এবারের ঈদের অন্যরকম অভিজ্ঞতা
ঈদ চলে গেছে বেশ অনেক দিনে হয়ে গেল।অসুস্থতার কারণে অনেক দিন কোন পোস্ট করা হয় না।সময় যখন খারাপ যায় তখন সব ই খারাপ হয়। আমি শারীরিক ভাবে অসুস্থ ডাক্তার জার্নি করতে নিষেধ করেছে।তাই চিন্তায় ছিলাম ঈদে বাড়ি যাওয়া নিয়ে।তারপর ও অনেক সাবধানতা অবলম্বন করে বাড়ি যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম।
শরীর টা সবসময় ভালো লাগে না জন্য কয়েকদিন আগে থেকেই ব্যাগ গোছানো শুরু করেছিলাম।কিন্তু কে জানতো যে শেষ পর্যন্ত আর যাওয়া হবে না।সবাই কে ছেড়ে ঈদ করতে হবে।আমার মেয়ে টা তো ব্যাগ গোছানো দেখে অনেক খুশি হয়েছিল।সবার ঈদের কেনাকাটা গুলো আগেই পাঠিয়েদিয়েছিলাম।
সবার ঈদের সরকারি ছুটির মতো জাহিরার বাবার ১৮ তারিখ থেকে ছুটি শুরু হয়।ছুটির দিন ছোট একটা কাজের জন্য বেরিয়ে গিয়েছিল। আমি তো অসুস্হ বাসায় ছিলাম। কিছুক্ষন পর জাহিরার বাবা বাসায় ফিরে আসে।আমার কাছে প্রথমে তেমন কিছু মনে হয় নি। পরে দেখি সে স্বাভাবিক থাকলেও সে মোটরসাইকেল এক্সিডেন্ট করে এসেছে।ডান পা মোটরসাইকেলের সাইলেন্সার দিয়ে পুড়ে গিয়ে চামড়া উঠে গেছে।আর হালকা একটু ব্যথা পেয়েছে।তখন তেমন কোন খারাপ লাগছিল না।আমার তো এসব দেখে আমার খুব খারাপ লাগছিল।
যেহেতু ঈদের ছুটি তাই হাসপাতালের ইমার্জেন্সি তে দেখিয়ে বার্ন ক্রিম আর ওষুধ নিয়ে এসেছে। ওষুধ নিয়ে এলেও প্রেসক্রিপশন টা হারিয়ে ফেলেছে। এটা হল সবচেয়ে বড় ভোগান্তির সূত্রপাত।প্রথম দিন ভাল থাকলে ও রাতে জ্বর আসে আর প্রচন্ড ব্যথাও শুরু হয়।তখন বুঝতে পারলাম আর বাড়ি যাওয়া হবে না।যদিও আমাদের বাবা মা শাশুড়ী কাউকে বলা হয় নি।ওনারা বেশি চিন্তা করবে তাই বলা হয় নি।
পরের দিন সারাদিন জ্বর থাকায় সবাইকে বলতে বাধ্য হয়েছি। সবাই তো শুনে অনেক দুশ্চিন্তা করছিল।আর আমার মা আর শাশুড়ী বেশি মন খারাপ করছিল ঈদ এ বাড়ি যেতে পারব না।আমাদের ও মন খারাপ হচ্ছিল যেতে পারব না জন্য। তারপর ভালোর জন্য তো এতটুকু করতেই হবে।
ঈদের আগের দিন রাতে আমার ছোট ভাই এসেছিল অনেক রকম খাবার নিয়ে। বাড়ি যেতে পারব না জন্য আমার মা অনেক খাবার রান্না করে দিয়েছে।আমার মেয়ের জন্য অনেক কিছু পাঠিয়েছে। আমরা সবাই অনেক মজা করে খেয়েছি।ঈদের দিন ভোরবেলা আমার ছোট ভাই চলে গিয়েছিল। আর আমরা ঈদের দিনটা ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে কাটিয়ে দিয়েছি।তেমন কোন কিছু করা হয় নি।আর আমার মায়ের হাতের রান্না খেয়ে দিনটা কাটিয়েছি। দুপুর বেলা আমার মেয়ে টা নতুন জামা পরে পাশের বাসায় খেলেছে।এবার ঈদে কোন ফটোও তেলা হয় নি।গত বার ঈদের ফটো উপরের টা।
সম্পূর্ন অন্যরকম অভিজ্ঞতা হয়েছে।এরকম ঈদ আর জীবনে না আসুক।সবাই আমার ও আমার পরিবারের জন্য দোয়া করবেন।সবাই সুস্থ থাকবেন।ভালো থাকবেন।ধন্যবাদ সবাইকে।