পলক ও আমি
কিছু মানুষের সঙ্গে পরিচয়টা অমলিন রাখতে হয় বা থেকেও যায়। হয়তো তাদের কাছ থেকে অনেক কিছু পাওয়ার আকাঙ্ক্ষায় । পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা কথাটা এজন্যই বললাম, সেটা হচ্ছে আমার কাছে আকাঙ্ক্ষাটা একটু আলাদা। হয়তো সেটা অর্থবিত্ত না, সেটা হচ্ছে দুটো গঠনমূলক মতামত। কারণ সেই গঠনমূলক মতামত জীবনে অনেকটা পাথেয় হয়ে কাজ করে ।
দেখা যায়, আমরা ব্যক্তি জীবনে অনেকেই নিজের সমবয়সী কারো কাছ থেকে সুপরামর্শ বা দুটো গঠনমূলক মতামত খুব একটা তেমন গ্রহণ করে থাকি না। আমরা চেষ্টা করি, যারা আমাদের থেকে বয়সে একটু বড় বা প্রবীণ, সেই মানুষগুলোর কাছ থেকে দুটো কথা শোনার জন্য। তাদের কাছ থেকে নেওয়া মতামত কে একটু বেশি প্রাধান্য দেওয়ার জন্য। আমি এটাকে মন্দ বলবো না, তবে সমবয়সী কেউ যদি, সম্ভাবনাময় হয়ে থাকে আর তার কাছ থেকে যদি দুটো গঠনমূলক মতামত শোনা যায়, তাহলে সেটা গ্রহণ করতে তেমন কোন অসুবিধা আমি দেখি না ।
আজকাল আমি নিজের কথা প্রায় অনেক সময় ই বলে থাকি। এটা অনেকটাই আমার কাছে মুদ্রা দোষ হয়ে গিয়েছে। তবে তারপরেও নিজের সম্পর্কে বলতে কমবেশি সবারই ভালো লাগে। এটা ভীষণ স্বাভাবিক।
আমার তো মাঝে মাঝে গর্ব করতে বলতে ইচ্ছে করে, আমি জীবনে এমন কিছু মানুষের কাছে যেতে পেরেছি হোক সেটা সরাসরি নতুবা ভার্চুয়ালি। তবে যেভাবেই হোক না কেন, আমি নিজের কাছে নিজে খুবই কৃতজ্ঞ যে, আমার জীবনে এমন মানুষগুলোর সঙ্গে মেশার সুযোগ হয়েছে ।
নাজমুল হাসান পলক, সে আমার বাল্যবন্ধু। বলা যায় অনেকটা কাছের মানুষ । ওকে নিয়ে আসলে স্বল্প কথায় অনেক বিশেষণ দিয়েও শেষ করা যাবে না। ওর পড়াশুনা জীবন থেকে শুরু করে ব্যক্তি জীবন, ও সবকিছুতেই নিজেকে আবদ্ধ করে রেখেছে বইয়ের পৃষ্ঠার ভাঁজে। তার অবশ্য যথাযথ কারণ আছে। কিছু মানুষ জানতে যেমন পছন্দ করে আবার কিছু মানুষ নিজের জীবনটাকে ভিন্নভাবে দেখতেও পছন্দ করে।
আসলে, ওকে আমি কোন তালিকায় ফেলবো, তা আমি জানিনা। তবে ও যে মুক্তচিন্তার মানুষ, তা ওকে দেখলেই বোঝা যায়। তবে হয়তো সমাজ-সামাজিকতা, পারিপার্শ্বিক অবস্থার কারণে ও নিজের মতো করে বিচরণ করতে পারে না। যে সমস্যাটা আমার ভিতরেও আছে ।
ওর সঙ্গে শেষ যেবার দেখা হয়েছিল, তাও তো দীর্ঘ অনেক সময় আগে। আমাদের কথার সূত্রপাত হয়, সমসাময়িক ব্যাপার ও পারিপার্শ্বিক অবস্থা ও নিজেদের মৌলিক কিছু কথা নিয়ে। হয়তো যতবারই ওর সঙ্গে আমার দেখা হয় ঠিক ততবারই এই ধরনের কথাই হয়ে থাকে। আমি মনে করি এ ধরনের কথাগুলোর মাঝে এক ধরনের যুক্তি থাকে যেটা শিক্ষণীয় ।
এবারো দীর্ঘদিন পর দেখা সম্ভবত কয়েক মাস পরে। যদিও এর মাঝে মুঠোফোন মারফতে বেশ কয়েকবার কথা হয়েছিল। তবে যতবারই কথা হয়েছিল ততোবারই দেখা করার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলাম।
হয়তো তারই ধারাবাহিকতায় আজকের দিনের শেষ বেলায় বেশ ভালো একটা সময় কাটিয়ে দিলাম, ওর সঙ্গে। এ শহর ছেড়ে কিছুটা অদূরে গ্রামীণ পরিবেশে গিয়ে দুটো মানুষ চেষ্টা করছিলাম মুক্তভাবে একটু বিচরণ করার জন্য আর মন খুলে একে অপরের কথা শোনার জন্য ।
যদিও সময়টা বেশ লম্বা ছিল তবে এদিক-সেদিক করতেই মুহূর্তেই যেন সময়টা ফুরিয়ে গেল । একটা জিনিস আমি বরাবরই চিন্তা করি, যেখানে প্রতিনিয়ত গঠনমূলক কথাবার্তা নিয়ে আলাপচারিতা হয়, যেখানে প্রতিনিয়ত প্রত্যেকটা কথায় যুক্তি দাঁড় করানো হয়, সেখানে আসলে সময় অনেক দ্রুতই কেটে যায় ।
উষ্ণ চায়ের কাপে যখন সন্ধ্যেবেলা চুমুক দিচ্ছিলাম তখনো যেন কথার রেশ কোনভাবেই কাটছিল না। ওর মতো হয়তো আমার বাংলা সাহিত্য নিয়ে এতো বিস্তর জ্ঞান নেই, তবে আমার ক্ষুধা ওখানেই । শুদ্ধ উচ্চারণ, জানা-শেখার আগ্রহ, এইসবই তো আমাকে অনুপ্রাণিত করে।
যেহেতু, ও কবি-সাহিত্যিক মানুষ তার মধ্যে ভীষণ মেধা সম্পন্ন-জ্ঞানী তাহলে ওর সংস্পর্শে যদি খানিকটা সময়ের জন্য থাকা যায় আর যদি দুটো কথা শুনে, কিছুটা হলেও নিজের ভাবনা-চিন্তার জগৎটা কে একটু হলেও প্রসারিত করা যায়, তাহলে এমন মুহূর্ত পাওয়া সত্যিই পরম সৌভাগ্যের ব্যাপার।
ভাবছি ওর একটা সংক্ষিপ্ত ভিডিও সাক্ষাৎকার নেব। তাহলে হয়তো একটু হলেও আপনাদেরকে বুঝাতে পারবো, ওর পরিপক্ক চিন্তাভাবনার বহিঃপ্রকাশটা ।
ডিসকর্ড লিংক
https://discord.gg/VtARrTn6ht
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
VOTE @bangla.witness as witness
OR
বইয়ের পৃষ্ঠার ভাজে যারা সারাদিন লেগে থাকে তারা মেধাবী। পলক ভাই মেধাবী ছাত্র ছিলেন হয়তো ছোট বেলা থেকে! তবে গঠনমূলক আলাপচারিতা করলে সময় কোনদিক দিয়ে চলে যায় টেরই পাওয়া যায় না! পলক ভাইয়ের কাছ থেকে হয়তো কিছু সুপরামর্শও পেয়েছেন! আমরা সাধারণত বড়দের কাছ থেকে সু-পরামর্শ পেতে আগ্রহ প্রকাশ করে থাকি বেশি!
আপনার পোস্টটি পড়ে অনেক ভালো লাগলো। আসলে সত্যি বলেছেন আমরা চিন্তা করি কোন বড় মানুষ থেকে পরামর্শ নেয়াই ভালো,আর তা তো অবশ্যই, কিন্তু নিজেদের সম বয়সির মধ্যে যদি গঠনমূলক পরামর্শ দেওয়ার লোক থাকে। তাহলে সেখান থেকে নিতে দোষ কিসের। পলক ভাই আসলে অনেক মেধাবী একজন লোক যেটা আপনার পুরো ব্লগটি পড়ে বুঝতে পারলাম। তবে ভিডিও সাক্ষাৎকারের অপেক্ষায় রইলাম। এই রকম একজন মেধাবী লোকের ভিডিও দেখলে এবং সাক্ষাৎকার দেখলে আমরা কিছু শিখতে পারবো। ধন্যবাদ ভাই আমাদের মাঝে পলক ভাইকে আপনার পোস্টের মাধ্যমে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার জন্য।
হুম আমিও ভাবছি, ওর একটা সাক্ষাৎকার ভিডিও দ্রুত প্রকাশ করবো।
নিজের বিষয়ে সবসময় বলে চললেও আমার কাছে প্রতিটা বিষয় অনেক বেশি ভাল লাগে ,আর উনি কবি সাহিত্যিক হলেও আগে থেকে চিনি বলে মনে হয় না ,তাই সাক্ষাৎকার একটা ভিডিও হলে আসলেই ভালো হবে ,উনার সম্পর্কে অনেক কিছু জানতে পারবো।
আসলে কিছু মানুষ নিজেকে লুকিয়ে রাখতে পছন্দ করে আপু। আমার বন্ধু তেমন একজন, চেষ্টা করবো দ্রুত ভিডিও সাক্ষাৎকার প্রকাশ করার জন্য।
জি ভাই আমিও আপনার কথা গুলোর সাথে একমত ৷ যে মানুষ অর্থ বিত্ত দিয়ে সাহায্য না করুক ৷ তবে যদি গঠনমূলক পরামর্শ উপদেশ পাওয়া যায় তাহলে এর চেয়ে বড় কি হতে পারে ৷
যা হোক আপনার বাল্য কালের বন্ধু যে অনেক জ্ঞানী শিল্প সাহিত্য তা দেখে বোঝা যায়৷ নিশ্চয়ই সময়টা অনেক ভালো কেটেছে ৷
গঠনমূলক মতামত জীবনে খুবই জরুরী। যেটা পাথেয় হয়ে কাজ করে।
সত্যি বলেছেন ভাইয়া গঠন মূলক আলাপ আলোচনা করলে সময় অনেক তারাতাড়ি চলে যায় । আর এটা ঠিক যে সমবয়সী বা বড়রা কেউ যদি গঠনমূলক আলোচনা করে তাহলে তা মেনে নিতে কোন অসুবিধা নেই। আসলে ভাইয়া পলক ভাই কবি সাহ্যিতিক ঠিক কিন্তু আমরা তার সম্পর্কে কিছুই জানি না।তাই উনার সাক্ষাৎকারের ভিডিও শেয়ার করলে অনেক ভালো হবে।