পদ্মা নদীর পাড়ের গল্প পর্ব-৫
আসসালামু আলাইকুম সবাই কেমন আছেন? আশা করি ভাল আছেন। ইতিমধ্যে আমি আপনাদের মাঝে প্রথম দ্বিতীয় তৃতীয় এবং চতুর্থ পর্ব শেয়ার করেছি। আজ আমি চলে এসেছি পঞ্চম পর্ব নিয়ে। আশা করি আপনাদের কাছে প্রতি পর্বের নেয় এই পর্বটিও আপনাদের কাছে খুবই ভালো লাগবে। তাহলে দেরি না করে চলুন শুরু করা যাক আমার আজকের পঞ্চম পর্বের গল্প।
এই আকাশই নদীর প্রাণ। আকাশ পাল্টালে নদীর আলোও পাল্টায়। আমরা যখন ছোট ভাইদের নিয়ে নদীর পাড়ে হাঁটছিলাম তখন মনে হচ্ছিল সময় যেন ধীরে চলে যাচ্ছে। নদী পাড়ের নরম বাতাস গাছের ছায়া পাখির ডাক আর বন্ধুত্বের গল্প সব মিলিয়ে সেই সন্ধ্যা অন্যরকম লাগছিল। আজকের ব্যস্ত জীবন মানুষকে ইচ্ছে মতো শ্বাস নেওয়ার সময়ও দেয় না। সেখানে নদীর পাড়ে দাঁড়ালে মনে হয় এটাই আসল জীবন। এখানে নেই কোলাহল নেই গাড়ির শব্দ নেই ব্যস্ততা আছে শুধু বাতাস আর নীরব পানির গুঞ্জন। অনেকেই বলে একটা শান্ত জায়গা মানুষকে বদলে দেয়। হয়তো সত্যিই তাই। পদ্মা নদীর কাছে গেলে মনে হয় মনের ভেতরে জমে থাকা দুঃখ কষ্ট ক্লান্তি হতাশা সব যেন পানি দিয়ে ধুয়ে যায়। ছোট বাচ্চা দের খেলা পানিতে নৌকা ভাসানো আনন্দ এসব দেখে নিজের শৈশবও ফিরে আসে মনের ভেতরে। নদী কখনো তাড়াহুড়ো করে না কিন্তু থেমেও থাকে না। ধীর গতিতে এগিয়ে যায় তারপর হঠাৎ উচ্ছ্বাসে ভেঙে পড়ে। পদ্মার পাড়ে দাঁড়িয়ে এই সত্যটা আরও বেশি অনুভব হয়। জীবনে কত সমস্যা কত টানাপড়েন তবুও জীবন থেমে থাকে না। জীবনও নদীর মতোই এগিয়ে যায়।
জীবনে সমস্যার জায়গা ছোট কিন্তু আশা আর সম্ভাবনার জায়গা অনেক বড়। পদ্মা পাড়ের মানুষদের জীবন খুব সাধারণ কিন্তু খুব সুন্দর। গৃহস্থালির কাজ কৃষিকাজ গবাদিপশুর দেখাশোনা খড় শুকানো মাছ ধরা সবকিছুই নদীর সাথে সম্পৃক্ত। খড়ের গাদা বাঁশের তৈরি ঘাট মাঠের সবুজ সবই বলে দেয় গ্রামের জীবন কত শান্ত কত স্বচ্ছ। নদীর পানি বাড়লে যেমন তাদের কাজ বাড়ে আবার পানি কমলে তাদের অন্য কাজ শুরু হয়। গ্রামের মানুষের সরলতা দেখলে মনে হয় সত্যি সত্যিই সুখের জন্য অনেক কিছু লাগে না। একটা শান্ত ঘর নদীর বাতাস আর দিনের শেষে একটা গরম ভাত যারা নদীর পাশে বড় হয়েছে তারা জানে সুখ এদের মধ্যেই লুকিয়ে আছে। যারা ভ্রমণ ভালোবাসে তাদের জন্য পদ্মা নদী অনেক ভালো জায়গা। ছবিগুলোই প্রমাণ এক জায়গায় এত বৈচিত্র্য দেখা বিরল। ফটোগ্রাফারদের জন্য পদ্মা এক সম্পূর্ণ ক্যানভাস। প্রকৃতি তাদের চোখের সামনে যেভাবে আলো রঙ বদলায় তা ক্যামেরায় ধরে রাখা সত্যিই সৌভাগ্যের। এটাই ছিল আমার আজকের পঞ্চম পর্বের গল্প। আশা করি পুরো গল্পটি আপনাদের কাছে খুবই ভালো লেগেছে। পরবর্তীতে আমি আপনাদের মাঝে শেষ পর্বটি শেয়ার করব। তাহলে আজ এখানেই বিদায় নিচ্ছি সবাই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন এই কামনা রইল।
VOTE @bangla.witness as witness
OR
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
ফটোগ্রাফি গুলোর দিকে তাকালে মনে হয় যে আপনি একজন প্রফেশনাল ফটোগ্রাফার। আপনি আসলেই খুব ভালো ফটোগ্রাফি করেন। যাইহোক আগের পর্ব গুলোর মতো এই পর্বের ফটোগ্রাফি গুলোও বেশ উপভোগ করলাম ভাই। শেষ পর্বের অপেক্ষায় রইলাম।
পদ্মা নদীর পাড়ের গল্প যেনো আমাদের সবারই খুব পরিচিত।দেহ,মন সতেজ হয়ে উঠে এমন পরিবেশে।গ্রামের মানুষ গুলো সত্যি ই খুব সহজ সরল হয়।আপনার ফটোগ্রাফির হাত কিন্তু ভীষণ ভালো ভাইয়া।চমৎকার চমৎকার দৃশ্য ক্যাপচার করবেন আর সুন্দর সুন্দর লেখা উপহার দিবেন এমনটাই আশা করছি।