আসসালামু আলাইকুম
কেমন আছেন আপনারা? আশা করি মহান সৃষ্টিকর্তার সহায়তায় ভালো আছেন। আমিও আপনাদের দোয়ায় ভালো আছি। আমার বাংলা ব্লগ কমিউনিটিকে ভালোবেসে উপস্থিত হলাম সুন্দর একটি পোস্ট উপস্থাপন করার জন্য। আসন্ন ঈদ উপলক্ষে আমরা কমবেশি ঈদের নতুন জামা কাপড় কেনাকাটা করছি। পাশাপাশি পুরাতন জামাকাপড় গুলো পরিষ্কার করার প্রচেষ্টা। ঠিক তেমনি আজকে আপনাদের মাঝে উপস্থিত হয়েছি কাপড় কাচার অনুভূতি নিয়ে। আশা করি আমার এই পোস্ট পড়া ও দেখার মধ্য দিয়ে বেশ অনেক কিছু ধারণা লাভ করবেন।

প্রথমে ঘরের মধ্যে থাকা আমার, আমার বাবুর, বাবুর আব্বার সহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের ময়লা জামাকাপড় গুলো বাইরে বের করে আনলাম। আজকের দিন টার আবহাওয়া তেমন ভালো না। আকাশে নেই রোদ। এরপরের ঈদ বলে কথা। ঈদের আগ দিয়ে যত জামা কাপড় গুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা যায়। আর ছোটবেলায় আমি এগুলাই বেশি লক্ষ্য করতাম আমাদের বাড়িতে। এখন ঈদের জামা কাপড় কেনা নিয়ে যত বেশি ব্যস্ততা, আগে কিন্তু ঈদের জামা কাপড় সবার জোটানো সম্ভব হত না। কয়েকজনার জন্য কেনা হতো বাকি সকলে জামাকাপড় গুলো কাচা হতো।

যাইহোক এরপর একটি গামলা এবং একটি বালতির মধ্যে টিউবয়েলের বিশুদ্ধ পানি নিয়ে নিলাম। এরপর তার মধ্যে পরিমাণ মতো পাউডার ঢেলে দিলাম এবং পানির সাথে মিশ্রণ করলাম। এরপরে ময়লা কাপড়গুলো সেই পাউডার মেশানো পানির মধ্যে দিয়ে, হাত দিয়ে উল্টিয়ে পাল্টিয়ে নাড়তে থাকলাম। আমার কাজ দেখাদেখি আমার ছেলেটাও আমার সাথে অনুকরণ করতে থাকলো। আর ঠিক এভাবে গামলা এবং বালতির মধ্যে দুই জায়গায় অনেক জামাকাপড় পাউডারের মাখানো হলো।
কাপড় গুলো পাউডারের সাথে মাখানোর পর কিছুটা সময়ের জন্য ভিজিয়ে রাখলাম। এতে কাপড় নরম হয়ে যাবে এবং কাপড় কাচার মুহূর্তে ময়লা দূর হতে বেশি সময় লাগবে না।
এরপর টিউবওয়েল পাড়ে কাপড় গুলো কাঁচতে থাকলাম। এর মধ্যে ছেলের বাবার শার্ট প্যান্ট পাঞ্জাবি নামাজ পড়ার তুয়াইলি সহ অনেক কিছু ছিল। টিউবওয়েল এর সানের উপর ভালোভাবে আমার কাজ সম্পন্ন করতে থাকলাম। আর এভাবেই দীর্ঘক্ষণ আমি আমার কাজ চালিয়ে গেলাম এবং প্রত্যেকটা কাপড় খুব ভালোভাবে কাচতে থাকলাম। আর এভাবে গামলা ও বালতির কাপড় গুলো কাচার কাজ শেষ হলো।
যখন সব কাপড় গুলো কাচা ধোয়া হয়ে গেল তখন আমি আমাদের উঠানে এবং বাইরে খোলায় কাপড় শুকানোর দড়িতে নাড় দিয়ে আসলাম। আকাশে সূর্যের আলো নেই, গুমটি গরম ধরে রয়েছে, তবুও হালকা হালকা বাতাস। আশা করি এই বাতাসে আমার কাপড় গুলো শুকিয়ে যাবে। আর কাপড় গুলো শুকানোর অপেক্ষায় রয়ে গেলাম দীর্ঘক্ষণ।




এরপর সারাদিনের রান্না-বান্না কাজকর্ম শেষ করে সন্ধ্যার সময় কাপড় গুলো গোছালাম। দেখলাম কাপড়গুলো নতুনের মত পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন হয়ে গেছে। যদিও আজকে রোদ ছিল না তারপরেও বাতাসে কাপড় গুলো বেশ ভালো শুকিয়ে গেছে। এরপর কাপড় গুলো ভাজ করে পাত্রের মধ্যে করে ঘরে উঠালাম। আর এভাবে আমার কাপড় পরিষ্কার করার কার্যক্রম সম্পন্ন হল।


ধন্যবাদ সকলকে
| বিষয় | কাপড় কাচা |
| লক্ষ্য | ঈদ উদযাপন |
| ফটোগ্রাফি ডিভাইস | Infinix Hot 11s |
| ক্রেডিট | @jannatul01 |
| ব্লগার | আমার বাংলা ব্লগ কমিউনিটি |
আমার পরিচয়
আমার নাম মোছাঃ জান্নাতুল ফেরদৌস শশী। আমার বাসা গাংনী মেহেরপুর, বাংলাদেশ। আমি আপনাদের সুপ্রিয় বিদ্যুৎ জিরো ওয়ান এর পরিবার। আমি একজন গৃহিণী। স্বামী সন্তান সহ আমাদের যৌথ পরিবার। আমার বাংলা ব্লগ কমিউনিটির চারজন সদস্য রয়েছে আমাদের পরিবারে, তার মধ্যে আমি একজন। এইচএসসি পাশ করার পর বিয়ে হওয়ার মধ্য দিয়ে আমার লেখাপড়া স্থগিত হয়। আমার ইচ্ছে আমি এই কমিউনিটিতে দীর্ঘদিন ব্লগ করব। পাশাপাশি আমার নিকটস্থ প্রিয়জনদের সহায়তা করব এই কমিউনিটিতে কাজ করার জন্য।
কাপড় কাচা নিয়ে যে ব্লগ করা যায় তা আপনার পোস্ট না দেখলে বুঝতামই না। আপনি কিভাবে কাপড় ধৌত করলেন তা একজন ধাপে ধাপে বুঝিয়ে দিয়েছেন বলা যায়।
কাপড় কাচার অনুভূতি যে শেয়ার করা যায় ।আমার পোস্টটি পড়ে যে আপনি প্রথম জানলেন সেটা শুনে আমার অনেক ভালো লাগলো
ঈদ উপলক্ষে সবাই কমবেশি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অর্জন করে। যেহেতু মুসলমানদের জন্য এটি অনেক বড় আনন্দের বিষয়। ঈদ উপলক্ষে আপনি তো অনেকগুলো জামাকাপড় পরিষ্কার করেছেন। সেগুলো আবার আপনি আমাদের সাথে শেয়ার করেছেন। অনেক সুন্দর ভাবে কাপড় কাচার প্রতিটি ধাপ আমাদের মাঝে তুলে ধরেছেন। দেখে খুবই ভালো লাগলো ধন্যবাদ।
হ্যাঁ অনেকগুলো কাপড় পরিষ্কার করেছি পরিবারে সবার। আর কাপড় পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে আমার অনেক ভালো লাগে না।
ঈদ উপলক্ষে বেশ কয়েকটি কাপড় পরিষ্কার করার দারুন একটি অনুভূতি তুমি আমাদের মাঝে শেয়ার করেছ। পোস্টটি পড়ে আমার খুবই ভালো লেগেছে। একই সাথে কাপড় গুলো যথার্থভাবে পরিষ্কার দেখে আমি অত্যন্ত খুশি হয়েছি।
সুন্দর মন্তব্য করার জন্য তোমার অসংখ্য ধন্যবাদ।