রমজান মানুষের জীবনে বয়ে আনে সিয়াম সাধনা এবং ঈদের আনন্দ। যে সিয়াম সাধনা একমাস করার পরে ঈদের আনন্দে আনন্দিত হয়ে মুসলিম ভাইয়েরা কাঁধে কাঁধ মিলে আনন্দঘন মুহূর্ত অতিবাহিত করে থাকে। ঠিক সেভাবেই এবারও ঈদের দিন অতিবাহিত হল প্রাকৃতিক কোন দুর্যোগ ছাড়াই। তবে এই রমজান মাসে আমার দিনগুলো কেমন ভাবে কেটেছে তার এই বিশেষ বিশেষ অংশ নিয়ে আমি আপনাদের মাঝে উপস্থিত হয়েছি।
আমারও ইচ্ছে ছিল এবার রমজান মাসে প্রত্যেকটা রোজা রাখার কিন্তু হঠাৎ করে আমার চারুকলা বিভাগের ফাইনাল পরীক্ষা চলে আসলো ২২ ও ২৩ মার্চ এমনিতেই মন মানসিকতা ভালো থাকে না সেটা আপনারা অনেকেই জানেন, এর মধ্যে চারুকলা বিভাগের পরীক্ষা থাকায় এক টেনশন এরপরে শুনছিলাম প্রাইমারির সার্কুলার দিবে সেটাও অন্যরকম টেনশন। যেহেতু আজ পর্যন্ত সরকারি চাকরি ম্যানেজ করতে পারি নাই জীবনে ভালো রেজাল্ট করেও নিজের বেকার অবস্থা সত্যি নিজের কাছে একটা লজ্জা পাওয়ার বিষয়। তাই ইসলামিক ধ্যান-ধারণা থেকে নিজে যেন কেমন একটু দূরে সরে গেছি। যাই হোক ইচ্ছে ছিল পবিত্র এ মাসে রোজাগুলো রাখবো রোজার পূর্বেই চারুকলা বিভাগের পরীক্ষার জন্য সাতক্ষীরায় গিয়েছিলাম সেটা আপনারা জেনেছেন। পরীক্ষার পর চব্বিশ তারিখ থেকে রোজা শুরু। সাতক্ষীরায় যেয়ে পরীক্ষা দিয়ে আসার দীর্ঘ চার দিন সঠিকভাবে ঘুমাতে না পারা ইচ্ছা পোষণ করেছিলাম সাতদিন বা পাঁচ দিন পরেই রোজা শুরু করব সেভাবে কারণ আমার শরীরটা খুবই দুর্বল ও ক্লান্ত ছিল জোর করে নিজে কোন কিছু করতে আর ভাল লাগে না আর কি। যাইহোক রোজায় থাকবো এমন একটা মুহূর্তে হঠাৎ বিবাহের বন্ধনে আবদ্ধ হতে হয়েছে । ২৭ এ মার্চ মাশাল্লাহ সৃষ্টিকর্তার অশেষ মেহেরবানীতে এবং আপনাদের দোয়ায় জীবনসঙ্গী ঘরে তুলেছি। মোটামুটি অনেক ভালো একটি মেয়ে। কয়েকটা দিন বেশ আনন্দে অতিবাহিত হল আমাদের।

আপনারা জানেন বিয়ের পরে সবাই স্বপ্ন দেখে মনের মতন বউকে নিয়ে ঘর সাজানোর কিন্তু সে স্বপ্ন থেমে গিয়েছিল হঠাৎ এক শারীরিক সমস্যার কারণে। ছোটবেলায় আমার বাম পায়ে একটা সমস্যা ছিল সমস্যার স্থানে হঠাৎ পায়ে প্রচন্ড ব্যথা শুরু হলো এবং পা ফুলতে থাকলো। তবে এরই মধ্য দিয়ে আমি স্কুলে এসেছিলাম এবং ছাত্র-ছাত্রীদের সাথে ভুট্টা পোড়া খাওয়ার আনন্দ উপভোগ করেছি, আমাদের সাউন্ড বক্স নষ্ট হয়ে পড়েছিল সেটা মুস্তাফিজুর সাথে গাংনী মেরামত করতে গেছি একাধিকবার, সাপ্তাহিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিচালনা করেছি। এছাড়াও বউয়ের সাথে ঈদ শপিং করতে গিয়েছি ব্যথা পায়ে। সেখানে জামা কাপড় কেনাকাটা ছাড়াও পারিবারিক প্রয়োজনীয় নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস ক্রয় করেছি। প্রাইমারির জন্য এপ্লাই করেছি কম্পিউটারে যেয়ে।







বিয়ের দিন সুস্থ অবস্থায় থাকলেও তারপর পরে আমি হঠাৎ পায়ের এই সমস্যার জন্য অসুস্থ হয়ে পড়ি যার জন্য গাংনী এক প্রাইভেট হাসপাতাল এবং গাংনী সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছিলাম। ব্লাড চেক করিয়েছি ডায়াবেটিস নেই রক্তের কোন প্রকার ভাইরাস নাই। ডক্টর সবকিছু চেকআপ করে ওষুধ লিখে দিয়েছিল,এতে কোন লাভ না হওয়ায় আমাকে শরণাপন্ন হতে হয়েছিল কুষ্টিয়া ডায়াবেটিস সেন্টারে। কুষ্টিয়ার বিখ্যাত ডায়াবেটিস চিকিৎসক আব্দুল আজিজ এর নাম অনেক মানুষের জেনে থাকে যেহেতু উনি ঢাকা বাডেম হাসপাতালে দীর্ঘ ৩২ বছর ডাক্তারি করেছেন উনি হাড় বিশেষজ্ঞ এবং ডায়াবেটিস এর ডক্টর। আমার আব্বার সাথে ওনার খুবই সুন্দর সম্পর্ক রয়েছে দীর্ঘ ১০-১৫ বছর ধরে। আমি তার কাছে ট্রিটমেন্ট নেয়া শুরু করলাম। উনি আমার সুন্দর একটা প্রেসক্রিপশনে কিছু ঔষধের নাম এবং পায়ের ড্রেসিং করার কথা বলে দিয়েছিল দীর্ঘ ১৫ দিন আমাকে রেস্টে থাকতে বলেছিল, কোনরকম হাঁটা চলা যাবে না। সকাল আর রাতে এক হাজার পাওয়ারের দুইটা ওষুধ সহ মোট চারটা ওষুধ খেতে হয়েছে। এদিকের দিনে আলাদা আরো দুইটা করে ৫০০ পাওয়ারের ঔষধ দুই টাইমে খেতে হয়েছে অর্থাৎ চার বেলা ৫০০ পাওয়ারের উপরের বড়ি খাওয়া লেগেছে দীর্ঘ ১০ দিন। আর এই ওষুধ খাওয়ার পরে আমার শরীরের সমস্যা দেখা দিয়েছিল গ্যাস বমি পেটের সমস্যায় ইত্যাদি। এদিকে ছিল প্রাথমিক পর্যায়ের পায়ের ভিসন যন্ত্রণা।





সবকিছু অতিক্রম করে আজ অনেকটা সুস্থ হওয়ার পথে তবে ঈদের দিনেও অসুস্থ ছিলাম। মনে হয়েছিল ঈদের দিন গ্রামবাসীর সাথে জামাতে অংশগ্রহণ করতে পারবে না তবে মারুফের সহযোগিতায় নামাজে অংশগ্রহণ করতে পেরেছি। এদিকে শশুরের নতুন জামাই তার বাসায় না আসলেই নয় সাধ্যমত চেষ্টা করে সেখানেও ইনশাল্লাহ এসেছে। ঈদ উপলক্ষে শ্বশুরবাড়িতে আসতে পেরেছি এবং আমার সেই সুপরিচিত গরুটার সাথেও কিছুটা সময় অতিবাহিত করেছি খাবার দেওয়ার মুহূর্তে। হাসি আনন্দ দুঃখ বেদনা এর মধ্য দিয়ে রমজান মাসটা পার করেছি। আশা করি পরিপূর্ণ সুস্থ হয়ে সবার সাথে কাজ করতে পারবো।


পোস্টটি পড়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।

| পুনরায় কথা হবে পরবর্তী কোন পোস্টে, ততক্ষণ ভালো থাকা হয় যেনো। আল্লাহ হাফেজ। |

অবশেষে আপনি কিছুটা সুস্থ জেনে ভালো লাগলো।পায়ের ব্যাথার জন্য আপনাকে অনেকটা কষ্ট সহ্য করতে হয়েছে।কিছুদিন আগেই যেহেতু বিয়ে করেছেন,অনেক স্বপ্ন ছিল।এই অসুস্থতার জন্য সব পূরণ করতে পারেন নি।তারপরেও শশুর বাড়িতে যেতে পেরেছেন এবং অনেক কাজই সম্পূর্ন করতে পেরেছেন।মারুফ ভাইয়ের সাহায্যে ঈদের নামাজ পড়তে পেরেছিলেন।এসব চিকিৎসা আসলে ভালো ডাক্তার দিয়ে করানোই বেটার।আপনি কুষ্টিয়ার নামকরা ডাক্তার দিয়ে চিকিৎসা নিয়ে ভালো করেছেন।ধন্যবাদ আপনাকে পোস্টটি পড়ে ভালো লেগেছে।
আপনাদের দোয়ায় সৃষ্টিকর্তার অশেষ মেহেরবানীতে যথেষ্ট সুস্থ আছি
আপনার অসুস্থতার কথা আপনার ভাইয়ার পোষ্ট পড়ে জানতে পেরেছিলাম।আপনার দ্রুত সুস্থতা কামনা করি ভাইয়া।আসলে অসুস্থ থাকার পর ও আপনি এক্সামের দিক,স্ত্রীর শপিং, ডাক্তার দেখানো ও শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন জেনে ভালো লাগলো।শুভকামনা রইলো।
কিছু করার নেই আপু জীবন যখন যে অবস্থায় রাখে
আপনার অসুস্থতার কথা জেনেছিলাম আপনার কাছ থেকে ডিসকর্ডের জেনারেল চ্যাটে চ্যাটিং করার সময়। আসলে পায়ে ব্যাথা নিয়ে আপনি অনেক কাজ করেছেন এবং তুলনামূলক ভাবে বিশ্রামও কম হয়েছে। যাইহোক ঈদের দিন নামাজ আদায় করতে পেরেছেন এটা জেনে খুব ভালো লাগলো। আপনার দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি।
অসংখ্য ধন্যবাদ ভাই খুব খুশি হলাম আপনার এত সুন্দর কমেন্ট পড়ে।