকটি অনেক আগে আমি দেখেছিলাম আসলে নাটকটি দেখতে বেশ হাসি পেয়েছিল। আসলে নাটকটিতে বেশ কিছু জায়গায় অনেক হাসির কাহিনী আছে সেগুলো দেখে বেশ মজা পেয়েছিলাম। ধন্যবাদ এত সুন্দর একটি নাটক শেয়ার করার জন্য।
এই নাটকে প্রত্যেকটা কাহিনীর মধ্যেই মজা রয়েছে। নাটকের যদি হাসি না থাকে তাহলে সেই নাটকের কোন মানে থাকে না। অনেক সুন্দর মন্তব্য করেছো ধন্যবাদ ভাগ্নে।
এই নাটকটা অনেক আগেই দেখেছি অনেকবার দেখা হয়েছে। অনেক সুন্দর একটি নাটক আবারো আপনার রিভিউ দেখে বেশ ভালই লেগেছে। অসাধারণ একটি নাটকের রিভিও শেয়ার করলেন আপনি।
ধন্যবাদ আপু এতো সুন্দর মন্তব্য করার জন্য।
বাংলাদেশের নাটকগুলোতে একটি করে ভালো ম্যাসেজ থাকে। এইজন্য আমার কাছে বরাবরই ভালো লাগে।এই নাটকেও স্বামী স্ত্রীর ভালোবাসা ও এতিম জীবনের সহমর্মিতা ফুটে উঠেছে।এছাড়া বেশ মজার ও ছিল পড়ে বুঝলাম, ধন্যবাদ আপনাকে।
আপনি ঠিক বলেছেন আপু বাংলাদেশের প্রত্যেকটা নাটকের মধ্যে মানুষের জীবন সম্পর্কে কোনো না কোনো একটা ভালো মেসেজ থেকেই থাকে। এই নাটকটি এত চমৎকার যে বলে বোঝানো যাবে না। এই নাটকের মজা নিতে হলে অবশ্যই নাটকটি দেখতে হবে। সুন্দর মন্তব্য করার জন্য ধন্যবাদ আপু ।