“ ছেলেকে নিয়ে ভীষণ দু:শ্চিন্তায় আছি “

in আমার বাংলা ব্লগ10 months ago

হ্যালো বন্ধুরা,

মাতৃভাষা বাংলা ব্লগিং এর একমাত্র কমিউনিটি আমার প্রিয়"আমার বাংলা ব্লগ"এর ভারতীয় এবং বাংলাদেশী সদস্যগন,কেমন আছেন সবাই?আশা করি সবাই ভালো আছেন।আমিও আলহামদুলিল্লাহ্‌ আল্লাহ্‌র অশেষ রহমতে ভালো আছি।

বন্ধুরা,আমি @shimulakter"আমার বাংলা ব্লগ" এর একজন নিয়মিত ও অ্যাক্টিভ ইউজার।বাংলায় ব্লগিং করতে পেরে আমার অনেক বেশী ভালো লাগা কাজ করে মনের মাঝে।তাইতো আপনাদের মাঝে প্রতিনিয়ত মনের নানান অনুভূতি গুলো নিয়ে নানা রকমের পোস্ট শেয়ার করে থাকি।আজ ও আবার হাজির হয়ে গেলাম নতুন একটি পোস্ট নিযে।আশাকরি সবাই সঙ্গেই থাকবেন।

ছেলেকে নিয়ে ভীষণ দু:শ্চিন্তায় আছি:


IMG_1060.jpeg

সোর্স

বন্ধুরা,আজ আবার হাজির হয়ে গেলাম নতুন একটি পোস্ট নিয়ে।আজকে শেয়ার করে নেব একটি লাইফ স্টাইল পোস্ট।প্রতিনিয়ত নানা ঘটনার মধ্যে দিয়ে আমাদেরকে যেতে হয়।জীবনের প্রতিটি ঘটনাই আমি আপনাদের মাঝে শেয়ার করে থাকি।সুখ-দুঃখ গুলো আপনাদের মাঝে ভাগ করে নিতে ভীষণ ভালো লাগে।আপনারা তো আমার পরিবারেরই একটি অংশ।তাইতো সব সময় চেষ্টা করি সকল অনুভূতিগুলো আপনাদের মধ্যে শেয়ার করে নিতে।এইতো কিছুদিন আগে ফোনটা বন্ধ হয়ে গেলো।মোবাইলটিকে আর ঠিক করা গেলো না।নতুন মোবাইল কিনব সেটাও আপনাদের মাঝে শেয়ার করে নিয়েছিলাম।এখন প্রতিদিন কাজ করছি আই প্যাড দিয়ে।খুব কষ্ট হচ্ছে কাজ করতে তার পরেও থেমে থাকিনি।কারণ আমি খুব একটিভ একজন মানুষ।পরিবারের কাজ যেমন আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ।তেমনি আমার যেকোন কাজকেই আমি সমান গুরুত্ব দিয়ে থাকি।

আজকের শেযার করার বিষয়টি আসুন তুলে ধরি।আমার ছেলেকে অনেকেই পোস্টের মাধ্যমে দেখেছেন আশাকরি।ক্লাস ফাইভ পড়ছে এখন।ছেলেকে নিয়ে অনেক পোস্টই আমি আপনাদের মাঝে শেয়ার করেছি।আপনার হয়তো দেখেছেন আমার ছেলেটি ফুটবল খেলার দিকে ভীষণ ঝোঁক।লেখাপড়া করলে অল্পতেই হয়ে যায়।কিন্তু পড়তে বসানোতে ভীষণ ঝামলার।স্কুল ছাড়া যদিও বাসার নিচে খেলার জন্য আমি দেই না।তাই দেখা যায় বাসায় ঘরের মধ্যেও টিভি ছেড়ে খেলোড়ার মেসির খেলা দেখে সে খেলার চেষ্টা করে।যখন ছোট ছিল তখন ভেবেছি বড় হলে লেখাপড়ায় মনোযোগী হয়ে উঠবে।কিন্তু ঘটনা ঘটল গত বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখার পর।সেই থেকে সে মেসির ফ্যান হয়ে গেলো।ঠিক ঘটনা গুলো এর পর থেকেই শুরু।

এখন বর্তমানে এমনটা হয়েছে সে একদমই পড়তে বসে না।তাকে জোর করে পড়তে বসানো হয়।কিন্তু পড়ায় মন দেয়না।পড়ার আগ্রহ একদমই নেই।আর আমি বাচ্চাকে কখনও মেরেছি এমনটা হয়নি।সব সময় চেষ্টা করি বুঝাতে।আমার ভাইয়া আর বোনের ছেলে -মেয়ে সুন্দর পড়াশুনা করছে।তাদের নিজেদের ভীষণ আগ্রহ লেখাপড়ায়।আমার ছেলে লেখাপড়া ছাড়া সবকিছুতেই দক্ষ এই বয়সেই।যেমন কোন কিছু তৈরি করা তা হোক কোন রেসিপি,কিংবা কাগজের তৈরি কোন কিছু ,এমনকি ইলেট্রনিক্স কিছুও চেষ্টা করে বানাতে।কিন্তু আমি সেটা করতে বারণ করি ছোট মানুষ তাই।দৌড় ঝাঁপ খেলাধুলায় তার তুলনা নেই।কিন্তু এই একটা জায়গাতেই সে আগ্রহী নয়।ছেলে এতোই হেংলা পাতলা ওর পাপা ও ওকে কখন ও মেরেছে তা নয়।সেও বুঝানোর চেষ্টা করে সব সময়।ছোট বেলা থেকে কখন ও বলিনি ক্লাস এ প্রথম হতে হবে।ওকে চাপ ছাড়াই লেখাপড়া এতোটা বছর করিয়েছি।তবে এতো অনীহা লেখাপড়ায় কেন হলো আমি জানি না।এই নিয়ে ভীষণ দু:শ্চিন্তায় দিন কাটছে আমার।

কী করব কিছুই বুঝতে পারছি না।ওর পাপার ইচ্ছে ওকে ক্লাস সিক্সে যশোর ক্যাডেটে দিয়ে দিবে।সব বাচ্চাদের সাথে থেকে ও ঠিক হয়ে উঠবে।আমাকে মনটাকে শক্ত করতে বলছে।আমি মা হয়ে নিজেকে কী করে শক্ত করি।একথা ভাবলেই চোখে পানি আর ধরে রাখতে আমি পারিনা।হিন্দি ছবি ” Taare Zameen Per”দেখেছি কতো আগে ।তখন সেই মুভি দেখে আমি ভীষণ কষ্ট পেয়েছিলাম।আমার মনে হয়েছিল আমার মা কে ছেড়ে আমি অনেক দূরে চলে যাচ্ছি।সেই কষ্টের অনুভূতি কাউকে বোঝাতে পারবনা।ছেলের সাথে বসে এখনো মুভিটি দেখলে একই রকম ভাবে জলে চোখ ভিজে যায়।বুকে চাপা কষ্ট অনুভব হয়।সত্যি কথা বলতে ওকে আমি আমার আম্মু অনেক বুঝিয়েও বুঝাতে পারছি না।চিন্তায় কিছুই ভালো লাগছে না।এতো ছোট ছেলেকে দূরে দিয়ে আমি কী করে থাকব।আবার দূরে না দিয়ে কাছে রেখে ওর জীবনটা যদি নষ্ট হয়ে যায় তখন নিজেকে কী করে ক্ষমা করবো।অদূর ভবিষৎ যদি জানতে পারতাম তবে হয়ত এত কষ্ট হতোনা।ফাইনাল এক্সামের পরেই একটি সঠিক সিদ্ধান্ত আমাকে নিতে হবে।জীবনের খুব কঠিন সিদ্ধান্ত হবে এটা।তাই খুবই দু:শ্চিন্তায় আছি আমি।জীবনের এই কঠিন সময়গুলোতে সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়াটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।কিন্তু আমি কী সিদ্ধান্ত নিব ? মনকে আমি কী করে বোঝাবো? লেখাগুলো লিখে অনুভূতিগুলো আপনাদের মাঝে তুলে ধরতেও কষ্ট লাগছে।বুকের মধ্যে চাপা কষ্ট অনুভব করছি।

অনুভূতিগুলো শেয়ার করে নিলাম আপনাদের মাঝে।আশাকরি আপনারা আপনাদের কার কী মন্তব্য এই বিষয়ে তা আমাকে তুলে ধরবেন।আমি আমার সিদ্ধান্ত নিতে হয়ত কোন বিষয় খুঁজে পাবো আপনাদের সুন্দর মন্তব্যের মধ্যে দিয়ে।আজ এখানেই শেষ করছি।আবার হয়ত হাজির হয়ে যাব অন্য কোন পোস্টে ভিন্ন কিছু অনুভূতি নিয়ে।সবাই সুস্থ থাকবেন, ভালো থাকবেন।

ধন্যবাদ সবাইকে

@shimulakter

আমার পরিচয়


আমি শিমুল আক্তার।আমি একজন বাংলাদেশী।আমি এম এস সি(জিওগ্রাফি) কমপ্লিট করি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে।আমি বিবাহিতা।আমি একজন গৃহিণী।আমি স্বাধীনচেতা একজন মানুষ।ভালোবাসি বই পড়তে,নানা রকমের রান্না করতে,ফটোগ্রাফি করতেও আমি ভীষণ পছন্দ করি।বাংলায় লিখতে আর বলতে পারার মধ্যে অনেক বেশী আনন্দ খুঁজে পাই।নিজের মধ্যে থাকা সৃজনশীলতাকে সব সময় প্রকাশ করতে পছন্দ করি।এই বাংলার মাটিতে জন্মগ্রহণ করেছি বলে নিজেকে অনেক ধন্য মনে করি।

IMG_0780.png

IMG_0781.gif

IMG_0782.jpeg

Sort:  
 10 months ago 

আপু বাংলাদেশ বেশিরভাগ ছেলে এরা মেসির ফ্যান। কারণ ছোট বড় সবাই তার খেলা দেখতে পছন্দ করে। আর ছোট বাচ্চারা এমনিতে একটু দুষ্টামি বেশি করে। এবং কি মনে করে বড় হলে ঠিক হয়ে যাবে মা-বাবারা। আশা করি ঠিক হয়ে যাবে আপু।

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.32
JST 0.081
BTC 60065.83
ETH 1578.98
USDT 1.00
SBD 0.42