"বৈশাখ মাসে নগর কীর্তন শেষে প্রসাদ খাওয়া-দাওয়া - ১ম পর্ব "

in আমার বাংলা ব্লগ3 years ago


হ্যালো..!!
আমার সুপ্রিয় বন্ধুরা,
আমি @aongkon বাংলাদেশের নাগরিক

আজ- ১লা মে, সোমবার, ২০২৩ খ্রিষ্টাব্দ

আমি অংকন বিশ্বাস, আমার ইউজার নেম @aongkon। আমি মা, মাতৃভাষা এবং মাতৃভূমিকে সব থেকে বেশি ভালোবাসি। আশা করি, আপনারা সবাই সুস্থ এবং সুন্দর আছেন। আমার মাতৃভাষা বাংলার একমাত্র ব্লগিং কমিউনিটি আমার বাংলা ব্লগ এর ফাউন্ডার, এডমিন প্যানেল, মডারেটর প্যানেল এবং সকল সদস্যসদস্যাদের আমার অন্তরের অন্তরস্থল থেকে প্রাণঢালা শুভেচ্ছা এবং অভিনন্দন রইল।



আজকে আমি আপনাদের সামনে নতুন একটি পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি। কিছুদিন আগে ঈদের ছুটিতে আমি ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়িতে এসেছি। আমাদের গ্রামের সবকিছুই আমার কাছে খুবই ভালো লাগে। গ্রামে আমাদের পাড়াতে চারটি মন্দির আছে। একটি রাধা কৃষ্ণ মন্দির, একটি মা দুর্গা মন্দির, একটি সরস্বতী মন্দির এবং আরেকটি শীতলা মন্দির। আমাদের পাড়ার প্রতিটি মন্দিরেই পূজা অর্চনা করা হয়ে থাকে। আমাদের পাড়ায় প্রতিবছর বৈশাখ মাস ব্যাপী নগর কীর্তন হয়ে থাকে।


কভার ফটো

GridArt_20230501_191756218.jpg

কয়েকটি ছবিকে সংযুক্ত করে সুন্দর একটি কভার ফটো তৈরি করে নিয়েছি।


আর এই নগরকীর্তনে ছোট-বড় সবাই অংশগ্রহণ করে। আমাদের পাড়ার নগর কীর্তন রাধাকৃষ্ণ মন্দির থেকে শুরু হয়ে প্রতিটি বাড়ি ঘুরে রাধা-কৃষ্ণ মন্দিরে এসে শেষ করা হয়। আর যেদিন প্রাকৃতিক দুর্যোগ থাকে সেদিন রাধা-কৃষ্ণ মন্দিরে নগর কীর্তন করে আবার সেখানেই শেষ করে দেয়া হয় সেদিন আর পাড়ায় যাওয়া হয় না। এই বৈশাখ মাসে পাড়ায় নগরকীর্তনে বিভিন্ন বাড়িতে প্রসাদ খাওয়া-দাওয়ার আয়োজন করে।

আজকের নগরকীর্তনে উপস্থিত সকল ভক্তবৃন্দের জন্য মিঠুন কুমার পোদ্দার খাওয়া-দাওয়ার আয়োজন করেছিল। পুরো বৈশাখ মাস ব্যাপী নগর কীর্তন করার পরে প্রতিবছর রাধাকৃষ্ণ মন্দিরে মহা ভোগের আয়োজন করা হয়। এই বৈশাখ মাসে নগরকীর্তনে উপস্থিত ভক্তবৃন্দের জন্য আমাদের পাড়ায় বিভিন্ন বাড়িতে প্রসাদ খাওয়া-দাওয়ার আয়োজন করবে সে কয়দিনে প্রতিটি পর্ব আকারে আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করব। আজকে আমি বৈশাখ মাসে নগর কীর্তন শেষে প্রসাদ খাওয়া-দাওয়া - ১ম পর্ব আপনাদের সাথে শেয়ার করব।



20230422_115210.jpg20230422_115226.jpg
20230422_115153.jpg20230422_115121.jpg

একমাত্র ঈশ্বরের নাম জপের মাধ্যমেই জীবের মুক্তি সম্ভব। তাইতো এই বৈশাখ মাস ব্যাপী হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা বিশেষভাবে নগর কীর্তন করে থাকে। আমাদের পাড়ার নগরকীর্তনে যুবসমাজের অবদান সব থেকে বেশি। কারন আমরা যারা প্রতিদিন নগর কীর্তন করি সবাই অবিবাহিত সবাই শিক্ষার্থী। আমরা প্রতিদিন রাধা-কৃষ্ণ মন্দিরের সামনে নগর কীর্তন শুরু করি এবং এখানেই শেষ করি।

20230421_205857.jpg20230421_210042.jpg

আমাদের পাড়ার নগর কীর্তন এর নিয়মিত একজন ভক্ত আমার ভাই সার্থক। কেউ নগরে আসুক বা না আসুক সেটা দেখার বিষয় না, কিন্তু আমার ভাইয়ের আমাদের কাছে একটা আবদার থাকে সে নগরে যাবে। আর প্রতিদিন আমাদের দায়িত্ব হল ভাই সার্থককে নগরে নিয়ে যাওয়া এবং বাড়িতে নিয়ে আসা।

20230421_203354.jpg

আমাদের বাড়িতে সকল ভক্তবৃন্দের উপস্থিতিতে নগরকীর্তনের দৃশ্য। পাড়ার প্রতিটি বাড়িতে নগরকীর্তনের ভক্তবৃন্দ উপস্থিত হওয়ার সাথে সাথেই উঠানে প্রদীপ এবং ধুপতি জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। আর প্রদীপ এবং ধুপতি কে কেন্দ্র করে চারিদিক দিয়ে ঘুরে ঘুরে নগর কীর্তন করা হয়। শুভ বা মঙ্গলের প্রতীক হলো প্রদীপ এবং ধুপতি।

20230421_204438.jpg

প্রায় দিনই কোন না কোন বাড়ি থেকে বাতসা প্রসাদ দিয়ে থাকে ভক্তবৃন্দের জন্য। আর প্রতিদিনই কীর্তন শেষে এই বাতাসা প্রসাদ সকল ভক্তবৃন্দের মাঝে ভাগ করে দেয়া হয়। আমাদের পাড়ার নগর কীর্তন এর সব থেকে বেশি ভক্তবৃন্দ হচ্ছে ছোট ছোট বাচ্চারা।

20230421_210751.jpg

আজকে পোদ্দার বাড়ির মিঠুন কুমার পোদ্দার নগরকীর্তনের সকল ভক্তবৃন্দের জন্য খাওয়া-দাওয়ার আয়োজন করেছিল। আজকে আমাদের ভক্তবৃন্দের জন্য ফলপ্রসাদ ও লুচি ডালের আয়োজন করা হয়েছিল। সকল ভক্তবৃন্দের মাঝে প্রসাদ বিতরণ করছে। প্রসাদ বিতরণ শেষে সব ভক্তবৃন্দ একসাথে উঠানে বসে ফলপসাদ গ্রহণ করছে।

20230421_211152.jpg

এই পাত্রে আমি প্রসাদ নিয়েছিলাম এখানে লুচি, সুজি, ডাল, তরমুজ, পেয়ারা, আনারস, শসা ও বাতাসা। নগরকীর্তনের এসব প্রসাদ খেতে আমার খুবই ভালো লাগে। আর সব থেকে বড় কথা হলো প্রতিদিন এভাবে নগর কীর্তন করার মাধ্যমে হৃদয়ে শান্তি অনুভূত হয়। হিন্দু ধর্মালম্বীদের ইহলোক থেকে পরলোকে যাওয়ার একমাত্র সহজ অবলম্বন এই হরিনাম সংকীর্তন। এই মহামন্ত্র সংকীর্তনের মাধ্যমেই ঈশ্বরকে হৃদয়ে ধারণ করা যায়।

আমি পরবর্তীতে "বৈশাখ মাসে নগর কীর্তন শেষে প্রসাদ খাওয়া-দাওয়া - ২য় পর্ব" আপনাদের সাথে শেয়ার করব।



পোস্টের ছবির বিবরন

ক্যামেরাম্যান@aongkon
ডিভাইসস্যামসাং জে-৭ প্রো
ক্যামেরা১৩ মেগাপিক্সেল
তারিখ২২ ই এপ্রিল
লোকেশনকুষ্টিয়া


প্রিয় বন্ধুরা,

আমি স্টিমিট প্ল্যাটফর্মে আমার বাংলা ব্লগ কমিউনিটিতে প্রতিনিয়ত আমার সৃজনশীলতা দিয়ে ভালো কনটেন্ট শেয়ার করে এই কমিউনিটিকে সমৃদ্ধ করতে চাই এবং উচ্চতার শিখরে নিয়ে যেতে চাই। আমার "বৈশাখ মাসে নগর কীর্তন শেষে প্রসাদ খাওয়া-দাওয়া -১ম পর্ব" ব্লগটি কেমন হয়েছে আপনারা সবাই কমেন্টের মাধ্যমে অবশ্যই মন্তব্য করবেন, সামান্য ভুল ত্রুটি অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন এবং সুপরামর্শ দিয়ে পাশে থাকবেন। আবার দেখা হবে নতুন কোনো পোস্ট নিয়ে শীঘ্রই, ততক্ষণে সবাই নিজের খেয়াল রাখবেন সুস্থ এবং সুন্দর থাকবেন এটাই কাম্য করি।



সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ
@aongkon



VOTE@bangla.witness as witness witness_proxy_vote.png
OR
SET @rme as your proxy
witness_vote.png

standard_Discord_Zip.gif

Sort:  
 3 years ago 

বাহ বেশ ভালো লাগলো আয়োজনটা দেখে ভাই। বৈশাখ মাসে মোটামুটি সব হিন্দুধর্মলম্বীদের বাড়িতেই কিছু না কিছু নিয়ম-কানুন মানা হয় । তবে পুরো পাড়া জুড়ে এরকম নগরকীর্তনের ব্যাপারটা খুব সুন্দর লাগলো। বিশেষ করে সবার জন্য প্রসাদের ব্যবস্থা করাটা। ঈশ্বর আমাদের সকলের মনের ইচ্ছে পূর্ণ করুক এটাই প্রার্থনা রইলো। সুন্দর একটা পোস্ট ছিল।

 3 years ago 

আমাদের পাড়ায় বৈশাখ মাস মানেই নগরকীর্তনের মাস। সুন্দর মতামত করে পাশে থাকা যেন আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ দাদা।

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.32
JST 0.086
BTC 60178.54
ETH 1576.95
USDT 1.00
SBD 0.42