ছোট আবদার পূরণ
সেদিন যখন সন্ধ্যাবেলা বাহিরে গিয়েছিলাম, তখন গিন্নি আগে থেকেই আমাকে বলে দিয়েছিল এবার কিন্তু ভাপা পিঠা খাওয়া হয়নি। আসলে ও সারাদিন যে পরিমাণ ব্যস্ত থাকে এবং যেভাবে বাবুকে সামলায়, তাতে আসলে চাইলেও অনেক কিছুই ওর পক্ষে করে ওঠা সম্ভব হয় না ।
আর তাছাড়া এবার যেহেতু আমার শাশুড়ি এসে বাসায় খুব বেশিদিন থাকে নি,তাই এরকম টুকটাক ছোটখাটো অনেক আবদার ওর এখনো অপূরণ থেকে গিয়েছে। হয়তো আমার শাশুড়ি বাসায় থাকলে, ওকে ভাপা পিঠা অনেক আগেই বানিয়ে খাওয়াতো ।
আমি আসলে মূলত বাহিরে অন্য একটা কাজে গিয়েছিলাম। ঐ যে সেদিন পলকের কথা বলেছিলাম, মূলত ওর সঙ্গেই সেদিন দেখা করতে গিয়েছিলাম কিন্তু ফেরার পথে যখন ঝিলের পাড়ের উপরে দেখলাম এক পরিচিত ভদ্রমহিলা ভাপা পিঠা বিক্রি করছে, তখন হীরার কথাটা বেশ মনে পড়ছিল ।
তাই হয়তো বাধ্য হয়েই রিক্সা ঘুরিয়ে নিয়েছিলাম। মজার ব্যাপার হচ্ছে যখন দোকানের সামনে গিয়েছিলাম, তখন সেখানে গিয়ে মূলত অনেক পরিচিত লোকের সঙ্গে দেখা হয়ে গিয়েছিল। এমনিতেই যে বিক্রেতা, সে আমার পূর্ব পরিচিত। তারপরেও যারা কাস্টমার ছিল তারাও কমবেশি আমার পরিচিত। আবার সেখানে গিয়ে আরও দুজন পরিচিত ছোট ভাইয়ের সঙ্গে দেখা হয়ে গিয়েছিল ।
মাঝে মাঝে আমাকে একটা বিষয় বেশ ভাবিয়ে তোলে, সেটা হচ্ছে বিশেষ করে খাবার জিনিস ক্রয় করার ক্ষেত্রে বা কোন জায়গায় খেতে গেলে, যদি দেখা যায় যে পরিচিত লোকজন আছে, তাহলে তাদের সামনে একা একা খাওয়া ব্যাপারটা বেশ লজ্জাজনক হয়ে যায় । তাই হয়তো আন্তরিকতার জায়গা থেকে যতটুকু পারি, চেষ্টা করি অন্যকে নিয়ে মিলেমিশে খাবার খাওয়ার জন্য।
বিক্রেতা ভদ্রমহিলা যেহেতু আমার পরিচিত, তাই আমাকে দেখেই কুশল বিনিময় করার চেষ্টা করল এবং তাকে বললাম, আমাকে কয়েকটি ভাপা পিঠা দিন, আমি বাসায় পার্সেল নিয়ে যাব। আর তাছাড়া অন্য যে পাশে আর একজন মহিলা ভাপা পিঠা খাচ্ছিল সেও আমার পূর্ব পরিচিত তার সঙ্গেও কিছুটা সময় কথা হলো। আর এর মাঝেই আরো দুজন পরিচিত ছোট ভাই এসে উপস্থিত। তারাও আসলে মূলত ভাপা পিঠা খেতে এসেছে ।
ঐ যে বললাম খাবার জিনিস একা একা চাইলেও আরকি খাওয়া যায় না, তাই হয়তো চেষ্টা করলাম সবাইকে নিয়েই একত্রে বসে খাওয়ার জন্য। যাইহোক অপরপক্ষ থেকেও এতে বেশ ভালই সাড়া পেয়ে গিয়েছিলাম ।
সন্ধ্যেবেলা ঝিলের পাড়ের উপর ফিরফিরে ঠান্ডা হাওয়ায় গরম ভাপা পিঠা খেতে ভালোই লাগছিল আর সঙ্গে অনেকগুলো পরিচিত মানুষ, তাদের সঙ্গেও অনেকটা খোশ গল্প হয়ে গেল । যাইহোক এবার বিল দেওয়ার পর্ব, আমি যখন স্বেচ্ছায় তাদের পয়সা দিতে চাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করলাম। সেক্ষেত্রে যদিও প্রথমে তারা দিতে নিষেধ করেছিল, তারপরেও সৌজন্যবসত একটা সময়ে গিয়ে পয়সা দিয়েই ফেললাম ।
এই বার শীতের মৌসুমে আসলে আমার প্রথম ভাপা পিঠা এই ভাবেই খাওয়া হয়ে উঠলো। তারপরেও হয়তো ঘরোয়া ভাবে এখনো খাওয়া হয়ে ওঠেনি। তবে এলাকার কিছু পরিচিত লোকজনের সঙ্গে এইভাবে উন্মুক্ত পরিবেশে ভাপা পিঠা খেয়ে মোটামুটি মজাই পেয়েছি ।
সত্যি বলতে কি, একদিকে গিন্নির আবদার যেমন পূরণ হয়েছে, অন্যদিকে দীর্ঘদিন পরে পূর্ব পরিচিত মানুষগুলোর সঙ্গে একত্রে বসে ভাপা পিঠা খেতে পেরে, আমার নিজের কাছেও বেশ ভালো লাগছিল। যতদূর পেরেছি মুহূর্তটা বন্দি করার চেষ্টা করেছি, হয়তো সেটা আপনাদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার জন্য ।
ডিসকর্ড লিংক
https://discord.gg/VtARrTn6ht
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
VOTE @bangla.witness as witness
OR
শীতের দিনে ভাপা পিঠা কিংবা চিতই পিঠা খাওয়ার মজাই আলাদা। তবে কিনতে গেলে অনেক সময় অনেক পরিচিত লোকের সাথেই দেখা হয়ে যায়। তবে আপনি সবাইকে নিয়ে খাওয়ার চেষ্টা করেছেন জেনে ভালো লাগলো। আসলে পরিচিত মানুষদের রেখে খাওয়াটা কেমন জানি দেখায়। যাই হোক আমাদের মিষ্টি আপুর আবদার পূরণ করেছেন জেনে ভালো লাগলো। যদিও আপুর আম্মু বেশিদিন থাকলে আপু পিঠা তৈরি করে খাওয়াতেন। যাই হোক হয়তো কোন একদিন আন্টি নিজে পিঠা তৈরি করে আপুকে খাওয়াবেন।
হুম আপু আপনার কথায় বেশ যুক্তি ছিল। হয়তো আমার শাশুড়ি এলে বাসায় একদিন বানানো হবে ভাপা পিঠা।
শীত মানেই বিভিন্ন রকম পিঠার বাহার দেখা যায়। ভাপা পিঠা কমবেশি সবাই পছন্দ করে। আপনি হীরা আপুর জন্য রিকশা ঘুরিয়ে পিঠা আনতে গিয়েছেন শুনে ভালো লাগলো। ছবিগুলো দেখে একদম গ্রামের পিঠা বানানোর কথা মনে পড়ে গেল। ঠিক বলছেন কোথাও খেতে গেলে পরিচিত কারো সাথে দেখা হলে একসাথে না খেলে ইতস্তত বোধ হয়। ধন্যবাদ ভাইয়া।
আমিও সেদিন কিনে খেয়েছি ভাপা পিঠা,তবে বাড়ির বানানোর সাথে কেনা পিঠার তুলনা চলেনা।
সুপ্ত ভাইয়াকে দেখে ভালো লাগলো ছবিতে।শীতের একটা প্রধান আকর্ষন মৌসুমি পিঠাগুলোর দোকান।
ভাবছি হীরা ভাবী কতটা সৌভাগ্যবতী। খুব কম সংখ্যক পুরুষ মানুষই আছে এভাবে বাসায় হাতে করে স্ত্রীর জন্য কিছু নিয়ে যায়। যাক এত দেখছি রথ ও দেখা হলো আবার কলাও বেচাঁ হলো। সন্ধ্যার হীম হীম ঠান্ডা বাতাসে পরিচিত লোকের সাথে একত্রে কিছুটা সময় পার করাও একটা আলাদা মজা। তাও যদি হয় আবার গরম গরম ভাপা পিঠা খাওয়া।
আপনার ছোট আবদার পূরন পোস্টটি পড়ে খুব ভাল লাগলো। এ রকম ছোট ছোট আবদারগুলো পূরন হতে হতেই ভাল লাগা অনুভুতিগুলো মনের জায়গা নিয়ে নেয়।আর এভাবেই আস্তে আস্তে পাশের মানুষটির প্রতি ভালবাসা গভীর হয়। আপুর প্রতি আপনার এই অনুভুতি পড়ে অনেক ভাল লাগলো। আপনি আপুর কথা মনে করে পিঠা আনতে গেলেন। সেখানে গিয়ে ও পরিচিত অনেকের সাথে আপনার দেখা হয়ে গেল।খুব গল্প হল, একসাথে পিঠাও খেয়েছেন। পরিচিত মানুষ থাকলে খাবারের জিনিস আসলে একা খাওয়া যায় না। আপু পিঠা দেখে খুব খুশি হয়েছিল ভাইয়া, তাই না?? খুব ভাল লাগলো ভাইয়া। অনেক শুভকামনা রইলো আপনার জন্য।
শীত মানেই ভাপা পিঠা আর চিতই পিঠার আনজাম। শীতের সকালে গরম ভাপা পিঠা খেতে দারুন মজা। আপনি সত্যি সত্যিই আমার মনে কথা বলেছে। আমার পরিচিত কোন মানুষ যদি খাবারের জায়গায় থাকে তাহলে আমিও খেতে লজ্জাবোধ করি। সেজন্য হয়ত তাদের নিয়ে খাই নতুবা না খেয়ে চলে আসি।
যাই হোক আপনার গিন্নির প্রতি গ্রহীন ভালোবাসা দেখে খুবই ভালো লাগলো। টিকে থাক এ বাধন সারাজিবন। প্রার্থনা করি।
ধন্যবাদ ভালো থাকবেন
শীতের ভিতর গরম গরম ভাপা পিঠা খাওয়ার মজাই আলাদা। এবার শীতে কয়েকবার ভাপা পিঠা কিনেও খেয়েছি আবার বাসায় বানিয়ে ও খেয়েছি। ঠিক পরিচিত লোক থাকলে একা একা খাওয়া যায় না তাকে সঙ্গে নিয়ে খেয়েছেন শুনে ভালো লাগলো। আপনার স্ত্রীর জন্য ভাপা পিঠা কিনে নিয়ে গেছেন শুনে আরো ভালো লাগলো। ধন্যবাদ আপনাকে।