ফেসবুক থেকে প্রেম (প্রেমের গল্প ) - দ্বিতীয় পর্ব

in আমার বাংলা ব্লগ4 years ago

ফেসবুক থেকে প্রেম

iphone-410314_960_720.jpg

image source

প্রথম পর্ব

প্রথম বার দেখা করার পর থেকেই একজন আরেক জনের উপর আরো বেশি ভালোলাগা ও ভালোবাসা শুরু হলো। এখন যেন তার সাথে আরো বেশি কথা বলতে ইচ্ছা করে আরো বেশি ভালোবাসার আবেগ জমানো মনের ইচ্ছা গুলো জানাতে ভালো লাগে। এরই মধ্যে একদিন আমি আমার বাসায় ফোন নিয়ে ধরা খেয়ে যায় ও অনেক বকাঝকা শুনতে হয় মায়ের কাছ থেকে। তবে আমি সাহস করে বলতে পেরেছিলাম আমি অনেক কষ্ট করে টিউশনের টাকা জমিয়ে ফোনটা কিনেছি। যায়হোক এভাবে কেটে যায় আরো কিছুদিন। এরপর থেকে আমাদের প্রায় দেখা হয়, কথা হয়, ঘুরাঘুরি হয় আর আমি ওর প্রেমে এতটা মুগ্ধ ছিলাম যে আমি কলেজ না গিয়ে তারসাথে পার্কে ঘুরে বেড়াতাম। আমার মাথায় যেন সে ছাড়া আর কিছুই ছিল না। এভাবেই চলে গেলো একবছর। আমি এখন কলেজের দ্বিতীয়বর্ষের ছাত্রী। সম্পর্কের একবছর পর থেকেই কথা উঠে আমাদের বিয়ে নিয়ে। সে চাইতো সে আমাকে বিয়ে করে তার ঘরে নিয়ে যাক কিন্তু আমার মনের কোনে কেমন জানি একটা ভয় কাজ করতো। আমি সবসময় এই বিয়ের ব্যাপারটা এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতাম। কখনো নিজের বিয়ের ব্যাপারে নিজের পরিবারের সাথে কথা বলা আমার দ্বারা সম্ভব হবে না।

কিন্তু আর কত দিন এই বিষয়টা এড়িয়ে যাবো আমি জানি না। আর আমি এটা খুব ভালো করে জানি আমি ওকে ছাড়া কোনো কিছু ভাবতে পারি না.কোনো কিছু কল্পনাও করতে পারি না ওকে ছাড়া আমি কখনো থাকতে পারবো না, তবুও আমি আমার এই সম্পর্কের কথা গুলো আমার পরিবারে কাওকে জানাতে পারছিনা। আর তার পরিবারের থেকে তাকে বিয়ে করানোর জন্য উঠেপড়ে লেগেছে। সে কোনো ভাবেই পরিবারকে মানাতে পারছে না। ওর পরিবার আমাদের সম্পর্কের কথা জানে আর এটাও বলেছে আমার পরিবারকে সবকিছু জানাতে ও বিয়ের ব্যাপারে কথা বলতে কিন্তু তবুও আমি আমার কথা কোনো ভাবেই পরিবারের কাছে বলতে পারছি না। একটা সময় সে ব্যার্থ হয়ে তার পরিবারের চাপে পরে অন্য একটি মেয়ে দেখতে যায়। আর এই বিষয়টি আমি জানার পর আমি আর আমার নিজেকে ধরে রাখতে পারলাম না। কষ্টে যেন আমার বুক ছিড়ে যাচ্ছে মনে হচ্ছে আমি হয়তো এখনই নিশ্বাস আটকে মারা যাবো।

পরিবারের সকলেই আমার এই অবস্থা দেখে আমার সবকিছু জানতে চাইলে আমি তাদের সবকিছু বলি আর আমার পরিবারের সবাই বিষয়টিতে রাজি থাকলেও ততক্ষনে অনেক দেরি হয়ে গেছে কারণ সে যে মেয়েকে দেখতে গিয়েছে সেখানে তার পরিবার তার বিয়ের সবকিছু ফাইনাল করে আসছে। দুই সপ্তাহ পরেই তাদের বিয়ে। সে আমার উপর বেশ অভিমান করে ছিল কারণ আমি আমার সম্পর্কে কথা আমার পরিবারকে জানাতে পারিনি বলে। পরে যখন আমি তাকে বিষয়টি জানিয়েছি যে আমার পরিবার আমাদের ব্যাপারে সবকিছু জানে ও আমাদের সম্পর্ক মেনে নিয়েছে তখন সে আমাকে বলে এখন মেনে নিলেই কি করা সম্ভব ? আমার বিয়ের সবকিছু ফাইনাল হয়ে গেছে। এখন চাইলেও কিছু করা সম্ভব না আমার দ্বারা।

আমি আমার জীবনের সবচেয়ে দামি ও শান্তির জিনিসটাকে হারাতে বসেছি আমি জানি না আমার কপালে কি লেখা আছে আমি আমার বাকিটা জীবন তাকে ছাড়া কি ভাবে কাটাবো। একা একা এভাবে কান্না করে আমার দিন কাটছে। হটাৎ করেই সে আমাকে ফোন দিলো ও বললো চলো আমরা পালিয়ে যায়। কথাটি শুনে যেন আমার নিশ্বাস ফিরে আসলো ও আমি এক কথায় রাজি হয়ে গেলাম। পরের দিন সবকিছু নিয়ে আমি উধাও হয়ে গেলাম তার হাত ধরে। জানি না কোথায় যাবো কোথায় থাকবো। আমি শুধু একটা কথায় ভাবসি সে আমার এবং আমার পাশে আছে আর এর থেকে সুখের আর কিছুই হতে পারে না।

বাস্তব জীবনে ঘটে যাওয়া ঘটনা থেকে সাজিয়ে কল্পনা থেকে গল্পটি লিখলাম কেউ আবার আমার জীবনের গল্প মনে করবেন না। আশাকরি আমার লেখা ফেসবুক থেকে প্রেম এই গল্পটি ভালো লাগবে।

1.png


VOTE @bangla.witness as witness

witness_proxy_vote.png

OR

SET @rme as your proxy


witness_vote.png


Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power

250 SP500 SP1000 SP2000 SP5000 SP

_

Heroism_3rd.png

Sort:  
 4 years ago 

এই আপু,,, এটা কেমন কথা হ্যাঁ !! কোন ছেলে সত্যি সত্যি ভালোবেসে ফেললে সে কি এত ভয় পায় নাকি বাড়ি নিয়ে!! মেয়ে রাই তো পাল্টি দিয়ে যায়। 😉😉। হিহিহিহি। যতই মজা করি , তবে দিনশেষে সবকিছু জয় করে ভালবাসার মানুষটার সাথে সারাটা জীবন থাকতে পারাটা সবথেকে বড় শান্তির। আর আমার কাছে মনে হয় দুই পক্ষের ভালোবাসা যদি সত্যি থাকে তবে কোন বাধায় তাদের আটকাতে পারে না।

 4 years ago 

ছেলের বাড়ি থেকে যখন ছেলেটাকে অন্য একটা মেয়ের সাথে বিয়ে ঠিক করল। তখন মেয়েটির কষ্ট পাওয়ার কথা শুনে আমিও একটু কষ্ট পেলাম।🤪 কিন্তু আমার জানামতে এরকমটা তো বেশিরভাগ মেয়ের বাড়িতে হয়ে থাকে। ছেলের বাড়ি থেকেও যে এরকম একেবারেই হয় না তা কিন্তু নয়। যাইহোক আপনার গল্পটি পড়ে ভালো লাগলো ধন্যবাদ এটি আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য।

 4 years ago 

আমি ভাবছিলাম যে মেয়েটা এত কষ্ট করে বাড়িতে সবকিছু অবশেষে জানালো, আর ছেলেটা বিয়ে করে নেবে? খুব তাড়াতাড়ি গল্পটা পড়ে নিলাম শেষটা দেখার জন্য। যাক তারা অন্তত যে পালিয়ে বিয়েটা করে নিয়েছে, সেটা বেশ ভালো লাগলো। পরে তো পরিবার মেনেই নেবে। ফেসবুকেও যে এইভাবে ভালোবাসা হয়, এই গল্পের মাধ্যমে বুঝতে পারলাম। আমার এক বান্ধবী ও ফেসবুকের মাধ্যমে বিয়ে করেছিল ভালোবেসে। তবে তার পালাতে হয়নি।

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.32
JST 0.081
BTC 61240.63
ETH 1620.29
USDT 1.00
SBD 0.42