জীবনের গল্প || বৃৃষ্টির তিক্ত স্মৃতি
হ্যালো বন্ধুরা,
কেমন আছেন সবাই? আশা করছি সবাই ভালো আছেন এবং সুস্থ আছেন। আলহামদুলিল্লাহ, আমিও ভালো আছি এবং সুস্থ আছি। হৃদয়ের চঞ্চলতাকে বৃষ্টিতে ভিজিয়ে আরো বেশী সতেজ করার চেষ্টা করছি। যদিও এটা ভীষণ কষ্টকর একটা ব্যাপার। কারণ আর যাইহোক বৃষ্টির দিনে কিংবা বৃষ্টিতে ভিজে ভিজে অফিস করাটা ভীষণ কষ্টকর একটা বিষয়। অবশ্য আমার জন্য এটা নতুন কিছু নয়, আজ হতে প্রায় ১৯ বছর আগে যখন প্রথম চাকুরীতে প্রবেশ করি, প্রথম দিনই বৃষ্টি আমাকে বুঝিয়ে দিয়েছিলো, যন্ত্রনা কতভাবে সহ্য করতে হবে।
সেদিন প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়েছিলো, অফিসে যাওয়ার যথাসম্ভব দ্বিতীয় কিংবা তৃতীয় দিন, তাই কোনভাবেই অফিস কামাই দেয়া যাবে না, প্রথম মাসেই বসের কাছে খারাপ হওয়া যাবে না, অন্তত সেই বিষয়ে আমার অবস্থান ছিলো ভীষণ কঠিন। তাই বৃষ্টি উপেক্ষা করে বের হয়ে গেলাম অফিসের উদ্দেশ্যে, অফিসের কাছাকাছি আসতে আসতেই অনেকটা কাকভেজা হয়ে গেলাম। কারণ অতি বৃষ্টিতে ছাতাও অনেকটা অসহায় হয়ে যায়, মানুষ তো দূরের কথা। কিন্তু তবুও দমে যাইনি আমি, মিশনে সফল হওয়ার চেষ্টায় এ্যাকটিভ রয়ে গেলাম।
কিন্তু বাদ সাধলো অফিসের সামনের সড়ক, সেখানে এসে থমকে দাঁড়িয়ে গেলাম পানির অবস্থা দেখে। সড়ক কোথায়? এ যেন বড় এক খালের দৃশ্য দেখছি। ঘোলা পানির দৃশ্য চারপাশে, কোথায় ড্রেন কিংবা কোথায় গর্ত আছে সেটা বুঝাও বেশ মুশকিল। কিন্তু অফিসে আমাকে যেতে হবে, সেখানে পরাজীত হওয়ার কোন সুযোগ নেই। সুতরাং সিদ্ধান্ত নিয়েই নিলাম, মিশন সাকসেস হতে হবে। তাই পানিতে নেমে গেলাম, শুরুতে তেমন একটা বেগ পেতে হয়নি, হাটু সমান পানি ছিলো, আর আমিও সাতার জানি ডুবে যাওয়ার ভয় নেই হি হি হি।
কিন্তু কিছুটা যাওয়ার পর বুঝতে পারলাম, বৃষ্টিও আমাকে থামানোর জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়ে আছে। বৃষ্টি যেমন থামছে না ঠিক তেমনি পানির পরিমানও কমছে না। মনে হলো আমার সাথে পাল্লা দিয়ে বৃষ্টির মাত্রাও বাড়তে শুরু করেছে। হাঁটু ছাড়িয়ে যখন পানি উপরের দিকে উঠতে শুরু করেছে, তখন কপালে চিন্তার ভাজ পড়তে শুরু করেছে। কিন্তু পেছনে ফিরে যাওয়ার কোন সুযোগ নেই, তাই আমিও আর থামলাম না, শেষ পর্যন্ত মাজা পর্যন্ত পানির উপর দিয়ে অফিসে পৌঁছেছিলাম।
তারপর অফিসে গিয়ে দেখি, আমিই একমাত্র ব্যক্তি যে বৃষ্টির দিনে অফিস করার সাহস নিয়ে এই মিশনে সফল হয়েছে হি হি হি। সত্যি সেদিন একদিকে যেমন নিজেকে বিজয়ী মনে হয়েছিলো অন্য দিকে একা অফিসে নিজেকে অনেকটাই অসহায় মনে হয়েছিলো। অবশ্য পিয়ন ছিলেন অফিসে কারণ সে রাতে সেখানেই থাকতো। তারপর দুপুর পর্যন্ত অফিস করে বাসায় ফিরেছিলাম, স্মৃতির পাতায় সেদিনের অনুভূতিগুলো এখনো জাগ্রত হয়ে আছে, বৃষ্টি দেখলেই সেটা মনে পড়ে যায়।
Image Taken From Pixabay
ধন্যবাদ সবাইকে।
@hafizullah
আমি মোঃ হাফিজ উল্লাহ, চাকুরীজীবী। বাংলাদেশী হিসেবে পরিচয় দিতে গর্ববোধ করি। বাঙালী সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য লালন করি। ব্যক্তি স্বাধীনতাকে সমর্থন করি, তবে সর্বদা নিজেকে ব্যতিক্রমধর্মী হিসেবে উপস্থাপন করতে পছন্দ করি। পড়তে, শুনতে এবং লিখতে ভালোবাসি। নিজের মত প্রকাশের এবং অন্যের মতামতকে মূল্যায়নের চেষ্টা করি। ব্যক্তি হিসেবে অলস এবং ভ্রমন প্রিয়।
|| আমার বাংলা ব্লগ-শুরু করো বাংলা দিয়ে ||


>>>>>|| এখানে ক্লিক করো ডিসকর্ড চ্যানেলে জয়েন করার জন্য ||<<<<<

Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
Support @Bangla.Witness by Casting your witness vote
Support @Bangla.Witness by Casting your witness vote
VOTE @bangla.witness as witness
OR