নাটক রিভিউ || "সুখের সংসার"
২৭ই ডিসেম্বর ২০২৩ খৃস্টাব্দ।
আমার বাংলা ব্লগের সকল বাংলাভাষী সদস্যগনকে আমার সালাম এবং আদাব। সবাই কেমন আছেন ? আশা করি সবাই মহান সৃষ্টিকর্তার অশেষ রহমতে অনেক ভালো আছেন। আমিও আপনাদের দোয়ায় এবং মহান সৃষ্টিকর্তার রহমতে অনেক ভালো আছি। সবাইকে আন্তরিকভাবে শুভেচ্ছা জানিয়ে আমার আজকের ব্লগ শুরু করছি। প্রতিদিনের মত আজকেও আপনাদের সামনে এসে হাজির হলাম। বেশ কয়েক দিন হয়েছে নাটক রিভিউ দেওয়া হয়না। তাই এবার চিন্তা করলাম এই সপ্তাহে একটা নাটক রিভিউ দেবো। আপনাদের নাটক রিভিউ পড়ে খুব ভালো লাগে। বর্তমানে বাংলা নাটক দেখতে যেমন ভালো লাগে তেমনি নাটকের গল্পগুলো খুবই শিক্ষনীয় থাকে। আজকে আমি আপনাদের সামনে একটি নাটকের রিভিউ নিয়ে হাজির হয়েছি। নাটকের নাম হচ্ছে সুখের সংসার। এই নাটকের প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছে জহির আলভি ও অহনা রহমান।
আমি শুধু বিনোদনের জন্য নাটক দেখি না কিংবা শেয়ারও করিনা। আমি সবসময় চিন্তা করি এই নাটক দেখে আমি কি শিখতে পারবো এবং আপনারাও কি শিখতে পারবেন। প্রতিটা নাটক গল্প বাস্তবের ঘটনার সাথে কোনো না কোনো ভাবে মিলে যায়। সেই নাটক আমাদের যেমন বিনোদন দেয় তেমনি অনেক কিছু শিখিয়েও দেয়। তেমনি একটি শিক্ষনীয় নাটক শেয়ার করতে চলে এসেছি। একটি মেয়ের স্বপ্ন থাকে তার সুখের সংসার হবে আবার অন্যদিকে একটি বাচ্চার স্বপ্ন থাকে তার বাবা মা তাকে অনেক ভালোবাসবে আর বাবা মা তাকে নিয়ে সব সময় হাসি খুশিতে থাকবে। কিন্তু যখন সেই বাচ্চা দেখে তার বাবা তার মা কে মারধর করে তখন সেই বাচ্চার মনের অবস্থা কেমন হতে পারে আপনারাই বলেন?এই নাটকে অনেক গুলো দিক তুলে ধরা হয়েছে আর প্রতিটা দিক এই সমাজের প্রায় মেয়েদের সাথে হয়ে থাকে।আমার কাছে এই নাটক খুব ভালো লেগেছে। তাহলে চলুন শুরু করা যাক।
নাটক সম্পর্কে কিছু তথ্য :-
| নাটক | সুখের সংসার |
|---|---|
| রচনা | সায়েম দর্জই |
| চিত্রনাট্য | পাপ্পু রাজ |
| চিত্রগ্ৰাহক | মীর হান্নান |
| সম্পাদনা | জাহাঙ্গীর আলম |
| পরিচালনা | মাহমুদুল হাসান রানা |
| অভিনয়ে | জহির আলভি, অহনা রহমান,সঞ্চিতা দত্ত,আদ্রিনাসহ আরও অনেক। |
| দেশ | বাংলাদেশ |
| ভাষা | বাংলা ভাষা |
| প্লাটফর্ম | ইউটিউব |
কাহিনী সারসংক্ষেপ
নাটকের শুরুতেই দেখতে পাবেন জহির অহনার সাথে টাকার জন্য ঝগড়া করছে। অহনা ও তার মেয়ে অল্প অল্প করে মাটির ব্যাংকে কিছু টাকা জমিয়েছে কিন্তু সেগুলো জহির নেওয়ার জন্য অহনার সাথে ঝগড়া করে। অহনা তা না দেওয়ায় মেয়ের সামনেই মাকে মারধর শুরু করে এবং ব্যাংক ভেঙ্গে টাকা নিয়ে যায়। এরপর সকালে নামাজ পড়ে মা মেয়ে বসে অনেক কথা বলে। জহির রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় যাদের সাথে চলাফেরা করে তাদের সাথে দেখা। তাদের থেকে সে টাকা ধার নিয়েছিল এখন সেগুলো ফেরত চায়। এই নিয়ে তাদের সাথে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে হাতাহাতি শুরু হয়।
অন্যদিকে অহনা মানুষের কাঁথা সেলাই করে সংসার চালায় আর তার স্বামী সেই টাকা নিয়ে জুয়াখেলে। অহনা বসে কাঁথা সেলাই করছে এমন সময় পাশের বাড়ির চাচি আসে কিছু কাঁথা নিয়ে। তখন সেই চাচি অহনাকে দেখে বলে তোকে আবারও মারছে। তুই এক কাজ করে ওকে তালাক দিয়ে দে। আমার কাছে ভালো পাত্র রয়েছে আর সে তোকে খুব পছন্দ করেছে। তুই সেখানে রাণীর মতো থাকবে। এই কথা শুনে অহনা খুব রেগে যায় আর সেই চাচিকে কাঁথা নিয়ে চলে যেতে বলে। রাতের বেলা জহির আবারও জুয়া খেলতে যায় আর জিতে গেলে আবারও তাদের সাথে পাওনা টাকা নিয়ে ঝগড়া হয়। জহির শুধু জুয়া খেলে না সে আবার পরকিয়াও করে। তখন জহির সেই মেয়ের কাছে যায় আর তাকে অনেক গুলো টাকা ও চুড়ি উপহার দেয়। যা সে কখনো তার বউয়ের সাথে করে না বরং খুব মারধর করে। অন্যদিকে জুয়া খেলার বন্ধুরা জহিরের পরকিয়া ধরার জন্য খুঁজ নিতে আসে। কিন্তু এই মেয়ে তাদের তাড়িয়ে দেয়।
অন্যদিকে অহনা বসে বসে স্বামীর জন্য অপেক্ষা করে আর কান্না করে। এরপর সকাল বেলা অহনার বাবা আসে দেখা করতে। জহির সেই সুযোগের সৎ ব্যবহার করে। শ্বশুরের সামনেই অহনাকে টাকার জন্য অনেক মারধর করে আর বলে আপনি যদি টাকা না দেন তাহলে আপনার মেয়েকে মেরে ফেলবো। এই বলে জহির চলে যায় আর রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় সেই চাচির সাথে দেখা। এরপর এই মহিলা অহনার নামে অনেক খারাপ কথা বলে রাগিয়ে তুলে। তারপর জহির বাড়িতে এসে আবার অহনাকে মারধর করে। এরপর রাতে শুয়ে শুয়ে মেয়ে তার মা কে বলে আম্মু বাবা এমন কেন? বাবা কি কখনো ভালো হবে না।
একদিন সকালে লাঠি নিয়ে বাড়ি মাপতে আসে আর অহনাকে বলে এই জায়গা সে বিক্রি করে দেবে। তখনই তার শ্বশুর টাকা এনে জহিরের কাছে দেয় আর সে খুশিতে চলে যায়। সে যখন রাস্তা দিয়ে কথা বলতে বলতে যাচ্ছিলো তখন তার বন্ধুরা এই কথা শুনে নেয় আর তারা একটা পরিকল্পনা করে। এরপর সে এই টাকা নিয়ে জুয়াখেলে আর সেখানে হেরে যায়। এরপর সে যাকে পছন্দ করে তার কাছে যায় কিন্তু সেই মেয়ে তাকে ঘরে ঢুকতে দেয়। এরপর জোর করে গিয়ে দেখে তার বন্ধু ভিতরে রয়েছে। এরপর মেয়েটি বলে ও আমায় তোর চেয়ে বেশি টাকা দিয়েছে। এই কথা শুনে জহির বলে আমি আরও বেশি টাকা দেবো। এই বলে চলে যায়। তখন তার বউ এর কাছে যায় টাকার জন্য কিন্তু তার বউ দিতে পারে না আবার চলে আসে। যখন সে রাস্তা দিয়ে যাচ্ছে ঐ সময় তার সেই বন্ধুরা এসে তার পেটে ছুরি বসিয়ে দেয়।
এরপর তারা চলে যায় আর ঐ রাস্তা দিয়ে একটি পথিক যাচ্ছিলো সে তাকে তার বাড়িতে দিয়ে যায়। এরপর তার বউ ও সন্তানের সেবা যত্নে সে সুস্থ হয়ে ওঠে। তারপর সে তার ভুল বুঝতে পারে আর তার শ্বশুর ও স্ত্রীর কাছে সে ক্ষমা চায়। ভোর রাতে তার স্ত্রী দেখে তার স্বামী বিছানায় নেই তখন মা মেয়ে মনে করেছিলো হয়তো সে আবার চলে গিয়েছে। কিন্তু এরপর দেখে জহির নামাজ পড়ে এসে বলছে তোমরাও যাও নামাজ পড়ে এসো। এরপর সবাই একসাথে নামাজ পড়ে আর সেদিন থেকে তাদের সুখের সংসার শুরু হয়।
ব্যক্তিগত মতামত
এই নাটকের কাহিনী খুবই সুন্দর। প্রতিটা মেয়ের স্বপ্ন থাকে তার একটি সুখের সংসার থাকবে। সেই সংসারের সবাইকে নিয়ে সুখে শান্তিতে বসবাস করবে। কিন্তু সেই সংসার তখনই সুখের হয় যখন তার স্বামী ভালো থাকে। বিয়ের পরে একটি মেয়ের শক্তি হলো তার স্বামী আর সেই স্বামীই যদি অত্যাচার করে তাহলে তার সংসার কখনো সুখের হয় না। এছাড়া বাচ্চাদের সামনে কখনো তার মায়ের গায়ে হাত তুলা উচিত নয়। এতে করে বাচ্চাদের মানসিক সমস্যা হতে পারে। যাই হোক এই নাটক থেকে অনেক কিছু শেখার রয়েছে। সবমিলিয়ে এই নাটকের কাহিনী আমার কাছে অনেক ভালো লেগেছে। আশা করি আপনাদের কাছেও ভালো লাগবে। আপনারা সময় পেলে অবশ্যই দেখবেন।
ব্যক্তিগত রেটিং
১০ /৯.৫
নাটকের লিংক
আমি তানজিমা। আমি একজন বাংলাদেশী। আমার মাতৃভাষা বাংলা বলে আমি নিজেকে নিয়ে অনেক গর্ববোধ করি। আমি ফিন্যান্স বিভাগ থেকে বিবিএ শেষ করেছি।
আমি ছবি আঁকতে, পড়তে, লিখতে ফটোগ্রাফি, রেসিপি এবং ডাই বানাতে খুব পছন্দ করি। আবার আমি ভ্রমণ বা ঘুরাঘুরি করতে খুব পছন্দ করি। এছাড়াও আমি বিভিন্ন ধরনের রেসিপি তৈরি করতে খুব পছন্দ করি। আমি চেষ্টা করি সব সময় যেন নতুন কোনো কিছু করা যায়।
নাটকের গল্পটি আমার কাছে ভালো লেগেছে। সমাজের কিছু বাস্তব চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। আসলে বিয়ের পরে মেয়েদের আশ্রয়স্থল হয় তার স্বামীর বাড়ি। আর স্বামীই যদি ভালো না হয় তাহলে দুঃখের সীমা থাকে না
হ্যাঁ ভাইয়া একদম বাস্তব চিত্র তুলে ধরা হয়েছে এই নাটকে। খুব সুন্দর গল্প। ধন্যবাদ।
নাটকটি আমার কাছে ভীষণ ভালো লেগেছে। আসলেই নাটককে কিছু বাস্তব চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। ঠিকই বলেছেন, প্রতিটা মেয়ের স্বপ্ন থাকে তার একটি সুখের সংসার থাকবে। আর তা যদি স্বামী ভালো না হয় তাহলে দুঃখের সীমা থাকে না। সুন্দর একটি নাটকের রিভিউ শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ।
ধন্যবাদ সুন্দর মতামতের জন্য। আপনার মন্তব্য পড়ে ভালো লাগলো।
আপনি খুব সুন্দর একটি রিভিউ পোস্ট শেয়ার করেছেন।রিভিউ পড়ে নাটকটি দেখার আগ্রহ অনেকটা বেড়ে গেল।সময় করে দেখে নিব নাটকটি।নাটকের গল্পটি ভালো লেগেছে।ধন্যবাদ সুন্দর রিভিউ পোস্টটি শেয়ার করার জন্য।
আপু নাটকটি একবার দেখবেন খুব ভালো লাগবে। এই ধরনের নাটক থেকে অনেক কিছু শেখা যায়। ধন্যবাদ সুন্দর মতামতের জন্য।
আপু আপনার শেয়ার করা নাটকের রিভিউটি পড়ে ভীষণ ভালো লাগলো। নাটকটি সত্যিই বাস্তবতা সমৃদ্ধ। আপনি চমৎকার ভাবে নাটকটির রিভিউ পোস্ট শেয়ার করলেন। নাটকটি সময় পেলে দেখবো আশাকরি। ধন্যবাদ আপু সুন্দর ভাবে নাটকের রিভিউটি শেয়ার করার জন্য।
আপু সময় পেলে অবশ্যই দেখবেন খুব ভালো লাগবে। একদম বাস্তবধর্মী। ধন্যবাদ সুন্দর মতামতের জন্য।
এই নাটকটি আমার দেখা হয়নি আপু। তবে আপনি এত সুন্দর করে নাটক রিভিউ দিয়েছেন ,মনে হচ্ছিল যেন পুরো নাটকটি চোখের সামনে ভেসে উঠছিল। আসলে যারা ভাল মানুষ হয় তাদের সাথে একদিন ভালো কিছুই হয়, ঠিক যেমন শেষ পর্যন্ত অহনার সাথে হলো। জহির নিজের ভুল বুঝতে পেরে, অহনা আর তাদের মেয়ের সাথে সুখে শান্তিতে থাকতে লাগলো দেখে ভালো লাগলো।
আপু সময় পেলে দেখে নেবেন আশা করি ভালো লাগবে। ধন্যবাদ।
নাটকটির কিছু কিছু অংশ আমি দেখেছি বেশ ভালই লাগে। আজকে আপনি সুখের সংসার নাটকটা আমাদের মাঝে রিভিউ করে দেখিয়েছেন দেখে খুশি হলাম। এই নাটকটা কিন্তু আমাদের অনেকের জন্য বেশ আনন্দদায়ক আবার শিক্ষণীয়। যাই হোক সুন্দরভাবে আপনি রিভিউ করেছেন তাই ধন্যবাদ।
নাটক দেখতে আমি অনেক বেশি পরিমাণ ভালোবাসি। আর তা যদি জহির আলভির নাটক হয় তাহলে তো আর কোন কথাই নেই৷ আজকে আপনি খুবই সুন্দরভাবে এই নাটকের রিভিউ শেয়ার করেছেন৷ এই নাটকটি আমি এখনো দেখে নিতে পারিনি৷ তবে অবশ্যই সময় করে আমি এই নাটকটি দেখে নেওয়ার চেষ্টা করব৷ আপনার এই রিভিউ থেকে এই নাটক সম্পর্কে অনেক ধারণা পেয়ে গেলাম৷
সুখের সংসার নাটকটার রিভিউ সম্পূর্ণ পড়ে খুব ভালোই লেগেছে আমার কাছে। খুব সুন্দর কথা আপনি পুরো নাটকটার রিভিউ তুলে ধরেছেন। সুখের সংসার এই নাটকটি এখনো পর্যন্ত আমার দেখা হয়নি। আমি তো মনে করি এরকম নাটক গুলোর যদি রিভিউ এত সুন্দর করে লেখা হয় তাহলে পড়লে আর নাটকটা দেখাই লাগেনা। এই নাটকটার মধ্যে শিক্ষনীয় কিছু বিষয় রয়েছে, যেটা আমার অনেক পছন্দ হয়েছে। তবে ভাবছি এই নাটকটা দেখব।