জীবনের গল্প (সংসার )
সংসার
দেখতে দেখতে সম্পর্কের চার বছর। আমার পরিবার থেকে দিনের পর দিন বিয়ের জন্য চাপ দিয়ে যাচ্ছে আর আমি আমার পছন্দের মানুষকে পাওয়ার জন্য একেক পর এক বিয়ে ভেঙ্গে যাচ্ছি। সে এখনো একজন স্টুডেন্ট। এই পর্যন্ত কয়েকশো চাকরির ইন্টারভিউ দিলেও একটা চাকরিও তার হয়নি, কেন হয়না কি কারণে হয়না আমি আজও জানি না শুধু অপেক্ষায় আছি তার একটা ভালো চাকরি হবে তারপরেই আমাদের সম্পর্কের কথা বলে কিছু একটা করা যাবে কিন্তু না, দিন যাচ্ছে ঠিকই কিন্তু তার চাকরি হচ্ছে না। একটা পর্যায়ে আমার পরিবার থেকে বলতে গেলে এক প্রকার জোর করেই আমাকে বিয়ে দিতে চাইলো তখন সত্যি অনেক নিরুপায় হয়ে বাসা ছাড়তে হলো আমার। কারণ আমার আবেগ অনুভূতি ভালোবাসা সবকিছুই যে তার। আর তার চাকরির আশা করলে হয়তো আমাদের আর কোনো দিন একসাথে থেকে সংসার করা হবে না। এক কাপড়ে আমি বাসা ছাড়ি ও সেদিনেই তাকে বিয়ে করি ও পরিবারের সাথে সম্পূর্ণ ভাবে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়।
কোনটা ভালো করছি আর কোনটা খারাপ করছি এসব ভাবার সময় এখন না। এখন কাজ হলো আপাতত দুজনের থাকার জন্য ছোট্ট একটা ঘর আর আলু ভর্তা ও ডাল দিয়ে কোনো রকম পেট সামলানো। আর এটা করতে হলেও অল্প কিছু টাকার প্রয়োজন। আমার গলায় চার আনা একটা চেইন ও কানে চার আনা দুইটা দুল ছিল সেখান থেকে গলার চেইনটা বিক্রি করে ভালোই কিছু টাকা পাই। দুইজনের বেশ কিছুদিন চলে যাবে ভেবে বেশ ভালো লাগছে। আশাকরি এর মধ্যে তার একটা চাকরির ব্যাবস্থা হয়ে যাবে। এভাবে আমাদের ছোট্টো ভালোবাসার সংসারটা খুব ভালো ভাবেই চলছে। প্রতিদিন একই রকম খাবার আর দুজনের ভালোবাসাময় খুনসুটি নিয়ে আমাদের ভালোই দিন কাটছে।
রোজ সকলে ঘুম থেকে উঠে সাহেব চাকরির খুঁজে বের হয়ে যায় আর শেষ বিকেলের দিকে ক্লান্ত হয়ে বাসায় ফিরে কিন্তু হাসি মুখে না। আমি আমার মতো করে তাকে শান্তনা দেয়ার চেষ্টা করি ও ভালোবাসা দিয়ে তাকে বুঝানোর চেষ্টা করি যাতে সে চাপে না পরে ও এসব বিষয় নিয়ে মন খারাপ করে চিন্তা না করে। আর এভাবেই চলে গেলো বেশ কিছুদিন। হাতে থাকা টাকা গুলো প্রায় শেষের দিকে। কথায় আছে পকেটে টাকা না থাকলে নাকি ভালোবাসা জানালা দিয়ে ফালিয়ে যায়। কিন্তু আমি আমার ভালোবাসাকে এমন ভাবে আঁকড়ে ধরতে চেয়েছি যাতে করে কখনো কোনোদিন এই ভালোবাসার সমাপ্তি না ঘটে।
এগুলো নিয়ে ভাবতে ভাবতে একদিন হটাৎ করেই একটা কথা মনে পড়লো। ছোট থেকেই আমি আঁকাআঁকি করতে পছন্দ করি ও আঁকাআঁকি করে খুব ভালো ভালো ডিজাইন তৈরি করতে পারি। আমরা যে কাজটা করবো সেটা হলো মার্কেট থেকে সাধারণ কাপড় কিনে সেটাকে সুন্দর কোনো ডিজাইন দিয়ে হাতের কাজ করে অনলাইন একটা পেইজ খুলে সেখানে অল্প লাভে বিক্রি করবো। আর এই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে যদি নিজেরা ভালো কিছু একটা করতে পারি তাহলে বিষয়টা খারাপ হবে বলে মনে হয় না। আমি আমার পুরো বিষয়টা তাকে জানানোর পর সে বললো নিজে থেকে যেকোনো ধরণের ব্যবসা শুরু করতে হলে কিছুটা হলেও পুঁজির দরকার হয় সেটা ছোট কিংবা বড় ব্যবসা। আর আমাদের এই অবস্থায় একটা ব্যবসা শুরু করার মতো টাকা পাবো কোথায়। তখনি আমার কানে থাকা চার আনার দুইটা দুলকে কাজে লাগায় আর সেই টাকা দিয়ে আমাদের প্রয়োজনীয় সবকিছু কিনে আনি।
(চলবে..........)
VOTE @bangla.witness as witness
OR
Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
_
আপু গল্পটা পড়ে ভাল একটা অনুভূতি জাগলো মনের মাঝে। আসলে অভাবের কারনে ভালবাসা কখনও দরজা দিয়ে পালায় না। যাদের পালায় তাদের তো স্বভাবের কারনেই পালায়। জানিনা সংসার গল্পটা কার জীবনের। তবে ভালবাসা কে কখনও বৃথা যেতে দেওয়া উচিত নয়।
অসাধারণ একটি গল্প।
আমার মনে হয় এই সংসারটা সুখের হবেই কারন এখানে রয়েছে অনেক ত্যাগ। এই ছোট্ট ব্যাবসা আর কানের দুল বিক্রি করা টাকা তাদের এগিয়ে নিয়ে যাবে। অনেক ধন্যবাদ আপু ভীষণ ভালো একটি গল্প উপহার দেয়ার জন্য। পরের পর্বের অপেক্ষায় রইলাম।
গল্পটা বেশ ভালই লিখেছে আপু।কথাটার যথার্থতা আছে বলা যায় -"শান্তির ভাত ডাল মরিচ দিয়ে খেলেও নাকি অনেক মজার হয়"।গল্পটা যতক্ষণ পড়েছিলাম মনে হচ্ছিল আপনার নিজের গল্প পড়তেছি😀😀😀।আদৌ জানিনা সেটা কি আপনার জীবনের ভালবাসার গল্প নাকি কাল্পনিক আপু?তবে যতটুকু পড়েছি অনেক ভালো লেগেছে।পরবর্তি পর্বের জন্য অপেক্ষায় রইলাম।
সত্যি আপু ভালোবাসা এমনি একটি জিনিস দুজনে মিল থাকলে গাছতলায় শান্তি থাকে।তবে আপু মানুষ বলে টাকা না থাকলে ভালোবাসা জানালা দিয়ে পালায়,সবারই ক্ষেত্রে নয়।যাইহোক আপু আপনি তো ব্যবসা শুরু করেছেন কানের দুল বিক্রি করে। দেখা যাক পরবর্তী পর্বে কি হয়।আপনাকে অনেক ধন্যবাদ গল্পটি শেয়ার করার জন্য।
প্রেমিকের বেকারত্ব আর বাড়ির চাপে অসংখ্য ভালোবাসা পূর্ণতা পাই না। তবে আপনার গল্পের মেয়েটা ছিল বেশ ভিন্ন। সে তার ভালোবাসার মানুষকে হারাতে চাইনি। শুধু তাই না বাড়ি থেকে চলে গিয়ে অনেক কষ্টে তার সঙ্গে থাকে। তবে শেষে বেশ একটা আশার আলো দেখিয়ে শেষ করেছেন। ভালো লিখেছেন আপু।।
আপনি তো দেখছি একটি প্রেম কাহিনী তুলে ধরেছেন ৷ আমার মনে এটা দিয়ে একটা নাটক বানানো উচিত ৷ প্রেম,ভালোবাসা কতটা বিশ্বাস আর ভরসা থাকলে এমন হয় ভাবছি ৷
আমি তো মনে করি আজকে অধিকাংশ প্রেম কোনো নষ্ট হয় ৷ ছেলে বেকারত্ব আর যার জন্য কয়েক বছরে সম্পর্ককে বিদায় জানাতে হয় ৷
তবে আপু আপনি আপনার প্রেম , ভালোবাসার বিশ্বাস রেখেছেন ৷ আমি তো তাই প্রতিটি মানুষ এই কাজটাই করুক ৷ কিন্তু এখনো তো ভালোবাসা তুমি বেকার তোমার সাথে মেনে নিবে না ৷ আরও কত কথা এরপর ব্যাস সম্পর্কের সমাপ্তি ৷
যা হোক কথা বললেও শেষ হবে না ৷ তবে আপনি যে প্রেম ভালোবাসা প্রমান দিয়েছেন এটা সত্যি বাস্তব৷