ছেলেকে নিয়ে গাংনী সরকারি হাসপাতালে একদিন।
হ্যালো বন্ধুগণ,
আমি @bidyut01. একজন বাঙালি ব্লগার।সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে আজকের ব্লগটি শুরু করছি।
আজ মঙ্গলবার । ২৯ ই আগস্ট, ২০২৩ ইং।
আসসালামু আলাইকুম।
সুপ্রিয় বন্ধুগণ, আপনারা সবাই আমার আন্তরিক শ্রদ্ধা এবং ভালোবাসা গ্রহণ করবেন। আমি আশা করি আপনারা সবাই মহান আল্লাহ তায়ালার অশেষ রহমতে অনেক ভাল আছেন, সুস্থ আছেন এবং নিরাপদে আছেন। আমিও আপনাদের দোয়ায় এবং মহান আল্লাহপাকের দয়ায় অনেক ভাল আছি। সুপ্রিয় বন্ধুগণ, আজকে আরো একটি নতুন পোস্ট নিয়ে আপনাদের নিকট হাজির হয়েছি।
সুপ্রিয় বন্ধুগণ, সুস্থতা আমাদের জন্য বড় একটি নেয়ামত। যখন আমরা অসুস্থ হয় ঠিক তখনই সুস্থতার গুরুত্বটা আমরা শতভাগ বুঝতে পারি। তবে বর্তমান সময়ে আবহাওয়ার বিরূপ আচরণের কারণে এবং বিভিন্ন প্রকারের ভেজাল যুক্ত খাবার গ্রহণের কারণে আমরা খুব সহজেই অসুস্থতার সম্মুখীন হচ্ছি। আর বর্তমান সময়ে আমাদের পরিবারের বা আমাদের সমাজের বৃদ্ধ বয়সের মানুষেরা এবং ছোট বাচ্চারা সবচাইতে বেশি অসুস্থ হচ্ছে। তাই আমাদেরকে অবশ্যই আমাদের পরিবারের বৃদ্ধ এবং ছোট বাচ্চাদের প্রতি আরো বেশি যত্নশীল হতে হবে। যাহোক, কিছুদিন আগে আমার একমাত্র ছেলে মোহাম্মদ সালমান রাজ বেলাল শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়েছিল। তার অসুস্থতার বিষয়টি ছিল--হঠাৎ করে আমার ছেলের শরীরের বিভিন্ন স্থানে গোলাকৃতির চর্মরোগ দেখা দিয়েছিল। প্রাথমিকভাবে আমি মনে করেছিলাম হয়তো গ্রীস্ম ঋতুর প্রভাবে ছেলের শরীরে ঘামাচি বের হচ্ছে। কিন্তু কয়েকদিন পরেই আমার ছেলের শরীরে চর্ম রোগের বিষয়টা খুবই দৃশ্যমান হয়ে উঠলো। তাই আর দেরি না করে ছেলেকে নিয়ে আমি আমাদের গাংনী সরকারি হাসপাতালে গিয়েছিলাম।
গাংনী সরকারি হাসপাতালে গিয়ে প্রথমে ৫ টাকা দিয়ে একটি টিকিট ক্রয় করেছিলাম। উদ্দেশ্য ছিল আমার ছেলেকে গাংনী সরকারি হাসপাতালের শিশু বিভাগের সিনিয়র ডাঃ আব্দুল্লাহ আল মারুফ স্যারকে দেখাবো। কিন্তু টিকিট ক্রয়ের সময় জানতে পারলাম তিনি বিশেষ ট্রেনিং গ্রহণ করার জন্য ঢাকাতে সাত দিনের জন্য গিয়েছেন। তাই বাধ্য হয়েই শিশু বিভাগের জুনিয়র স্যার ডাঃ মোঃ হাবিবুর রহমান স্যারের শরণাপন্ন হয়েছিলাম।
একজন সিনিয়র শিশু বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের অনুপস্থিতে একজন জুনিয়র শিশু বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের নিকট যে কি পরিমান শিশু রোগী দেখার চাপ হয় সেটা সেদিন খুব ভালোভাবে বুঝতে পেরেছিলাম। সেদিন আমার ছেলেকে নিয়ে প্রায় দেড় ঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলাম। আসলে সেদিন কারো কিছুই করার নেই। কারণ একজন মাত্র শিশু বিশেষজ্ঞ ডাক্তার, আর শত শত রোগীর চাপ। লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে আমি একটি বিষয় খুবই সুন্দর ভাবে খেয়াল করেছিলাম, শত শত শিশু রোগী দেখার পরেও ডাক্তার সাহেব কোন ধরনের ক্লান্ত কিংবা বিরক্ত প্রকাশ করেছিলেন না। বরং পর্যায়ক্রমে সব শিশুরোগীকে অত্যন্ত স্বাভাবিকভাবে এবং স্নেহের সাথে চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। ডাক্তার সাহেবের এমন মনোভাবটি আমার কাছে খুবই ভালো লেগেছিল।
অনেকটা সময় অপেক্ষার পর আমার ছেলেকে নিয়ে ডাক্তারের নিকটে গেলাম। ডাক্তার সাহেব অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে আমার ছেলে শরীরে সৃষ্ট চর্মরোগগুলো দেখলেন। তারপর তিনি বললেন এটা নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছুই নেই। ডাক্তার সাহেব আরো বললেন, এটা দীর্ঘস্থায়ী কোন চর্মরোগ নয়, অতিরিক্ত গরম আবহাওয়ার প্রভাবে এবং শরীরে ঘাম জমে থাকার কারণে এ ধরনের চর্মরোগগুলো বাচ্চাদের হয়। তারপর ডাক্তার সাহেব বললেন, নিশ্চয়ই আপনার ছেলে অতিরিক্ত চঞ্চল। তারপর আমি ডাক্তারের কথার সাথে সহমত পোষণ করেছিলাম। আসলেই আমার ছেলে অতিরিক্ত চঞ্চল। শুধুমাত্র ঘুমানোর সময়টুকুই শান্ত থাকে। আর বাকি সময়টুকু অশান্ত। যার কারণে শরীর থেকে অতিরিক্ত ঘাম ঝরে। আর ঘামের প্রভাবেই মূলত আমার ছেলের শরীরে চর্ম রোগ দেখা দিয়েছিল।
তারপর ডাক্তার সাহেব বিশেষ কিছু পরামর্শ আমাকে দিলেন। বিশেষ করে ছেলের শরীরে যেন ঘাম জমে না থাকে সেদিকে বিশেষভাবে খেয়াল রাখতে বললেন। একই সাথে ছেলের শরীর যেন সবসময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকে সেদিকে বিশেষভাবে খেয়াল রাখতে বললেন। তারপর ডাক্তার সাহেব প্রেসক্রিপশনে দুইটা মুখে খাওয়ানো ওষুধ লিখে দিলেন এবং একটা ক্রিম লিখে দিলেন। অবশ্য মুখে খাওয়ানো ওষুধ দুইটি হাসপাতাল থেকে বিনামূল্যে পাওয়া গেল। তারপর শরীরে লাগানো ক্রিমটি(ডার্মোমিক্স) আমি একটি ফার্মেসি থেকে ১৪০ টাকা দিয়ে ক্রয় করে নিয়েছিলাম। ডাক্তারের সুপরামর্শ গ্রহণ করে এবং ডাক্তারের দেওয়া নির্দেশনা অনুসারে নিয়মিত ওষুধ সেবনের মাধ্যমে আমার ছেলে অল্প সময়ের মধ্যেই সুস্থ হয়ে উঠেছিল। তাই আমাদের সকলের উচিত আমাদের পরিবারের ছোট বাচ্চাদের প্রতি আরো বেশি যত্নশীল হওয়া। একই সাথে বাচ্চাদের শারীরিকভাবে অসুস্থতা দেখা দেয়ার সাথে সাথে শিশু বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের শরণাপন্ন হওয়া। যাতে আমাদের পরিবারের শিশুরা সব সময় সুস্থ থাকতে পারে।
Thank you, friend!


I'm @steem.history, who is steem witness.
Thank you for witnessvoting for me.
please click it!
(Go to https://steemit.com/~witnesses and type fbslo at the bottom of the page)
The weight is reduced because of the lack of Voting Power. If you vote for me as a witness, you can get my little vote.
ইদানিং অনেকে জায়গায় অসুখ দেখা দিচ্ছে।বিশেষ করে বাচ্চাদের।তাই এ সময়ে বাচ্চাদের প্রতি আমাদের আরও বেশি যত্নবান হতে হবে।সর্বোপরি,আপনার ছেলের সুস্থতার কথা শুনে ভালো লাগলো।আর আমাদের দেশের সরকারি হাসপাতালের যে কি অবস্থা!অসংখ্য ধন্যবাদ ভাই,এত সুন্দর করে ছেলেকে নিয়ে গাংনী সরকারি হাসপাতালের অনুভুতি আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য।