ঝটিকা সফর
অনেকদিন ধরেই তেমন বাহিরে ঘোরাফেরা করা হয়ে উঠছে না। বাহির বলতে, নিজের শহর ছেড়ে কিছুটা দূরে,বড় কোন হোটেল বা রিসোর্টে, সেভাবে যাওয়াই হচ্ছে না। শেষ যেবার গিয়েছিলাম তখন বাবুর জন্মদিন ছিল । যাইহোক এবার আবারও দীর্ঘদিন পরে যাওয়ার সুযোগ হয়েছিল।
আমাদের এই উত্তরবঙ্গে যতগুলো পাঁচ তারকা মানের হোটেল আছে, তার মধ্যে মম ইন সব থেকে সেরা। এটা যে কোন কেউ অনায়াসেই বলতে পারে। সেদিন হঠাৎই যাওয়া হয়েছিল সেখানে। তার পিছনে অবশ্য কিছু কারণ ছিল। যেহেতু আমি টিএমএসএস মেডিকেল কলেজে পড়তাম, তাই মূলত কলেজের একটা অনুষ্ঠানে গিয়েছিলাম।
যেহেতু কলেজের অনুষ্ঠান বিকেলের আগেই শেষ হয়ে গিয়েছিল। তাই পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, যেহেতু হোটেলটা কলেজের একদম কাছেই অবস্থিত আর একই মালিকের, তাই সেখানে ঘুরতে যাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেছিলাম।
যদিও পরিবার নিয়ে যাইনি, তাই মূলত প্রথমত কিছুটা একাকীত্ব ভাবে সময় কাটছিল। তবে সেখানকার পরিবেশ এতটাই সুন্দর যে খানিকবাদেই আমার একাকীত্ব কিছুটা হলেও দূর হয়ে গিয়েছিল। কারণ সেখানে মন ভালো করার জন্য মোটামুটি সব রকম ব্যবস্থা আছে। মানে আপনি এখানে পয়সা খরচ করলে,যা চাবেন তাহাই পাবেন। মূলত এ ধরনের আন্তর্জাতিক মানের ফাইভ স্টার হোটেলে, অতিথিদের মনোরঞ্জনের জন্য সব রকম আয়োজন থাকে।
তবে এবার আমার পয়সা তেমন খুব একটা খরচ হয়নি। যেহেতু কলেজের কাজে গিয়েছিলাম, সেজন্য বলা যায় অনেকটা অর্ধেক খরচ দিয়েই বেশ ভালো সময় কাটিয়েছিলাম সেখানে। মূলত বিকেলের দিকে গিয়েছিলাম হোটেলের দিকটাতে এবং ভিতরের পরিবেশ দেখে বোঝার উপায় নেই যে, আমি দেশের ভিতরে আছি। কারণ এতোটাই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন এবং সাজানো-গোছানো, যা অনায়াসেই যে কেউ দেখে মনে করবে যে, আমি বাহিরের দেশের কোন জায়গাতে আছি ।
একা একাই অনেকটা সময় পুরো হোটেলটা ঘুরেছি এবং চেষ্টা করেছি নিজের মতো করে সময় কাটানোর জন্য। সেই খাওয়া-দাওয়া থেকে শুরু করে সন্ধ্যা পর্যন্ত ঘোরাঘুরি নিজের মতো করে এককভাবেই করেছি। বেশ ভালই লাগছিল কারণ বহু লোকজনের সমাগম ছিল এবং তাদের কার্যকলাপ ছিল অনেকটাই আনন্দদায়ক। এ ধরনের হোটেল গুলোতে যারা আসে, তারা আসলে বিনোদনের খোড়াক মেটানোর জন্যই আসে।
চেষ্টা করেছিলাম পুরো হোটেলের প্রত্যেকটা অংশেই যাওয়ার জন্য এবং সেসব স্থানে গিয়ে সেখানকার পরিবেশ সম্পর্কে জানার চেষ্টা করেছিলাম। বিকেল বেলার দিকে গিয়েছিলাম বিবিকিউ রেস্টুরেন্টে মূলত নান রুটি দিয়ে গ্রিল খাওয়ার জন্য ।
সাম্প্রতিক সময়ে এই হোটেলের পিছনে সর্বসাধারণের জন্য অনেক বড় জায়গা জুড়ে মম ইন বিনোদন জগৎ নামে আরও একটা পর্যটন কেন্দ্র গড়ে উঠেছে। সেখানেও যাওয়ার চেষ্টা করেছিলাম, তবে সেই জায়গার ঘটনা অন্য আর একদিন শেয়ার করব।
মূলত বিকালের দিকে হোটেলে গিয়ে সাইকেলিং, বোটিং ও অন্যান্য কিছু গেমিং রাইড দেখে সময় কাটিয়েছে এবং মনটাও বেশ ফ্রেশ হয়েছিল। এবারই প্রথম খুবই কাছ থেকে হেলিকপ্টার দেখার সুযোগ হয়েছিল। যেহেতু এ ধরনের হোটেলে মূলত অতিথিদের প্রচুর নিরাপত্তা দেওয়া হয়, এজন্য সর্বসাধারণের প্রবেশে প্রচুর নিষেধাজ্ঞা আছে। মূলত যারা রিজার্ভেশন দিয়ে থাকে তারাই এখানে ঢুকতে পারে।
স্বল্প সময়ের ঝটিকা সফরে বেশ ভালোই সময় কেটেছে। যদিও একা একা গিয়েছি, তবে পরিবারকে বড্ড মিস করছিলাম। চেষ্টা করেছি আমার কাটানো মুহূর্তের একটা ভিডিও বানানোর জন্য। ভিডিওটা আপনাদের মাঝে শেয়ার করলাম। দেখতে পারেন, আশা করি ভালোই লাগবে। তাহলে কিছুটা হলেও হয়তো আমার উপরোক্ত কথা গুলোর সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ মিল খুঁজে পেতে পারেন।
অতঃপর কিভাবে যে ২-৩ ঘণ্টা সময় কেটে গিয়েছে তা আসলে বলা বেশ মুশকিল। অনেকটা চোখের পলকেই মনে হয় সময় গুলো কেটে গিয়েছে। চতুর্দিকে সাজানো-গোছানো পরিবেশ ও আধুনিকতার ছড়াছড়ি। যা আসলে মনকে প্রফুল্ল করার জন্য পর্যাপ্ত।
আমি বিনোদনপ্রেমী মানুষ, এটা বরাবরই বলেছি বা এখনও বলছি। তাই সময় সুযোগ পেলেই এদিক-সেদিক ঘোরাঘুরি করি। যদিও ঠিক সেভাবে সময় হয়ে ওঠে না। তবে এর মাঝেও যতটুকু সময় পাই, চেষ্টা করি সময়টার সঠিক ব্যবহার করার জন্য।
ডিসকর্ড লিংক
https://discord.gg/VtARrTn6ht
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
VOTE @bangla.witness as witness
OR
মানসিক প্রশান্তির জন্য হলেও মাঝে মাঝে দূরে কোথাও গিয়ে ঘুরে আসা উচিত। মম ইন এর আগেও গিয়েছিলেন আমরা সবাই জানি। এবার যেহেতু কলেজের প্রোগ্রামে গিয়েছেন তাই পরিবার নিয়ে যেতে পারেননি। আসলে আপনি যেহেতু সবসময় পরিবারের সাথে থাকেন তাই প্রথমে একাকীত্ব বোধ করেছেন। যাইহোক এত সুন্দর পরিবেশ আর মনোরম পরিবেশ সবকিছু মিলিয়ে অনেক সুন্দর সময় কাটিয়েছেন বুঝতে পারছি। ভিডিওগ্রাফিটি দেখে অনেক ভালো লাগলো ভাইয়া।
ঝটিকা সফর ৷ ওয়াও এটা কি আমাদের দেশ না কি অন্য কোনো দেশ ৷ পরিবেশ টা যে এতো মনোমুগ্ধকর লাগছে সত্যি অসাধারণ লাগছে ৷ তবে এটা ঠিক বলেছেন যদি শায়ন বাবু থাকতো আরও অনেক ভালো লাগতো ৷ যা হোক তবুও একা একা সুন্দর সময় অতিবাহিত করেছেন ৷
এটা আমাদের দেশের ভিতরেই ভাই। বগুড়া তে অবস্থিত রিসোর্ট টি।
খুব ভাল করেছেন একটু ভিন্ন পরিবেশে ঘুরে এসেছেন। আমাদের দেশে রিসোর্ট, তারকা হোটেল, কিছু থিম পার্ক এ গেলে মনেই হয় না যে বাংলাদেশ, এত সুন্দর সাজানো গোছানো থাকে। আসলে আমরা চাইলে পুরো দেশটাই বদলে দিতে পারি। কিন্তু আমাদের ইচ্ছাশক্তি আর সম্পদের বড়াই এর কারনে অনেক কিছুই হয়ে উঠে না। যাই হোক ভাইয়া আপনি খুব সুন্দর কিছু মুহূর্ত অতিবাহিত করেছেন জেনে খুব ভাল লাগল। ছবি দেখে বোঝা যাচ্ছে বিশাল এলাকা জুড়ে এবং অনেক দামি জিনিসপত্র দিয়ে সাজানো হয়েছে মম ইন হোটেল। ধন্যবাদ ভাইয়া।
হুম এইটা সত্য, আমাদের সাধ আছে সাধ্য নেই। তবে ওখানকার পরিবেশটা আসলেই বেশ সাজানো গোছানো। ওদের থিমটাও বেশ ভালোই।
ভাইয়া আপনার পোস্ট পোড়ে অনেক ভালো লেগেছে। ঝটিকা সফর বেশ ভালো কেটেছে। মাঝে মাঝে এমন সফর দিলে ভালো লাগে, আর সাথে যদি প্রিয় কেউ থাকে।যাইহোক ভাইয়া পরিবার রেখে একা গেলে ও মম ইন বিনোদন মূলক জায়গায় অনেক ভালো সময় কাটিয়েছেন জেনে অনেক ভালো লাগল। আপনাকে অনেক ধন্যবাদ আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য।
ভেতরটা দেখে আমার হোটেল মনে হয়নি। একেবারে সুন্দর পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন সাজানো গোছানো। যদিও জায়গাটা আপনার কলেজের কাছেই আপনার অনেক পরিচিত। মাঝে মাঝে একঘেয়েমি কাটানোর জন্য এইরকম ট্যুর এর দরকার আছে। অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে।।
সত্যি আপনি একজন বিনোদনপ্রেমী মানুষ। আপনার পোস্ট গুলো ভিজিট করলেই বোঝা যায়। জায়গাটা চমৎকার ভাইয়া আমার তো ভীষণ ভালো লাগলো। এর পরে গেলে অবশ্যই ভাবি আর বাবুকে সাথে নিয়ে যাবেন। ভিডিও আকারে পোস্ট শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ আপনাকে ভাইয়া।
বাইরে কোথাও একটা দিন ঘুরে আসতে পারে শারীরিক ক্লান্তি আর মানসিক অবসাদ দুটোই উধাও হয়ে যায়।বাইরের প্রকৃতি যেমন আমাদের মুগ্ধ করে ঠিক তেমনি একটি মনোরম পরিবেশ আমাদের মনের ভেতরে ভিন্ন অনুভূতি জাগায়।তবে মম ইন পাঁচ তারকা হোটেলে গিয়ে দেখছি আপনি অনেকটা সময় কাটিয়েছেন।সত্যিই ভাই ছবিতে দেখে মনে হচ্ছে আমাদের দেশের বাইরে অন্য কোনো পরিচ্ছন্ন দেশে। সেখানে সিকিউরিটি ব্যবস্থাও খুব সুন্দর,যার কারণে সবাই নিরাপদ। যাইহোক আপনি ঘুরে এসেছেন দেখে ভালো লাগছে।ভাবী আর বাবু গেলে হয়ত তাদেরও ভালো লাগতো।তবে আপনি যেহেতু কাজে গিয়েছেন সেই হিসেবে তারা তো যেতে পারেনি,আপনাকেই যেতে হয়েছে।উপভোগ্য ছিল সময়টা।
তাহলে শুভ দা ফাইভ স্টার হোটেলে ভালই ঘুরাঘুরি এবং খাওয়া দাওয়া করেছো অর্ধেক টাকায়। হা হা হা... আমি যে কেন এরকম একটা সুযোগ পাইনা সেটাই চিন্তা করছি।
তবে পরিবার নিয়ে গেলে হয়তো আর একটু বেশি আনন্দ হতো। এক্ষেত্রে তোমার একাকীত্ববোধ করাটা একদমই স্বাভাবিক। যাইহোক বেশ ভালো লেগেছে শুভদা তোমার পোস্টটা পড়তে।
দেখেই মনে হচ্ছিল বাহিরের দেশের কোনো পরিবেশ! একদম সাজানো গোছানো সবকিছু। উপভোগ করার মতো একটি জায়গা! তবে এসব জায়গায় গেলে টাকার ব্যাপারটাও মাথায় চলে আসে। মম ইনে আপনি আরেকবার গিয়েছিলেন, তখন দেখেছিলাম। এবার আরও সুন্দর লাগছে। পরিবার ছাড়া আসলে একা একা ঘুরাঘুরি জমে উঠে না।
ভাইয়া, আপনার টাইটেলে ঝটিকা সফর লেখাটি দেখে, আর পেছনে থাকা হেলিকপ্টার দেখে আমি তো ভেবেছিলাম আপনি হেলিকপ্টারে করে কোথাও ভ্রমনে বেরুচ্ছেন। কিন্তু পরক্ষণে আপনার পোস্ট পড়ে, আপনার ভিডিও দেখে বুঝতে পারলাম আপনি পাঁচ তারকা হোটেল মম ইন এ ঝটিকা সফর দিয়েছেন। বরাবরই আপনার পোস্টগুলো আমার কাছে ভীষণ ভালো লাগে। আপনাকে দেখে অনেক কিছু শিখতে পারি। যাই হোক ভাইয়া, পরিবারকে রেখে একাকীত্ব মনে হলেও আবার সেই একাকীত্ব সময়টি মম ইন এর পরিবেশ ও বিনোদনমূলক জায়গা গুলো দেখে আপনার একাকীত্ব কিছুটা কমেছে এবং সময়টি খুব উপভোগ করেছেন জেনে খুব ভালো লাগলো। আপনার ঝটিকা সফর আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ।
হ্যাঁ এইটা সত্য যে ভাই, সময়টা আসলেই বেশ ভালো ছিল। আপনার সাবলীল মন্তব্যের ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা রইল আপনার জন্য।