ভুল নিয়ে যত কথা || আমার দৃষ্টিভঙ্গি
হ্যালো বন্ধুরা,
কিছু বিষয় আছে আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ, যা নিয়ে যত বারই আলোচনা করা হোকনা কেন এর গুরুত্ব কখনোই হ্রাস পায় না। দেখুন আমরা মানুষ, আমরা যেমন অনেক ক্ষেত্রে খুবই সভ্য ঠিক তেমনি আবার অনেক ক্ষেত্রে খুবই অসভ্য যা ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। এই জন্য নানা ধরনের কঠিন আইন তৈরী করা হয় যেন আমরা নিয়মের বিপরীতে কিংবা সভ্য হওয়ার পথে সব সময় থাকতে পারি। যদিও আমরা বিষয়গুলো সম্পর্কে জানি এবং জেনে শুনেই সেই ভুলগুলোর দিকে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করি।
আসলে জীব হিসেবে আমরা যেমন শ্রেষ্ঠত্বের দাবী করতে পারি ঠিক তেমনি নিয়ম কিংবা আইন ভাঙ্গার ব্যাপারেও আমরা সেরা। আসলে আমাদের ভেতরগত কিছু বিষয় আছে মানে নৈতিকতার কিছু বিষয় রয়েছে, যখনই আমরা এই বিষয়গুলো এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করি এবং নিজের ভিন্ন মানসিকতার প্রকাশ ঘটানোর চেষ্টা করি, তখনই আমরা বিপথে চলে যাই এবং অনাকাংখিত পরিস্থিতির সৃষ্টি করি। সত্যি বলতে আমরা যতক্ষন নিজেদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারি এবং নৈতিকতার বিষয়গুলো নিয়ে সতর্ক থাকতে পারি, ততক্ষন আমাদের ভুল করার কোন সুযোগ তৈরী হয় না।
বিষয়টি আমাদের কাছে নতুন না, ইতিপূর্বে আমি কয়েক লেখায় বিষয়গুলোকে নিয়ে আলোচনা করার চেষ্টা করেছি। বিশেষ করে লোভ নিয়ে উদাহরণের মাধ্যমে কিছু বিষয় সকলের নিকট তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। কিন্তু তাতে কি লাভ হয়েছে? আমরা পোষ্ট করছি, আপনারা পড়ছেন, মন্তব্য করছেন তারপর দিন শেষে সব ভুলে যাচ্ছেন এবং আগের মতো সেই অনকাংখিত ভুলগুলো করছেন। বিষয়টি এমন দাঁড়িয়েছে যে, স্কুলে শিক্ষক পড়াচ্ছেন এবং পড়ালেখার করার গুরুত্ব বুঝানোর চেষ্টা করছেন কিন্তু ছাত্ররা সব মনযোগ দিয়ে শুনছেন আর শেষে বলে দিচ্ছেন স্যার পড়ান শুনতে ভালো লাগে কিন্তু বাড়ীর কাজ দিয়েন না সেটা পারবো না!
আপনাদের অবস্থা অনেকটা সেই রকম, আমরা সময় নষ্ট করছি, আপনাদের নিয়ে চিন্তা করছি, এবিবি-স্কুলের মাধ্যমে ক্লাস করাচ্ছি কিন্তু দিন শেষে আপনারা ঠিক আগের মতোই সেই ভুলগুলোর পুনরাবৃত্তি ঘটাচ্ছেন এবং দিন শেষে ভুল বলে ক্ষমা প্রত্যাশা করছেন। বলতে পারেন এখানে আমাদের ভুলটা কোথায়? কি করলে আমরা আমাদের যন্ত্রণাগুলো আপনাদের বুঝাতে পারবো? সব কিছুর তো একটা সীমাবদ্ধতা থাকে কিন্তু আপনাদের ভুলের কোন সীমানা নেই, অসীম সীমানা নিয়ে আপনারা চোখ বুঝে ভুলগুলো করতেই থাকেন।
আর দিন শেষে সেই শিক্ষকের মতো যিনি বাধ্য হয়ে প্রতিদিন নতুন ভাবে তার ছাত্রদের শেখানোর চেষ্টা করেন কিন্তু দিন শেষে যেই লাউ সেই কদু, আমরাও বাধ্য হয়ে আপনাদের ক্ষমা করি আর আপনারা সেই সুযোগটির বারং বার স্বদ ব্যবহার করেন। কি আশ্চার্যজনক ব্যাপার, আমরাও বার বার মনে করি আর একটা সুযোগ দেই হয়তো পরিবর্তন আসবে। অন্য দিকে তারাও মনে করেন আরো একটা ভুল করি ক্ষমাতো পেয়েই যাবো!
মানুষ মাত্রই ভুল, ভুল হতেই পারে এটা আমরাও বুঝি এবং স্বীকার করে নেই। কিন্তু একটা বিষয় রয়েছে এখানে কেউ ইচ্ছে করে ভুল করেন আবার কেউ অনিচ্ছায় ভুল করেন, এখন ভুলটা যখন ইচ্ছাকৃত হয়ে যায় তখন সেটা আর ভুলের মাঝে থাকে না বরং অন্য ব্যাখ্যায় চলে যায়। তাই ইচ্ছাকৃত ভুলের ব্যাপারে আমাদের মানসিকত সব সময়ই ভিন্ন, আমরা এই বিষয়টিকে কখনোই স্বাভাবিক ভুল হিসেবে গ্রহণ করতে প্রস্তুত না। সুতরাং এই বিষয়টিও আপনাদের মাথায় রাখা উচিত। অনিচ্ছাকৃত ভুলের জন্য ক্ষমার দরজা সবর্দা খোলা কিন্তু ইচ্ছাকৃত ভুলের জন্য ক্ষমার দরজায় ডাবল তালা।
আমি শুধুমাত্র আমার মনোভাব প্রকাশ করার চেষ্টা করেছি, হয়তো আমার সহকর্মীদের দৃষ্টিভঙ্গি ভিন্ন হতে পারে, হয়তো তারা আমার মতের সাথে দ্বিমত পোষণ করতে পারেন কিন্তু আমার পক্ষ হতে আমার দৃষ্টিভঙ্গির কোন পরিবর্তন হবে না, এই ব্যাপারে নিশ্চিত থাকুন।
ধন্যবাদ সবাইকে।
@hafizullah
আমি মোঃ হাফিজ উল্লাহ, চাকুরীজীবী। বাংলাদেশী হিসেবে পরিচয় দিতে গর্ববোধ করি। বাঙালী সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য লালন করি। ব্যক্তি স্বাধীনতাকে সমর্থন করি, তবে সর্বদা নিজেকে ব্যতিক্রমধর্মী হিসেবে উপস্থাপন করতে পছন্দ করি। পড়তে, শুনতে এবং লিখতে ভালোবাসি। নিজের মত প্রকাশের এবং অন্যের মতামতকে মূল্যায়নের চেষ্টা করি। ব্যক্তি হিসেবে অলস এবং ভ্রমন প্রিয়।
|| আমার বাংলা ব্লগ-শুরু করো বাংলা দিয়ে ||



ভাইয়া আপনার আজকের বিষয়টি খুবই ভালো লেগেছে আমার।
স্কুলে শিক্ষক পড়াচ্ছেন এবং পড়ালেখার করার গুরুত্ব বুঝানোর চেষ্টা করছেন কিন্তু ছাত্ররা সব মনযোগ দিয়ে শুনছেন আর শেষে বলে দিচ্ছেন স্যার পড়ান শুনতে ভালো লাগে কিন্তু বাড়ীর কাজ দিয়েন না সেটা পারবো না!
এই কথাটুকু পড়ে মনে হচ্ছে একদম বাস্তব সম্মত একটি বিষয় তুলে ধরেছেন আপনি। সত্যি দিনকে দিন আমরা এমন হয়ে যাচ্ছি যে জেনেশুনেই বিপথে পা দিয়ে দিই।
আল্লাহ আমাদের সকলকে ভুল পথ থেকে সরিয়ে সঠিক পথে আসার তৌফিক দিন ।আমিন।
Congratulations, your post has been upvoted by @dsc-r2cornell, which is the curating account for @R2cornell's Discord Community.
বিষয়টা খুব খারাপ লাগলো। আমরা চেষ্টা করব কমিউনিটির সকল নিয়মকানুন মেনে চলার। এতেই আমরা সফল হতে পারব। অন্যতায় আইন ভেঙে শুধু আমরা ব্যার্থই হবো।
এটা ঠিক।তবে দিনশেষে তাও আমরা ক্ষমা করে দি।সবার বুঝা উচিত যে এই ক্ষমাটা আমাদের দুর্বলতা না,ভালোবাসা।আর এই ভালোবাসা সবসময় থাকবেনা যদি তা রক্ষা করা না হয়।
ভাইয়া আপনার আজকের প্রতিটা লেখা ঠিক । আর আজ কের লেখা আমার খুব ভালো লেগেছে।না জেনে শুনে ভুল করলে তার ক্ষমা হয়, কিন্তু জেনে শুনে ভুল করলে তার ক্ষমা হয় না। আর আমরা দিনের পর দিন জেনে শুনে বিপথে চলে যাচ্ছি।আর আমরা বার বার ক্ষমা চাই।আর মানুষ মানুষকে ক্ষমা করে ভালোবেসে।
আমরা আসলে সৃষ্টির সেরা জীব এবং নিয়ম ভাঙ্গার ক্ষেত্রেও সৃষ্টির সেরা এই কথাটি অনেক ভালো লেগেছে। আসলে প্রাণীকুলের অন্যান্য প্রাণীর মধ্যে তাদের স্বাভাবিক নিয়ম ভাঙ্গার প্রবণতা অনেক কম দেখা যায় যেখানে আমরা প্রতিনিয়ত আমাদের স্বার্থে কিংবা স্বেচ্ছাচারিতার দ্বারা নিয়ম ভঙ্গ করে থাকি।
আপনার অভিজ্ঞতা ও জ্ঞানের আলোকে আপনি এই সংক্রান্ত অনেকগুলো বিষয় পূর্বেও আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন তার মধ্যে লোভ ছিল একটি। আসলে আমরা এগুলো সাময়িক পড়ি এবং কথাগুলোকে মাথায় এবং মনে গেঁথে রাখার চেষ্টা করি না এটাই হচ্ছে আমাদের জন্য অনেক বড় সমস্যা এ কারণে ভুল গুলো বার বার হয়ে যায়। আশা করি ভবিষ্যতে সবাই আরও সাবধান থাকবে।
ধন্যবাদ আরো একটি চমৎকার বিষয় খুব সুন্দর ভাবে আপনার অভিজ্ঞতার আলোকে বিস্তারিত শেয়ার করে সবাইকে সচেতন করার জন্য।
জ্বী ভাই কেউ ভুলের উর্দ্ধে না।তবে যদি ভুলটা ইচ্ছাকৃত হয় তাহলে সেটা দৃষ্টিকটু এবং খুব খারাপ দেখায়। তবে যারা ভুল করে ভুল স্বীকার করে অঙ্গীকারকরে আর ভুল করেন না তাদের জন্য শুভকামনা
ভাইয়া আপনার পোস্টটি পড়ে আমার খুবই ভালো লেগেছে। আপনার পোষ্টে খুবই বাস্তবসম্মত কথা আপনি তুলে ধরেছেন। মানুষ মাত্রই ভুল, কিন্তু ইচ্ছা করে কেউ যদি ভুল করে সেটা সত্যিই অমার্জনীয়। আর না বুঝে অনিচ্ছাকৃতভাবে অনেকেরই ভুল হতে পারে সেটা স্বাভাবিক। তাই আমাদের সকল বিষয় সম্পর্কে সচেতন হওয়া উচিত এবং জেনেশুনে ইচ্ছাকৃতভাবে ভুলত্রুটি করা থেকে সবাইকে বিরত থাকা উচিত। মহান আল্লাহতায়ালা আমাদের যেন সঠিক পথে চলার তৌফিক দান করেন। আমিন।