ভ্যান গাড়িতে ভ্রমণ
এই মুহুর্ত ঈদের দ্বিতীয় দিনের বিকেলের। যেহেতু গ্রামে এসেছি আর মোটামুটি সময়টাও বেশ ভালোই কাটছে, তবে এখনো পরিবার নিয়ে সেভাবে কোথাও বেড়াতে যাওয়া হয়নি।
মজার ব্যাপার হচ্ছে, গ্রামে আসলে মান্না কাকুর ভ্যানে চড়ে এদিক সেদিক ঘুরে বেড়ানো হয়। মান্না কাকুর সঙ্গে পরিচয় আমার সেই বহু আগে থেকেই। বলতে গেলে এখানে যখন চেম্বার করতাম, সেই সময় তিনি আমাকে প্রতিনিয়ত নিয়ে যাওয়া আর নিয়ে আসা করত।
তার মুঠোফোনের নাম্বারটা আমার কাছে সংরক্ষণ ছিল। সেই সময় থেকেই তার সঙ্গে আমার একটা আন্তরিক সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল যা এখনো চলমান। সেদিন বিকেলে ফোন দিয়ে যখন তাকে বলেছিলাম,আমরা বাহিরে ঘুরতে যেতে চাই তার ভ্যানে করে। সে তখন অনেকটাই খুশি হয়েছিল এবং যথা সময়ে আমাদের বাড়িতে চলে এসেছিল।
এবারের ভ্রমণের ব্যাপারটি ছিল সম্পূর্ণ আলাদা। কারণ আমাদের চিন্তা ছিল সাম্প্রতিক সময়ে এই গ্রামীণ এলাকায় যে পাকা রাস্তা হয়েছে, সেই রাস্তা দিয়ে আমরা কিছুটা সময় ঘুরে বেড়াবো।
কারণ এখনো ধান পাঁকার সময় হয়নি যার কারণে পাকা রাস্তার দুই পাশ দিয়ে ফসলের জমির যে সৌন্দর্য আছে, তা যেন একদম চোখ জুড়ানো। যতদূর দেখা যায় শুধু সবুজ আর সবুজ। আর তার মাঝ দিয়ে আঁকাবাঁকা ভাবে চলে গিয়েছে এ পাকা রাস্তা।
এই সৌন্দর্য আসলে শুধুমাত্র এই সময়টাতেই দেখা যায়। কারণ যখন ধান পাঁকা হয়ে যাবে, তখন এই রুপ থাকবে না। মূলত এখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আসলে ঋতুর সঙ্গে পরিবর্তন হয়। আমি মনেকরি এই সবুজ প্রকৃতির ঝলকানি দেখার জন্য, এমন সময় হতে পারে অনেকটাই মোক্ষম।
যেহেতু আমরা একদম পড়ন্ত বেলায় বের হয়েছিলাম, তাই মোটামুটি আবহাওয়া অনেকটাই ঠান্ডা এবং বলা যায় হিমশীতল বাতাস ক্রমাগত বইছিল। আমাদের পরিবারের সদস্যরা মোটামুটি বেশ ভালই খুশি হয়েছে। বিশেষ করে বাবু তো গাড়িতে চড়ার পরেই ঘুমিয়ে গিয়েছিল। তবে আমি, আমার গিন্নি ও শালী বেশ ভালোই উপভোগ করছিলাম মুহূর্তটা।
কাকুকে বলেছিলাম আমরা কোন জায়গায় থামবো না। পুরো এক ঘণ্টা সময় আপনি আমাদের যেদিকে ইচ্ছে সেদিকে ঘুরে নিয়ে বেড়ান । যেহেতু কাকু আমাদের ব্যাপারটা বুঝতে পেরেছিল, তাই সে তার মতো করে এদিক সেদিক নিয়ে ঘুরছিল।
এটা সত্য যে, এই গ্রামীণ এলাকার চেহারা আগের থেকে কিছুটা হলেও পরিবর্তন হয়ে গিয়েছে। যেমন এই রাস্তার উন্নয়ন হয়েছে এবং যার কারণে মোটামুটি লোকালয় গড়ে উঠেছে রাস্তার দুপাশে এবং বাহির থেকেও লোকজন এখানে এসে এখন চেষ্টা করছে, এই গ্রামীন অঞ্চলে বাণিজ্য করার জন্য।
এখন আর ভ্যান গাড়িতে ভ্রমণ আসলে সেই ভাবে করা হয়ে ওঠে না। কারণ শহরে তো আর সেভাবে ভ্যানে চড়ে ঘোরার সুযোগ হয় না। তবে এখানে এসে এমন সুযোগ পেয়ে, আমি সেটা কখনোই হাতছাড়া করতে চাইনি। আর তাছাড়াও আমি মনে করি, এভাবে যদি টুকটাক সুযোগ হয়েই ওঠে, সেটাকে কাজে লাগানোই উচিত।
সেদিনের বিকেলটা ছিল আমার কাছে অনেকটাই সতেজ ও প্রাণবন্ত হওয়ার মতো একটা সময়। কারণ চতুর্দিকে এতো নির্মল প্রকৃতির সৌন্দর্য দেখে এবং হিমশীতল বাতাস ক্রমাগত ফুসফুসে ঢুকে যেন, আমি অনেকটাই মানসিকভাবে প্রফুল্ল হয়েছি।
এমন সময় আবার কবে আসবে, তা আপাতত বলতে পারছি না। তবে যদি এরকম উৎসবমুখর ছুটিতে, গ্রামে এসে এমন মুহূর্ত পাওয়া যায়, তাহলে সেটা আসলেই সৌভাগ্যকর হয়ে যায় নিজের জন্য।
ডিসকর্ড লিংক
https://discord.gg/VtARrTn6ht
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
VOTE @bangla.witness as witness
OR
ভ্যান গাড়িতে উঠার সৌভাগ্য একবার হয়েছিল। যখন রাজশাহী ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি পরীক্ষা দিতে গিয়েছিলাম। ভাইয়া আপনি সবাইকে নিয়ে ভ্যান গাড়িতে ভ্রমণ করেছেন দেখে ভালো লাগলো। মাঝে মাঝে ঘুরতে ভালো লাগে।
ভ্যানে চড়ে ঘোরার মজাই আলাদা আপু, কারণ চারিপাশটা বেশ ভালোভাবেই দেখা যায়। এটা সত্য যে, আমার সময়টা বেশ ভালোই কেটেছে।
মান্না কাকুর ভ্যানে চড়ে সত্যিই দারুন একটা সময় উপভোগ করেছেন ভাই। আশেপাশের পরিবেশ ছিল নজরকাড়া। সবথেকে বেশি যে বিষয়টি ভালো লেগেছে তা হলো আপনাদের চোখে মুখে আনন্দ এবং তৃপ্তির হাসি। সবাই ভালো থাকুন এবং ভীষণ আনন্দ করুন এই কামনা করছি।
এমন দৃষ্টিনন্দন প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের ভিতরে ঘুরতে পেরে, এমনিতেই মনটা আনন্দে ভরে গিয়েছিল। ধন্যবাদ ভাই, আপনার সাবলীল মন্তব্যের জন্য।
হ্যাঁ ভাই এখন গ্রামেও অনেক পরিবর্তন হয়েছে ৷ এখন প্রায় সব রাস্তা পাকা আর বলা যায় যাতায়াত ব্যবস্থা বেশ উন্নত ৷ যা হোক ভালো ঈদের দ্বিতীয় দিন সবাই মিলে অটো ভ্যান গাড়ি ঘুরা ৷ যদিও গ্রামে এখন পায়ের ভ্যান নেই ৷ ভালো লাগলো বিকেল বেলা কাটানো মুহূর্ত টা ৷
এটা সত্য প্রযুক্তির কল্যাণে, পা চালিতো ভ্যান গাড়ি উঠে গিয়েছে। কারণ সব এখন ব্যাটারি চালিত হয়ে গিয়েছে।
আপনার গ্রাম টা সত্যিই অনেক সুন্দর ভাইয়া।চারিদিকে মাঠ ভরা ধান,অনেক উপভোগ করেছেন ভ্রমণ।মান্না কাকুর সঙ্গে আপনার আগে থেকেই পরিচয়,চেম্বার করার সময় থেকেই।এজন্য তাকে বলার সাথেই এসে হাজির হয়ে গিয়েছিল। ঈদের দ্বিতীয় দিন বিকেলে টা অনেকটা প্রাণবন্ত আর সতেজ ছিল।ফটোগ্রাফি গুলো অনেক ভালো লেগেছে।ধন্যবাদ ভাইয়া সুন্দর পোস্টটি শেয়ার করার জন্য।
এটা সত্য যে, আমাদের গ্রামটা আসলেই সুন্দর। ধন্যবাদ আপনার সাবলীল মন্তব্যের জন্য।
মান্না নামটি শুনলেই আপনাদের দেশের বড় অভিনেতার কথা মনে পড়ে।গ্রামে ছোটবেলায় ভ্যানে চড়তাম মজা করে কিন্তু এখন আর দেখায় যায় না।গ্রামের সবুজ প্রকৃতি দেখলেই মন জুড়িয়ে যায়।তাছাড়া আপনার প্রত্যেকটি ছবি বেশ মনমুগ্ধকর ছিল, ধন্যবাদ ভাইয়া।
এইটা সত্য মান্না নামে আমাদের দেশের একজন বড় অভিনেতা ছিল। বেশ ভালো অভিনয় করতেন তিনি।
ভ্যান গাড়িতে ঘোরার মজাই অন্য রকম।খোলা আকাশে বসে ঘোরা।গ্রামটা সত্যি ই খুব সুন্দর। আর পরিবার নিয়ে ঘোরার মজাও অনেক।আপনি বেশকিছু ফটোগ্রাফি আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন। সত্যি ই মুগ্ধ হয়ে গেলাম।এমন পরিবেশে গেলে মন সতেজ না হয়ে কি পারে, না পারে না।ধন্যবাদ ভাইয়া অনুভূতি গুলো শেয়ার করার জন্য।
হ্যাঁ আপু ভ্যানে চড়ে ঘুরতে বেশ ভালোই লাগে, বিশেষ করে গ্রামীণ পরিবেশে এইভাবে ঘোরার মজাই আলাদা।
বর্তমানে গ্রাম অঞ্চলের রাস্তাঘাট গুলো উন্নত করার ফলে গ্রাম অঞ্চলগুলোর চেহারা অনেকটাই পরিবর্তন হয়েছে। ভাইয়া, মান্না কাকুর ভ্যান গাড়িতে চড়ে নিশ্চয় অনেক উপভোগ করেছেন গ্রামীণ সৌন্দর্য। পাকা রাস্তার দুই ধারে বিকেল বেলায় সবুজ ধান ক্ষেতের দৃশ্য দেখার মজাই আলাদা। আসলে ভাইয়া গ্রামীন পরিবেশের মধ্যে রয়েছে এক অকৃতিম সৌন্দর্য। শুধুমাত্র একটু মনোযোগ দিয়ে দেখতে হবে আর উপভোগ করতে হবে। দারুন একটি পোষ্ট শেয়ার করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
একদম ঠিক বলেছেন ভাই, সেদিনের সেই মুহূর্তটা বেশ ভালোই উপভোগ করেছিলাম।
আপনারা তো দেখছি ভ্যান গাড়িতে করে ঘুরে খুব মজা করেছেন। আপনার শালিটি কিন্তু অনেক মিষ্টি। সত্যি গ্রামাঞ্চলের সৌন্দর্য চোখ জুড়ানো। ধানগুলো এখনো সোনালী হয়নি বলে প্রকৃতি পুরোই সবুজে সবুজ। আপনি আপনার অনেকদিনের চেনা মান্না কাকুর ভ্যানে করে ঘুরেছিলেন বলে সেও তো অনেক খুশি হয়ে গিয়েছিল দেখেছি। আসলে অনেকদিন পরে কারো সাথে দেখা হলে সত্যিই অনেক খুশি লাগে।
হুম তা কিন্তু ঠিক বলেছেন। ধন্যবাদ আপু, আমার অনুভূতি বুঝতে পারার জন্য।