নতুন কমিটি পাওয়ার আনন্দ
আসসালামু আলাইকুম
আমি @sajjadsohan from 🇧🇩.
৮ই ফেব্রুয়ারি, বুধবার।
আ মার বাংলা ব্লগের সকল সদস্যকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা। আশা করি সবাই ভাল আছেন। আমিও আপনাদের দোয়ায় ভাল আছি।ভার্সিটির নতুন কমিটি পাওয়ার অভিজ্ঞতা আপনাদের সাথে শেয়ার করার চেষ্টা করব আশা করি ভালো লাগবে।
অনেকের মনে প্রশ্ন আসতে পারে এটা কি রাজনৈতিক পোস্ট? না ভাই এটা কোন রাজনৈতিক পোস্ট না। প্রত্যেক ভার্সিটিতে অনেকগুলো ডিপার্টমেন্ট থাকে। আমার ডিপার্টমেন্টের সুবিধা অসুবিধা, ছাত্র-ছাত্রীর অধিকার নিয়ে কথা বলা, ভার্সিটির কোন প্রোগ্রাম হলে, কিংবা ভার্সিটির কোন নিয়ম কানুন পরিবর্তন করার সময় ইত্যাদি বিভিন্ন কাজে ডিপার্টমেন্ট থেকে নেতৃত্ব দেয়া হয় তার জন্য আমরা একটি কমিটি নির্বাচন করি।
সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক ক্লাব, এখানে নিজের টাকা খরচ করে নিজের পরিশ্রম দিয়ে, সকল শিক্ষার্থীর কথা চিন্তা করা হয়। আমাদের গতবছরের কমিটি শেষ হলো। বিগত দিনগুলো আমি যতটুকু সময় দেয়ার চেষ্টা করেছি ভার্সিটি কে, আজ তারই একটা রেজাল্ট আসবে।
প্রথম যে ছবিটা দেখতে পাচ্ছেন, সেখানে আমার ডানপাশে সহ-সভাপতি। মূলত এটা রেজাল্ট আসার আগে। তখন পর্যন্ত আমরা জানতাম না আমাদের পজিশন কি হবে। সিনিয়র হিসেবে তার এই পথটা পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি ছিল। এছাড়াও আরো অনেক সিনিয়র ভাইয়েরা আছেন, তবে আমি মোটামুটি নিশ্চিত ছিলাম প্রথম দুইটা পদের মধ্যে একটা আমার হবে। না হলেও তেমন কোন হতাশ হতাম না।
সবকিছু স্বাভাবিক ছিল তেমন কোন আয়োজন করার কথা ছিল না, তবে যেহেতু জানি কমিটি আমাদের হাতে আসবে, এতোটুকু যেহেতু শিওর হতে পেরেছি তাই খানিকটা সাজানোর চেষ্টা করেছি। কিছু বেলুন নিয়ে এসেছি এবং রং নিয়ে এসেছি যদি সবাই মজা করতে চায় তাহলে আমরা রং খেলতে পারি।
বেশ বড়সড়ো একটা কমিটি, ৪১ জন সদস্যকে নিয়ে গঠন করা হলো। একে একে সবার নাম নিচে থেকে বলা হলো। দ্বিতীয় পজিশনে যখন আসলো তখন আগের যে সাধারণ সম্পাদক ছিল তার হাতে লিস্ট চলে গেল, সে খুব মজার ছলেই আমার নামটা ঘোষণা করে। ওই সময়টা হয়তো ভিডিও করা হয়েছে কারো কারো মোবাইলে, অসম্ভব রকম ভালো লেগেছিল ওই সময়টা।
মোটামুটি আমার একটা ভাষণ দিতে হয়েছে যেহেতু দায়িত্ব পেলাম, সত্যি বলতে এত পরিমাণ কাজ করা হয়েছে ওই মুহূর্তে আমার ভাষণ দেয়ার মত পরিস্থিতি ছিল না। তবুও অল্প পরিষদে কথা বললাম।
মোট কথা হচ্ছে ছাত্রনেতা হতে হলে আরাম করা যাবে না, ফ্রিতে কামলা দেয়া যাকে বলে, আমি কাজ করবো কিন্তু এর কোন পারিশ্রমিক থাকবে না।
তবে এর মধ্যে আমার একটা বেনিফিট আছে তাহলো আমি আগে প্রচুর চুপচাপ ছিলাম আমাকে একটু কথা বলতে হবে এবং ম্যানেজমেন্টের কিছু বিষয় আমাকে শিখতে হবে, লিডারশিপের কিছু জিনিস আমাকে অর্জন করতে হবে। ইনশাল্লাহ বিগত সময় গুলোতে আমার কাজ এবং আমি সকলের ভরসা অর্জন করতে পেরেছি
আমাকে হয়তো তারা উপযুক্ত ভেবেছে তাই সম্মানজনক একটা পথ আমাকে দেয়া হয়েছে।
আগে অর্থ সম্পাদক ছিলাম এতেই আমাকে যেই ঝামেলা সহ্য করতে হয়েছে, এখন তো আরো বেশি ঝামেলা হবে। তবে এটা খুব ভালো এখানে থেকে ম্যানেজমেন্টের অনেকগুলো বিষয় আমি শিখতে পেরেছি, একজন টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার কে অনেক ধরনের প্রেসার সহ্য করার মত মানসিকতা থাকতে হবে, নিজেকে সেভাবেই তৈরি করার চেষ্টা।
আমি খুব ভালো করেই জানতাম, সারা বছর আমাকে সবার জন্য কাজ করতে হবে, সবার অধিকার আদায় আমাকে লড়াই করতে হবে, এবং আজকের ট্রিটটাও আমাকেই দিতে হবে 😂😂😂
৪০ জন পাবলিক এবং ভার্সিটির টিচার সবার জন্য ভালো মানের মিষ্টি কেনা হলো, সেগুলো ছবি তুলতে পারেনি ব্যস্ততার কারণে, হাজার খানিক টাকা গেল। জানতাম বাসায় আসতে আসতে যে আরো টাকা রয়েছে সেগুলো খরচ করতে হবে।
আমি জানি আগামী সপ্তাহে সবাইকে বড় একটা ট্রিট দিতে হবে, তাই চালাকি করে আজকেই চারজনকে ট্রিট দিয়ে দিলাম আমাকে সহ 😂😂, আরো হাজার পনেরশো মধ্যে শেষ হয়ে গেল। এখন হাত খালি করে বাসায় গিয়ে রেস্ট নেব। 🙂
আমি সাজ্জাদ সোহান
আমি টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং এর একজন শিক্ষার্থী। আমি ঢাকাতে বসবাস করি। আমি ট্রাভেল করতে অনেক ভালোবাসি, এছাড়া অবসর সময়ে মুভি দেখি, ফটোগ্রাফি করি, গান করি। আমি একটু চাপা স্বভাবের তাই কম কথা বলি কিন্তু আমি একজন ভালো শ্রোতা। ভালোবাসি নতুন জিনিস শিখতে, মানুষকে ভালবাসি তাই মানুষের সহযোগিতায় এগিয়ে আসি।
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
VOTE @bangla.witness as witness
OR

ছাত্রদের যে কোনো বিষয়ে অধিকার আদায়ের ছাত্র কমিটিতে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন জেনে খুবই ভালো লাগলো। বলা যেতে পারে এখন আপনার কাঁধে অনেক দায়িত্ব।
এই পবিত্র দায়িত্ব গুলো খুব সুন্দর ভাবে পালন করবে। ছাত্রদের যে কোন সুযোগ সুবিধা নিয়ে সবসময় সচেতন থাকবেন। সাধারণ ছাত্রদের পাশে এসে দাঁড়াবেন। এত সুন্দর পোস্ট আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই।
অনেক দায়িত্ব ভাই, এমন এমন সিচুয়েশনের সম্মুখে আসতে হয় যেগুলো সমাধান করা অনেক জটিল বিষয়, এমনও সিচুয়েশনে পড়তে হয়েছে যারা আজ থেকে ১২-১৩ বছর আগে ভার্সিটি থেকে বের হয়ে গেছে সেই লেভেল পর্যন্ত যেতে হয়।