সুখকর মুহূর্ত
বহুদিন পরে আজ লিমনের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলাম। কয়েকদিন থেকেই ওর কথা মনে মনে ভাবছিলাম, তাই অবশেষে সাক্ষাৎ করেই আসলাম। মনের ভিতরে আসলে কোন কিছু চেপে রেখে লাভ নেই বরং যতদূর পারা যায় মনটাকে হালকা রাখা শ্রেয়।
শহর থেকে তাও তো কম করে হলেও ২০ কিলোমিটার দূরে যেতে হবে, ওর সঙ্গে দেখা করতে হলে। আমার আসলে কোন তাড়াহুড়ো নেই, আজ মানসিকভাবেই প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি ওর সঙ্গে দেখা করতে যাবো বলে। যদিও যাত্রাপথে বৃষ্টি বিঘ্নতা ছিল, তবে কিছুটা পথ যেতেই আবারো আকাশ যেন পরিষ্কার হয়ে আসলো।
ছুটে চলছিলাম আপন মনে, আপন চিন্তায়। ওর সঙ্গে দেখা করতে গেলে, কখনো যেন আমার ক্লান্তি কাজ করে না বরং অদ্ভুত একটা প্রশান্তি পাই। শৈশবের বন্ধু গুলোর মধ্যে হাতে গোনা কিছু বন্ধুর সঙ্গে টুকটাক আলাপচারিতা হয়। যদিও অনেকের সঙ্গেই পরিচয় আছে, তবে এক্ষেত্রে বন্ধু সংখ্যা আমার খুবই সীমিত।
নিজের মতো চিন্তা চেতনার মানুষগুলোর সঙ্গে যখন আত্মিক মিল হয়ে ওঠে, তখনই তো বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গুলো যেন আরও দৃঢ় হতে থাকে। শেষ কবে দেখা হয়েছিল তা যেন মনে করতে পারছি না, তবে মাঝে মাঝেই মুঠোফোনে টুকটাক কথা হতো। বড্ড মুখিয়ে ছিলাম ওর সঙ্গে দেখা করার জন্য।
ঠিক পড়ন্ত বেলাতেই ওর কর্মস্থলের সামনে গিয়ে হাজির। আমাদের বাপ-বেটাকে দেখে, ও বেশ খুশি হয়েছে। বড্ড এলোমেলো জীবন যাপন করে ও। ঠিকঠাক মত খাওয়া-দাওয়া করে কিনা সেটা নিয়েও বেশ সন্দেহ হচ্ছিল। আসলে ও যে কর্মে নিয়োজিত আছে, সেখানে এমন যাযাবরের মত জীবন যাপন হওয়া নিতান্তই স্বাভাবিক।
অক্টোবর মাসের শেষের দিকে ওর একটা এক্সিবিশন আছে। মূলত সেটা হারিয়ে যাওয়া গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যপূর্ণ লোকগানের বাদ্যযন্ত্রের উপর ভিত্তি করে। টানা চারমাস থেকে ও একই জায়গাতে একইভাবে জীবন যাপন করছে। প্রতিনিয়ত সংগ্রহ করার চেষ্টা করছে হারিয়ে যাওয়া পুরনো লোকগানের বাদ্যযন্ত্র গুলো। ও নিজের থেকে বেশ ভালই সংগ্রহ করেছে। যেহেতু এক্সিবিশনের জন্য সংগ্রহ করেছে তাই মূলত ইচ্ছে করেই সেগুলোর ফটো তুলিনি।
হয়তো আমার লেখালেখি করে অর্থ উপার্জন হয়, তবে ওর ক্ষেত্রে তা সম্পূর্ণটাই আলাদা। পুরনো বাদ্যযন্ত্র সংগ্রহ করা যেমন কঠিন, তেমন তাতে আবার সুর-তাল তুলে লোকগান গাওয়া বেশ কষ্টসাধ্য। এমনিতেই ও শিল্পী মানুষ, তার ভিতরে ভীষণ বাস্তবতায় বিশ্বাসী। তাই আসলে ওর মত মানুষের জন্য, বর্তমান প্রেক্ষাপট অনেকটাই বেমানান।
দীর্ঘ সময় ও দোতারা বাজালো আর আমি আপন মনে গলা ছেড়ে গান গাওয়ার চেষ্টা করলাম আর বেটা আমার খুশিতে যেন বারবার হাততালি দেওয়ার চেষ্টা করছিল। এমন সময় আবার কবে আসবে তা আপাতত বলতে পারছি না। তবে এমন সুখকর সময়গুলো জীবনে মাঝে মাঝেই দরকার।
ডিসকর্ড লিংক
https://discord.gg/VtARrTn6ht
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
VOTE @bangla.witness as witness
OR
https://twitter.com/sharifShuvo11/status/1691390708333293568?t=9lqe5c41n0b2ZRlUdL6hZA&s=19
আপনার পোস্ট পড়ে অনেক ভালো লাগল। সত্যি ভাইয়া বহুদিন পরে বন্ধু সাথে দেখা হলে সত্যি সুখের শেষ থাকে না।যাক অনেক দিন পরে দেখা হয়েছে জেনে অনেক ভালো লাগল। আসলে ভাইয়া লেখালেখি বলেন আর সংগীত বলেন সব কিছু কষ্টের। যাইহোক এমন দিন বারবার ফিরে আসুক আমাদের মাঝে। আপনার জন্য শুভকামনা রইল।
অনেকদিন পর বন্ধুর সাথে দেখা করতে গিয়েছেন,দেখে খুব ভালো লাগলো ভাই। আসলে মনের টান থাকলে দূরত্ব কোনো বিষয় না। শায়ান বাবু তো আপনার গান এবং আপনার বন্ধুর দোতারার সুর বেশ ভালোই উপভোগ করেছে তাহলে। আর সেজন্যই বারবার হাততালি দেওয়ার চেষ্টা করছিল। সবমিলিয়ে দারুণ সময় কাটিয়েছেন। পোস্টটি পড়ে ভীষণ ভালো লাগলো ভাই। শেয়ার করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে।
আপনার পোস্ট পড়ে খুব ভালো লাগলো ভাইয়া।আসলে মন কোথাও ছুটে গেলে যাওয়া উচিত।মনকে শান্ত রাখা আমাদের নিজেদেরই কাজ।আর তাইতো বন্ধু লিমনকে দেখতে চলে গেলেন।আর খুব সুন্দর মূহুর্ত যে কাটিয়েছেন তা ফটোগ্রাফি দেখেই বেশ বুঝতে পারছি। শায়ান ও খুব ইনজয় করেছে।মনের অনুভূতি গুলো শেয়ার করার জন্য অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।
শায়ান বাবু যেমন ইনজয় করেছে, ঠিক তেমনি আমার বন্ধু, ওকে পেয়ে বেশ খুশি হয়েছিল।
ভাইয়া শিল্পীদের জীবন একটু অগোছালো থাকে। বুঝাই যাচ্ছে আপনার বন্ধুটি জাত শিল্পী। আসলে পৃথিবীতে এমন কিছু মানুষ থাকে যাদের সাথে দেখা করার জন্য মনটা উতলা হয়ে উঠে মাঝে মাঝে। যাক কিছুটা মুহূর্তের জন্য হলে তো একটু আনন্দ করেছেন। আপনার যা দারাজ কন্ঠ।
আমার এই বন্ধু কিন্তু আমাদের প্রথম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে, কোন এক হ্যাংআউটে এসেছিল গান গাইতে। ও বেশ ভালই গান গায়।
আসলে শৈশবকালের কিংবা স্টুডেন্ট লাইফ এর মধ্যে এমন কিছু কিছু বন্ধু থাকে যাদেরকে ভুলা যায় না। আপনি অনেক দূর থেকে গেলেন বাবুকে সঙ্গে করে বন্ধুর সাথে দেখা করতে খুব সুন্দর একটি মুহূর্ত কাটালে। এমন কিছু কিছু মানুষ আসে যারা আসলে খুব স্বাভাবিক জীবন যাপন করেন যা আপনার বন্ধুকে দেখে মনে হল। অনেক ভালো লাগলো খুব সুন্দর আলাপ আলোচনা করেছেন এবং আমাদের সাথে শেয়ার করলেন ধন্যবাদ।
হ্যাঁ এটা সত্য কথা, আমাদের গতকালের সময়টা বেশ ভালই কেটেছে।
ভাইয়া উপরে লেখা গুলো পড়ে মনে হচ্ছে সময়টা ভীষণ ইনজয় করেছেন। ছেলেকে নিয়ে লিমনের সাথে দেখা করতে গিয়েছেন দেখে ভালো লাগলো। আপনার পুরো পরিবারের জন্য শুভ কামনা রইল ভালো থাকবেন।