দুই বন্ধুর ঘোরাঘুরি
এইতো কয়েকদিন আগের কথা, তখন মোটামুটি ঈদের ছুটিতে আতিফ এসেছিল এলাকায়। ও আমার বাল্যবন্ধু। ওর সঙ্গে ঘোরাঘুরি করার বিষয়টা আমার নতুন নয়। তবে ওর সঙ্গে আমার প্রায়ই মাঝে মাঝে ঘোরাঘুরি করার সময় যে কথাবার্তা গুলো হয়, সেগুলোতে বলা যায় অনেকটাই নতুনত্ব বিরাজ করে।
যেহেতু দুজনই আমরা ডাক্তার, তবে আমি মূলত ডাক্তারি পেশা ছেড়ে দিয়েছি। আর ও এখনো লেগেই আছে ডাক্তারি পেশার সঙ্গে। ও আসলে ডাক্তারি পেশা নিয়েই চিন্তা করছে, ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার গড়ার। এ জন্যই মূলত কিছুটা মতামত ও আলোচনা আমাদের ভিতরে থেকেই যায়।
সময় গড়িয়ে যাচ্ছে এবং তার সঙ্গে পরিবর্তন হয়ে এসেছে সকল পেশার চেহারা এবং দিনদিন যত সব কিছু এগিয়ে যাচ্ছে, মনে হচ্ছে সব জায়গাতেই ততোই প্রতিযোগিতা লেগেই আছে।
আমি অবশ্য আমার নিজের কিছু সিদ্ধান্তহীনতার কারণে নিজেই নিজের জায়গা থেকে পিছিয়ে এসেছি এবং বলা যায় যে ডাক্তারি পেশা থেকে অনেকটাই এখন দূরে আছি। তবে ওর কথা যখন চিন্তা করি, ওর জন্য কিছুটা হলেও খারাপ লাগে।
কারণ ও অনেকটা মেধাবী ছাত্র এবং মোটামুটি ভিন্ন রকম পরিস্থিতির কারণে এখনো ও তেমন কোনোভাবেই এগিয়ে যেতে পারছে না। বিশেষ করে ও নিজেও অনেকটা সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছে। কারণ দুবার বিসিএস পরীক্ষায় বসেছিল এবং এবারও বসার চিন্তা করছে। আবার এই দিকে বিসিএস এর প্রস্তুতি নিতে গেলে, অন্যদিকে নিজের উচ্চতর ডিগ্রির পড়াশোনা নিয়েও সে ভীষণ ঝামেলায় ভুগছে। সবকিছু সামাল দিয়ে আবার প্র্যাকটিস করতে, ও যেন অনেকটাই হিমশিম খেয়ে যাচ্ছে।
যাইহোক হয়তো জীবন এমনই, তারপরেও হয়তো এসব কিছু কাটিয়ে ও একদিন ভালো পজিশনে যাবে, সরকারি চাকরিটাও হয়ে যাবে এবং সঙ্গে ওর কাঙ্খিত উচ্চতর ডিগ্রিটাও কমপ্লিট হয়ে যাবে, এমনটাই তো বন্ধু হিসেবে প্রত্যাশা করি।
জীবন আসলে কারোই থেমে থাকে না। কোন না কোন ভাবে কেটেই যায়, সুদিন সবারই আসে, শুধুমাত্র সময়ের অপেক্ষা। তাছাড়া আর কিছুই না।
সেদিন যখন দু'বন্ধু একসঙ্গে ঘুরে বেড়াচ্ছিলাম, তখন ঠিক এমন কথাগুলোই বারবার হচ্ছিল। কারণ যেহেতু একই পেশার মানুষ আমরা, তাই এইরকম আলোচনা হওয়া নিতান্তই স্বাভাবিক।
একটা সময়ের পরে ওকে আমি বিরক্ত হয়েই বললাম, এখন আর এসব না ভাবলেও চলবে। তার থেকে বরং আমাদের সময়টা যেভাবে যাচ্ছে, সেভাবে উপভোগ করাই শ্রেয়। দুজন যেহেতু দীর্ঘদিন পরে বেরিয়েছে, তাই এলাকার ভিতরেই এদিক সেদিকে একটু ঘোরাঘুরি করার চেষ্টা করলাম এবং পুরনো দিনের স্মৃতি গুলো যেন বারবার ভাসছিল আমাদের চোখের সামনে ।
বিশেষ করে কুঠিবাড়ি এলাকাতে যে বড় পুকুরটা আছে, সেখানে যে আমরা কতবার গোসল করেছি একসাথে তার কোন হিসেব নেই। বিশেষ করে এই রকম গরমের দিনগুলোতে বিকেলবেলা করে ফুটবল খেলে এসে, সবাই মিলে ঝাঁপিয়ে পড়তাম এ পুকুরে। লম্বা সময় ধরে গোসল করতাম, একদম চোখ লাল না হওয়া পর্যন্ত কোন ভাবেই পানি থেকে উঠতাম না।
সত্যি বলতে কি, সেসব দিন আর চাইলেও ফিরে পাওয়া সম্ভব না। এখন তো আর কারো সঙ্গেই দেখা না। যদিও দেখা হয় তাও সেটা একদম কোন উৎসবে। তাছাড়া সবাই ব্যস্ত যে যার জীবন নিয়ে। নতুবা নতুন করে ব্যস্ততা ঘিরে ধরেছে অনেককে। যাইহোক সেদিন যখন দুই বন্ধু বিকেল বেলা ঘোরাঘুরি করছিলাম, এমন স্মৃতিগুলোই যেন হাতড়ে বেড়াচ্ছিলাম নিজেদের এলাকাতে।
ডিসকর্ড লিংক
https://discord.gg/VtARrTn6ht
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
VOTE @bangla.witness as witness
OR
https://twitter.com/sharifShuvo11/status/1655152523681087488?t=FvnbbCEwCtNJPcqetajHlg&s=19
মাঝে মাঝে আমরা আমাদের নিজেদের ক্যারিয়ার নিয়ে সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগি। আসলে প্রত্যেকটি মানুষের ক্ষেত্রেই হয়তো এমনটা হয়। অনেক লড়াই করে ঝড়ঝাপটা পেরিয়ে নিজের পড়াশোনাটা শেষ করেছি। অনেক কষ্টে ইংরেজি সাহিত্যে অনার্স মাস্টার্স করেছি। কিন্তু দিনশেষে হিসাবের খাতা কেন জানি শূন্য করে রইলো। কেন জানি ক্লান্ত হয়ে পড়েছি। নিজের ক্যারিয়ারের কথা ভাবলে হয়তো হতাশা ছাড়া কিছুই সামনে পড়ে না। যাইহোক ভাইয়া আপনার বন্ধুকে নিয়ে ঘোরাঘুরি করেছেন জেনে ভালো লাগলো।
সত্য কথা বলতে গেলে কি আপু, পুঁথিগত বিদ্যার পড়াশুনা দিয়ে এখন তেমন খুব একটা বেশি কিছু হয় না, এটা অপ্রিয় সত্য কথা। তাও আপনার জন্য শুভেচ্ছা রইল, আপনার ভালো কিছু হোক, এমনটাই প্রত্যাশা করি।
আপনার বন্ধু আতিফের সাথে ঘুরাঘুরি করে কাটানো সুন্দর মূহুর্ত আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য অনেক ধন্যবাদ। বন্ধুর সাথে কাটানো মূহুর্তের আনন্দ অনেক,কত না বলা কথা ,শেয়ার করা যায় অনায়াসে।যেহেতু একই পেশার ক্যারিয়ার নিয়ে আলোচনা প্রাসঙ্গিক। পোস্টের ছবি গুলোও সুন্দর হয়েছে। আপনার বন্ধুর সাফল্য কামনা করছি। শুভ কামনা আপনাদের জন্য।
এটা একদম ঠিক বলেছেন আপু, কারণ দীর্ঘদিন পরে দেখা হয়েছে ওর সঙ্গে, তাই আসলে অনেক কথা হয়েছে আমাদের।
ভাইয়া আপনারা দুই বন্ধু এক সময় যে পেশায় ডাক্তার ছিলেন এটা জানতে পেরে আমার খুবই ভালো লেগেছে। যদিও এখন আপনি ডাক্তারি প্রেসার থেকে সরে এসেছেন। দুই বন্ধু মিলে আপনাদের ঘোরাঘুরি কথাগুলো খুবই সুন্দরভাবে আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন। আসলে বন্ধুর সাথে ছোটবেলায় পুকুরে গোসল করার আনন্দটাই ছিল অন্যরকম। অনেক সুন্দর একটি পোস্ট আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
হ্যাঁ এটা সত্য যে, আমাদের শৈশব স্মৃতির ঘটনাগুলো ছিল অনেক আবেগপ্রবণ। আমরা বেশ ভালোই সময় কাটিয়েছি শৈশবে।
ক্যারিয়ার গড়তে গেলে নিজেকে অনেক হিমশিম খেতে হয়।।আমি জানিনা ভাইয়া কি কারনে আপনি ডাক্তারের পেশা ছেড়েছেন। আর জানতেও চাই না। তবে আমার কেন যেন মনে হয় আপনার সিদ্ধান্তটাই ঠিক ছিল। আপনার বন্ধুর জন্য শুভকামনা রইল আশা করি আতিফ ভাই সকল সমস্যা কাটিয়ে ভবিষ্যতে একজন ভালো বিসিএস ক্যাডার হতে পারবেন। দুই বন্ধু মিলে গ্রামের পথ গুলো ঘুরে বেড়ানো তার সাথে পুরনো স্মৃতি মেরে ধরার মা যদি কি আনন্দ প্রকাশ করা অনেক দূর হ ব্যাপার।
আসলে আমার পক্ষে সত্যিই সিদ্ধান্তহীনতাই ছিল, দীর্ঘ সাত বছরের প্র্যাকটিস লাইফ হুট করে ছেড়ে দিয়েছি। ব্যাপারটা বেশ জটিলতা সম্পন্ন ছিল আপু আমার কাছে। তবে আতিফের জন্য আমি শুভেচ্ছা কামনা করছি। ওর আশাগুলো পূরণ হোক এমনটাই প্রত্যাশা ব্যক্ত করি।
আপনার বন্ধু আতিফ এবং আপনি একই পেশার হওয়ায় দুজনের মধ্যে অনেকটাই কথা বার্তা হয়েছিল ঘুরতে গিয়ে।যেহেতু ছেলেবেলার বন্ধু আপনারা।আপনি এখন ডাক্তারি পেশা ছেড়ে দিয়েছেন,অনেকটা সিদ্ধান্তহীনতার কারণে।কিন্তু আপনার বন্ধু বিসিএস এবং উচ্চতর ডিগ্রির চিন্তা করছেন এবং ডাক্তারি পেশায় অগ্রসর করতে চাচ্ছেন।সব কিছু মিলিয়ে বেশ চাপে আছেন।শৈশবের দিন গুলো আসলেই অনেক রঙিন।আপনাদের পুকুরে গোসল করার স্মৃতিটা ভালোই লেগেছে।এখন অনেক কিছু চাইলেও অসম্ভব।ধন্যবাদ ভাইয়া সুন্দর পোস্টটি শেয়ার করার জন্য।
হ্যাঁ , আসলে আতিফ বেশ ভালোই চাপে আছে, সাম্প্রতিক সময়ে। তবে আমাদের শৈশবের ব্যাপারটা বেশ ছিল আবেগপ্রবণ।