ঈদ মোবারক! কেমন আছেন আপনারা? আশা করি মহান সৃষ্টিকর্তার সহায়তায় ভালো আছেন। আমিও আপনাদের দোয়ায় ভালো আছি। আমার বাংলা ব্লগ কমিউনিটিকে ভালোবেসে উপস্থিত হলাম সুন্দর একটি পোস্ট উপস্থাপন করার জন্য। আজকে আমি আপনাদের মাঝে পড়ে সিলভার মাছের পোনা দেওয়ার মুহূর্তের সুন্দর কিছু অনুভূতি প্রকাশ করতে চলেছি। এই পোস্ট পড়ার মধ্য দিয়ে বেশ অনেক কিছু জানতে পারবেন। তাহলে চলুন শুরু করি আমার আজকের এই সুন্দর ব্লগ।

পুকুরে সিলভার মাছের পোনা দেওয়ার জন্য একজন জেলে আসবেন। তবে ঐদিন আমরা সবাই পুকুরে ছিলাম। জেলে মাছ নিয়ে আসার পর আমাদের খুঁজে পাচ্ছিলেন না। এরপর বাড়ি থেকে আমাদের ফোন দেওয়া হলো এমন একজন মাছের পোনা নিয়ে এসেছে। ওই মুহূর্তে আমরা পুকুর পাড়ে শাকসবজি উত্তোলনের জন্য ছিলাম। জেলে ভাইকে দেখে আপনাদের ভাইয়া বাড়িতে ছুটে গেলেন মাছ মাপার ডিজিটাল স্কেল আর একটি ঝুড়ি আনার জন্য। এদিকে মোবাইল হাতে ছিল আমার। তাই ভাবলাম এই বিষয়ে সুন্দর একটা ব্লগ তৈরি করা যাবে। প্রথমে জেলে ভাই আমাকে প্রশ্ন করলেন কোন পুকুরে কোন পুকুরে মাছের পোনা দিতে হবে। আমি তাকে পুকুর দেখিয়ে দিলাম। উনি দ্রুত মাছের হাড়ি মাথায় নিয়ে আমার আগে আগে ছুটতে থাকলেন। আমিও উনার পিছু পিছু দেখাতে দেখাতে চললাম।

এরপর আপনাদের ভাইয়া স্কেল আর ঝুড়ি নিয়ে উপস্থিত হলো। ঝুড়ি কোথায় আছে সেটা না পেয়ে একটা ডালা নিয়ে এসেছে। মাছ মাপার সময় আড়ি থেকে পানি লেগে ডালা ভিজে যায় এবং ওজন বেড়ে যায়। এইজন্য কস করার পূর্বে ডালাটা পানিতে ভালো করে ভিজিয়ে নিলেন। এ বিষয়টা আমি আগে জানতাম। তবে আমাদের সব সময় কিন্তু এগুলো মাথায় খেলবে না। তারা নিয়মিত মাছ দেওয়া বেচাকেনা করে থাকে তাই মাথায় রয়েছে। যাই হোক ডালাটা ভিজিয়ে নিয়ে তারপর ডিজিটাল স্কেলে কচ করলেন।

এরপর জেলে ওই ডালার মধ্যে তারা হাড়িতে থাকা সিলভার মাছের পোনা ঢেলে দিল মাপার জন্য। আর এভাবেই তারা মাছ মেপে নিল। আমি তাদের মাছ মাপা দেখতে থাকলাম। দিনটা প্রচন্ড রোদ গরমের ছিল। এমন রোদে মাছ মাপা বেশ কঠিন ছিল মনে হল। রোদের সময় এভাবে পুকুরে মাছ দিতে নাই। তবুও এনে ফেলেছে তাই দিতে হয়েছিল।

এরপর একের পর এক পাঁচ কেজি পাঁচ কেজি করে মাপা হল এবং পুকুরে দেওয়া হল। আমিও দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে মাছ মাপা ও পুকুরে দেওয়া দেখতে থাকলাম।

মাছের পোনা বিক্রেতা। মাছগুলো পুকুরের মধ্যে নিয়ে গিয়ে তার সুবিধামতো ঢেলে দেওয়ার চেষ্টা করল। তবে তখনই রোদ গরমে কয়েকটা মাছ উল্টিয়ে যেতে লাগলো। মাছগুলো দেখতে বেশ ভালো লাগছিল কিন্তু এমন উল্টে যেতে দেখে মনে হয়েছিল মাছগুলো মারা যাবে নাকি। তবে মাছ বিক্রেতা বলেছিলেন না মাছের কোন ক্ষতি হবে না। এটা ভালো এক মজুদ পুকুর থেকে নিয়ে আসা হয়েছে। উনি আশ্বাস দিলেন এ পুকুরের মাছ যেখানে যেখানে বিক্রয় করেছেন কোন জায়গায় ক্ষতি হয়নি। আমরা যেন নিশ্চিন্তে থাকি একটা মাছ নষ্ট হবে না। উনার কথা মতো আমরা অনেক নিশ্চিন্তায় থাকার চেষ্টা করলাম।



মাছ মেপে পুকুরে দেওয়ার শেষে মাছের পোনা আলা ভাই তার হাড়ি ভালো করে ধুয়ে নিল, সাইকেল ধুয়ে নিল। আর তার এই জীবনের বেশ কিছু গল্প আমাদের মাঝে পরিবর্তন করল। সে আজ ২০-২৫ বছর আগে থেকে এভাবে মাছের ব্যবসা করছে। সুদূর দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে উনি কুষ্টিয়ার আমলা থেকে মাছ আনেন। তার এই সমস্ত বিষয়গুলো শুনে বেশ অবাক হয়েছিলাম। এরপর বাড়িতে এসে হিসাব করে তাকে টাকা পরিশোধ করে দেওয়া হয়। আর এভাবেই পুকুরে সিলভার মাছের পোনা দেয়া হয়েছিল।


ধন্যবাদ সকলকে
আমার পরিচয়
আমার নাম মোছাঃ জান্নাতুল ফেরদৌস শশী। আমার বাসা গাংনী মেহেরপুর, বাংলাদেশ। আমি আপনাদের সুপ্রিয় বিদ্যুৎ জিরো ওয়ান এর পরিবার। আমি একজন গৃহিণী। স্বামী সন্তান সহ আমাদের যৌথ পরিবার। আমার বাংলা ব্লগ কমিউনিটির চারজন সদস্য রয়েছে আমাদের পরিবারে, তার মধ্যে আমি একজন। এইচএসসি পাশ করার পর বিয়ে হওয়ার মধ্য দিয়ে আমার লেখাপড়া স্থগিত হয়। আমার ইচ্ছে আমি এই কমিউনিটিতে দীর্ঘদিন ব্লগ করব। পাশাপাশি আমার নিকটস্থ প্রিয়জনদের সহায়তা করব এই কমিউনিটিতে কাজ করার জন্য।


আপনারা পুকুর পাড়ে সবজি বাগানে ছিলেন আর তখনই জেলে পুকুরে মাছের পোনা দিতে আসে। আর সেই মুহূর্তটাকে অনেক সুন্দরভাবে ফটোগ্রাফির মাধ্যমে আমাদের মাঝে তুলে ধরেছেন। খুবই ভালো লাগলো আপু এরকম সুন্দর একটি মুহূর্ত আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য।
সবজি আনতে গিয়েছিলাম আর সেই সুযোগে মাছের পোনা দেওয়ার মুহূর্ত দেখেছেন জেনে ভালো লাগলো। আপনাদের পুকুরের বিভিন্ন দৃশ্য গুলো দেখেও ভালো লাগলো আপু। দারুন একটি পোস্ট শেয়ার করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।