পুরনো কিছু স্মৃতি
আ মার বাংলা ব্লগের সকল বাংলাভাষী ব্লগার ভাই এবং বোনদের আমার সালাম এবং আদাপ। সবাই কেমন আছেন? আশা করি সবাই মহান সৃষ্টিকর্তার অশেষ রহমতে অনেক ভালো আছেন। আমিও আপনাদের দোয়ায় এবং মহান সৃষ্টিকর্তার রহমতে অনেক ভাল আছি।
আমি ছোট থেকে রংপুর শহরেই মানুষ হয়েছি, আমি জীবনের প্রথম স্কুলে ভর্তি হয়েছিলামও রংপুরেই এক কথায় বলতে গেলে রংপুরেই আমার বেড়ে ওঠা। কিন্তু রংপুরের পাশাপাশি কুড়িগ্রামেও আমার আসা-যাওয়া সব সময়ই ছিল কারণ এখানেও আমার বাসা রয়েছে। তাই মাঝে মাঝে এসে কুড়িগ্রামে থাকতাম। কুড়িগ্রামে আমার অনেক বন্ধু-বান্ধব রয়েছে আর তাদের সাথে আগে আমি প্রচুর আড্ডা দিতাম।
সেদিন অনেকদিন পর কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজে ঢুকেছিলাম এই কলেজ প্রাঙ্গণে আমরা বন্ধুরা মিলে আগে কতই না আড্ডা দিতাম। যদিও এটা আমার কলেজ নয় তবুও এই কলেজটিকে আমার ভীষণ নিজের মনে হয়। কারণ আগে যখন কুড়িগ্রাম আসতাম তখন বেশিরভাগ সময়ই এই কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজেই আড্ডা দিতাম।
সেদিন অনেকদিন পর সেই কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজে ঢুকেছিলাম, এখন সেই কলেজ আর আগের মত নেই তবুও সেই কলেজে ঢুকে আমার পুরনো স্মৃতিগুলোর কথা মনে পড়ে যাচ্ছিল কতইনা আড্ডা দিয়েছিলাম এই কলেজ ক্যাম্পাসে। আগের মত এখন আর আড্ডা দেয়া হয় না কারণ সব বন্ধুরা আলাদা আলাদা জায়গায় চলে গিয়েছে। আমি যখন কলেজ প্রাঙ্গণটি ঘুরে দেখছিলাম তখন আমার শুধু সেই পুরনো দিনের কথাগুলোই মনে পড়ছিল। আজ আমার এই পোষ্টের মাধ্যমে আমি আমার সেই পুরনো স্মৃতিগুলোকে আপনাদের মাঝে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করব।
জায়গা: কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ
সময়: দুপুর ০২:২৩
তারিখ: ২২/১০/২২
এটা হল সেই কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজের প্রধান গেট। আমরা যখন এই কলেজে আড্ডা দিতে আসতাম তখন এই গেটটি ছিল না, তখন এই জায়গাটি ফাঁকাই ছিল আজ । কতইনা পরিবর্তন হয়ে গেছে এই কলেজ ক্যাম্পাসটি।
জায়গা: কলেজের পুকুরপাড়
সময়: দুপুর ০২:৩১
তারিখ: ২২/১০/২২
এটা হল কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজের পুকুরপাড়, বেশিরভাগ মানুষই সরকারি কলেজে আড্ডা দিতে আসলে এই পুকুর পাড়ের ধারে বসেই আড্ডা দেয়। আমরা এক সময় এই পুকুর পাড়ে বসে অনেক আড্ডা দিয়েছিলাম। তখন সরকারি কলেজে পুকুরের উপর ওই ভবনটি ছিল না এগুলো একদমই নতুন হয়েছে। এই পুকুর পাড়ে বসে তাই ভাবছিলাম কিছুদিনের মধ্যেই এই কলেজ টা কতই না পরিবর্তন হয়ে গেল।
জায়গা: কলেজের পুকুরপাড়
সময়: দুপুর ০২:৩৩
তারিখ: ২২/১০/২২
এই পুকুর পাড় বিভিন্ন খাওয়ার জিনিসও কিনতে পাওয়া যায় যেমন বাদাম, জামাই পিঠা, ঝালমুড়ি সহ আশেপাশে কিছু চটপটি ফুচকার দোকানো ছিল। একসময় আমরা যখন এখানে আড্ডা দিতে আসতাম তখন এখানে এত কিছু ছিল না তবে মাঝে মাঝে বাদামওয়ালাদের দেখা যেত।
জায়গা: কেমিস্ট্রি ডিপার্টমেন্টের সামনে
সময়: দুপুর ০২:৪০
তারিখ: ২২/১০/২২
এদিকটাই আগে জঙ্গল ছাড়া কিছুই ছিল না আমরা এদিকটাই কখনো আসতামও না। কিন্তু এখন দেখুন এত বছর পর এদিকে একটি ভবন তৈরি হয়ে গিয়েছে। আসলে যতই দিন যায় ততই জায়গার পরিবর্তন হতে থাকে যেমন দেখুন এই কলেজ টা আগে এরকম ছিল আর এখন কি রকম হয়ে গিয়েছে, সবকিছু একদমই আলাদা।
এটা এই কলেজের সবথেকে পুরনো ভবন। আগে এই ভবনের পাশে একটি আমগাছ ছিল সেই আমগাছটি একদম ছাদের সাথে লাগালাগি ভাবে ছিল ছাদে দাঁড়িয়ে সুন্দর আম পেড়ে খাওয়া যেত। আমার এখনো মনে পড়ে একদিন এই বিল্ডিং এর ছাদে আমরা বন্ধুরা মিলে আম পেড়ে খেয়েছিলাম, নিচ থেকে বাদামওয়ালা মামার কাছে লবণ নিয়ে গিয়েছিলাম সেই লবণ দিয়েই আমাদের আম খাওয়া হয়েছিল।
জায়গা: কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ
সময়: দুপুর ০২:৪২
তারিখ: ২২/১০/২২
এই সরকারি কলেজের ছাত্র-ছাত্রীসহ যারা এই কলেজে সময় কাটাতে আসে তাদের সব থেকে পছন্দের জায়গা হল এই গাছতলা টি। প্রচন্ড রোদেও এই গাছ তলায় একটুও রোধ করে না তাই এই গাছতলার নিচে বসে সময় কাটাতে সকলেই ভীষণ পছন্দ করে। আর এই গাছতলার নিচেই বসে চটপটি ফুচকার দোকান তাই এই গাছতলার নিশ্চয়ই আরো বেশি লোকের সমাগম দেখা যায়।
জায়গা: কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ
সময়: দুপুর ০২:৪৮
তারিখ: ২২/১০/২২
কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজের মাঠ টি মোটামুটি অনেক বড়। আগে এই মাঠে আমরা ক্রিকেট খেলতে আসতাম। সেই দিনগুলির কথা আমার এখনো মনে পড়ে। সেদিন কলেজে ঢুকে দেখি সেখানে একটি বাস্কেট বলেরও পিচ করা হয়েছে। আমরা যখন এই মাঠে খেলতে আসতাম তখন এই বাস্কেটবল পিচটি ছিল না।
জায়গা: কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ
সময়: দুপুর ০২:৫২
তারিখ: ২২/১০/২২
সৈয়দ শামসুল হক কে চেনে না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া খুবই দুষ্কর। তার লেখা কবিতা নাটক উপন্যাস ছোট গল্প আমাদের সকলের কাছে খুবই প্রিয়, তিনি একজন জনপ্রিয় লেখক ছিলেন। সেই জনপ্রিয় সৈয়দ শামসুল হকের সমাধিও এই কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজে অবস্থিত। কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজের গেট দিয়ে ঢোকার সময় হাতের ডান পাশে সৈয়দ শামসুল হকের সমাধি পরে।
সেদিন প্রায় অনেকদিন পর আমি সেই সরকারি কলেজে ঢুকেছিলাম , সরকারি কলেজে ঢুকে খুব বেশি সময় সেখানে কাটাইনি তবে যতক্ষণই ছিলাম ততক্ষণই আমার সেই পুরনো স্মৃতিগুলোর কথা মনে পড়ে যাচ্ছিল। কতইনা আড্ডা দিয়েছিলাম এই ক্যাম্পাসে যদিও এই ক্যাম্পাসটি আমার নয়। আমরা যখন এই ক্যাম্পাসে আড্ডা দিতে আসতাম তখন এই ক্যাম্পাসটি এরকম ছিল না এখন একদমই চেঞ্জ হয়ে গিয়েছে তবুও আমার পুরনো স্মৃতিগুলোকে ভালোভাবেই জাগিয়ে তুলছিল এই ক্যাম্পাসটি।
যাইহোক বন্ধুরা আজ তাহলে এ পর্যন্তই সকলকে অসংখ্য ধন্যবাদ আমার এই পোস্টে আসার জন্য। আপনাদের সাথে আবারো দেখা হবে আমার নতুন কোন এক পোস্টে সে অব্দি সবাই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন শুভকামনা রইল সকলের জন্য।
| YouTube |
|---|
VOTE @bangla.witness as witness
OR
TWITTER LINK
অনেকদিন পর নিজের কলেজে বেশ সুন্দর একটি মুহূর্ত উপভোগ করেছেন। আমিও মাঝে মাঝে নিজের পুরনো কলেজে গিয়ে ঘোরাঘুরি করে আসে। আপনার কলেজটি বেশ সুন্দর এবং পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন লাগছে। তবে আমার কাছে সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছে বড় গাছতলা নিচে বসার জায়গাটা। এখানে সবাই বসে নিশ্চয়ই বেশ সময় কাটাতেন আপনারা। কি সুন্দর !গাছের নিচের বসার জায়গা থাকলে আমার বেশ ভালো লাগে।
দিন দিন অনেক কিছুই পরিবর্তন হয়ে যায় আগে আপনার কলেজে যেগুলো ছিল এখন সেগুলো অনেক পরিবর্তন হয়ে গেছে। অনেকদিন পর কলেজে গিয়ে আগের স্মৃতিগুলো আপনার খুবই মনে পড়েছিল। আসলে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেওয়ার জায়গা গুলো কখনো ভুলে যাওয়ার নয়। এই স্মৃতি গুলো বেশি মনে পড়ে। পুরনো স্মৃতিগুলো মনে করার পাশাপাশি চমৎকার ফটোগ্রাফি আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন। আপনার ফটোগ্রাফি গুলো আমার কাছে খুবই ভালো লেগেছে।
এটা আপনার কলেজ নয় কিন্তু তারপরেও আপনার অনেক স্মৃতি জড়িয়ে রয়েছে। আসলে প্রতিনিয়ত সবকিছুই পরিবর্তন হচ্ছে। তাই জন্য কুড়িগ্রাম কলেজটাও অনেক কিছুই পরিবর্তন হয়েছে। আমরাও তো যখন স্কুলে পড়তাম তখন স্কুলটা ছিল এক রকম এখন দিন দিন অনেক বেশি উন্নত হয়েছে। কিন্তু যতই পরিবর্তন হোক না কেন আগেকার স্মৃতিগুলো যেন থেকেই যায়। কলেজের পুকুরপাড় সত্যি ভীষণ সুন্দর। এখানে আড্ডা দিতেও ভীষণ মজা হবে।
আপনার পুরো পোস্ট পড়ে সত্যি খুব ভালো লাগলো। আসলে আমিও স্মৃতির পাতায় হারিয়ে গেলাম। কতো রঙ্গিন মধুময় সময় কেটেছে কলেজ ক্যাম্পাসে তা বলে বুঝানো সম্ভব। যাই হোক আপনি কলেজে খুব চমৎকার কিছু মুহূর্ত অতিবাহিত করেছেন। কলেজ ক্যাম্পাসের কিছু ফটোগ্রাফি আপনি আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন দেখে খুব ভালো লাগলো। এত চমৎকার পোস্ট শেয়ার করার জন্য আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ জানাই।