নির্মাণ কাজের ঝঞ্ঝাট। ১০% প্রিয় লাজুক খ্যাঁক এর জন্য।
আমি বেশ কিছুদিন ধরেই ঢাকায় অবস্থান করছি। ঢাকায় এসেছি একটি ব্যক্তিগত কাজে। নিজেদের প্রপার্টির কিছু নির্মাণ কাজ করার জন্য মূলত ঢাকায় আসা। আমি আগে একাধিক পোস্টে বলেছি ঢাকায় থাকতে আমার কখনোই ভালো লাগেনা। সর্বোচ্চ ৪/৫ দিন পর্যন্ত ভালো লাগে। তারপরই আমার দম বন্ধ হয়ে আসে।
কিন্তু এবার এমন একটি কাজে এসেছি যে যাওয়ার কোন উপায় নেই। যদিও এই নির্মাণ কাজ শেষ হলে আমার জীবনে কিছুটা আর্থিক নিরাপত্তা আসবে। এটি আমার এবং আমার পরিবারের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি কাজ। কিন্তু এই কাজ করতে এসে আমি বিভিন্ন রকম প্রতিকূল পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছি। সবচাইতে বেশি প্রতিকুলতার শিকার হয়েছি নিজেদের কাছের লোকজনের থেকে। এই নির্মাণ কাজের জন্য গত কিছুদিন যাবত আমি খুবই ব্যস্ত ছিলাম।
গতকাল নির্মাণকাজের অর্ধেক সম্পন্ন হয়েছে। আরো অনেক কাজ বাকি। কিন্তু আপাতত কয়েকটা দিন একটু নিশ্চিন্তে থাকতে পারবো। আর এই নির্মাণকাজে সবচাইতে মুখ্য ভূমিকা পালন করেছে আমার মা। যিনি এই বয়সেও অক্লান্ত পরিশ্রম করে সমস্ত কিছু সামলে যাচ্ছেন। আসলে মায়েরা মনে হয় এমনই হয়। সন্তানের ভালোর জন্য তারা যেকোনো ধরনের কষ্ট স্বীকার করতে তৈরি থাকে। যদিও তার এত পরিশ্রম করা দেখে আমার নিজের কাছে খুব খারাপ লাগছে। কিন্তু খারাপ লাগলেও কিছু করার নেই।
তার পূর্ব অভিজ্ঞতা থাকার কারণে এই কাজগুলি সম্বন্ধে তার একটা ভাল ধারণা আছে। কারণ আমাদের ফরিদপুরে একটি বাড়ি আছে। সেই বাড়িটি আমার মায়ের তত্ত্বাবধানে তৈরি হয়েছে। যার ফলে তার এই নির্মাণকাজ সম্বন্ধে একটি ভাল ধারণা হয়েছে। আর এক্ষেত্রে আমার অভিজ্ঞতার ঝুলি একেবারেই শূন্য ।যদিও এবার নির্মাণকাজে সরাসরি সম্পৃক্ত থাকার কারণে বেশ কিছু জিনিস শিখেছি। এখন আমারও মোটামুটি একটি ধারণা হয়েছে।
গতকালকে ছিল আমাদের ছাদ ঢালাই। এই দিনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আমাদের জন্য। কারণ এই দিনে কোন সমস্যা তৈরি হলে এতদিনের সব পরিশ্রম বৃথা হয়ে যাবে। তাই গতকাল অনেক সকালে উঠে চলে গিয়েছিলাম শান্তিনগর। সেখানে গিয়ে সমস্ত কাজ তদারকি করছিলাম। ছাদ ঢালাই শুরু করার আগে টুকিটাকি বিভিন্ন রকমের সমস্যা ছিল। সেগুলি সমাধান করা হলে তারপর শুরু হলো ছাদ ঢালাই।
তখন আমরা পরিবারের সবাই খুবই ব্যস্ত হয়ে পড়ি। কারন সেখানে বিভিন্ন দিকে নজর রাখতে হচ্ছিল। আমাদের সাথে ছিল একজন ইঞ্জিনিয়ার। যিনি আমাদের পক্ষ থেকে কাজের দেখাশোনা করছিল। যথারীতি শুরুর দিকে ঢালাইয়ের কাজ দ্রুত এগিয়ে যেতে লাগলো। আমি মিক্সিং মেশিন এর কাছে দাঁড়িয়ে খেয়াল রাখছিলাম যে ইট বালু সিমেন্ট এর পরিমান ঠিক হচ্ছে কিনা।
দেখতে দেখতে এক সময় আমার কাছে মনে হল শেষের দিকে বালুতে শর্ট পড়তে পারে। ইঞ্জিনিয়ারকে আমি আমার ধারণার কথা জানালাম। নির্মাণ শ্রমিকদের ভেতর থেকে দুএকজন একই কথা বলল। কিন্তু ইঞ্জিনিয়ার সাহেব আমাকে বলল কোন সমস্যা হবেনা। যা আছে এতেই হয়ে যাবে। ঢালাই কাজ যখন প্রায় শেষের দিকে। তখন হঠাৎ করে বালুতে ঘাটতি দেখা দিল।
সে কারণে কিছুক্ষণ ছাদ ঢালাইয়ের কাজ বন্ধ থাকল। কারণ তখন সেই নির্মাণসামগ্রী এনে আবার কাজ করতে হবে। সে নির্মাণ সামগ্রী পৌঁছানো পর্যন্ত কাজ বন্ধ ছিল। আমাদের ছাদ ঢালাইয়ের কাজ দুপুর তিনটার ভিতর শেষ হয়ে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এই সমস্যার কারণে শেষ পর্যন্ত কাজ শেষ হতে প্রায় সন্ধ্যা হয়ে গেল। যাইহোক সমস্ত সমস্যার পড় ও আমরা খুশি ছিলাম যে তেমন কোন বড় সমস্যা ছাড়াই ছাদ ঢালাইয়ের কাজ শেষ হয়েছে। এখন আমরা তাকিয়ে আছি পরবর্তী ধাপের কাজের দিকে। সে সম্বন্ধে আপনাদের সাথে অন্য একদিন কথা হবে।
আজকের মতো এখানেই শেষ করছি। পরবর্তীতে আপনাদের সাথে দেখা হবে অন্য কোন নতুন লেখা নিয়ে। সে পর্যন্ত সবাই ভাল থাকুন সুস্থ থাকুন।
| ফটোগ্রাফির জন্য ব্যবহৃত ডিভাইস | হুয়াই নোভা 2i |
|---|---|
| ফটোগ্রাফার | @rupok |
| স্থান | লিংক |
Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
বাড়ির কাজ করতে গেলে যাদের চুল কাঁচা থাকে তাদের টা পেকে যায় আর যাদের চুল পাকা থাকে তাদের টা পেকে যায় হাহাহা। তোমার কোনটা হবে বুঝে নাও। আর ওই ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটাকে ডিমোশন দিয়ে মিস্ত্রি বানানো উচিত। বেশি ঝামেলা হলে ফোন দিও চলে আসব