ও আমার বন্ধু
প্রাইমারি শেষ করার পরে নিতাইয়ের সঙ্গে ঠিক সেভাবে আমার আর দেখা হয়ে ওঠেনি। দীর্ঘ পাঁচটি বছর একসঙ্গে পড়াশোনা করেছি। তারপরে তো আমি চলে এসেছি শহরের দিকে। হয়তো বাবা-মার সঙ্গে তাদের চাকুরির সুবাদে। তবে সে সময় নিতাই গ্রামেই থেকে গিয়েছিল ।
তারপরে আরকি সেভাবে ওর সঙ্গে দেখা হয়ে ওঠেনি। ও আমার বন্ধু ছিল এটা সত্য। তবে একদম যে খুব কাছের বন্ধু ছিল, এটাও বলা যাবে না। একই ক্লাসে পড়তাম, রোজ দেখা হতো হয়তো সেখান থেকেই একটু ঘনিষ্ঠতা বেড়েছিল ।
যাইহোক বাল্যকালের বন্ধু বলে কথা। একসঙ্গে কত খেলাধুলা, কত ঘোরাঘুরি স্কুলের মাঠে, এইসব কি আর চাইলেই ভোলা যায়। একদম রঙিন শৈশব, এখন আর চাইলেও সেসব ফেরত পাওয়া যাবে না ।
সেদিন যখন বাসার বাজার করতে গিয়েছিলাম। হুট করেই বহু বছর পরে পিছন থেকে নিতাই আমাকে ডাক দিয়েছে। ঘুরে যখন তাকিয়েছে, যদিও আমার প্রথমে তাকে চিনতে কিছুটা অসুবিধা হচ্ছিল। কারণ তার চেহারায় অনেকটা পরিবর্তন এসেছে। তাছাড়া আমার চেহারা, ও যে এতোদিন কিভাবে মনে রেখেছে, সেটাও আমি বুঝে উঠতে পারি নি ।
বাজারের ভিতরের মন্দিরের পাশেই যে গলিটা আছে, তার সাথেই লাগানো নিতাইয়ের ছোট্ট একটা মুড়ি মাখার দোকান। ওর শরীরটা আর আগের মত স্বাস্থ্যবান নেই, অনেকটাই রুগ্ন হয়ে গিয়েছে । পিছন ফিরে তাকিয়ে যখন একদম কাছে গিয়েছি। তখন বুঝতে পারলাম, ও আমার বন্ধু নিতাই।
পুরনো বন্ধুর সঙ্গে বেশ হাসিখুশি করেই অনেকটা সময় গল্প করব। ওর দুটো বাচ্চা, বেশ বড় হয়েছে। শুনলাম একজন ক্লাস ফাইভে পড়ে আর একজন ক্লাস থ্রিতে ।
আমার কোলে বাবু ও সঙ্গে সহধর্মিনীকে দেখে, ও বুঝতে পেরেছে যে, আমি পরিবার নিয়ে মূলত বাজার করতে এসেছি। ও তো আমাকে বলেই ফেলল, সঙ্গের জন আমাদের ভাবি নাকি। আমি হেসে বললাম যে, তুই ঠিক ধরেছিস। এখন তুই কোথায় থাকিস, ও বেশ হাসিখুশি ভাবেই বলল গ্রাম থেকে আমিও চলে এসেছি রে চাষকপাড়ার দিকে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকি আর এখানে বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত মুড়ি মাখা বিক্রি করি ।
আমি এবার বললাম, আমাদের মুড়ি মাখা খাওয়াবি না। এবার সে ব্যস্ত হয়ে হয়ে পড়েছে, বেশ খানিকটা মসলা দিয়ে ঝাল-ঝাল করে মুড়িমাখা বানানো তৈরি করতে। অবশেষে যখন ওর মুড়িমাখা খেলাম বেশ ভালোই লাগলো। তবে ঝালের পরিমাণ একটু বেশি ছিল।
তবে এই খাবার গুলো আসলে একটু ঝাল খেতেই ভালো লাগে। অতঃপর খাওয়া-দাওয়ার পর্ব শেষ করে, যখন ওকে পয়সা দিতে গিয়েছি। ও পয়সা কোনভাবেই নেবে না এবং নিতে রাজিও না। অনেক জোর করেও পয়সা দিতে পারলাম না।
নিতাইয়ের সোজা উত্তর, তুই বন্ধু মানুষ। তাও দীর্ঘদিন পরে দেখা, তোর পয়সাটা কিভাবে নেই,তুই বলতো। আমি এবার বেশ লজ্জায় পড়ে গেলাম। আসার সময় ওকে কানে কানে বলে আসলাম তোর দুটো বাচ্চা আর ভাবীকে নিয়ে একদিন আমার বাসায় চলে আয়। প্রাণ খুলে দুই বন্ধু গল্প করবো । আমি বাজারের ঐপাশেই থাকি।
সত্য কথা বলতে কি, এরকম বহু বন্ধু-বান্ধব আমাদের আশেপাশে আছে। হয়তো সময়ের পরিবর্তনে তাদের সঙ্গে আমাদের অনেক কিছুর ব্যবধান তৈরি হয়ে গিয়েছে। তবে আমি মনেকরি যত কিছুই হোক, তারপরেও তারা আমাদের পরিচিত । বন্ধু হিসেবে তাদের যতটুকু সম্মান প্রাপ্য ততটুকুই তাদেরকে দেওয়া উচিত, কোন ভেদাভেদ না রেখে ।
নিতাই আমার বন্ধু, এটাই ওর প্রথম পরিচয় আর এটাই ওর শেষ পরিচয়। এর বাহিরে আর কোন কিছুই জানার মতো সময়, আমার হাতে নেই ।
ডিসকর্ড লিংক
https://discord.gg/VtARrTn6ht
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
VOTE @bangla.witness as witness
OR
তারা কর্মের দিক থেকে যাই হোক না কেন তারা বন্ধু। আসলে আমরা ছোটবেলা থেকেই অনেক বন্ধু বান্ধবী পেয়েছি। হয়তো অনেকেই পড়াশোনা ঠিকমতো করতে পারেনি। আবার অনেকে সংসারের হাল ধরতে গিয়ে কর্মে লেগে পড়েছে। তাই বলে যে তারা বন্ধুর তালিকা থেকে বাদ পড়েছে এমনটা নয়। এখনো হঠাৎ করে অনেক বন্ধুর বান্ধবীদের সাথে দেখা হয়। তাদেরকে দেখলে কথা বলার চেষ্টা করি। ব্যাপারটা আমার কাছে ভীষণ ভালো লাগে। আর একটা জিনিস লক্ষ্য করে দেখেছি যখন তাদের সাথে কথা বলি তারা ভীষণ খুশি হয়। আসলে এতোটুকুই তো পাওয়া। হয়তো কোটি টাকা দিয়েও সেই বন্ধুত্ব কিনতে পাওয়া যায় না।যাইহোক ভাইয়া আপনার বন্ধু নিতাইকে দেখে ভালো লাগলো।
আমি সহমত প্রকাশ করছি আপনার সাবলীল মন্তব্যের সঙ্গে,আপু। একদম যথার্থ বলেছেন।
বন্ধু ব্যাপারটাই অন্যরকম! সেখানে পেশা কোনো ম্যাটার করে না! হয়তো সময়ের পরিবর্তনে তার অবস্থানেরও পরিবর্তন হয়েছে। বন্ধুর সাথে কাটানো স্মৃতিটুকু ঠিকই রয়ে গেছে। নিতাইয়ের মতো হাজারো বন্ধু আছে আমাদের আশে পাশে। ভালো থাকুক নিতাইয়ের মতো বন্ধুগুলো। বন্ধুত্ব বেচেঁ থাকুক 🌼
এমনটা প্রত্যাশা আমিও করি ভাই। বন্ধুত্বের মাঝে তেমন ব্যবধান না রাখাই শ্রেয়।
আসলে ছোট বেলার শৈশব কখনো ভুলে যাওয়ার মতো না ৷ ছোট বেলার রঙ্গিন সময়টা এবং ছোট বেলার সেই বন্ধু গুলো কখনোই ভুলতে পারবে না কেউ , আমার মনে হয় ৷ কারণ ছোট বেলার সেই দিন গুলো স্মৃতিময় ৷ আপনার ছোট বেলার সেই বন্ধু সাথে আজ হঠাৎ দেখা ৷ পরিস্থিতি আর পরিবর্তনে সে অন্যদিকে ৷ তবে বন্ধু তো বন্ধুই ৷ যাই হোক আপনার পোস্টটি পড়ে অনেক ভালো লাগলো ৷ধন্যবাদ আপনাকে শেয়ার করার জন্য ৷
বন্ধুত্ব - একে অন্যের সুখে-খুশিতে লাফিয়ে ওঠার; একে অন্যের দুঃখে পাশে দাঁড়ানোর। মন খুলে কথা বলা, হেসে গড়াগড়ি খাওয়া আর চূড়ান্ত পাগলামি করার একমাত্র আধার এ বন্ধুত্ব। বন্ধুত্ব কোনো স্থান কাল পাত্র দেখে হয় না,ধনী গরিব সবাই বন্ধু হতে পারে। তবে বন্ধুত্বের মধ্যে যে জিনিসটা অবশ্যই থাকা চাই তা হল ভালোবাসা আর এই ভালোবাসা ছিল বলেই এত বছর পরেও নিতাই দাদা আপনাকে খুব ভালো মনে রেখেছে।অনেকদিন পর বন্ধুর সাথে দেখা হয়ে নিশ্চয়ই আপনারও অনেক ভালো লেগেছে আর তাই আমাদের সাথে সেই সুন্দর মুহুর্ত গুলো শেয়ার করেছেন।ঝালমুড়ি গুলো দেখতে অনেক লোভনীয় ছিল এবার বাজারে গেলে অবশ্যই নিতাই দাদার দোকানের ঝালমুড়ি খেয়ে আসবো। সুন্দর মুহুর্ত গুলো শেয়ার করেছেন তার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই ভাইয়া। সবসময়ই ভালো থাকবেন ভালো মনের মানুষ।
অবশ্যই খেয়ে দেখতে পারেন নিতাইয়ের ঝালমুড়ি বেশ ভালোই।
আসলে ভাইয়া বন্ধু তো বন্ধুই, তাও আবার বাল্যকালের বন্ধু। বন্ধুর কর্ম দেখে বিবেচনা করা যায় না, মনের মিলই যথেষ্ট। নিতায়ের কাছ থেকে মুড়ি মাখানো খেয়েছেন, সে কেনো আপনার কাছ থেকে টাকা নেবে,এটাই হলো বন্ধুত্ব।যাইহোক ভাইয়া আপনি সুন্দর মূহুর্ত শেয়ার করার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।
একদম ঠিক বলেছেন আপু। মনের মিলই বড় বিষয়। বেশ ভালো লেগেছে আপনার মন্তব্যটা।
কিছু বলার মতো ভাষা নেই ভাই। শেষের লাইন টাই যথেষ্ট নিতাই আপনার বন্ধু এটাই প্রথম এবং শেষ পরিচয়। শত প্রশ্নের উওর এটাই। নিতাই এবং আপনার বন্ধুত্ব অনেকের কাছে শিক্ষনীয়। দারুণ লাগল ভাই। আগেও বলেছি আজও বলছি আপনার এই বিষয়টি আমার দারুণ লাগে।।
ভীষণ মূল্যবান একটি কথা। আসলে বন্ধু তো বন্ধুই সত্যিই এর বাইরে আর কিছু জানার নেই। পুরনো বন্ধু মুড়িমাখা খাইয়েছে বেশ যত্ন সহকারে। তবে তার আন্তরিকতা বেশ ভরপুর ছিল বলাই যায়। তিনি দাওয়াত ও দিয়েছেন বলছিলেন। ভীষণ ভালো লাগলো বন্ধুত্ব আর আন্তরিকতা মাখা পোস্টটি। দোয়া রইল সবার জন্য।
কাছের বন্ধু না হলেও শৈশবের বন্ধুর সঙ্গে এক আত্মিক সম্পর্ক থাকে যেন।চেনা মুখের স্মৃতিগুলো কোনোভাবেই ভুলে যাওয়া যায় না।তবুও আপনার বন্ধু আপনাকে ঠিক চিনে ডাক দিয়েছে আর সুন্দর মুড়ি মেখে খেতে দিয়েছে ,এটাই অফুরন্ত আনন্দের বলে আমি মনে করি।আসলে মুড়িমাখাটি বেশ লোভনীয় ছিল দেখেই বোঝা যাচ্ছে।ধন্যবাদ ভাইয়া।
ছেলেবেলার বন্ধুত্ব আসলে মনের গভীরে থেকে যায়।আপনার বন্ধুত্ব ও তাই রয়ে গেছে। ছোট-বড়, ধনী-গরিব দেখে তো আসলে বন্ধুত্ব হয় না। অনেকে নানান প্রতিকুলতার জন্য পরিবারের হাল ধরতে গিয়ে লেখাপড়াটা আর করতে পারে না। অনেক দিন পর আপনার বন্ধুর সাথে দেখা হয়েছে আপনি খুব সুন্দর সময় কাটিয়েছেন জেনে ভাল লাগলো। আপনাদেরকে নিতাই দাদা ঝাল মুড়ি দিল। পোস্টটি পড়ে বেশ ভাল লাগলো ভাইয়া। সব সময় এমন ভাল মানুষ হয়ে সকলের মনের ভালবাসার জায়গাটিতে থাকবেন এমনটাই কামনা করি।অনেক শুভকামনা রইল ভাইয়া আপনার জন্য।
এটাই তো বন্ধুত্ব ভাই। কত বছর পর ও দুজন দুজন কে মনে রেখেছেন। প্রাইমারি লেভেল এর বন্ধুদের কথা খুব কমই মনে থাকে। আপনার বন্ধু আপনাকে দেখেই চিনে ফেলেছে এটা সত্যি অসাধারন। আসলে জীবন কোথা থেকে কোথা যায় এটা বলা মুশকিল। ভালো লাগলো ভাই আপনার ছোট বেলার এই বন্ধুর কথা জানতে পেরে। দুজনের জন্যই শুভেচ্ছা রইলো।