"বৈশাখ মাসে নগর কীর্তন শেষে প্রসাদ খাওয়া-দাওয়া - শেষ পর্ব "

in আমার বাংলা ব্লগ3 years ago


হ্যালো..!!
আমার সুপ্রিয় বন্ধুরা,
আমি @aongkon বাংলাদেশের নাগরিক

আজ- ১লা জুন, বৃহস্পতিবার, ২০২৩ খ্রিষ্টাব্দ

আমি অংকন বিশ্বাস, আমার ইউজার নেম @aongkon। আমি মা, মাতৃভাষা এবং মাতৃভূমিকে সব থেকে বেশি ভালোবাসি। আশা করি, আপনারা সবাই সুস্থ এবং সুন্দর আছেন। আমার মাতৃভাষা বাংলার একমাত্র ব্লগিং কমিউনিটি আমার বাংলা ব্লগ এর ফাউন্ডার, এডমিন প্যানেল, মডারেটর প্যানেল এবং সকল সদস্যসদস্যাদের আমার অন্তরের অন্তরস্থল থেকে প্রাণঢালা শুভেচ্ছা এবং অভিনন্দন রইল।



আজকে আমি আপনাদের সামনে নতুন একটি পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি। কিছুদিন আগে ঈদের ছুটিতে আমি ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়িতে এসেছি। আমাদের গ্রামের সবকিছুই আমার কাছে খুবই ভালো লাগে। গ্রামে আমাদের পাড়াতে চারটি মন্দির আছে। একটি রাধা কৃষ্ণ মন্দির, একটি মা দুর্গা মন্দির, একটি সরস্বতী মন্দির এবং আরেকটি শীতলা মন্দির। আমাদের পাড়ার প্রতিটি মন্দিরেই পূজা অর্চনা করা হয়ে থাকে। আমাদের পাড়ায় প্রতিবছর বৈশাখ মাস ব্যাপী নগর কীর্তন হয়ে থাকে।


কভার ফটো

20230522_200021.jpg

কয়েকটি ছবিকে সংযুক্ত করে সুন্দর একটি কভার ফটো তৈরি করে নিয়েছি।


আজকের নগরকীর্তনে উপস্থিত সকল ভক্তবৃন্দের জন্য নিকুঞ্জ সরকার খাওয়া-দাওয়ার আয়োজন করেছিল। পুরো বৈশাখ মাস ব্যাপী নগর কীর্তন করার পরে প্রতিবছর রাধাকৃষ্ণ মন্দিরে মহা ভোগের আয়োজন করা হয়। এই বৈশাখ মাসে নগরকীর্তনে উপস্থিত ভক্তবৃন্দের জন্য আমাদের পাড়ায় বিভিন্ন বাড়িতে প্রসাদ খাওয়া-দাওয়ার আয়োজন করবে সে কয়দিনে প্রতিটি পর্ব আপনাদের সাথে আমি শেয়ার করেছি। আমি এর আগে কয়েকটি পোস্টে **বৈশাখ মাসে নগর কীর্তন শেষে প্রসাদ খাওয়া-দাওয়া - ১ম পর্ব, ২য় পর্ব, ৩য় পর্ব এবং ৪র্থ পর্ব শেয়ার করেছি। আর আজকে আমি শেষ পর্ব আপনাদের সাথে শেয়ার করব।

20230522_195429.jpg

আজকে শ্রী শ্রী রাধা কৃষ্ণ মন্দির থেকে নগরকীর্তন আরম্ভ করা হয়। তারপর আমাদের পাড়ার প্রতিটা বাড়িতে নগর কীর্তন করা হয় এবং আমাদের পাড়ার শীতলা মন্দিরের সামনে সবাই মিলে নগরকীর্তন করা হয়। পাড়ার প্রতিটি বাড়ি এবং মন্দিরে নগর কীর্তনের জন্য গড়ে পাঁচ মিনিট করে নগর কীর্তন করা হয়। আমাদের পাড়ায় ৩০ টা। মতো বাড়ি এবং চারটি মন্দির আছে।

20230522_195453.jpg

এই নগরকীর্তনে ছোট-বড় সবাই অংশগ্রহণ করে। আমাদের পাড়ার নগর কীর্তন রাধাকৃষ্ণ মন্দির থেকে শুরু হয়ে প্রতিটি বাড়ি ঘুরে রাধা-কৃষ্ণ মন্দিরে এসে শেষ করা হয়। আর যেদিন প্রাকৃতিক দুর্যোগ থাকে সেদিন রাধা-কৃষ্ণ মন্দিরে নগর কীর্তন করে আবার সেখানেই শেষ করে দেয়া হয় সেদিন আর পাড়ায় যাওয়া হয় না।

20230504_214039.jpg

এই বৈশাখ মাসে পাড়ায় নগরকীর্তনে বিভিন্ন বাড়িতে প্রসাদ খাওয়া-দাওয়ার আয়োজন করে। একমাত্র ঈশ্বরের নাম জপের মাধ্যমেই জীবের মুক্তি সম্ভব।

20230522_103347.jpg

তাইতো এই বৈশাখ মাস ব্যাপী হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা বিশেষভাবে নগর কীর্তন করে থাকে। আমাদের পাড়ার নগরকীর্তনে যুবসমাজের অবদান অনেক। শুধুমাত্র যুবসমাজেই নয় আমাদের পাড়ার ছোট বাচ্চাদের অবদান যুবসমাজের থেকেও বেশি। আমার ভাই সার্থক সহ আরো অনেক বাচ্চা আছে যারা প্রতিদিন আমাদের পাড়ার নগরকীর্তনে অংশগ্রহণ করে।

20230522_195407.jpg

কারন আমরা যারা প্রতিদিন নগর কীর্তন করি সবাই অবিবাহিত সবাই শিক্ষার্থী। আমরা প্রতিদিন রাধা-কৃষ্ণ মন্দিরের সামনে নগর কীর্তন শুরু করি এবং এখানেই শেষ করি।

20230522_103730.jpg

আমার ভাই দীপ কয়েকদিন আগে সিলেট থেকে আমাদের বাড়িতে এসেছে। আমার ভাই দীপ নগর কীর্তন শেষে বাতাসা প্রসাদ পেয়ে খুবই খুশি হয়েছিলো। আজকে আমাদের পাড়ার নিকুঞ্জ সরকারের দোকানে হালখাতা হওয়ার কারণে আজকে নগরকীর্তনে সাধু সেবার আয়োজন করেছিলো।

20230504_220748.jpg

আজকে আমাদের নগর কীর্তনের ভক্তবৃন্দের জন্য ভাত, ডাল, চিপস ভাজি, ও মিষ্টান্ন ভোজের আয়োজন করা হয়েছিল।নগর কীর্তন শেষে সবাই মিলে একসাথে এভাবে প্রসাদ খাওয়ার মাঝে আলাদা একটি আনন্দ লুকিয়ে আছে।

20230504_220531.jpg

নগরকীর্তনের এসব প্রসাদ খেতে আমার খুবই ভালো লাগে। আর সব থেকে বড় কথা হলো প্রতিদিন এভাবে নগর কীর্তন করার মাধ্যমে হৃদয়ে শান্তি অনুভূত হয়। হিন্দু ধর্মালম্বীদের ইহলোক থেকে পরলোকে যাওয়ার একমাত্র সহজ অবলম্বন এই হরিনাম সংকীর্তন। এই মহামন্ত্র সংকীর্তনের মাধ্যমেই ঈশ্বরকে হৃদয়ে ধারণ করা যায়।

আজকে আমি বৈশাখ মাসে নগরকীর্তনে শেষে প্রসাদ খাওয়া-দাওয়া সকল পর্ব শেষ করলাম। আমার সকল পর্ব গুলো কি রকম লেগেছে আপনারা কমেন্টের মাধ্যমে মন্তব্য করবেন।



পোস্টের ছবির বিবরন

ক্যামেরাম্যান@aongkon
ডিভাইসস্যামসাং জে-৭ প্রো
ক্যামেরা১৩ মেগাপিক্সেল
তারিখ০৪ ই মে ২০২৩
লোকেশনকুষ্টিয়া


প্রিয় বন্ধুরা,

আমি স্টিমিট প্ল্যাটফর্মে আমার বাংলা ব্লগ কমিউনিটিতে প্রতিনিয়ত আমার সৃজনশীলতা দিয়ে ভালো কনটেন্ট শেয়ার করে এই কমিউনিটিকে সমৃদ্ধ করতে চাই এবং উচ্চতার শিখরে নিয়ে যেতে চাই। আমার "বৈশাখ মাসে নগর কীর্তন শেষে প্রসাদ খাওয়া-দাওয়া শেষ পর্ব" ব্লগটি কেমন হয়েছে আপনারা সবাই কমেন্টের মাধ্যমে অবশ্যই মন্তব্য করবেন, সামান্য ভুল ত্রুটি অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন এবং সুপরামর্শ দিয়ে পাশে থাকবেন। আবার দেখা হবে নতুন কোনো পোস্ট নিয়ে শীঘ্রই, ততক্ষণে সবাই নিজের খেয়াল রাখবেন সুস্থ এবং সুন্দর থাকবেন এটাই কাম্য করি।



সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ
@aongkon



VOTE@bangla.witness as witness witness_proxy_vote.png
OR
SET @rme as your proxy
witness_vote.png

standard_Discord_Zip.gif

Sort:  
 3 years ago 

গ্রামের বাড়িতে গেলে আমাদের সবারই অনেক ভালো লাগে। আসলে কর্মব্যস্ত জীবনে কিংবা পড়াশোনার জন্য আমরা সবাই যে যার বাড়ি থেকে অনেকটা দূরে থাকি। গ্রামের বাড়িতে গিয়ে অনেক সুন্দর সময় কাটিয়েছেন। অনেক অনেক ধন্যবাদ আপনাকে ভিন্ন ধরনের একটি পোস্ট শেয়ার করার জন্য।

 3 years ago 

হ্যাঁ আপু গ্রামের বাড়ি গিয়ে অনেক সুন্দর সময় অতিবাহিত করেছি। সুন্দর গঠনমূলক মন্তব্য করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ আপু।

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.32
JST 0.099
BTC 63116.85
ETH 1835.65
USDT 1.00
SBD 0.38