জীবনের গল্প || অপ্রত্যাশিত হিসেব-নিকেশ

in আমার বাংলা ব্লগ15 hours ago

হ্যালো বন্ধুরা,

কেমন আছেন সবাই? আশা করছি সবাই ভালো আছেন এবং সুস্থ আছেন। আলহামদুলিল্লাহ, আমিও ভালো আছি এবং সুস্থ আছি। যতটা সম্ভব প্রকৃতির সান্নিধ্যে থেকে নিজেকে আরো বেশী নির্মল রাখার চেষ্টা করছি। অবশ্য প্রকৃতির এমন সাহচর্য পাওয়াটা আমাদের জন্য দিন দিন দুস্কর হয়ে যাচ্ছে। কারণ আমরা প্রকৃতির নির্মলতা থেকে ইট পাথরের দালান বেশি পছন্দ করি, আমাদের দাম্ভিকতা প্রকাশের অন্যতম একটা মাধ্যম হিসেবে এটাকে বিবেচনা করি। অথচ প্রকৃতির সান্নিধ্য কিংবা সতেজ পরিবেশ আমাদের জন্য বেশী জরুরী ছিলো।

কিন্তু আজকাল আমরা সেটা ভাবছি কই? আমাদের সেটা নিয়ে চিন্তা করার সময় কই? অথচ আমাদের ছোটবেলার দিকে একটু তাকান, অনেক কিছুই কেমন জানি ঘোলাটে হয়ে যাচ্ছে দেখবেন। আমরা যেখানে ছিলো সেই এলাকার চারপাশেই চারটা বড় বড় পুকুর ছিলো। আশে পাশের অধিকাংশ মানুষ সেই পুকুরগুলোকে গোসল সারতো। আবার আমাদের স্কুল যেখানে ছিলো, সেটাতে যাওয়ার যে রাস্তা ছিলো তার দুই পাশেই দুটো পুকুর ছিলো। আপনি সোজা না গিয়ে যদি ভিন্নভাবে ঘুরে যেতে চান তবে সেখানেও আরো দুটো পুকুরের দেখা পাবেন। না, এগুলো অবাক করা কোন বিষয় না, বরং প্রকৃতি ঠিক রাখার দারুণ এক বাস্তবতা।

stevepb-calculator-1044173.jpg

আমরা বসবাসের জায়গা বৃদ্ধি করছি, চারপাশের প্রকৃতি ধ্বংস করছি। কিন্তু এটা চিন্তা করছি না যে প্রকৃতির মাঝেও একটা সুন্দর ভারসাম্য ধরে রাখাটা জরুরী। তো সেই সময়ে হঠাৎ করে অতি বৃষ্টিপাত কিংবা অতি উষ্ণতা আমাদের খুব একটা ভোগান্তিতে ফেলতে পারেনি। কারণ চারপাশে পুকুর থাকার কারণে আমরা যেখানে বাসবাস করতাম সেই জায়গাটা খুব সহজেই শীতল থাকতো, পুকুরের উপর দিয়ে যে বাতাস বয়ে আসতো সেটা খুব দ্রুত উষ্ণতা হারিয়ে শীতল হয়ে যেতো। দেখবেন, যতই উষ্ণতা হোক না কেন? আপনি পুকুর পাড়ে কিংবা নদীর পাশে দাঁড়ালেই ঠান্ডা বাতাস পাবেন।

কারণ সেই পুকুর এবং নদী প্রকৃতির নিয়মেই সেই উষ্ণতাকে ঠান্ডায় রূপান্তরিত করে দেয়। এতো গেলো উষ্ণতার আঘাত হতে বেঁচে যাওয়ার দারুণ একটা কৌশল । কিন্তু এর সাথে যদি অতি বৃষ্টিপাত হয়ে থাকে, তাহলে এখন যেমন চারপাশটা ডুবে বিশাল নদীর আকার ধারণ করে, তখন কিন্তু তেমনটা হতো না কারণ বৃষ্টির পানি খুব দ্রুত এবং সহজেই সেই পুকুরগুলোতে গিয়ে জমতে পারতো এবং সেখানে আটকে থাকতো। যার কারণে সড়ক কিংবা আমাদের বাড়ি ঘরে তেমন একটা পানি উঠতো না, বাড়তি কোন সমস্যাও হতো না।

অথচ এখন আমরা কি নিদারুণ কষ্টই না করি। একটু বেশী উষ্ণতায় যেমন সবাই হাসপাতালে দৌড় দেয়া শুরু করে দেই, অস্থিরতা নিয়ে আল্লাহকে দোষারূপ করতে শুরু করে দেই। ঠিক তেমনি একটু বেশী বৃষ্টিপাত হলেই বাড়িতে আটকে যাই আর রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল করার চেষ্টা করি। কিন্তু বাস্তবতায় আমরা যে নির্মম ভুল করে যাচ্ছি, আমাদের নিজেদের ভুলের কারণেই যে এমনটা হচ্ছে সেটা আমরা মানতে নারাজ, কি অদ্ভুত বিষয় না!

Image Taken From Pixabay

ধন্যবাদ সবাইকে।
@hafizullah

break .png
Leader Banner-Final.pngbreak .png

আমি মোঃ হাফিজ উল্লাহ, চাকুরীজীবী। বাংলাদেশী হিসেবে পরিচয় দিতে গর্ববোধ করি। বাঙালী সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য লালন করি। ব্যক্তি স্বাধীনতাকে সমর্থন করি, তবে সর্বদা নিজেকে ব্যতিক্রমধর্মী হিসেবে উপস্থাপন করতে পছন্দ করি। পড়তে, শুনতে এবং লিখতে ভালোবাসি। নিজের মত প্রকাশের এবং অন্যের মতামতকে মূল্যায়নের চেষ্টা করি। ব্যক্তি হিসেবে অলস এবং ভ্রমন প্রিয়।

break .png

Banner.png

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.33
JST 0.100
BTC 64761.24
ETH 1889.07
USDT 1.00
SBD 0.38