বাবাকে সুচিকিৎসা করানোর উদ্দেশ্যে হাসপাতালে আমার ব্যস্ততম একটি দিন।
হ্যালো বন্ধুগণ,
আমি @bidyut01. একজন বাঙালি ব্লগার।সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে আজকের ব্লগটি শুরু করছি।
আজ শনিবার। ২৭ ই মে, ২০২৩ ইং।
আসসালামু আলাইকুম।
সুপ্রিয় বন্ধুগণ, সকল মানুষ সব সময় সুস্থ স্বাভাবিক থাকতে চাই। সুস্থ থাকার জন্য পৃথিবীর অনেক মানুষ প্রতিদিন বিভিন্ন রোগের সাথে সংগ্রাম করছে। বিভিন্ন রোগের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য প্রায় সকল মানুষই বিভিন্ন ডাক্তারের শরণাপন্ন হচ্ছে। যাহোক, আমার বাবার বয়স প্রায় ৬২ থেকে ৬৩ বছর। ১৯৯৬ সাল থেকে আমার বাবা ডায়াবেটিস রোগে আক্রান্ত। দীর্ঘদিন ডায়াবেটিসে আক্রান্ত থাকার কারণে এবং বয়স বৃদ্ধির কারণে আমার বাবার চোখে বেশ সমস্যা হয়ে গেছে। বর্তমানে ডান চোখে সমস্যাটা সবচাইতে বেশি হয়েছে। ডান চোখ দিয়ে খুব একটা ভালো দেখতে পান না। তাই চোখের ডাক্তারের কাছে নিয়ে গিয়েছিলাম আমার বাবাকে। চোখের ডাক্তার প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বলেছেন যে, চোখ অপারেশন করা লাগবে। তাই আমার বাবার চোখ সঠিকভাবে অপারেশন করার জন্য প্রথমে আমি আমার বাবাকে কুষ্টিয়া ডায়াবেটিক সেন্টারে নিয়ে গিয়েছিলাম।
কুষ্টিয়া ডায়াবেটিক সেন্টারে গিয়ে প্রথমে আমি আমার বাবাকে নিয়ে ছয় নাম্বার কক্ষে প্রবেশ করেছিলাম। কারণ আমার বাবা ৬ নম্বর কক্ষের ডাক্তার আব্দুল আজিজ এর কাছে দীর্ঘদিন চিকিৎসা নিচ্ছেন। ডাক্তার সাহেব প্রথমে আমার বাবাকে বললেন, আপনার ডায়াবেটিস যদি নিয়ন্ত্রণে থাকে তাহলে আপনি চক্ষু হাসপাতালে গিয়ে আপনার চোখ অপারেশন করতে পারবেন। তাই প্রথমে ডায়াবেটিস পরীক্ষা করে আপনার শরীরের ডায়াবেটিসের মাত্রাটা জেনে নিতে হবে।" ডাক্তার সাহেবের পরামর্শ গ্রহণ করে আমার বাবার ডায়াবেটিস পরিমাপ করার জন্য প্রস্তুত হয়ে গেলাম।
আমার বাবার ডায়াবেটিস পরিমাপ করানোর জন্য প্রথমে আমি ক্যাশ কাউন্টারে গিয়ে প্রয়োজনীয় বই ও টাকা জমা করে দিয়েছিলাম। টাকা জমা দেওয়ার পরে ক্যাশ কাউন্টার থেকে আমাকে একটি ভাউচার দিয়েছিল।
ভাউচারটি হাতে নিয়ে ব্লাড দেয়ার জন্য আমার বাবাকে নিয়ে নির্ধারিত জায়গায় চলে গেলাম। একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত সেবিকা আমার বাবার শরীর থেকে ব্লাড কালেকশন করে নিল।
ব্লাড দেওয়ার প্রায় এক ঘন্টা ২০ মিনিট পরে রিপোর্ট আসলো। রিপোর্টটি হাতে নিয়ে আমরা পুনরায় ৬ নাম্বার কক্ষের ডঃ আব্দুল আজিজ সাহেবের নিকটে গেলাম। ডাক্তার সাহেব রিপোর্টটি দেখে খুবই সন্তুষ্ট হলেন এবং বললেন ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে আছে। তারপর ডাক্তার সাহেবের পরামর্শ নিয়ে আমরা ডায়াবেটিস সেন্টার দ্রুতই ত্যাগ করলাম।
আমি আমার বাবাকে নিয়ে খুব দ্রুত কুষ্টিয়া রোটারি ক্লাবে চলে গেলাম। চোখের চিকিৎসার জন্য এ প্রতিষ্ঠানটির বেশ সুনাম রয়েছে। তাই আমি আমার বাবাকে এখানেই চোখের চিকিৎসা করায়। রোটারি ক্লাবে গিয়ে প্রথমে চোখের ডাক্তারের কাছে চলে গেলাম। তারপর চোখের ডাক্তারকে ডায়াবেটিসের রিপোর্টটি দেখালাম। ডায়াবেটিসের রিপোর্ট দেখে চোখের ডাক্তার আমার বাবার চোখ অপারেশন করতে সম্মত হলেন।
চোখের ডাক্তার আমার বাবার ডান চোখের মোট চারটা পরীক্ষা দিলেন। একই সাথে আমার বাবার হার্টের অবস্থা জানার জন্য হার্টেরও একটা পরীক্ষা দিলেন। আমার বাবার এর পূর্বে হার্টের কোন ধরনের সমস্যা দেখা দেয়নি। তারপরও যেহেতু দীর্ঘদিন ডায়াবেটিস রোগে আক্রান্ত আছেন, তাই প্রাথমিকভাবে আমিও বেশ ভয় পেয়েছিলাম যে হার্টের কোন সমস্যা হলো কি-না। কিন্তু আমার বাবা কনফিডেন্স নিয়ে বলেছিল যে, তার হার্টের কোন সমস্যা নেই। যাহোক, শেষ পর্যন্ত রিপোর্টের জন্য অপেক্ষায় রইলাম।
প্রায় দেড় ঘন্টা পর সকল রিপোর্টগুলো চলে আসলো। ডাক্তার সাহেব রিপোর্ট গুলো দেখে বললেন, আমার বাবার ডান চোখ অপারেশনের ক্ষেত্রে কোন বাধা নেই এবং হার্টের কোন সমস্যা নেই। রিপোর্টে কোন সমস্যা নেই জানতে পেরে আমি তো মহাখুশি হয়েছিলাম। একই সাথে সৃষ্টিকর্তার নিকট বারবার শুকরিয়া আদায় করেছিলাম। তারপর, ডাক্তার সাহেব আমার বাবার চোখ অপারেশন করার জন্য একটি দিন তারিখ দিয়ে দিলেন। একই সাথে, ডাক্তার সাহেব আমার বাবার চোখ অপারেশনের পূর্ব পর্যন্ত চোখে দেওয়ার জন্য একটি ড্রপ লিখে দিলেন। তারপর ডাক্তারের পরামর্শ মতো আমার বাবার চোখ অপারেশন করানোর জন্য ক্যাশ কাউন্টারে প্রয়োজনীয় টাকা জমা দিয়ে দিলাম। তারপরে আমি আমার বাবাকে নিয়ে কুষ্টিয়া রোটারি ক্লাব থেকে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হলাম।
সুপ্রিয় বন্ধুগণ, আপনারা আমার বাবার জন্য দোয়া করবেন। মহান আল্লাহতালার দয়ায় এবং আপনাদের দোয়ায় আমার বাবা যেন তার চোখের আলো ফিরে পায়। একই সাথে আমার বাবা যেন সবসময় সুস্থ এবং স্বাভাবিক থাকে। পৃথিবীর সকলের বাবা যেন সুস্থ স্বাভাবিক থাকে এবং একই সাথে আমরা যেন সুস্থ স্বাভাবিক থাকি, এমনটাই আমি প্রত্যাশা করি।
বয়স বাড়ার সাথে সাথে শরীরের মধ্যে নানা ধরনের জটিলতা দেখা দেয় তার মধ্যে এই চোখের সমস্যাটা হচ্ছে অন্যতম বয়স্ক লোকদের জন্য। আজকাল কি বয়স্ক লোক বলবো সবারই একই সমস্যা। তবে বেশ ভালই করেছেন আঙ্কেলকে হাসপাতালে নিয়ে চোখের চিকিৎসা করাচ্ছেন। অবশেষে রিপোর্ট হাতে পেয়ে সিদ্ধান্ত নিলেন অপারেশনের জন্য আশা করি সবকিছু ভালই হবে। আঙ্কেলের জন্য এবং আপনাদের জন্য শুভকামনা রইল।