মাহবুবের ভাগ্নির বিয়ে
মোটামুটি এই চৌরাস্তার মোড়ে যতগুলো রিক্সাওয়ালা ভদ্রলোক আছে, তাদের সঙ্গে আমার বেশ ভালই সম্পর্ক। রোজ যেহেতু বাবুকে নিয়ে বিকেল বেলা করে দীর্ঘ সময় রিক্সায় চড়ে ঘুরে বেড়াই, তাই তাদের সঙ্গে সম্পর্কটা আমার একটু গভীর।
ওরা আমাকে দেখলেই ছুটে আসে, সম্পর্ক এতটাই গভীর হয়ে গিয়েছে যে, বিকেল বেলা করে অনেকেই আমার বাসার সামনে এসে ঘুরপাক করে। মাঝে মাঝে আমি বিপাকে পড়ে যাই, আসলে কার রিক্সায় চড়বো এটা ভেবে। তবে সবাইকেই কম বেশি কথা দেওয়ার চেষ্টা করি, সকলের রিক্সাতেই আজ না হয় কাল অবশ্যই চড়বো।
এর আগেও মাহবুবের ভাগ্নির বিয়ে হয়েছিল তবে সেখানে বেশিদিন সংসার হয়নি। তার অবশ্য যথাযথ কারণ ছিল। কেউ তো আর ইচ্ছে করেই সংসার ছাড়তে চায় না। সংসার তো বড্ড মায়ার জায়গা, এই বাঁধনে জড়িয়ে গেলে সেখান থেকে মুক্তি পাওয়া বেশ মুশকিল। হয়তো দুজনের মাঝে সম্পর্কটা খুব একটা ভালো যাচ্ছিল না, দু-পরিবার থেকেই চেষ্টা করেছিল সমঝোতার জন্য । তবে মেয়েটার উপর যে পরিমাণ শারীরিক-মানসিক অত্যাচার গিয়েছে, তাই মাহবুবের ভাগ্নি সেখান থেকে দ্রুত মুক্তি চায়।
এই ধরনের সিদ্ধান্তকে মোটামুটি আমি সাধুবাদ জানাই। যেখানে আসলে নিজের মন টিকছে না, সেখানে আসলে জোড় করে থাকার কোন মানেই নেই। তাও ভাগ্যিস কোন সন্তান হয়নি,হলে হয়তো আরও অনেকটা পিছুটান কাজ করতো। এবার ঈদে মাহবুবের ভাগ্নি ওদের বাড়িতে এসে ওর মামীর কাছে সম্পূর্ণ ব্যাপারটি খোলাসা করে বলেছে, যেটা আসলেই খুব দুঃখজনক।
মাহবুবের বোন মারা গিয়েছে কিছুদিন আগেই, দুলাভাই এখন বিয়ে করেছে অন্যত্র। পূর্বের ঘরের সন্তানের খোঁজ খবর এখন রাখে না বললেই চলে। তাই তার ভাগ্নির এখন অভিভাবক মাহবুব নিজেই। মাহবুব যদিও তার ভাগ্নিকে প্রথমে বোঝানোর চেষ্টা করেছিল, তবে মেয়েটার চোখের পানির কাছে মাহবুব দিশেহারা হয়ে গিয়েছে।
অবশেষে তার ভাগ্নিকে সেখান থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে আসার সকল বন্দোবস্ত করেছে সে, সেই যাত্রায় মাহবুব কিছুটা সফল হয়েছে। মেয়েটাও পেয়েছে মুক্তি। তবে যৌতুক হিসেবে যা যা দিয়েছিল, সেগুলো তো আর ঠিকঠাক মতো ফিরে পাওয়া যায় নি। তবে কিছুটা টাকা-পয়সা আর কিছু জিনিসপত্র ফিরে পেয়েছিল, এটা একদম সত্য।
মাহবুবের এবার প্রতিজ্ঞা ভাগ্নিকে এবার এমন ছেলে দেখে বিয়ে দেবে, সেই ছেলেটা যেন জেনে বুঝেই তার ভাগ্নিকে গ্রহণ করে এবং সুখে রাখে। যদিও সুখ মরীচিকা, তবে তারপরেও চেষ্টা করতে তো অসুবিধা নেই। অবশেষে মাহবুব যে পেশায় জড়িত, ঠিক একই পেশায় নিয়োজিত এক ভদ্রছেলের সঙ্গে তার অনেকদিন থেকেই পরিচয় ছিল। ছেলেটাকে তার ভাগ্নির পুরো ব্যাপারটাই বলেছিল। ছেলেটাও রাজি হয়েছে, মাহবুবের ভাগ্নিকে গ্রহণ করার জন্য।
এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা । যদিও দিনক্ষণ সব ঠিক হয়ে আছে, তবে যেহেতু ভাগ্নির বিয়ে আর অভিভাবক মাহবুব নিজেই, তাই মাহবুবের কাঁধের উপর এখন অনেকটা দায়িত্ব। আজকে নিয়ে মাহবুবের রিক্সায় এক সপ্তাহের ভিতরেই তিন-চারবার চড়া হল। ও কদিন থেকেই ভাবছিল, আমাকে বিষয়টা জানাবে হয়তো একটু সাহায্যের জন্য।
আজ যখন সন্ধ্যেবেলা মাহবুবের রিক্সায় চড়ে ঘুরে আসলাম, তখন মাহবুব সংকোচ কাটিয়ে বিষয়টা আমাকে বলেই ফেলল। আসলে একজন আরেকজনের কাছে ঠিক তখনই সাহায্যের জন্য হাত বাড়ায়, যখন তার দেয়ালে পিঠ ঠেকে যায়। এখন আসলে ওর অর্থের প্রয়োজন, এ সময় তাকে যদি আমি উপদেশ দেই, সেটা নিতান্তই তার কাছে অনেকটা ভারী বোঝা মনে হতে পারে।
দেখো মাহবুব, তোমাকে যে আসলে কি বলবো সেটা এই মুহুর্তে আমি ভেবে পাচ্ছি না। তাও ওকে কাছে ডেকে ফিসফিস করে কানে কানে বললাম, আমার পকেটে এখন পাঁচশো টাকা ছাড়া আর কোন টাকাই নেই। এটা পুরোটাই রেখে দিও আর তোমার ভাগ্নির নতুন জীবনের জন্য শুভেচ্ছা রইল। ল্যাম্পপোস্টের লাইটের আলোতে মাহবুবের চোখ আমি দেখেছিলাম, ছলছল চোখগুলো হয়তো কিছু বলতে চেয়েছিল,তবে সেই কথা শোনার সময় কোথায়,আজ হাতে তো সময় বড্ড স্বল্প।
ডিসকর্ড লিংক
https://discord.gg/VtARrTn6ht
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
VOTE @bangla.witness as witness
OR
https://twitter.com/sharifShuvo11/status/1681610523107033088?t=mMov5xTSOdfm7o7b9u1tBg&s=19
মাহবুব ভাইয়ার ভাগ্নির বিয়ে।এবার ও সুখী হতে পারবে কিনা তা আল্লাহই ভালো জানেন।সুখের বড্ড অভাব আসলে। মা নেই মেয়েটির,দোয়া করি এবার সুখী হোক।
আসলে ব্যাপারটি আমাকে একটু অন্যভাবে ছুঁয়ে গিয়েছিল।
ভাইয়া আপনার মানবতার কথা যতই শুনি ততই ভালো লাগে। আমার মনে হয় মানুষ যার কাছে সাহায্য পাবে বলে আশা করে, ঠিক তার কাছেই সাহায্য চায়। আমাদের মধ্যে কজনই বা এমন আছে যে হাত খোলাসা করে দান করতে পারে। টাকা তো সবারই আছে কিন্তু কয়জন সহযোগিতা করে। ভাইয়া আপনার কাছে যা ছিল তা আপনি মাহবুব ভাইকে উজার করে দিয়েছেন এটাই বা কজনে করে। যার কারণে তো মাহবুব ভাইয়ের চোখে পানি ছলছল করছিল। যাইহোক ভাইয়া, সুখ মরীচিকা হলেও মাহবুব ভাইয়ের ভাগ্নির জীবনে যেন অনাবিল সুখ শান্তি আসে এই প্রত্যাশা করছি।
আমি তেমন কিছুই করিনি ভাই, আমার জায়গা থেকে মনে হয়েছে, যদি সহযোগিতা করা যায়, তাহলে খারাপ হয় না। শুধুমাত্র এতোটুকুই 🙏
মাহবুব এর ভাগ্নির জন্য অনেক দোয়া রইল, যেন এখন ভালো মতো সংসার করতে পারে। আসলে ভাইয়া সুখ অনেক কঠিন জিনিস। সত্যি যাদের জীবনে দুঃখ থাকে শুধু থেকেই যায়।যাইহোক এধরণের লোকের সাহায্য করা ভাগ্যের ব্যাপার। ধন্যবাদ ভাইয়া।
আমিও চাই মাহবুবের ভাগ্নি তার নতুন জীবনে সুখী হোক।