বিবাহের পূর্ব প্রস্তুতি
আজ - বুধবার
হ্যালো বন্ধুরা,
এদিকে একজন মিস্ত্রি হঠাৎ করে ঘরের দেওয়াল কানা করা শুরু করল, বলল এখানে জানালা দরজা লাগানো হবে। এই কথা শুনতে শুনতে হঠাৎ দেখি একটি গাড়িতে করে জানালা দরজায় এসে হাজির। দেখলাম লোহার জানালা দরজা কবে কোথায় যেন মাপ দিয়ে তৈরি করতে দিয়েছিলেন। যাইহোক মিস্ত্রিদের সাথে হাতে হাতে রেখে আমিও জানালা দরজা গুলো বাড়ির মধ্যে এনে রাখলাম। নির্দিষ্ট সাইজ বুঝে জানালা দরজার খোপের পাশে রেখে দেওয়া হল। এইদিকে ঘর প্লাস্টার অন্যদিকে জানালা দরজার জন্য ইট কাটা চলছে আর এরই মধ্য দিয়ে আমি ভাবতেছিলাম না জানি কে আমার জীবনে রয়েছে এবং কোথায় তার বাসা। আজ আমাকে ঘিরে এত আয়োজন সত্যি ভাবছে অনেক ভালো লাগছিল। আর এমন একটি মুহূর্তে হঠাৎ দেখি আমার আব্বার মুখ থেকে ভেসে উঠলো বিভিন্ন বিবাহের কথা। এরই মধ্যে আমার আব্বা নাকি অনেকগুলো মেয়ে দেখে ফেলেছে যা আমার জানা ছিল না। আমি যেহেতু দিনের বেলা স্কুলে থাকি আর তেমন কোন বিষয় নিয়ে আমার সাথে আব্বার আলাপ আলোচনা হয় না। কারণ আব্বার কথা ছিল এটাই আমি আমার মত করে ছেলের একটা ঘর রেডি করে দেবো পরবর্তীতে তার প্রয়োজনে সে ছাদের ঘর করুক। আমি আমার মত করে মানান একটি মেয়ের সাথে তাকে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করাবো তবে যেন কোথাও প্রেম পিরিতি করা হয় না।
প্রেম পিরিতি আমার ভালো লাগেনা তাই কোন প্রেম পিরিতের মধ্যে আমি নিজেকে জড়াতে চাই না। এমন বিষয়টা আমার আব্বা পূর্বেও জানত কিন্তু সে মিস্ত্রিদের মাঝে কেন যে একথা বারবার বলছে সেটাও আমার কাছে একটু বিরক্ত মনে হচ্ছিল। তখন আব্বা জানালো অলরেডি আমার তিনটি মেয়ে পছন্দ হয়ে গেছে তার মধ্য থেকে একটির সাথে সুমনকে বিয়ে দেব আর তাই এমন তাড়াহুড়া করে মিস্ত্রি লাগিয়েছি বাড়িতে। এরপরে বুঝতে পারলাম হয়তো খুব শীঘ্রই আমাকে বিবাহের বন্ধনে আবদ্ধ করা হবে তবে কোথায় সে মেয়ের বাসা কেমন সে দেখতে কোন ক্লাসে পড়ে কোন কিছুই জানতে পারলাম না যেহেতু তিনটা মেয়ে তার পছন্দ কোন টার খবর কিভাবে নেব। আর এরই মধ্যে আমার পরীক্ষা বেদে গেল সাতক্ষীরায় যাওয়ার জন্য তাই সঠিক কোন খবর নিতেও ইচ্ছা পোষণ করছিলাম না। সাতক্ষীরা পরীক্ষা দিতে যাওয়ার পূর্বে আমি তেমন কিছু জানতাম না তবে সাতক্ষীরা পরীক্ষা দিতে যাওয়ার আগেই আমার বাংলা ব্লগ ইউজারদের মধ্যে থেকে জানতে পেরেছিলাম আমার নাকি নির্দিষ্ট একটি জায়গা বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে যা আমার জানা ছিল না। আর সে বিষয়টা নাকি আমার ভাই তাদেরকে জানিয়েছে ডিসকোটে চ্যাটের মাধ্যমে। ২৪ তারিখে সাতক্ষীরা থেকে ফিরে এলাম। তারপরের দিন মেয়ে পক্ষ থেকে মেয়ের বাবা আমাকে দেখতে আসলো। এদিকে আমাদের বাড়িতে ঘরে মিস্ত্রি কাজ চলছে। বেশি কিছু জানার ইচ্ছে করলাম না। এই মুহূর্তে যে বিবাহ করতে হবে এমন বিশেষ কোনো আশা আমার ছিল না,তবে বাপ্ ভাই যা করে করুক মেয়ে ভালো লাগলে বিয়ে করে ফেলব এমনটাই মনের মধ্যে আশা বেঁধে রাখছিলাম। তবে আফসোস হচ্ছিল কেন জানি আমাকে মেয়ের পরিবার সম্পর্কে কোন কিছুই জানানো হচ্ছিল না আর তখন পর্যন্ত নাকি খুব সহজে না করলে এর সাথে বিবাহ দেওয়া হবে আমার। আমি শুধু মনে মনে ভাবছিলাম আমার ঘর সম্পূর্ণ করে দেওয়া হোক আমি ঘরে বসে অনলাইনের কাজ করবো আর মন ভরে প্রাইমারি পরীক্ষার জন্য পড়বো। তবে কি আর করার ঘরের কাজ সম্পন্ন হওয়ার পূর্বেই আমার বিয়ের কাজ সম্পন্ন হয়ে গেল। তবে সৃষ্টিকর্তার নিকট হাজার শুকরিয়া মেয়ে অনেক ভালো। চলতি রমজান মাসের এমন একটি মুহূর্তে ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ না হওয়ার পূর্বে যেন বিবাহের বন্ধনে আবদ্ধ হতে হলো। তবে ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়ে গেছে কাজ। আর সেই মুহূর্তের ভালো লাগা বা না লাগার এক অনুভূতি নিয়ে এই সমস্ত ফটোগ্রাফি গুলো আপনাদের মাঝে তুলে ধরার জন্য করে রেখেছিলাম। আশা করি সম্পূর্ণ পোস্ট পড়ে অনেকটা ধারণা পেয়েছেন আমার বিশেষ ওই দিনগুলোর অনুভূতি নিয়ে।
পুনরায় কথা হবে পরবর্তী কোন পোস্টে, ততক্ষণ ভালো থাকা হয় যেনো। আল্লাহ হাফেজ।
এটা কি আপনার বিবাহের পূর্ব প্রস্তুতি চলছে। শুধু কতগুলো ফটোগ্রাফি দেখতে পাচ্ছি। কিন্তু কোনো লেখা নেই বলে আপনার পোস্ট পড়ে কিছুই বুঝতে পারছি না।
এবার পড়ে দেখুন বুঝতে পারবেন।