মুভি রিভিউ:- " বিরোধ "

in আমার বাংলা ব্লগ3 years ago



হ্যালো বন্ধুগণ,
আমি @bidyut01. একজন বাঙালি ব্লগার।সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে আজকের ব্লগটি শুরু করছি।





আজ রবিবার। ১১ ই জুন, ২০২৩ইং।


আসসালামু আলাইকুম।

সুপ্রিয় বন্ধুগণ, আপনারা সবাই আমার আন্তরিক শ্রদ্ধা এবং ভালোবাসা গ্রহণ করবেন। আমি আশা করি আপনারা সবাই মহান আল্লাহ তায়ালার অশেষ রহমতে অনেক ভাল আছেন, সুস্থ আছেন এবং নিরাপদে আছেন। আমিও আপনাদের দোয়ায় এবং মহান আল্লাহপাকের দয়ায় অনেক ভাল আছি। আজ আমি আপনাদের নিকট 'বিরোধ' মুভিটির রিভিউ উপস্থাপন করছি। আমি আশা করি, মুভিটির রিভিউ আপনাদের নিকট অনেক অনেক ভালো লাগবে।

Screenshot_20230610-221928~2.jpg

youtube থেকে স্ক্রিনশট দিয়ে নেওয়া হয়েছে।


মুভিটির কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্যাবলী নিম্নে উপস্থাপন করা হলো:-

মুভিটির নামবিরোধ
পরিচালকপ্রমোদ চক্রবর্তী এবং তমিজ উদ্দিন রিজভী
অভিনয়েরাজেশ খান্না, শাবানা, নুটন, প্রেম চোপড়া, অনুপ কুমার, গোলাম মোস্তফা, তাপু ও অন্যান্য জন
ভাষাবাংলা
দৈর্ঘ্য০২:৩৯ মিনিট
দেশভারত বাংলাদেশ যৌথ প্রযোজনায়


মুভিটির সারসংক্ষেপ।



Screenshot_20230610-211622~2.jpg

youtube থেকে স্ক্রিনশট দিয়ে নেওয়া হয়েছে।


মুভিটির শুরুতেই দেখা যায় যে নিশিকান্ত নামের একজন শয়তান তার গুদাম ঘরে প্রচুর পরিমাণে খাবার গুদামজাত করে রেখেছে। নিশিকান্তের সকল খারাপ কাজের সহযোগিতা করতো আব্দুল, কালু এবং জন। একদিন আশা নামে একজন বিধবা মেয়ের দিকে খারাপ দৃষ্টিতে তাকায় নিশিকান্ত। নিশিকান্তের আদেশে আব্দুল আশাকে অপমান করতে চায়। কিন্তু এমন মুহূর্তে একজন লোক এসে আব্দুলের নাকমুখ ফাটিয়ে দেয়। আর এই লোকটি হল হরিদাসপুর থানার নতুন পুলিশ অফিসার। এই নতুন পুলিশ অফিসারের নাম ছিল অশোক শর্মা। হরিদাসপুর থানার আরো একজন দারোগা ছিল তার নাম অনুপ। অনুপ ছিল নিশিকান্তের সকল অপকর্মের বিশ্বস্ত সহযোগী। উক্ত থানার আরো একজন ছোট দারোগা ছিল, তার নাম ছিল সেলিম। তিনি ছিলেন ন্যায়ের পূজারী। থানার বড় অফিসার অশোক শর্মার বিশ্বস্ত সহযোগী ছিলেন সেলিম।


Screenshot_20230610-220122~2.jpg

youtube থেকে স্ক্রিনশট দিয়ে নেওয়া হয়েছে।


নতুন অফিসার হিসেবে থানায় যোগদান করে শর্মা সূর্যকান্তের বাড়িতে ভাড়া থাকতে শুরু করে। শর্মা প্রতিদিন থানা থেকে নিশিকান্তের বাগান দিয়ে হেঁটে আসতে। বাগান দিয়ে আসার সময় কে যেন একটি করে পাথর শর্মার দিকে ছুড়ে মারতো। এদিকে নিশিকান্তের সকল অপকর্মকে জোরালোভাবে করতে সহায়তা করত সেখানকার এমএলএ গোপাল বাবু। গোপাল বাবুর একমাত্র ছেলে রাজ প্রতিনিয়ত কলেজে যাওয়ার সময় প্রফেসরের নাতনিকে ইভটিজিং করতো। প্রফেসর সরাসরি পুলিশ অফিসার শর্মার সহায়তা নিয়ে একদিন রাজকে উপযুক্ত শিক্ষা দিল। এদিকে নিশিকান্ত পুলিশ অফিসার শর্মার ঘনিষ্ট হওয়ার জন্য বিভিন্ন ধরনের কৌশল অবলম্বন করতে লাগলো। কিন্তু কোন কৌশলে কোন কাজ হলো না।


Screenshot_20230610-214810~2.jpg

Screenshot_20230610-212450~2.jpg

youtube থেকে স্ক্রিনশট দিয়ে নেওয়া হয়েছে।


শর্মা আস্তে আস্তে নিশিকান্তের সকল দুই নাম্বার কাজগুলো বন্ধ করার ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়ালো। শর্মা প্রথমে নিশিকান্তের মদের ঘাঁটি উচ্ছেদ করে দিয়েছিল। এদিকে রাজ একদিন প্রফেসরকে মেরে মারাত্মকভাবে আহত করে দিয়েছিল। তারপর পুলিশ অফিসার শর্মার তৎপরতার কারণে রাজ শহর ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। একদিন শর্মা রাত্রেবেলায় নিশিকান্তের আমবাগান দিয়ে তার বাসার দিকে যাচ্ছিল। ঠিক এমন মুহূর্তে কেউ যেন তার দিকে আবারো পাথর ছুড়ে মারলো। তারপর শর্মা দেখলো যে, ছোট্ট একটা বাচ্চা ছেলে তার দিকে পাথর ছুড়ে মেরেছে। তারপর ছেলেটির কাছ থেকে জানলো যে, তার বাবার নাম প্রাণলাল। আর প্রাণলালকে পুলিশ ধরে নিয়ে গেছে। ছোট ছেলেটির নাম ছিল ছোট্টু। ছোট্টু পুলিশ অফিসারকে বললো যে, তার বাবাকে পুলিশে ধরার পর সে আজ পর্যন্ত পেট ভরে ভাত খেতে পাইনি। সে তার বন্ধু বাবলুর বাড়িতে কাজ করে কিন্তু বাবলুর মা তাকে ছোট ছোট দুটি শুকনো রুটি দেয়। বাবলুর বাড়ির অবশিষ্ট ভাত কুকুরকে খেতে দেয় কিন্তু ছোট্টুকে খেতে দেয় না।ছোট্টুর মুখে এরকম কথা শুনে শর্মার মনে খুবই মায়া জেগে উঠল এবং তার বাপের বিষয়ে অনুসন্ধান করতে লাগলো।

Screenshot_20230610-214450~2.jpg

youtube থেকে স্ক্রিনশট দিয়ে নেওয়া হয়েছে।


Screenshot_20230610-214949~2.jpg

youtube থেকে স্ক্রিনশট দিয়ে নেওয়া হয়েছে।


প্রাণলালের বিষয়ে অনুসন্ধান করতে গিয়ে অশোক শর্মা সেলিমের নিকট থেকে জানতে পারল যে, শর্মার আগের অফিসার নিশিকান্তের নিকট থেকে কিছু টাকা ঘুষ খেয়ে অবৈধভাবে প্রাণলালকে ধরে নিয়ে আসে। তারপর নিশিকান্তের কথামতো প্রাণলালকে জেল থেকে সরিয়ে দেয় এবং প্রাণলালকে নিশিকান্ত হত্যা করে। প্রাণলালের হত্যার বিষয়ে প্রকৃত খুনিকে ধরার জন্য প্রথমে শর্মা আব্দুলকে গ্রেফতার করে নিয়ে আসে। আব্দুলের গ্রেফতারের বিষয়টি নিশিকান্ত জানতে পেরে খুবই রাগান্বিত হয় শর্মার উপর। তারপর শর্মাকে উক্ত থানা থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য বিভিন্ন ধরনের কৌশল অবলম্বন করতে থাকে।


Screenshot_20230610-214937~2.jpg

youtube থেকে স্ক্রিনশট দিয়ে নেওয়া হয়েছে।


এদিকে আব্দুলের গ্রেফতার করার পরে আব্দুলের দুই সহকর্মী কালু ও অন্যজন পালিয়ে যায়।ছোট্টু পুলিশ অফিসারের নিকটে এসে তার বাবার কথা বারবার জানতে চায়। একদিন ছোট্টু অন্যের জমিতে কাজ করে দুইটি পেয়ারা নিয়ে এসে পুলিশ অফিসার শর্মাকে দেয়। যাতে তার বাবাকে সে তাড়াতাড়ি তার কাছে ফিরিয়ে দেয়। কিন্তু তখনও ছোট্টু জানতো না যে নিশিকান্ত তার বাবাকে হত্যা করেছে। একদিন শর্মা কৌশল করে আব্দুলকে জেল থেকে বের করে দেয়। প্রাণলালের হত্যাকারী কালু এবং অন্যজনকে গ্রেফতার করার জন্য। কিন্তু জেল থেকে পালিয়ে আব্দুল নিজেই নিহত হয়ে যায়। এবং আব্দুল এর খুন করার দোষ পড়ে পুলিশ অফিসার শর্মার উপর।


Screenshot_20230610-221414~2.jpg

youtube থেকে স্ক্রিনশট দিয়ে নেওয়া হয়েছে।


এদিকে নিশিকান্তের সহযোগিতায় আব্দুলকে খুন করে কালু এবং অন্যজন নিশিকান্তের সাথে আনন্দ উল্লাসে মেতে ওঠে। এদিকে ছোট্টু শর্মাকে খুঁজতে খুঁজতে তার বাসায় চলে আসে এবং আশা দিদির আদর-স্নেহে সিক্ত হয়ে যায়। পুলিশ অফিসার শর্মা তার চাকরি থেকে সাসপেন্ড হওয়ার দ্বার প্রান্তে চলে যায়। ঠিক এমন মুহূর্তে ঊর্ধ্বতন এক পুলিশ অফিসার শর্মার নির্দোষ প্রমাণ করার জন্য শর্মাকে ২ দিন সময় দেয়। দুই দিন সময় নিয়ে শর্মা এবং তার সহযোগী সেলিমকে নিয়ে প্রকৃত দোষীদের ধরার জন্য উঠে পড়ে লাগে। এমন মুহূর্তে শর্মার কথাগুলো কান পেতে অনুপ শুনছিল। ঠিক তখন শর্মা অনুপকে ধরে ফেললো এবং বুঝতে পারলো যে, অনুপ সকল গোপন তথ্য নিশিকান্তের নিকট সরবরাহ করে এবং নিঃশিকান্তকে সকল অপকর্ম করতে সহায়তা করে।

Screenshot_20230610-215615~2.jpg

Screenshot_20230610-215415~2.jpg

youtube থেকে স্ক্রিনশট দিয়ে নেওয়া হয়েছে।


Screenshot_20230610-221429~2.jpg

youtube থেকে স্ক্রিনশট দিয়ে নেওয়া হয়েছে।


পুলিশ অফিসার শর্মার দিকনির্দেশনা মূলক উপদেশ পেয়ে অনুপ খুবই অনুতপ্ত হলো। এবং নিজের ভুলগুলো বুঝতে পারলো। তাই জীবনে ভালো কাজ করার জন্য শর্মার কাছ থেকে একটিবার সুযোগ চাইলো। তারপর শর্মা, সেলিম এবং অনুপ নিশিকান্তকে আইনের আওতায় আনার জন্য উঠে পড়ে লাগলো।ছোট্টু নিশিকান্তের পুরনো গোডাউন গুলো দেখিয়ে শর্মাকে সহযোগিতা করতে লাগলো। এদিকে কালু এবং অন্যজনকে শর্মা গ্রেফতার করলো এবং কালু এবং অন্যজন সবার নিকট আব্দুলকে হত্যা করার বিষয়ে ও প্রাণলালের হত্যা করার বিষয়ে সকল কথা খুলে বললো। অনুপ খুবই কৌশল করে নিশিকান্তের সকল অপরাধ মূলক কাজগুলোর নিশিকান্তের স্বীকারোক্তি কথাগুলো টেপ রেকর্ড করতে সক্ষম হল। তারপর পুলিশ অফিসার শর্মাসহ সকলে মিলে নিশিকান্তকে আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হল। ঠিক এই মুহূর্তে সেই ছোট ছেলে ছোট্টুর দুই চোখ দিয়ে দুঃখ ও অভিমান ভরা অশ্রু গুলো ঝরে পড়তে লাগলো। তারপর আশা দিদি ও অশোক শর্মা অকৃত্রিম ভালবাসা ও স্নেহ, মায়া+মমতা দিয়ে ছোট্টুকে বুকে জড়িয়ে নিল। তারপর মুভিটি শেষ হয়ে গেল।

Screenshot_20230610-221901~2.jpg

youtube থেকে স্ক্রিনশট দিয়ে নেওয়া হয়েছে।




মুভিটি সম্পর্কে আমার ব্যক্তিগত মতামত।

Screenshot_20230610-215254~2.jpg

Screenshot_20230610-215307~2.jpg

youtube থেকে স্ক্রিনশট দিয়ে নেওয়া হয়েছে।


বিরোধ সিনেমাটি ভারত বাংলাদেশ যৌথ প্রযোজনায় পরিচালিত একটি কালজয়ী সিনেমা। এই সিনেমার মধ্যে একজন পুলিশ অফিসারকে কতটা সৎ এবং নিষ্ঠাবান হওয়া উচিত, সেই দিকটি খুবই চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে। একই সাথে সকল অন্যায়, অবিচার ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকাটি চমৎকারভাবে প্রকাশিত হয়েছে। মুভিটির শুরু থেকেই পুলিশ অফিসার শর্মা অর্থাৎ রাজেশ খান্নার অসাধারণ অভিনয় আমাকে মুগ্ধ করেছে। নিশিকান্তের সকল ধরনের অপকর্মগুলোর বিরুদ্ধে শর্মার প্রতিবাদী কন্ঠ আমাদের সকলকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে উৎসাহ দিবে। একই সাথে এই সিনেমায় আশা দিদি অর্থাৎ শাবানার স্নেহযুক্ত অভিনয় গুলো নিঃসন্দেহে অসাধারন ছিল। এই সিনেমাটিতে আমার সব থেকে বেশি ভালো লেগেছে ছোট্টুর অভিনয় গুলো। ছোট্টুর অভিনয়ের সব মুহূর্তটুকু দেখে আমি ইমোশনাল হয়ে গেছিলাম। বিশেষ করে, ছোট হাতে কোদাল দিয়ে কাজ করে মজুরী হিসেবে দুইটি পেয়ারা নিয়ে এসে পুলিশ অফিসারকে দেওয়ার মুহূর্তটা আমার কাছে সবচাইতে বেশি ভালো লেগেছিল। কারণ ওই সময় পুলিশ অফিসার তাকে জিজ্ঞেস করেছিল যে, পেয়ারা দুটি সে কোথায় পেয়েছে? উত্তরে ছোট্টু তার দুটি হাতে অগণিত ফোসকা দেখায়। ঠিক এই মুহূর্তের অভিনয়টা দেখে আমার চোখে এমনিতেই কেমন যেন জল চলে এসেছিল। আসলে ছোট্টুর চমৎকার অভিনয়ের মধ্যে পিতৃভক্তির এক উজ্জ্বল নিদর্শন দারুন ভাবে ফুটে উঠেছে। তাই এই সিনেমাটি দেখে, সিনেমাটির সার্বিক দিক বিবেচনা করে আমি মনে করি "বিরোধ" মুভিটি একটি কালজয়ী সিনেমা। তাই আমি মনে করি, আমাদের সকলের উচিত এই সিনেমাটি জীবনে একবার হলেও আমাদের সকলের দেখা উচিত এবং এই মুভিটি থেকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার জন্য উপযুক্ত শিক্ষা নেওয়া উচিত।


ব্যক্তিগত রেটিং

আমি মুভিটিকে ০৯/১০দিচ্ছি।



মুভিটি দেখার লিংক।





১০% বেনিফিসারী প্রিয় লাজুক খ্যাকের জন্য বরাদ্দ।


সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ

Sort:  

Thank you, friend!
I'm @steem.history, who is steem witness.
Thank you for witnessvoting for me.
image.png
please click it!
image.png
(Go to https://steemit.com/~witnesses and type fbslo at the bottom of the page)

The weight is reduced because of the lack of Voting Power. If you vote for me as a witness, you can get my little vote.

 3 years ago 

অনেক পুরোনো একটি ছবি দেখা যায়। তখন আমার জন্ম হয়েছে কিনা সন্দেহ। ছবির সালটা কতো ভাই? যাক একটা সময় ছিলো বিটিভি তে এই ছবি গুলো দেখতে বৃহস্পতিবার শুক্রবার কতই না অপেক্ষা করতাম আমি। তখন ইউটিউব ও ছিলোনা। আর এখন সব কিছু কত সহজেই পাওয়া যায়।

 3 years ago 

অনেকের মনে করে থাকে এই সিনেমা গুলো ক্লাসিক কিন্তু এর মধ্যে যে অনেক শিক্ষনীয় বিষয় এবং সমাজের প্রতিচ্ছবি রয়েছে, পরিবারের দারুন সব সুসম্পর্ক রয়েছে সেগুলো এর মধ্যে খুঁজে পাওয়া যায়। তাই আমিও আপনার মত এই সমস্ত সিনেমাগুলো বেশি ভালোবাসি এবং দেখে থাকি।

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.32
JST 0.090
BTC 62523.93
ETH 1756.64
USDT 1.00
SBD 0.39