বছরের প্রথম কালবৈশাখী ঝড়ে আম কুড়ানোর অনুভূতি।
হ্যালো বন্ধুগণ,
আমি @bidyut01. একজন বাঙালি ব্লগার।সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে আজকের ব্লগটি শুরু করছি।
আজ বৃহস্পতিবার। ২৭ ই এপ্রিল, ২০২৩ ইং।
আসসালামু আলাইকুম।
আজ দুপুরের পর থেকেই পুরো আকাশ মেঘে ঢেকে গেল। দুপুর গড়ানোর সাথে সাথে ঘুমটে গরম অনুভব হতে শুরু করল। চারিদিকের গাছপালাগুলো নিরব নিস্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। কোন গাছের একটি পাতাও নড়ছেনা। আজকের আবহাওয়াটা দেখেই মনে হচ্ছিল যে, খুব তাড়াতাড়ি কালবৈশাখী ঝড় শুরু হবে। ঠিক তাই হলো। দুপুর ২: ৩০ মিনিট পরে কালো মেঘে পুরো আকাশটি ছেয়ে গেল। চারিদিকের পরিবেশটা কেমন যেন অন্ধকার মতো হয়ে গেল। তারপরেই শুরু হয়ে গেল ঘূর্ণিঝড়। মাঝে মধ্যে ঘূর্ণিঝড়ের গতি খুবই বৃদ্ধি পাচ্ছিল। আবার মাঝেমধ্যে দমকা ঘূর্ণিঝড় হচ্ছিল। যাহোক ঘূর্ণিঝড় শুরু হওয়ার সাথে সাথে আমি আম কুড়ানোর জন্য আমার আম গাছের নিচে চলে গেলাম। আসলে আম কুড়ানোর অভ্যাসটা আমার অনেক ছোটবেলা থেকেই রয়েছে।
দমকা ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতে গাছপালা গুলো প্রায় ভেঙ্গে যাওয়ার মত অবস্থা হয়ে যাচ্ছিল। এমন পরিস্থিতিতে আম গাছ থেকে অনেকগুলো আম গাছ থেকে ছিটকে মাটিতে পড়ছিল। গাছ থেকে কাঁচা আম পড়ার দৃশ্য দেখে আমি আর নিজেকে কোনো ভাবেই ধরে রাখতে পারলাম না। একেবারেই ছোটবেলার মতো করে আম কুড়ানো শুরু করে দিলাম।
ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতে আম গাছ থেকে যখন আমগুলো মাটিতে পড়ছিল, তখন বেশিরভাগ আম ফেটে খন্ড খন্ড হয়ে যাচ্ছিল। আসলে শুকনো মাটির উপরে ছিটকে পড়া আমগুলো অক্ষত না থাকাটাই স্বাভাবিক। ক্রমেই ঘূর্ণিঝড়ের মাত্রাটা বৃদ্ধি হতে থাকে। আর আম গাছ থেকে অধিক হারে আম পড়তে শুরু করে। আম পড়ার সাথে সাথে আমি সমস্ত আমগুলো কুড়িয়ে নিলাম। অনেক বছর পরে কালবৈশাখীর ঝড়ে আম কুড়াতে বেশ ভালই লাগছিল।
কখনো সরাসরি উত্তর দিক থেকে ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানছিল। আবার কখনো উত্তর-পূর্ব দিক থেকে দমকা হাওয়া ঘূর্ণিঝড় আকারে হানছিল। যখন ঘূর্ণিঝড় প্রবল বেগে হতে শুরু করল, তখন চারিদিকের ধুলোবালি উড়ে একেবারেই অন্ধকার পরিবেশ হয়ে গেল। একই সাথে চারিদিকের ধুলো-বলি আমার চোখমুখের উপর এসে পড়ল। এরকম পরিস্থিতিতে আমি সঙ্গে সঙ্গে আমার চোখ-মুখ দুই হাত দিয়ে ঢেকে দিলাম। তারপর ঘূর্ণিঝড়ের প্রবল বেগ দেখে মনে হচ্ছিল যেন, আমাকেই উড়িয়ে নিয়ে যাবে। তারপরও আমি আম কুড়ানো থেকে পিছু পা হলাম না। প্রবল বেগে ঘূর্ণিঝড়ের সাথে সাথে আমার আম কুড়ানোর প্রবণতাও বৃদ্ধি হয়ে গেল। আম গাছের নিচে যখন আমি আম কুড়াচ্ছিলাম, তখন হঠাৎ করেই একসাথে দুইটা আম আমার পিঠের উপর এসে পড়লো। ঘূর্ণিঝড়ের কারণে পড়ন্ত আমের আঘাতে কিছুটা ব্যথা পেয়েছিলাম। কিন্তু এটা যে আম কুড়ানোর একটি বিশেষ অংশ, সেটা আমি খুব ভালোভাবেই জানি।
ঝড়ের সময় আম গাছের নিচ থেকে আম কুড়ানো যে নিষেধ, এটা অন্য সময় মনে থাকে। কিন্তু আম কুড়ানোর সময় মনে থাকে না। আসলে আম কুড়ানোর সময় আমের প্রতি তীব্র আকর্ষণ এবং মনের মধ্যে এক ধরনের আবেগ কাজ করে। তখন মনের মধ্যে কোন ধরনের ভয় কিংবা অন্য কোন ধরনের চিন্তা থাকে না। চিন্তা একটাই আম কুড়ানো। তবে ঘূর্ণিঝড়ের সময় আম কুড়ানোর ক্ষেত্রে আমাদেরকে অবশ্যই সাবধান থাকা উচিত। কেননা, ঝড়ের সময় আম গাছে ডাল ভেঙে পড়ার সম্ভবনা থাকে। যাহোক, ঘূর্ণিঝড়ের সাথে সাথে প্রায় এক গামলা পরিমাণ আম কুঁড়িয়ে ফেলেছিলাম।
আম কুড়ানোর সময় হঠাৎ করে ঘূর্ণিঝড়ের বেগ অনেকটা কমে গেল। কিন্তু আকাশে ঘোলাটে মেঘ অপরিবর্তিত অবস্থায় রয়ে গেল। এমন অবস্থায় টিপটিপ বৃষ্টি পড়া শুরু হলো। আমি ভাবতেছিলাম হয়তো আরো প্রবল বেগে ঘূর্ণিঝড় শুরু হবে। কিন্তু হঠাৎ করেই আকাশের উত্তর দিকে বিদ্যুৎ চমকে উঠল। কয়েক সেকেন্ডের জন্য চারিদিকের পরিবেশ বিদ্যুতের আলোয় আলোকিত হয়ে গেল। সঙ্গে সঙ্গে বিকট আওয়াজ দিয়ে মেঘ ডেকে উঠলো। মেঘ ডাকার বিকট শব্দ শুনে আমার কুড়ানো আমগুলো নিয়ে আমি এক দৌড়ে বাড়িতে চলে এলাম। হঠাৎ করে মেঘের এরকম আচরণে বেশ ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। তারপরও আম কুড়ানোর সময় খুবই আনন্দ পেয়েছি। বৈশাখের প্রথম ঝড়ে আম কুড়াতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত।
টুইটার লিংক
ভাইয়া আপনার বছরের প্রথম কালবৈশাখী ঝড়ে আম কুড়ানোর অনুভূতি পড়ে অনেক ভাল লাগলো। আমি বাড়ি থাকলে হয়তো এভাবে আপনার মত আম কুড়াতাম। ছোট সময় অনেক আম কুড়িয়েছি। ধন্যবাদ ভাইয়া।
ভাইয়া আমি ছোটবেলায় অনেক আম কুড়িয়েছি এবং বড় হয়েও আম কুড়াতে খুবই ভালো লাগে। গঠনমূলক মন্তব্য করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।