আপনারা সবাই কেমন আছেন? আশা করি, সৃষ্টিকর্তার অশেষ রহমতে অনেক অনেক ভালো রয়েছেন। আমিও আপনাদের দোয়ায় অনেক ভালো রয়েছি। 'আমার বাংলা ব্লগ'এর সকল ভাইবোন বন্ধুদের কে আমার পক্ষ থেকে সালাম এবং অভিনন্দন জানিয়ে শুরু করতে যাচ্ছি আজকের নতুন একটি পোস্ট। আজ আমি আপনাদের মাঝে সাতটি ফটোগ্রাফি নিয়ে উপস্থিত হয়েছি, যে সাতটি ফটোগ্রাফিতে আমাকে দেশের সাতটি স্থানে দেখতে পারবেন এবং সেই সাতটি স্থানে কিন্তু অতি আনন্দঘন মুহূর্ত উপভোগ করেছিলাম আর সে আনন্দঘন মুহূর্ত আপনাদের মাঝে ভাগাভাগি করে নেওয়ার জন্যই সাজিয়েছি আজকের এই পোস্ট। চলুন দেরি না করে ফটোগ্রাফি এবং তার পাশাপাশি বর্ণনা পড়ে আসি।
প্রথমে আপনারা আমার যে দুই বন্ধু মিলে একসাথে দাঁড়িয়ে থাকা ফটোগ্রাফিটি দেখতে পারছেন এটা আমি আর আমার দুই বন্ধু অর্থাৎ তিনজন মিলে ভ্রমণ করতে গিয়েছিলাম সাতক্ষীরার মোজাফফর গার্ডেনে, সেখান থেকেই এই সুন্দর ফটোগ্রাফি এই সুন্দর দৃশ্য ক্যামেরা বন্দি করেছিলাম। ফটোগ্রাফি করেছিল আমার বন্ধু মিলন আর আমার পাশে দাঁড়িয়ে রয়েছে দ্বিতীয় বন্ধু জুলহাস। তিনজন খুব সুন্দর আনন্দে এই মুহূর্তটা অতিবাহিত করেছিলাম সাতক্ষীরার এ সুপরিচিত মিন্টু মিয়ার বাগানবাড়ি অর্থাৎ মোজাফফর গার্ডেনে। আর সে আনন্দঘন মুহূর্তটার একটি অংশ আপনাদের মাঝে তুলে ধরলাম। আশা করি আপনারা সুযোগ করে এই সুন্দর গার্ডেনে ঘুরতে যাবেন। যেখানে সারাদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পিকনিক করার জন্য বা শিক্ষা সফর করার জন্য অনেক মানুষ প্রতিনিয়ত যাওয়া আসা করে। আর এখানে প্রবেশের টিকিট মূল্য মাত্র ৫০ টাকা।

Photography device: Infinix hot 11s
সোর্স

এ পর্যায়ে আপনারা যে সেলফিটি দেখতে পারছেন এটা আমরা আমাদের 'গ্রিনরেইন ল্যাবরেটরি স্কুল' থেকে ক্যাডেট মুখে ছাত্রদের পরীক্ষা দিতে নিয়ে গিয়েছিলাম ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজে। পরীক্ষা শেষে ছাত্রছাত্রীদের এবং তার অভিভাবকদের সাথে নিয়ে ঘুরতে গিয়েছিলাম সেই ক্যাডেটমুখী কলেজের ইয়া বড় ফিল্টের মাঝখানে। যেখানে আমাদের মত শিক্ষক ও অভিভাবকদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল। আমরা অবশ্য ছাত্র-ছাত্রীদের পরীক্ষা চলাকালীন মুহূর্তে অনেক ঘোরাঘুরি করেছি অনেক জায়গা দেখেছি। আবার পরীক্ষা শেষে তাদেরকে নিয়ে একটু ঘুরেছি। স্থানটা অতি সুন্দর ছিল। আর ফটোগ্রাফিতে লক্ষ্য করে দেখছেন আমার সাথে আমাদের মুস্তাফিজুর রয়েছে এবং তার পরিবার আমাদের স্কুলের শিক্ষক এবং অভিভাবক। আরো সাথে রয়েছে আমাদের প্রাণপ্রিয় ছাত্র ছাত্রীরা।

Selfie device: Infinix hot 11s
সোর্স

চারুকলা বিভাগে ফাইনাল পরীক্ষা দেওয়ার জন্য গিয়েছিলাম সাতক্ষীরায়। চারুকলার সেন্টার থেকে কিছুটা দূরে এই কলেজটার অবস্থান। সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ সাতক্ষীরা। এখানে আমরা তিন বন্ধু দুইবার গিয়েছি পরীক্ষা দিতে নতুন স্থানে যথেষ্ট ফটোগ্রাফি করেছি আপনাদের মাঝে শেয়ার করব বলে। তবে সিঙ্গেল লাইফে বন্ধুরা মিলে কোথাও ঘুরাঘুরি করার মজাই আলাদা কিন্তু বিবাহের পরে এই আনন্দটা তেমন একটা আর থাকে না বন্ধুদের সাথে। যাইহোক আজও মিস করি এই সুন্দর আনন্দঘন মুহূর্ত সাতক্ষীরার। যেখানে সারা দেশ থেকে শতশত ছেলে-মেয়ে পরীক্ষা দিতে এসেছিল এই চারুকলা বিভাগে। এখানে আমাদের ভিডিও ধারণ করা হয়েছিল অনেক কিছু জানতে চাওয়া হয়েছিল পরীক্ষা সম্পর্কে। চারুকলা বিভাগের ফেসবুক পেজে যখন চোখ রাখে তখন দেখতে পায় এই গেটটা। আমাদের তিন বন্ধুর ছায়াও রয়েছে এখানে। যখন সে সমস্ত ফটোগুলো চোখের সামনে আসে তখন যেন মনটা ভরে যায় ফেলে আসা দিনের কথা ভেবে।

Photography device: Infinix hot 11s
সোর্স

চুয়াডাঙ্গা রেল ক্রসিং অর্থাৎ রেলস্টেশনের ওভারব্রিজ এর উপরে তিন বন্ধু দাঁড়িয়ে যখন ওয়েট করছিলাম কখন ট্রেন আসবে এবং আমরা যশোর রে যাব। এমনিতেই ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করতে গেলে যেন অপেক্ষার প্রহর শেষ হয় না। যেই দিক থেকে ট্রেন আসবে সেই দিকেই যেন চোখ চেয়ে থাকে। এমনকি মাঝে মাঝে উল্টা দিকেও চোখ যায় ওদিক থেকে আবার ট্রেন যেন না চলে আসে। যাইহোক অপেক্ষা করার এমন একটি মুহূর্তে নিচ দিয়ে ট্রেন যাচ্ছিল। ঠিক সেই মুহূর্তেই আমরা তিন বন্ধু মিলে সেলফি তোলার চেষ্টা করেছিলাম।

Selfie device: Infinix hot 11s
লোকেশন

এই ছবিটা তুলেছিলাম সুন্দরবন ভ্রমণ করতে গিয়ে 'আকাশ নিলা ইকো ট্যুরিজম পর্যটন কেন্দ্র' সাতক্ষীরা শ্যামনগর থেকে। এখানেও আমরা তিন বন্ধু অবস্থান করছিলাম তবে সুন্দরবন ভ্রমণ করতে যাব কোন সাইট দিয়ে কিভাবে যেতে হবে সে সম্পর্কে আমাদের তেমন একটা ধারণা ছিল না। কিছু মানুষের সহায়তায় জানতে পেরেছিলাম এই পার্কের মধ্যে প্রবেশ করলেও সেখানে নৌকা এসে থেমে থাকে এবং মানুষজনকে সুন্দরবন ভ্রমণ করতে নিয়ে যায়। আর সেটা জানার পরেই টিকিট কেটে এই পার্কের মধ্যে প্রবেশ করেছিলাম। অতি সুন্দর মনোরম পরিবেশ এখানে। ছেড়ে আসার সময় যেন মন চাইছিল না ১০০ কিলো পথ অতিক্রম করে সাতক্ষীরার দিকে যায়।

Photography device: Infinix hot 11s
সোর্স

একুশে ফেব্রুয়ারী ২০২৩ আমাদের বিদ্যালয় থেকে ছাত্র-ছাত্রীদের সুন্দর একটি র্যালি বের করেছিলাম দুই লাইন বিশিষ্ট। ঠিক তারই অপরূপ দৃশ্য ছিল এটা যখন রাস্তায় ছাত্র-ছাত্রীদের উঠিয়ে লাইন ঠিক করছিলাম এরপরে শুরু করেছিলাম যাত্রা ঠিক সেই মুহূর্তে তোলা আমার এই সেলফি। ছোট ছোট ছাত্র ছাত্রীদের নিয়ে প্রায় দুই কিলো পথ অতিক্রম করেছিলাম। আর সেই আনন্দঘন মুহূর্তটা যেন এখনো মনের মধ্যে ভেসে ওঠে

Selfie device: Infinix hot 11s
সোর্স

এটা আমাদের জুগীরগোফা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অর্থাৎ আমাদের গ্রামের যেখানে আমরা ছোট থেকে বেড়ে উঠেছি এবং লেখাপড়া করেছি সে বিদ্যালয়ের স্কুল মাঠে সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করা হয়েছিল। আর সেখানে অংশগ্রহণ করেছিলাম বিদ্যালয়ের সমস্ত ছাত্র-ছাত্রী যেখানে ছোট থেকে শুরু করে বৃদ্ধ পর্যন্ত। আর এই সুন্দর আনন্দ আয়োজনের মাঝখান থেকে চেষ্টা করেছিলাম দুই ভাই ফটোগ্রাফি করার জন্য যেহেতু এই বিদ্যালয়ই শিক্ষকদের একজন আমার বড় ভাই। খুবই ভালো লাগছিল নতুন পুরাতন মুখগুলো এই দিনে দেখতে পেরে, যেখানে আমাদের সমস্ত বন্ধু-বান্ধবীদেরও খুঁজে পেয়েছিলাম।

Photography device: Infinix hot 11s
সোর্স

এটা ছিল সুন্দরবন ভ্রমণের বিশেষ একটি মুহূর্ত। যখন সুন্দরবন ভ্রমণ করতে গিয়েছিলাম তার পূর্বে অবস্থান করেছিলাম নৌকা স্পিডবোর্ড যেখান থেকে মানুষ বা যাত্রী নিয়ে নদী পার হয় খুলনার দিকে। আশেপাশে অনেক স্পিডবোর্ড নৌকা বাধা ছিল আর সুন্দর এই স্থানে ঝিরিঝিরি হাওয়া বইছিল এমন একটি মুহূর্তে তিন বন্ধু মিলে অনেক ফটোগ্রাফি ভিডিও ধারণ করেছিলাম এবং ইনজয় করেছিলাম। দ্বিতীয়বার চেষ্টা করেছিলাম সাতক্ষীরায় অবস্থান করে কিন্তু সুযোগ হয়নি বলে দ্বিতীয়বারের মতো সুন্দরবন ভ্রমণ করতে যেতে পারিনি আমরা। পরীক্ষা শেষ হয়েছিল তারপরের দিনের রোজা, যার জন্য মন খারাপ করে ফিরে আসতে হয়েছিল বাড়ির দিকে। তবে তিন বন্ধুর এই আনন্দঘন মুহূর্তের স্মৃতিটা বেশ দারুন।

Photography device: Infinix hot 11s
সোর্স

পোস্টটি পড়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।

| পুনরায় কথা হবে পরবর্তী কোন পোস্টে, ততক্ষণ ভালো থাকা হয় যেনো। আল্লাহ হাফেজ। |

ভাই টাইটেলে থাকা আপনার কথাটি পড়ে প্রথমে বুঝতে পারিনি আপনি ফটোগ্রাফির সাথে এত সুন্দর বর্ণনা করেছেন। আপনার পোস্ট পড়ে বুঝতে পারলাম বিভিন্ন জায়গায় আপনার অবস্থান নিয়ে সুন্দর ফটোগ্রাফি করেছেন। আপনার নিজের চমৎকার কিছু ফটোগ্রাফির সাথে সুন্দর বর্ণনা করে দারুন পোস্ট উপস্থাপন করেছেন এজন্য আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।
সুন্দর মন্তব্য করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ ভাইজান