লাইফ স্টাইল :- নাশিয়ার জন্য কেনাকাটা করার মুহূর্ত।
হ্যালো বন্ধুরা,
আসসালামু আলাইকুম, কেমন আছেন সবাই? আশা করি সবাই ভালো আছেন। আমিও আল্লাহর রহমতে ভালো আছি। প্রতিদিনের মত আজকেও আপনাদের সামনে এসে হাজির হলাম নতুন একটি পোস্ট নিয়ে। আমাদের দৈনন্দিন জীবনে বিভিন্ন ধরনের অভিজ্ঞতা রয়েছে। যেহেতু আমার বাংলা ব্লগ আমাদের একটি পরিবার, তাই জন্য আমি আমার দৈনন্দিন জীবনে যেকোনো বিষয়ে আপনাদের মাঝে শেয়ার করতে পছন্দ করি। তেমনি আজকেও আপনাদের মাঝে নতুন একটি বিষয়ে শেয়ার করতে আসলাম । আশা করি আপনাদের ভালো লাগবে।
আসলে রমজানের ঈদের সময় অনেক বেশি কেনাকাটা করা হয়েছিল। তাই জন্য এখন আর কারো জন্য কেনাকাটা করছি না। তবে যেহেতু নাশিয়া খুবই ছোট। তাই ভাবলাম ওর জন্য না কিনলেই নয়। যদিও ওর অনেকগুলো জামা রয়েছে। কিন্তু তারপরেও ভাবলাম ঈদ উপলক্ষে ওর জন্য একটা কিনি। এখন তো আবার সে নিজে নিজেই বলতে শিখেছে, কয়েকদিন আগেই বলছিল, চলো আমরা শপিং করতে যাই। আমি তো অবাক হয়ে গেলাম ওর কথা শুনে। কিন্তু কি করার এখন আমরা আসলে বাচ্চাদেরকে কিছুই শেখাতে হয় না, মোবাইলে ভিডিও দেখেই সবকিছু শিখে নেয়।
পরবর্তীতে চলে গেলাম ওর জন্য জামা কিনতে। তবে আমাদের একটা পছন্দের দোকান রয়েছে। আমি বেশিরভাগ সময় সেখানেই যাই কিনতে। এই দোকানে যেকোনো জামা সহজেই পছন্দ হয়ে যায়। সেজন্য শুরুতেই গিয়েছিলাম দোকানে। তারপর আমাদের পরিচিত দোকানদারকে বললাম মেয়ের জন্য জামা দেখাতে। যদিও দোকানে অনেক ভিড় ছিল। যেহেতু ঈদ তাই জন্য সবাই কেনাকাটা করতেছে। আমরা একটু ফাঁক করে এই দোকানদারের সামনে চলে গেলাম। তো উনি আমাকে কয়টা জামা দেখাতে শুরু করলো।
তবে জামা দেখতে দেখতে আরো একটা বিষয় খেয়াল করলাম। দেখলাম কয়েকজন মহিলা এসেছে জামা কেনার জন্য। তবে তাদের একটা জামা পছন্দ হয়েছে, এমনকি দোকানদারের সাথে অনেক দামাদামি করে তারা একটা দাম ঠিক করল। তবে তো দোকানদার বলছিল ১২৫০ টাকা। কিন্তু তারা বারোশো টাকাই দিবে। দোকানদার অনেক বার বলছিল তার শুধুমাত্র ৫০ টাকা লাভ হবে। কিন্তু তারপরেও দিয়ে দিচ্ছে। তবে ওই মহিলাগুলো এটা মানতে নারাজ। বেশ কিছুক্ষণ ধরেই তারা এই বিষয়টা নিয়ে তর্ক করছিল। তাদের এই তর্ক দেখতে দেখতে আমাদের কিছুক্ষণ সময় কেটে গেল।
পরে ভাবতে লাগলাম ৫০ টাকার জন্য কত বেশি তর্ক করে ফেলল। মনে হচ্ছে ৫০ টাকার চেয়ে তাদের তর্কের মূল্য আরো বেশি হা হা। তারপর ওই মহিলারা বিদায় হওয়ার পর আমরা আমাদের জামাগুলো দেখে একটা জামা পছন্দ করলাম। যে জামাটা আমি হাতে নিয়েছি ওইটাই পছন্দ করেছি। আমার কাছে কিন্তু জামাটা দেখতে ভীষণ ভালো লেগেছে। তাছাড়া এই জামার কালারটা সবথেকে বেশি সুন্দর ছিল। আর জামাটার কাপড় কিন্তু খুবই সুন্দর। তাই জন্য আর বেশিক্ষণ না দেখে এটাই পছন্দ করে নিলাম। এরপর তার সাথে আরও একটা টপস এবং লেগিংস নিয়ে নিলাম।
কারণ এমনিতে বেশি গর্জিয়াস জামাগুলো আমার পছন্দ না। তাছাড়া এখন অনেক বেশি গরম পড়তেছে। এইজন্য টপস গুলোই আমার কাছে অনেক কমফোর্টেবল লাগে। আর তাই জন্যই তো এগুলোই নিয়ে নিলাম। আমরা কিন্তু আবার দামাদামি করিনা। যেহেতু লোকটা আমাদের পরিচিত এমন কি আমরা লোকটাকে বিশ্বাস করি, আর বলি যাতে আমাদেরকে একটা দাম বলে দেয়। আমরা যদি পারি তাহলে নিয়ে যাবো আর না হলে রেখে যাবো। সে ক্ষেত্রে সব সময় এভাবেই কেনাকাটা করা হয়। পরবর্তীতে লোকটা একটা দাম বললে আমরা সেটা দিয়েই কিনে নিলাম।
তাছাড়া নাশিয়ার মামা দুবাই থেকে ওর জন্য খুব সুন্দর জুতা নিয়ে এসেছে। তার জন্য ভাবলাম আর জুতা কিনতে হবে না। এমনিতে ওর আগের জুতাগুলোও অনেক নতুন। আর বেশি কেনাকাটা না করেই পরে প্রয়োজনীয় আরো কিছু জিনিসপত্র কিনে বাড়িতে চলে আসলাম। জামা দেখে নাশিয়াতো অনেক বেশি খুশি। আশা করি আমাদের কেনাকাটা আপনাদেরও ভালো লাগবে। পরবর্তীতে আসবো নতুন কোন বিষয় নিয়ে।
আমার পরিচয়
আমার নাম তাসলিমা আক্তার সনিয়া। আমি বাংলাদেশী। বাংলা ভাষা আমাদের মাতৃভাষা বলে আমি অনেক গর্বিত। আমি গ্রেজুয়েশন কমপ্লিট করেছি। আমি ছবি আঁকতে ভালোবাসি। বিশেষ করে যে কোন ধরনের পেইন্টিং করতে পছন্দ করি। যখনই অবসর সময় পায় আমি ছবি আঁকতে বসে পড়ি। এছাড়াও আমি ভ্রমণ করতে পছন্দ করি। কিছুদিন পর পর বিভিন্ন জায়গায় ভ্রমণ করার চেষ্টা করি। এছাড়াও আমি বিভিন্ন ধরনের কারুকাজ করতে পছন্দ করি। রান্না করতেও আমার খুব ভালো লাগে। আমি বিভিন্ন ধরনের রেসিপি তৈরি করতে পছন্দ করি। আমি যখনই সময় পাই আমার পরিবারের সবাইকে বিভিন্ন ধরনের রেসিপি তৈরি করে খাওয়াই। আমি সব সময় নতুন নতুন কিছু করার চেষ্টা করি।
🎀 ধন্যবাদ সবাইকে 🎀 |
|---|

https://x.com/TASonya5/status/1802318995116487127?t=4Gtyk3JKOfxQ3TvbrHAhXg&s=19
এই ঈদে আমাদেরও তেমন কোন কেনাকাটা করা হয়নি। নাশিয়ার জন্য কেনাকাটা করেছেন দেখে ভালো লাগলো। ড্রেসগুলো খুবই সুন্দর ছিল। গরমের মধ্যে গর্জিয়াস জামা কাপড় আসলেই পড়া যায় না। আমি চেষ্টা করি কমফোর্টেবল জিনিসগুলো সব সময় কিনতে। কেনাকাটার মুহূর্তগুলো দেখে বেশ ভালো লাগলো। ধন্যবাদ আপনাকে।
আসলে নাশিয়ার ড্রেসটা আমার নিজের কাছেও ভালো লেগেছে। আসলে আমি তার জন্য এরকম জামা খুব কম কিনে থাকি। কিন্তু এই জামাটা ওরকম না। এটার কাপড় খুব ভালো, আর তেমন একটা গরমও নেই এটার মধ্যে।
আপনার আনন্দময় মুহূর্ত আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন। ঈদুল ফিতরের কেনাকাটার আমেজ অনেক বেশি থাকে, সে তুলনায় ঈদুল আযহাতে কেনাকাটা হয় না বললেই চলে। তবে ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে বিষয়টি সম্পূর্ণ আলাদা। নাশিয়ার জন্য জামা কিনেছেন জেনে খুব ভালো লাগলো। জামাটি পেয়ে নাশিয়া অনেক বেশি আনন্দিত হলো। সবার ঈদ সুন্দর কাটুক সে কামনা রইল। অসংখ্য ধন্যবাদ এমন একটি পোস্ট আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য।
আসলে ঈদুল আযহাতে খুব কম মানুষেরই কেনাকাটা হয়। তবে বাচ্চাদের জন্য না কিনলে ভালো লাগেনা। সুন্দর একটা মন্তব্য করার জন্য ধন্যবাদ ভাইয়া।
আপনাদের সুন্দর কেনাকাটার মুহূর্ত দেখে খুবই ভালো লাগলো আমার। বেশ দারুন ভাবে কেনাকাটা করেছেন এবং সেই বিষয়ের বর্ণনার সাথে তুলে ধরেছেন। এত সুন্দর ভাবে উপস্থাপন করে ব্লগ টা দেখানোর জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।
নাশিয়ার জন্য কেনাকাটা করাটা সবার মাঝে তুলে ধরার চেষ্টা করলাম।
আজকাল বাচ্চারা এম্নিতেই ট্যালেন্ট।এদের কাছে আমাদের আরো কিছু শিখতেও হতে পারে আপু।এসব ডিজিটাল বাচ্চা। যাই হোক ঈদুল আজহায় আমরা বড়রা কিছু কেনাকাটা না করলেও বাচ্চাদের থাকতে ও কিছু না কিছু কিনে দিতেই হয়।যাক সুন্দর হয়েছে ড্রেসটি।আর যেহেতু মামা জুতা নিয়ে এসেছে ভালো ই হলো।মেয়ের ড্রেস খুব পছন্দ হয়েছে এটাই তো আনন্দের বিষয়। সুন্দর অনুভূতি গুলো শেয়ার করার জন্য অনেক ধন্যবাদ জানাই আপনাকে।
হ্যাঁ ওর মামা জুতা নিয়ে আসাতে ভালো হয়েছে। হ্যাঁ পছন্দ হয়েছে এটা অনেক বেশি আনন্দের।
মেয়ের জন্য কেনাকাটা করার দারুন কিছু মুহূর্ত শেয়ার করেছেন আপু । আপনার শেয়ার করা মুহূর্তটি দেখে খুবই ভালো লাগলো। ধন্যবাদ আপু সুন্দর একটি পোস্ট শেয়ার করার জন্য।
মেয়ের জন্য কেনাকাটা করার মুহূর্তটা সবার মাঝে সুন্দর করে তুলে ধরার জন্য চেষ্টা করেছি।