
কষ্ট ভরা মন নিয়ে, অশ্রু ছলছল দুই নয়নে অসুস্থ মায়ের পানে তাকিয়ে পোস্ট লিখতে শুরু করলাম। আশা করি আপনারা ভাল আছেন দোয়া করি যেন ভাল থাকেন আপনারাও দোয়া করবেন আমার আম্মার জন্য। গতকাল সকাল থেকে হঠাৎ আমার আম্মা শরীরের দিক থেকে অসুস্থ বোধ করছিল। এত পূর্বে আমার আম্মা একবার স্ট্রোক করেছিল। গতকাল হঠাৎ প্রেসারের সমস্যা বোধ করছে। বাম হাত এতটাই প্রচন্ড ব্যাথা অনুভব করছিল হাত তুলতে পারছিল না। কিন্তু আমার মা আমাদের মনে টেনশন দিবে না বলে সে কথা কাউকে বলার চেষ্টা করছিল না। পরবর্তীতে লক্ষ্য করলাম আমি ঘর থেকে বের হয়ে যখন কি বল পরে দেখলাম আমার মা করুন ভাবে আমার পাশে এসে উপস্থিত হলো। আমি আম্মাকে বললাম না গো কি হয়েছে হঠাৎ এই অবস্থা কেন। মা তখন আমাকে বলে বসলো ভাগ্য আমার শরীরের অবস্থা ভালো নয় কথাটা শুনে আমার জান কেঁদে উঠলো, আমার মা অসুস্থ! এরপর মা আমার হাতে নিমের পাতা আর তেলাকুসার পাতা এনে বললো বাপ একটু বেটে দে আমার এই জায়গায় দিলে যন্ত্রনা কম হয়। আমি টিউবওয়েল পাড়ের শান থেকে বেটে দিলাম। আর বললাম এসব কোন কিছুতেই কাজ হবে না মা তোমার প্রেসার বেড়েছে প্রেশার মাপতে হবে। এরপর মাঝেমধ্যে সুস্থ মাঝে মাঝে অসুস্থ অনুভব করছে কখন ঘুমাচ্ছে আমি আমার ব্যস্ততায় বেশি একটা আর মায়ের সাথে দেখা হলো না। এদিকে ভাই স্কুল থেকে ফিরল বিকেল বেলায়। তখন মায়ের অবস্থা দেখে বললাম ভাইকে মায়ের ডাক্তারের কাছে নেওয়া একান্ত প্রয়োজন। ভাই বলল এখনকার মত গ্রামের ডাক্তার দেখায় সকল ভোর হলে কুষ্টিয়াতে নিয়ে যাব। অনুমান করলাম অনেক বেশি প্রেসার বেড়ে গেছে পেশার মাপার প্রয়োজন। গ্রাম্য ডাক্তারকে ডাকা হল কিন্তু উনি বাসায় ছিলেন না আসতে দেরি হল।

ডাক্তার রাতে আসলো আমাকে দেখল এরপরে কয়টা ওষুধ খেতে বললে যেগুলো মা পূর্ব থেকেই খেয়ে আসছে মাঝেমধ্যে বাদ দেয়। প্রেসার মেপে দেখা হল পেশার অনেক বেড়ে গেছে গ্রাম্য ডাক্তার অনুমান করলেন এতে কিন্তু মানুষ স্টক হয়ে যায়, লেবু শরবত খাওয়ান। লেবুর শরবত খাওয়ালাম কিন্তু রাতে সে বড়ি খাওয়ার পর হঠাৎ যেন মায়ের গ্যাস বেড়ে গেল। এরপর ১০-১২ বার বমি হল। মা খুব দুর্বল হয়ে গেল। এদিকে আমার আর মুখে ভাত উঠছে না কি করি রাত করে। খালাতো ছোট ভাই সরকারি হাসপাতালে ডাক্তার সে বলল দ্রুতগাংনীতে আন। গ্রাম্য ডাক্তার আবার রাতে আসলো। উনিও বললেন দ্রুত গান নিতে নিয়ে যাও এদিকে একটা গ্যাসের ইনজেকশন দিল। এরপর রাত ১১ টার দিকে গাংনী সরকারি হাসপাতালে নেওয়া হল। ভাই আর আমাদের এক ভাবির সাথে গেল। আমি মোবাইলে যোগাযোগ রাখলাম। ভাই বলল মায়ের অবস্থা ভালো নয়। ভাইয়ের করুন সুর যেন আমার ভেতরে কানদিয়ে ফেলল। আমার তো সারারাত চোখে ঘুম নেই। রাতে যখন তখন ভাইয়ের কাছে ফোন দিয়েছিলাম ভাই বলল মায়ের অবস্থা আরো খারাপ। এভাবে তিন ঘন্টা গ্যাস দেওয়া হয়েছে। রাত তিনটার দিকে মায়ের মুখের বাকশক্তি হারিয়ে গেছে। গাংনী হাসপাতাল থেকে ডাক্তার বলেছিল দ্রুত কুষ্টিয়াতে নিয়ে নি। ভাই সারা রাত জেগে থেকে দুর্বল, এদিকে তার স্কুলে পরীক্ষা চলছে। তাই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলাম আমি আর ভাইয়ের কুটুম,কুটুমের বউ এবং আমার আব্বা কুষ্টিয়া থেকে নিয়ে যাব। ঠিক এভাবেই কুষ্টিয়া থেকে রওনা দিলাম অ্যাম্বুলেন্সে। মায়ের অবস্থা দেখে হঠাৎ আমার শরীরের অবস্থা খারাপ হয়ে পড়ল। জীবনে অনেকবার দীর্ঘ জার্নি করেছি কোনদিন বমি হয়নি। হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লাম। আমার গায়ে কোন শক্তি থাকলো না। কেন এতটা অসুস্থ হয়ে পড়লাম? তার একটাই কারণ মাকে বেশি ভালোবাসি।

সারাদিনে কতবার চখের জল ঝরেছে তা বলতে পারব না। তবে আমি আমার মাকে অনেক বেশি ভালোবাসি এটা সত্য কথা। ১১-১২ সালের দিকে আমি দিতাম বিদেশে যাওয়ার কিন্তু মা বলতো তোদেরকে দূরে রেখে আমি থাকতে পারবো না। মা আমাদের দুই ভাইকে এমন ভাবে আগলিয়ে মানুষ করেছে, যার জন্য আমি দূরে কোথাও যায় না। যার মত শক্তি পায় না কারণ বাবা মাকে খুব বেশি ভালোবাসি কারন ছোট থেকেই শুধু তাদের জন্য দোয়া করেছি আর কষ্ট করেছি আল্লাহ তাদের বাঁচিয়ে রাখুক। বুদ্ধি জ্ঞান হওয়ার পর থেকে লক্ষ্য করছি আমার আব্বা সবসময় অসুস্থ হয়ে বিছানায় পড়ে থাকতেন। মা মোটামুটি সুস্থ থাকার পরেও এক এক রোগে আক্রান্ত হতেন। আজকের সারাদিনের বিষয়টা অন্য এক পোস্টে তুলে ধরব। তবে আমার আম্মা ব্রেন-স্ট্রোক করেছে। মুখের জবান বন্ধ হয়ে আছে। এই মুহূর্তে আর বেশি কিছু বলা সম্ভব হচ্ছে না। আশা করি আপনারা আমার মায়ের জন্য দোয়া করবেন।
পোস্টটি পড়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।

| পুনরায় কথা হবে পরবর্তী কোন পোস্টে, ততক্ষণ ভালো থাকা হয় যেনো। আল্লাহ হাফেজ। |

আপনার পোস্ট পড়ে অনেক খারাপ লাগলো। আসলে ভাইয়া আপনাকে কি বলব বলার মতো কোন ভাষা খুঁজে পাচ্ছি না। যাইহোক ভাইয়া দোয়া করি আপনার মা যেন তারতাড়ি সুস্থ হয়ে আপনাদের মাঝে ফিরে আসুক। ভাইয়া আপনার মাকে আল্লাহ হায়াত দান করুন। আমিন।
আপনার সুন্দর প্রার্থনা পড়ে আমি অনেক সন্তুষ্ট
ভাইয়া আপনার মায়ের অসুস্থতার কথা শুনে সত্যিই অনেক খারাপ লাগলো। এরকম খারাপ সময়ে ভীষণ কষ্ট লাগে। ভাইয়া আপনার মায়ের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি। নিজেকে শান্ত রাখুন ভাইয়া।
আপু আম্মু কিন্তু অনেকটা সুস্থতা লাভ করেছে আপনাদের দোয়ায়। আশা করি সম্পূর্ণ সুস্থ হবে, দোয়া করবেন
আমার আম্মুর ও হাই পেশারের সমস্যা ও ডায়াবেটিস খুবই ভয় লাগে ভাইয়া। মাঝে মাঝে ভাবি যে মা ছাড়া দুনিয়াটা অন্ধকার।আজ আছে মা তার শূন্যতা বুঝা যাচ্ছে না কিন্তু যেদিন চলে যাবে সেদিন দুনিয়া থেকে শান্তিটা হারিয়ে যাবে এবং আপনি যে কষ্ট ভরা মন নিয়ে আমাদের মাঝে তুলে ধরেছেন সত্যি আমি দেখে খুবই কষ্ট পেলাম এবং নিজের কাছেও খারাপ লাগতেছে কারণ প্রতিটা মা আমাদের মা মনে হয়। সত্যিই মার মত কেউ হয়না। সবাই আপনার টেনশন করবেন বলে। কিছুই বলেই না কাউকে। হুম যাদের পেশারে সমস্যা মাঝে মাঝে সুস্থ থাকে মাঝে মাঝে অসুস্থ হয়ে যায়। একটু মায়ের দিকে খেয়াল রাখবেন ভাই। জি ভাই মার মত দুনিয়ায় কেউ হয় না এবং আপনি আপনার মাকে ভালবাসেন বলেই তার জন্য টেনশন করছেন বলেই অসুস্থ হয়ে গেছেন এবং পরিবারের সকলে অনেক টেনশন করতেছে ভাইয়া। খুবই খারাপ লাগতেছে এবং চোখের জল পড়ার মতো অবস্থা পোস্টটি পড়ে কারণ আপনার ঘরে যেমন মা আছে আমাদের ঘরেও তেমন মা আছে।একটা কথা ঠিক মা যার কোন তুলনায় হয় না মমতাময়ী। দোয়া করি যেন সৃষ্টিকর্তা দ্রুত সুস্থতা দান করেন এবং খুবই খারাপ লাগতেছে ভাই এবং সৃষ্টিকর্তা আপনাদের সকলকে ধৈর্য ধারণ করার ক্ষমতা দিক🥺।
আম্মু অনেকটা সুস্থ হয়েছে দোয়া করবেন যেন পরিপূর্ণ সুস্থ হয়
প্রথমে আপনার মায়ের সুস্থতা কামনা করছি। সৃষ্টিকর্তা যেন আপনার মাকে দ্রুত সুস্থতা দান করে। আপনার মায়ের অসুস্থতার কথা শুনে সত্যিই অনেক খারাপ লাগলো। আসলে প্রিয় জন অসুস্থ থাকলে নিজের কাছে ভালো লাগে না। মায়ের দিকে সবসময় খেয়াল রাখবেন ভাই। ধৈর্য ধরে পরিস্থিতি মোকাবেলা করবেন ভাই।
ভাইজান এখন আম্মা যথেষ্ট সুস্থ হয়েছে আপনাদের দোয়ার কারণে
খুব বেদনাদায়ক ও কষ্টকর একটি পোস্ট। পোস্ট পড়তে গিয়ে চোখে জল চলে এসেছে। সৃষ্টি করতার কাছে প্রার্থনা করছি খুব তারাতারি ওনাকে সুস্থ করে তুলুক।আসলে মায়ের মতো নিশ্বার্থ ভালোবাসা আর কেউ বাসতে পারে না।মা ছারা প্রতি টি সন্তান অসহায় হয়ে পড়ে। ভালো থাকুন পৃথিবীর সব মা,বাবা।আপনার বাবা বেশি সময় অসুস্থ থাকতেন তখন আপনার মা অসুস্থ হলেও একা হাতে আপনাদের খেয়াল রাখতেন।আজ সেই মানুষটি স্ট্রোক করেছে সত্যি এটা মানা সম্ভব নয় কোন সন্তানদের।
একদম ঠিক কথা আমাদের মাঝে তুলে ধরেছেন আপু। দোয়া করবেন আমার আম্মা জেনো পরিপূর্ণ সুস্থ হয়ে যায়।
আপনার মায়ের অসুস্থতার কথা শুনে সত্যিই নিজের কাছে অনেক বেশি খারাপ লাগছে মনের মধ্যে কষ্ট জমা হয়ে গিয়েছে অলরেডি। মা যদি অসুস্থ হয় তাহলে কোন সন্তানেরই তেমন একটা ভালো লাগে না আর আপনার মা তো দেখছি অনেক বেশি অসুস্থ। একটা মানুষ যখন 10 থেকে 12 বার বমি করে তখন সে প্রায় অর্ধেক মারাই যায়। যদিও এর আগে একবার স্টক করেছিল অবশ্যই মায়ের পাশে পাশে থাকবেন এবং তাকে যত্ন নেবেন। পৃথিবীতে মায়ের ভালোবাসা সঙ্গে অন্য কোন ভালোবাসার তুলনা হয়না সত্যিই হৃদয় কেঁদে উঠছে আপনার এই পোষ্ট করে। আল্লাহর কাছে দোয়া করি আল্লাহ তা'আলা যেন আপনার মাকে খুব দ্রুত সুস্থ করে দেন এবং আপনার মুখে হাসি ফোটে এই আশা ব্যক্ত করছি। শুভকামনা রইল ভাই টেনশন কইরেন না।
হ্যাঁ ভাই আমরা অনেক অসুস্থ হয়ে পড়েছিল,তবে আলহামদুলিল্লাহ এখন অনেকটা সুস্থ।
আমি বিষয়টা জানতাম না তবে হঠাৎ করে যখন জানলাম তখন হয়তো ফোন দিয়েছিলাম আপনাকে। জানিনা চাচি এখন কেমন আছেন তবে দোয়া করি আল্লাহর রহমতে যেন খুব দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠেন। হাই প্রেসারের সমস্যা আমারও একটু রয়েছে তবে আমি একটু কন্ট্রোলে থাকার চেষ্টা করি আশা করি সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে যাবে গেলে চাচি আবার বাকশক্তি ফিরে পাবেন 🥲। দোয়া রইল অবিরাম এবং সবার কাছে দোয়া চাই যেন আপনার আম্মু সুস্থ হয়ে ওঠেন....🙏🙏
আলহামদুলিল্লাহ বর্তমানে যথেষ্ট সুস্থ হয়ে উঠেছেন আম্মা।