চাচাতো বোনের বিয়ে পর্ব-২
আমার বাংলা ব্লগ স্টিম কমিউনিটির বন্ধুগন
আমি @fatema001 বাংলাদেশ থেকে
আজকে মঙ্গলবার,৭ জানুয়ারি ২০২৫
আমার বাংলা ব্লগ স্টিম কমিউনিটির বন্ধু গণ আপনারা সবাই কেমন আছেন। আশা করছি আপনারা সবাই সুস্থ ও ভালো আছেন। আমি ও ভালো আছি। প্রতিদিনের মতো আজকেও আমি আপনাদের মাঝে নতুন একটি পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি। আজকে আমি আপনাদের মাঝে শেয়ার করবো চাচাতো বোনের বিয়ের নতুন পর্ব। গত সপ্তাহে আমি প্রথম পর্ব শেয়ার করেছি আজকে দ্বিতীয় পর্ব। গত পর্বে আমি গায়ে হলুদের সারাটা দিন সন্ধ্যা পর্যন্ত আপনাদের সাথে শেয়ার করছি। আর এখন শুরু করব রাতের এবং বিয়ের দিন সকালের মুহূর্তগুলো। রাতে আমিনা দের বাড়ির ছোট থেকে বড় সবাই হলুদ রঙের পোশাক পরে যে যার মতো সেজেছিল। আমাদেরকে তো এমনিতেই দাওয়াত দিয়েছিল তারপরে হলুদের অনুষ্ঠানে বলেছিল তাদের মত করে সাজতে কিন্তু আমি খুব একটা সেজে ছিলাম না। অনেকে এসেছিল আমাদের বাড়িতে সাজুগুজু করতে। এরপরে রাতে প্রথমে বোন তারপরে ভাবি এরকম করে একে একে সবাই যে যার মত একটু আনন্দে নাচানাচি করছিল। সবাই তো বেশ মজা করে দেখছিল সবার আনন্দ। সবাই রাত এগারোটা পর্যন্ত বক্স বাজিয়ে আনন্দ করছিল। তবে আমার ছোট বাচ্চা থাকার কারণে আমি রাত 9 টার দিকে বাড়িতে চলে আসি। বাড়ি থেকে সবার হইচই আওয়াজ শুনছিলাম।
আমার ইচ্ছা করছিল আবার যেতে কিন্তু ইচ্ছে থাকলেও আর উপায় নেই। এরপর সকালের দিকে প্রায়ই নয়টা বেজে গিয়েছিল তখন দেখি আমিনা একজন কে ডাকতে পাঠিয়েছে মেহেদি লাগানোর জন্য। এরপর দেখে যে যার মতো হাতে মেহেন্দি লাগাচ্ছে আমিও দু একজনের হাতে মেহেন্দি লাগিয়ে দিয়েছি। তারপরে সকালে সবার খাবারের জন্য খিচুড়ি রান্না করা হয়েছিল। সেখানে গিয়ে আমিও কিছু খিচুড়ি খেয়ে নিলাম। সকাল সকাল খিচুড়ি রান্না বেশ টেস্ট হয়েছিল। তবে এত মানুষজনের মধ্যে আমি ফটোগ্রাফি ধারণ করতে পারিনি। বেশি মানুষের মধ্যে খাবারের বা এদিক-ওদিকের ফটোগ্রাফি ধারণ করতে কেমন যেন একটি লাগে। সবাই কি নাকি ভাববে তার উপরে আবার অনেকে অনেক কথা বলে। যাই হোক এরপর আমরা ওখান থেকে চলে এলাম। বাইরে এসে দেখি এক বুড়ি মা বসে।বুড়ি বললে ভুল হবে আমিনার আপন চাচাতো এক বড় বোন বুড়ি সেজে বসে। মাথায় চুল লাগিয়ে বয়স্কদের মতো মেকআপ করে সে সবাইকে আনন্দ দিচ্ছে। এবং তার সাথে সে কিছু টাকা নিচ্ছে। সবাই খুশি হয়ে যে যার মতো টাকা দিচ্ছিল। আমার কাছে কিন্তু এই সাজ ভীষণ ভালো লেগেছে। আমিনার ফ্যামিলি অনেক বড় তো তাই অনেক মানুষ যেখানে সবাই মিলে বেশ আনন্দ করছিলাম।
এরপর সেখান থেকে চলে আসি আমিনার গোসল করানো দেখতে সকল ভাবী গুলো মিলে। বেশ সুন্দর করে আমিনা কে হলুদ গায়ে গোসল করে দিল। সেখানেও সবাই অনেক আনন্দ করছিল। তারপর আমরা চলে গেলাম বড় রাখার জায়গাটি দেখতে। বড় রাখার সামনের দিকে অনেকগুলো চেয়ার ,টেবিল সুন্দর করে সাজানো হয়ে গিয়েছিল খাবারের জন্য। পাশেই বরযাত্রী এবং দাওয়াতী লোকদের জন্য খাবার রান্না করা হয়েছিল। সেখানেও একটু গিয়ে দেখে আসলাম। বিয়েতে অনেক ধরনের আইটেম করেছিল। এগুলো না আপনাদের সাথে পরবর্তী পর্বে শেয়ার। এরপর একদম বাইরের দিকে চলে এসে এখানে দেখি অনেকের হাতে মেহেদি লাগানো বাকি। তবে আমার হাতের সময় ছিল না তাই আর কাউকে মেহেদী লাগিয়ে দিতে পারেনি।
তবে ওখানে তাড়াতাড়ি আমি বাড়ির দিকে রওনা দিলাম। কেননা ওখানেই বেজে গিয়েছিল প্রায় এগারোটার বেশি। বাড়িতে এসে আবার গোসল করতে হবে তার ওপর আবার বরকে দেখতে হবে।সব মিলিয়ে অনেক বড় সময়ের ব্যাপার। তাই আর ওদিকে খেয়াল না করে আমি বাড়িতে চলে এলাম। তবে আপনাদের উপরে যে মেয়েটির ছবি আমি শেয়ার করেছি এই ছবিটি গায়ে হলুদের দুপুরের দিকে তোলা। মেয়েটি হচ্ছে যে বুড়িমা সেজেছিল তার মেয়ে। যাইহোক আজকে আমি এখানেই শেষ করছি। এই পোষ্টের পরবর্তী পর্বে আমি বরের ছবি নিয়ে উপস্থিত হবে। আশা করছি আপনাদের আজকের এই পর্ব ভালো লাগবে। সবাই ভালো সুস্থ থাকবেন। আবার নতুন কোন পোস্টে দেখা হবে। আল্লাহ হাফেজ।
আমি মোছাঃ ফাতেমা খাতুন। আমি এই প্লাটফর্মে ২০২৩ সালের জুন মাসের ২৩ তারিখে যুক্ত হয়েছি। আমি বিবাহিত। আমার একটি ছেলে আছে। আমার শখ বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে যাওয়া। বিভিন্ন ধরনের নতুন নতুন রেসিপি এবং রঙিন কাগজ ব্যবহার করে যেকোনো ধরনের জিনিস তৈরি করতে আমার কাছে ভীষণ ভালো লাগে।প্রাকৃতিক সৌন্দর সহ বিভিন্ন ধরনের আর্ট করতে ও আমার কাছে খুবই ভালো লাগে। আমার বাংলা ব্লগে কাজ করতে পেরে আমি অনেক আনন্দিত।।
VOTE @bangla.witness as witness
OR
চাচাতো বোনের বিয়েতে বেশ সুন্দর মুহূর্ত অতিবাহিত করেছেন আপনি। আসলে বিয়ে মানে হাসি আনন্দ খাওয়া দাওয়া সকলের সাথে সুন্দর মুহূর্ত অতিবাহিত করা। বুড়ি মা সাজানো বেশ দারুন হয়েছে। ধন্যবাদ আপনাকে আপু বিয়েতে কাটানো অনুভূতি শেয়ার করার জন্য।
ঠিক বলেছেন ভাইয়া বিয়ে মানে আনন্দ হাসিখুশি আর খাওয়া দাওয়া ধন্যবাদ।
আপনারা তো দেখছি অনেক আনন্দ করলেন। যেহেতু চাচাতো বোনের বিয়ে বলে কথা আনন্দ দ্বিগুণ হয়ে যেতে পারে। আর ছোট বাচ্চা থাকলে একটু সময় কম দেওয়া যায় বিয়ে বাড়িতে। যাক অবশেষে সবার সাথে মেহেদী নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়লেন। আপনার সুন্দর একটি মুহূর্ত আমাদের সাথে শেয়ার করলেন পড়ে খুবই ভালো লেগেছে।
জ্বী আপু ছোট বাচ্চা থাকলে সব কিছুতেই সময় একটু কম দেওয়া লাগে কেননা বাচ্চাকে সময় দিতে হয়।
দারুন সুন্দর একটি আনন্দের পোস্ট আমাদের সঙ্গে শেয়ার করলেন আপু। বিয়ে বাড়ি মানেই শুধু আনন্দ আর মজা। যিনি বুড়ি মাসে যে বসে আছেন তিনি কিন্তু বেশ ভালো সেজেছেন। আমি প্রথমে দেখে সত্যি বুড়িমা ভাবছিলাম। সকলে মিলে এত সুন্দর আনন্দ করেছেন তাকে ভালো লাগছে।।
ভাইয়া আমাদের এলাকাতে বিয়ের অনেক নিয়ম কানুন আছে যে যেটাকে মানে তবে সবটাই আনন্দ আর হাসি খুশির মধ্যে।
অনেক অনেক ভালো লাগলো এত সুন্দর আয়োজন দেখে। আসলে বিয়ের দিনকে ঘিরে ছোট বড় সকলের মনে অনেক রকমের আনন্দ ফুটে ওঠে। অনেকেই চাই হাতে মেহেদি দিতে অনেকে আবার নতুন কাপড় চোপড় পড়ে আনন্দ উপভোগ করার চেষ্টা করে। ঠিক তেমনি আমেনাকে ডাকতে পাঠানো হয়েছে মেহেদী দেওয়ার জন্য। বেশ ভালো লাগলো সম্পূর্ণ বিষয়গুলো একটু একটু করে জানতে পেরে।
আমেনা তো বিয়ের পাত্রী ও হাতে মেহেদি দেওয়ার জন্য আমাকে একটি মানুষ দিয়ে ডাকতে পাঠিয়েছিল ধন্যবাদ।
আপনাদের মধ্যে অনেক ছোট বয়সেই বিয়ে হয়।কারন যে বুড়ি সেজেছিলো তার বয়স বা কতই হবে, তার আবার এত বড় মেয়ে।আসলে মেয়েটি বুড়ি অবস্থার খুবই সুন্দর সাজ সেজেছিলো আর তার মেয়েটিকেও সুন্দর দেখতে।নতুন বউ দেখার অপেক্ষায় রইলাম,ধন্যবাদ আপু।
আপু আমাদের এলাকাতে ছোট বয়সে বিয়ে হয় এটা ঠিক কিন্তু যে বুড়িমা সেজেছিল উনার কিন্তু অনেক বয়স। ধন্যবাদ আপু ।