বিধবা নারীর প্রেমের গল্প (চতুর্থ পর্ব )
বিধবা নারীর প্রেমের গল্প
চলে গেলো বেশ কয়েকদিন। হটাৎ একদিন আমি আমার বাড়ির নিচ তোলাই ডাক্তারের চেম্বারে যাই। আমি -বাহ্ খুব সুন্দর সাজিয়েছেন তো চেম্বারটা। ডাক্তার - আজ এতদিন হয়ে গেলো চেম্বার দিয়েছি আর এতদিনে আসলেন আপনি ? আমি - আমিতো বিধবা, ঘর থেকে বের হয়ে লোকজনের সামনে আসা যে আমার জন্য বারণ। ডাক্তার - এত আর লোকজন আসে কৈ। সারাদিনে দশ-পনেরোজন রোগী আসে আমার কাছে। আমি - আচ্ছা আপনার রোগীদের মধ্যে মেয়ে রোগী এই কি বেশি ? ডাক্তার - ডাক্তারের কাছে রোগী রোগীই , সব রোগী সমান। আমি - সব রোগী সমান ? মন থেকে বলছেন কথাটা। আচ্ছা বাদ দেন। আচ্ছা এটা কিসের ওষুধ ? ডাক্তার - আরে আরে এটাই একদম হাত দিবেন না। এটা কোনো একধরণের বিষ যা খেলে একটা মানুষ সাথে সাথে মারা যেতে পারে। এরপর আমি কিছুক্ষন থেকে চলে আসলাম চেম্বার থেকে উপরে।
তার কিছুদিন পর একটা বিষয় খেয়াল করলাম। ডাক্তার সাহেব কেমন জানি অন্যমনস্ক হয়ে গেছে। তার এই অন্যমনস্ক হওয়ার রহস্য আমার কাছে অন্য রকম মনে হচ্ছে। একদিন দেখলাম ডাক্তার সাহেব ভাইয়ার কাছ থেকে শেরওয়ানি ধার করে নিয়ে বেশ সাজগুজ করছে। কোথায় যেনো যাবে মনে হচ্ছে। আমি আর থাকতে পারলাম না। ভাইয়ার কাছে গিয়ে নানা কথার পর জিজ্ঞেস করলাম -আচ্ছা ভাইয়া তোমার ওই ডাক্তার বন্ধু দেখলাম বেশ সেজেগুজে বের হচ্ছে , কোথায় যাচ্ছেন তিনি ? ভাইয়া - মরতে। আমি - কি যে বলো ভাইয়া , সত্যি করে বলোনা কোথায় যাচ্ছে ? ভাইয়া - বিয়ে করতে। আমি - একটু মুচকি হেসে বলাম , সত্যি নাকি ? ভাইয়ার সামনে একটু জোর করে হাতিটা দিলাম কিন্তু এদিকে এই কথাটা শুনার সাথে সাথে বুকের ভিতরটা যেন ফেটে চুরমার হয়ে যাচ্ছে। ভাইয়া - কিরে পাগল হয়ে গেলি নাকি ? এভাবে হাসলি কেন ? আমি - না এভাবে হুট করে কেউ বিয়ে করে এটার জন্য।
মেয়ের পক্ষ থেকে ছেলেকে অনেক কিছু দিবে বলে শুনলাম। এই যুগের ডাক্তার বলে কথা। তার চাহিদা অনেক থাকবে এটাই স্বাভাবিক। শত হলেও পাশ করা ডাক্তার। আমি - ভাইয়া মেয়ে দেখতে কেমন ? ভাইয়া - আমি কি দেখেছি নাকি। আমি -ওমা, তোমার বাল্যকারের বন্ধু আর তুমি তার পছন্দ করা মেয়েকে দেখোনি এটা কেমন কথা। ভাইয়া - ওটা পরে দেখা যাবে। আমি- ঠিক আছে ভাইয়া আমি যায় তাহলে। আমার মনটা কেমন কেমন জানি করছে। ভাইয়া - শরীর খারাপ। আমি - হুম , মনে হয় আবার গায়ে জ্বর উঠেছে। ভাইয়া - জ্বর উঠেছে ? কোই দেখি , নাতো গায়েতো কোনো তাপ নেয়। আমি - তাপ কি শুধু শরীরেই উঠে ভাইয়া , আমি যায় তুমি বিশ্রাম করো।
আমি ফিরে এলাম আমার ঘরে। এই ঘরটা ছাড়া যাবার মতো আর কোনো জায়গায় নেই আমার। অল্প বয়স থেকেই সাদা কাপড় জড়িয়েছি। খাবারের প্লেটে যেমন নিরামিশ ছাড়া অন্যকিছু তোলা অধর্ম তেমনি চারদেয়ালের বাইরে পা রাখাও আমার জন্য অধর্ম। তবুও সব ধর্ম , অধর্মের বাদ ভেঙ্গে কি নিল্লোজ্যের মতো সারাদিন রাত যে আমি মনে মনে কল্পনা করতাম তার কথা। নিজের উপর প্রচন্ড রাগ হয়েছিল সেদিন। নিজেকে হাসির পাত্র মনে হয়েছিল। তার চেয়েও বেশি অপমান বোধ করেছিলাম আমার কাছে তার বিয়ের সংবাদটি গোপন করার জন্য। তার বিয়ের খবরটা আমার কাছে লুকিয়ে তিনি কি প্রমান করতে চেয়েছিলেন। আর কেনইবা করেছিলেন ! আমি কি কখনো তাকে পায়ে পরে বলেছিলাম এমন কাজ করলে আমি বুক পেটে মরে যাবো ? আসলে পুরুষদের বিস্বাস করতে নেই। পৃথিবীতে আমি মাত্র একটি পুরুষকেই দেখেছিলাম এবং এক মুহূর্তেই সমস্ত জ্ঞান লাব করেছিলাম।
(চলবে..........)
VOTE @bangla.witness as witness
OR
Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
_
তাপ শুধু শরীরে উঠেনা মনের ভেতরের যন্ত্রণা থেকে প্রচন্ড তাপ উঠে। ডাক্তারের বিয়ের কথা শুনে তার অনেক কষ্ট হয়েছে। আসলে সে হয়তো ভুলে গিয়েছিল তার পুরনো দুঃখগুলো। নতুন করে স্বপ্ন দেখতে চেয়েছিল। দেখা যাক পরবর্তীতে কি হয়। পরবর্তী পর্বে জন্য অপেক্ষায় রইলাম আপু।
বেশ খারাপ লাগলো মেয়েটির জন্য। আর ডাক্তার ও বিয়ে করবি কর বিধবা মেয়ের মনে স্বপ্ন জাগিয়ে দিয়ে আবার অন্য জন কে বিয়ে। অবশ্য মেয়েটির মনের কথাই বা ডাক্তার জানবে কি করে। আগামী পর্ব দেখার অপেক্ষায় রইলাম আপু।
আগের সবগুলো পর্ব পড়েছিলাম আপু। গত পর্ব পড়ার পর ভেবেছিলাম বিধবা নারীটির সাথে ডাক্তারের প্রেম হবে। তবে ডাক্তার অন্য মেয়েকে বিয়ে করতে যাচ্ছে,সেটা জেনে মেয়েটির জন্য বেশ খারাপ লাগছে। মেয়েটি বিধবা বিধায় নিজের মনের কথা তার ভাইয়াকেও বলতে পারছে না। কিন্তু ভিতর ভিতর অনেক কষ্ট পাচ্ছে। যাইহোক পরের পর্বের অপেক্ষায় রইলাম আপু। শেয়ার করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে।