আমার পুকুর পাড়ে টমেটো সবজি চাষাবাদ।
হ্যালো বন্ধুগণ,
আমি @bidyut01. একজন বাঙালি ব্লগার।সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে আজকের ব্লগটি শুরু করছি।
আজ বুধবার। ২৭ ই মার্চ, ২০২৪ ইং।
আসসালামু আলাইকুম।
সুপ্রিয় বন্ধুগণ, আপনারা সবাই আমার আন্তরিক শ্রদ্ধা এবং ভালোবাসা গ্রহণ করবেন। আমি আশা করি আপনারা সবাই মহান আল্লাহ তায়ালার অশেষ রহমতে অনেক ভাল আছেন, সুস্থ আছেন এবং নিরাপদে আছেন। আমিও আপনাদের দোয়ায় এবং মহান আল্লাহপাকের দয়ায় অনেক ভাল আছি। আজকে আমি আরো একটি নতুন পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি।
সুপ্রিয় বন্ধুগণ, পুকুরে মাছ চাষের পাশাপাশি পুকুর পাড়ে সবজি চাষ করা আমার অন্যতম প্রধান একটি কাজ। কারণ প্রতিদিনের খাবার হিসেবে শাকসবজি আমার পরিবারের সকলের জন্য বেশ প্রিয়। এছাড়াও পরিবারের শাক সবজির চাহিদা পূরণের জন্য সপ্তাহে দুই দিন অথবা তিন দিন বাজার থেকে অনেক টাকার সবজি ক্রয় করতে হয়। তাই পুকুর পাড়ের খালি জায়গায় নিজ পরিশ্রমের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রকারের সবজি উৎপাদন শুরু করে দিয়েছি। পুকুরপাড়ে সবজি চাষের আমার প্রধান লক্ষ হল পরিবারের সবজির চাহিদা পূরণ করা। কিন্তু ইচ্ছা থাকলেও সব রকমের সবজি চাষাবাদ করা সম্ভব হয় না। শুধুমাত্র যে সবজিগুলো চাষাবাদ করা সহজ সেগুলোই চাষ করা হয়।
আমার পুকুরপাড়ের অন্যতম প্রধান সবজি হল টমেটো সবজি। এবার আমার পুকুর পাড়ে লাগানো টমেটো গাছগুলোতে প্রচুর পরিমাণে টমেটো ধরেছে। পৌষ মাসের শেষের দিক থেকে টমেটো গাছগুলো থেকে টমেটোর সংগ্রহ করা শুরু করেছিলাম। এখনো আমার টমেটো গাছ আছে প্রচুর পরিমাণে টমেটো আছে। আমার পুকুর পাড়ে টমেটো গাছগুলো লাগিয়েছিলাম গত কার্তিক মাসের প্রথম সপ্তাহে। পুকুর পাড়ে লাগানো টমেটো গাছগুলোতে সময়মতো পানি সেচ এবং সঠিক পরিচর্যা করার ফলে টমেটো গাছগুলো দ্রুত বৃদ্ধি হয় এবং অধিক ডালপালা গজিয়ে ঝাঁকড়া গাছে পরিণত হয়। এরপর অগ্রহায়ণ মাসের মাঝামাঝি থেকে আমার প্রতিটি টমেটো গাছে ফুল আসে এবং ফল ধরতে শুরু করে।
আমার পুকুর পাড়ে টমেটো সবজি চাষাবাদ এর সময় তেমন কোন সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়নি। অর্থাৎ কোন প্রকারের পোকার আক্রমণ হয়েছিল না আমার টমেটো সবজি বাগানে। তবে আমার লাগানো টমেটো গাছগুলোর মধ্যে থেকে পাঁচ থেকে ছয়টি টমেটো গাছের পাতা একেবারে কোঁকড়ানো হয়ে গিয়েছিল। এমন পরিস্থিতিতে অনেকে আমাকে পরামর্শ দিয়েছিল বিষ স্প্রে করতে। কিন্তু আমি বিষ স্প্রে করার পরামর্শ গ্রহণ না করে পাঁচ-ছয়টি রোগাক্রান্ত টমেটো গাছ তুলে ফেলেছিলাম এবং আমার টমেটো বাগান ছাড়া অপেক্ষাকৃত একটু দূরে মাটির নিচে পুঁতে রেখেছিলাম। এরপর থেকে আমার টমেটো গাছে আর কোন রকমের রোগ সংক্রামক বিস্তার করতে পারেনি। সমস্ত টমেটো গাছগুলো অত্যন্ত সুস্থ ও সাবলীল ছিল।
টমেটো গাছ থেকে প্রায় প্রত্যেক সপ্তাহে দুই-তিন দিন করে মোটা ও পরিপুষ্ট টমেটোগুলো সংগ্রহ করতাম। শীতকালীন অন্যান্য সবজির সাথে পরিপুষ্ট কাঁচা টমেটো দিয়ে রান্না করলে তরকারিটা খেতে অত্যন্ত সুস্বাদু লাগতো। আবার আলু ও কাঁচা টমেটো দিয়ে পাঙ্গাশ মাছের পেটি রান্না করলে খেতে অসাধারণ সুস্বাদু লাগতো। পরিপুষ্ট কাঁচা টমেটো ভাজি করে খেতেও ভালো লাগতো। আসলে পুকুর পাড়ে সবজি চাষাবাদের মধ্য দিয়ে পরিবারের জন্য সবুজ এবং টাটকা সবজি সরবরাহ করার মধ্যে রয়েছে অনাবিল আনন্দ। আবার টমেটো গাছ থেকে টমেটো সংগ্রহের মুহূর্তটা অত্যন্ত আনন্দের এবং উপভোগ্যের হয়। কেননা পরিশ্রমের পরে যখন ফল পাওয়া যায় তখন সেই ফল মধুর চেয়েও মিষ্টি হয়।
টমেটো গাছগুলোর মধ্যে থেকে একটি টমেটো গাছের টমেটো রেখে দিয়েছিলাম গাছ পাকা টমেটো খাওয়ার জন্য। টমেটোগুলো অত্যন্ত মোটা এবং পরিপুষ্ট হয়েছিল কিন্তু সহজে পাকছিল না। প্রত্যেকদিন বিকেলে পুকুর পাড়ে গিয়ে দেখতাম যে টমেটোগুলো পাকছে কিনা কিংবা টমেটোর শরীরের উপর হলুদ দাগ এসেছে কি-না। গাছ পাকা টমেটো খাওয়ার অপেক্ষায় সেই পৌষ মাস থেকে অপেক্ষা করতে করতে ফাল্গুন মাস চলে আসলো, তাও টমেটো পাকার কোন খবর নেই। তখন বুঝতে পারলাম যে, টমেটো সবজি গাছে পাকতে কমপক্ষে আড়াই থেকে তিন মাস সময় লাগবে। অথচ আমরা বাজারে গেলে বারো মাস পাকা টমেটো পেয়ে যায়। তাহলে আপনারা সবাই একটু চিন্তা করে দেখেন, আমরা কি পরিমাণ ফরমালিন যুক্ত, বিষযুক্ত সবজি খায়। আমার নিজের হাতে লাগানো টমেটো গাছের পাকা টমেটো খাওয়ার জন্য পৌষ মাস থেকে ফাল্গুন মাসের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে। তারপরও পরিপূর্ণ পাকেনি। অথচ সময়-অসময়ে অর্থাৎ যেকোনো সময় আমরা বাজারে অহরহ পাকা টমেটো পায়। এমনকি অধিক মূল্য দিয়েও আমরা পাকা টমেটো ক্রয় করি। আসলে আমরা কি সত্যিই পাকা টমেটো ক্রয় করি? আমি তো মনে করি, আমরা অধিক টাকা দিয়ে বিষ ক্রয় করে খায়।
আমার লাগানো টমেটো গাছের যে টমেটোগুলো গত পৌষ মাসের শেষের দিক থেকে শুরু করে মাঘ মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে পরিপুষ্ট হয়েছিল সেই টমেটোগুলো ফাল্গুন মাসের মাঝামাঝি থেকে শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত পরিপূর্ণভাবে পেকেছে। আর পরবর্তী সময়ের টমেটোগুলো এখন পরিপূর্ণভাবে পাকছে। তবে বাজারে পাওয়া পাকা টমেটোর মধ্যে প্রকৃত স্বাদ নেই। টমেটোর প্রকৃত স্বাদ পেতে হলে অবশ্যই গাছপাকা টমেটো খেতে হবে। গাছপাকা টমেটো রান্না করে খেতে যেমন সুস্বাদু লাগে ঠিক তেমনি সালাদ করে খেতেও অধিক সুস্বাদু লাগে। যাহোক, এখানে সব থেকে মজার বিষয় হলো-- টমেটো সবজি চাষ করেছিলাম বিধায় টমেটো সবজি সম্পর্কে সঠিক একটি ধারণা এবং অভিজ্ঞতা হয়েছে আমার। তাই পাকা টমেটোর বিষয়ে প্রকৃত সত্য বিষয়টি আপনাদের নিকট শেয়ার করেছি। যাতে আপনারা সকলে সচেতন হতে পারেন।
আর আমাদের সকলের উচিত নিজেদের বাড়ির খালি জায়গায় এবং মাঠের খালি জায়গায় সবজি চাষে মনোযোগী হওয়া। কেননা নিজের হাতে সবজি চাষ করতে পারলে সম্পূর্ণ টাটকা সবজি খাওয়া সম্ভব হয়। যেটা আমাদের শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী। একই সাথে সবজি চাষ করার মধ্য দিয়ে আমরা আমাদের পরিবারে অনেকটা টাকা খরচ হওয়া থেকে রক্ষা করতে পারি। তাই আসুন আমরা সকলেই টমেটো সহ সকল প্রকারের সবজিগুলো সকল সিজনে চাষ করি এবং আমরা শারীরিকভাবে ও মানসিকভাবে সুস্থ থাকি।
আমার পরিচয়।
আমার নাম মোহাঃ নাজিবুল ইসলাম (বিদ্যুৎ)। আমি বাংলাদেশের নাগরিক এবং আমি অতিশয় ক্ষুদ্র জ্ঞানের একজন মানুষ। আমি মেহেরপুর জেলার ছোট্ট একটি গ্রামে বসবাস করি। আমি ২০২১ সালের আগস্ট মাসে আমার বাংলা ব্লগ কমিউনিটিতে কাজ শুরু করার মধ্য দিয়ে আমার স্টিমিট প্ল্যাটফর্মে যাত্রা শুরু হয়। আমার স্টিমিট আইডি নাম (#bidyut01). প্রথম প্রথম স্টিমিট প্ল্যাটফর্মের কাজ কিছুই পারতাম না। কিন্তু আমার বাংলা ব্লগ কমিউনিটির সম্মানিত ফাউন্ডার, এডমিন এবং মডারেটরদের সার্বিক সহযোগিতায় খুব সহজেই স্টিমিট প্ল্যাটফর্মের কাজ গুলো সম্পর্কে জানতে পারি ও শিখতে পারি। এরপর থেকে আমার বাংলা ব্লগ কমিউনিটি সম্পর্কে আমার এলাকাতে আমি ব্যাপকভাবে প্রচার করি। যার পরিপ্রেক্ষিতে বর্তমানে আমার এলাকার অনেকেই এখন আমার বাংলা ব্লগ পরিবারের সদস্য। যাহোক, এখন আমার মাতৃভাষায় লেখালেখি করতে আমার খুবই ভালো লাগে। যদিও আমার প্রধান পেশা শিক্ষকতা এবং পাশাপাশি মাছের চাষাবাদ করা। আমার পরিবারের মোট সদস্য সংখ্যা ৮ জন। আমার পরিবারের প্রধান হলো আমার বাবা ও মা। আমার পছন্দের কাজ সমূহ হলো-ছবি অঙ্কন করা, যেকোনো জিনিসের অরিগ্যামি তৈরি করা, বিভিন্ন প্রকারের রেসিপি তৈরি করা, কবিতা লেখা, ভ্রমণ করা ও ফটোগ্রাফি করা। আর একটু সময় সুযোগ পেলেই পুরনো দিনের মুভি গুলো দেখতে আমি খুবই পছন্দ করি।
১০% বেনিফিসারী প্রিয় লাজুক খ্যাকের জন্য বরাদ্দ।
আমার নাম মোহাঃ নাজিবুল ইসলাম (বিদ্যুৎ)। আমি বাংলাদেশের নাগরিক এবং আমি অতিশয় ক্ষুদ্র জ্ঞানের একজন মানুষ। আমি মেহেরপুর জেলার ছোট্ট একটি গ্রামে বসবাস করি। আমি ২০২১ সালের আগস্ট মাসে আমার বাংলা ব্লগ কমিউনিটিতে কাজ শুরু করার মধ্য দিয়ে আমার স্টিমিট প্ল্যাটফর্মে যাত্রা শুরু হয়। আমার স্টিমিট আইডি নাম (#bidyut01). প্রথম প্রথম স্টিমিট প্ল্যাটফর্মের কাজ কিছুই পারতাম না। কিন্তু আমার বাংলা ব্লগ কমিউনিটির সম্মানিত ফাউন্ডার, এডমিন এবং মডারেটরদের সার্বিক সহযোগিতায় খুব সহজেই স্টিমিট প্ল্যাটফর্মের কাজ গুলো সম্পর্কে জানতে পারি ও শিখতে পারি। এরপর থেকে আমার বাংলা ব্লগ কমিউনিটি সম্পর্কে আমার এলাকাতে আমি ব্যাপকভাবে প্রচার করি। যার পরিপ্রেক্ষিতে বর্তমানে আমার এলাকার অনেকেই এখন আমার বাংলা ব্লগ পরিবারের সদস্য। যাহোক, এখন আমার মাতৃভাষায় লেখালেখি করতে আমার খুবই ভালো লাগে। যদিও আমার প্রধান পেশা শিক্ষকতা এবং পাশাপাশি মাছের চাষাবাদ করা। আমার পরিবারের মোট সদস্য সংখ্যা ৮ জন। আমার পরিবারের প্রধান হলো আমার বাবা ও মা। আমার পছন্দের কাজ সমূহ হলো-ছবি অঙ্কন করা, যেকোনো জিনিসের অরিগ্যামি তৈরি করা, বিভিন্ন প্রকারের রেসিপি তৈরি করা, কবিতা লেখা, ভ্রমণ করা ও ফটোগ্রাফি করা। আর একটু সময় সুযোগ পেলেই পুরনো দিনের মুভি গুলো দেখতে আমি খুবই পছন্দ করি।
Thank you, friend!


I'm @steem.history, who is steem witness.
Thank you for witnessvoting for me.
please click it!
(Go to https://steemit.com/~witnesses and type fbslo at the bottom of the page)
The weight is reduced because of the lack of Voting Power. If you vote for me as a witness, you can get my little vote.
প্রতিনিয়ত আপনারা দুই ভাই যেভাবে সবজি উৎপাদন করেন সেটা সত্যি প্রশংসার দাবি রাখে। এখন শাকসবজির যেভাবে দাম বৃদ্ধি বাসে তাতে আমাদের সকলেরই উচিত নিজের প্রয়োজনের জিনিসগুলো বাড়িতে উৎপাদন করা। এবছর দেখছি টমেটোর ফলন খুবই ভালো হয়েছে।
খুব সুন্দর ভাবে আপনি টমেটোর ফটোগ্রাফি আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন। আমরা যদি সকলে এভাবে কম বেশি শাকসবজি উৎপাদন করে অবশ্যই অনেক লাভবান হতে পারব পাশাপাশি টাটকা শাকসবজি খেতে পারবো। তাই আমাদের সকলের উচিত কমবেশি এভাবে শাকসবজি উৎপাদন করা।
পুকুর পাড়ে টমেটো সবজি চাষাবাদ করেছেন দেখে ভালো লাগলো। বেশ কিছু টমেটো ধরেছে দেখছি। গাছে টমেটো গুলো ভালই লাগছে দেখতে। নিজেদের গাছের যে কোন জিনিস খেতে খুবই ভালো লাগে। ভালো লাগলো আপনার পোস্টটি দেখে। ধন্যবাদ শেয়ার করার জন্য।
নিজ উদ্যোগে যদি সবজি চাষ করা হয় তাহলে তাজা সবজি খাওয়া যায়। তবে বাজারে সবজির চেয়ে নিজের চাষ করে খাওয়া ভালো। তবে আপনি দেখতেছি আপনাদের পুকুর পাড়ে খালি জায়গার মধ্যে খুব চাষাবাদ শুরু করেছেন। তবে আপনি এটি খুব ভালো করেছেন পোকা আক্রান্ত গাছগুলো তুলে মাটির নিচে ফুতে ফেলেছেন। তবে অনেকে কীটনাশক ব্যবহার করে। এরকম যদি সবাই নিজ উদ্যোগে বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করে তাহলে নিজের জন্য ভালো। যাইহোক খুব সুন্দর একটি পোস্ট করার জন্য ধন্যবাদ আপনাকে।
ফাঁকা জায়গাগুলোতে যদি সবজির চাষাবাদ করা হয় তাহলে বেশি সুবিধা হয়। আর টমেটোগুলো দেখে সত্যি ভালো লাগলো। একেবারে সতেজ এবং টাটকা টমেটো খাওয়ার মজাই আলাদা। আপনার গাছে অনেক ভালো ফলন হয়েছে দেখে ভালো লাগলো ভাইয়া।