লাইফস্টাইল-ফুচকা খেতে গিয়ে অপ্রীতিকর অবস্থায় পড়ে গেলাম।
হ্যালো বন্ধুরা,
কেমন আছেন সবাই,আশা করছি সবাই অনেক ভাল আছেন। আজকে আবার আমি আপনাদের সাথে নতুন একটি ব্লগ নিয়ে হাজির হয়েছি। আজকের ব্লগের মাধ্যমে তিক্ত একটি অভিজ্ঞতা শেয়ার করবো। আশা করছি আপনারা মনযোগ সহকারে ব্লগটি পড়ছে বিষয়টি বুঝতে পারবেন।
গত সোমবারে আমি আমার ওয়াইফকে নিয়ে ডাক্তারের কাছে গিয়েছিলাম। তেমন কোন গুরুতর অবস্থার জন্য না,জাষ্ট ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী শরীরের তাপমাত্রা বা শরীরের কোন প্রবলেম আছে কিনা সে বিষয়ে জানার জন্য। আমি অফিস থেকে এগারোটার সময় বের হয়ে তাকে নিয়ে রিকশা দিয়ে সোজা ভিক্টোরিয়া হস্পিটালে চলে যায়। সেখানে সব কাজ শেষ করে সাড়ে বারোটার মধ্যেই আবার বের হয়ে চলে আসি। হস্পিটালের সামনে থেকে রিকশা নিয়ে চাষাড়া শহীদ মিনারের সামনে এসে নামলাম। শহীদ মিনারের ভিতরে আবার ভেলপুরি,ফুচকা,চটপটি,চা,কফি সহ সব ধরনের স্ট্রিট ফুড পাওয়া যায়। তো বউ বায়না ধরেছে এখান থেকে ফুচকা খাবে। শুধু যে আমার বউ তা না সব মেয়ে মানুষই ফুচকা দেখলে, তারা না খেয়ে যেতে পারে না। তাই আমিও ভদ্র ছেলের মত বললাম ঠিক আছে চলো যায়।
আমি একা থাকলে কখনো স্ট্রিট ফুড খায় না। কোন মানুষের পাল্লায় পড়লে তখন বাধ্য হয়ে খেতে হয়। আজকে পড়লাম বউয়ের পাল্লায়। তবে শহীদ মিনারের ফুচকা গুলো খেতে দারুন লাগে। তারা মসলাটা খুবই সুস্বাদু করে বানায়। তাই প্রথমে শহীদ মিনারে প্রবেশ করে দুই জনে দুই প্লেট ফুচকা খেলাম। শুধু ফুচকাতে কি আর মন ভরে। সামনে দেখলো ভেলপুরি,এখন বেল পুরিও খাবে। আমি ভেলপুরি খাবো না। তাই এক প্লেটই দিতে বললাম। আমি জানি যে ফুচকা খেয়েছি সেটাই পেটের ভিতর কিছুক্ষন পর আন্দোলন শুরু করবে। আমার পেটে আবার সবসময় তেলে ভাজা খাবার বা স্ট্রিট ফুড বেশি সহ্য হয় না। তারপরও ঐ কারো পাল্লায় পড়লে খায়। তবে আমি কিছুতেই ভেলপুরি খাওয়ার পাল্লায় পড়লাম না।
ভেলপুরি মামা ভেলপুরি বানাচ্ছে এমন সময় কোথায় থেকে যেন কিছু স্কুল কলেজের স্টুডেন্ট হুমরি খেয়ে দলে দলে শহীদ মিনারের প্রবেশ করতে লাগলো। বিষয়টা বুঝার আগেই সারা শহীদ মিনারে স্টুডেন্টে ভরে গেল। কিসের ভেলপুরি খাবো,তারাতরি এখান থেকে বের হওয়া দরকার। আমি বললাম ভেলপুরি রাখেন কি সমস্যা হয়েছে আগে সেটা বলেন। তিনি জানায় কিছুক্ষন আগে দুইতিনজন মেয়ে এখানে ফুচকা খেতে এসেছিল। এক ফুচকাওলা ছেলে তাদের সাথে অভদ্র ব্যবহার করেছে। তাই তাকে গ্রেফতার করে বিচারের আওতার আনার জন্য আন্দোলন করছে। এতক্ষনে বিষয়টা বুঝতে পারলাম।
হঠাৎ করে দেখলাম কোথায় থেকে যেন নিউজ২৪ পত্রিকার সাংবাদিক এসে হাজির। ছাত্রদের থেকে স্বাক্ষাৎকার নিচ্ছে। কি হয়েছে,বিষয়টি জেনে প্রত্রিকায় নিউজ করবে। সাধারনত ছাত্রদের যে কোন আন্দোলন সফলতা লাভ করে। শুনেছি ঐ ফুচকাওলা ছেলে নাকি দোকান বন্ধ করে পালিয়ে গেছে। তবে সেখানে পুলিশ ছাত্রদেরকে ওয়াদা দিয়েছে ঐ ছেলেকে যেখানে পাবে সেখানেই গ্রেফতার করা হবে এবং শহীদ মিনার বা নারায়নগঞ্জ জেলার কোথাও তাকে ব্যবসা করতে দিবে না। ভবিষ্যতে যদি কোন হকার বা স্ট্রিট ফুডের ছেলে পেলে কোন স্টৃডেন্টের সাথে খারাপ ব্যবহার করে তাহলে সবার ব্যবসা বন্ধ করে দিবে। পুলিশ থেকে এমন আশ্বাস পেয়ে ছাত্রছাত্রীরা ধীরে ধীরে শহীদ মিনার ত্যাগ করা শুরু করে।
কিছু কিছু বখাটে ছেলে আছে মেয়ে দেখলেই তাদের সাথে অভদ্র আচরন করা শুরু করে। একবার চিন্তা করে না যে,আমাদের তো মা বোন আছে,বউ আছে,মেয়ে আছে। তারাও তো মেয়ে। তাদের সাথে যদি অন্য কেউ অভদ্র আচরন করে আমি যেমন মানবো না ঠিক তেমনি অন্যের মেয়ে,বোনদের সাথে অভদ্র আচরন করলে তারাও মানবে না। আমার মন চাই এসব বখাটে ছেলেদের ধরে বুড়িগঙ্গার পানিতে চুবিয়ে মারি।
যায়হোক আমরা এই অবস্থা দেখে এক প্লেট ভেলপুরি খেয়ে তারাতারি সেখান থেকে চলে আসলাম। কারন বলা যায় না কোন জায়গার পানি কোন দিক দিয়ে নামে। তবে একটি কথা মানতে হবে আন্দোলন ছাড়া কোন দাবি আদায় হয় না। সেটা যে কোন পর্যায় হোক না কেন। বর্তমানে দ্রব্য মূল্যের উর্ধ্বগতি নিয়ে কেউ আওয়াজ তুলে না,আন্দোলন করে না। তাই আমাদের দূর্নীতিবাজ কাকুরা যেভাবে ইচ্ছা সেভাবেই আমাদের শোষন করছে। জানিনা কখন এই অবস্থার পরিবর্তন হবে। আল বিদায়।
সবাইকে অনেক অনেক ধন্যবাদ,আল্লাহ হাফেজ।।
ফটোগ্রাফির বিবরণ:
| ডিভাইস | মোবাইল |
|---|---|
| মডেল | রেডমি নোট-৮ |
| শিরোনাম | ফুচকা খেতে গিয়ে অপ্রীতিকর অবস্থায় পড়ে গেলাম।। |
| স্থান | চাষাড়া,শহীদ মিনার,নারায়নগঞ্জ,ঢাকা। |
| তারিখ | ১৪-০৮-২০২৩ |
| কমিউনিটি | আমার বাংলা ব্লগ |
| ফটোগ্রাফার | @joniprins |
সবাইকে ধন্যবাদ। আল্লাহ হাফেজ।।
আমি একজন বাংলাদেশের সাধারন নাগরিক। বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকাতে আমার বসবাস। সিম্পল আমার স্বপ্ন সিম্পল আমার জীবন। স্টিমিট আমার জীবনের একটি অংশ, আমার বাংলা ব্লগ আমার পরিবার। বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়া বলতে আমি স্টিমিটকেই চিনি। ভ্রমন করা, ফটেগ্রাফি করা আর বই পড়া আমার স্বপ্ন। আমি বিশ্বাস করি মানুষের জীবনে উত্তান পতন আছেই। সর্বপরি কাজ করতে হবে লেগে থাকতে হবে, তাহলেই একদিন সফলতা আসবে,এটাই আমি বিশ্বাস করি। সবাইকে ধন্যবাদ।।
Bangla Witness কে সাপোর্ট করতে এখানে ক্লিক করুন
এখানে ক্লিক করো ডিসকর্ড চ্যানেলে জয়েন করার জন্য
Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power
250 SP 500 SP 1000 SP 2000 SP 5000 SP
Click Here For Join Heroism Discord Server
ভাবির সাথে ডাক্তার বাড়ি গিয়েছিলাম শুধু চেকআপের জন্য। বলে না সবার পাললায় পড়লেও বউয়ের পাললায় পড়তে হয় না। যাহোক ভাবের কথা শুনে ফোস্তা খেতে গিয়ে আপনার এত বড় ধরনের একটা সমস্যায় পড়ে গিয়েছিলেন। বর্তমানে সহিংসতা সব জায়গায় ছেয়ে গেছে। যা পরবর্তীতে বুঝতে পারলাম কোন এক ফুচকা ওয়ালা মেয়েদের সাথে অভদ্রতা করার জন্য তাকে গ্রেফতারের জন্য ছাত্ররা আন্দোলন করছে। এবং পুলিশ তাদেরকে আশ্বাস দিয়েছে তাকে অবশ্যই গ্রেফতার করবে। এক প্লেট ভেলপুরি খেয়ে ওখান থেকে দ্রুত সরে গিয়েছেন এটা অনেক মঙ্গল। বর্তমানে রাজনৈতিক অবস্থা এমন জায়গায় গিয়ে ঠিক আছে যে সাধারণ পাবলিক কোন জায়গায় বিপদমুক্ত নয়।
জী ভাইয়া এটা অনাকাংখিত ঘটনা ঘটেছে। ধন্যবাদ।
তাহলে তো ভালোই ঝামেলায় পড়ে গিয়েছিলেন । আসলে অল্প বয়সে যে কোনো কাজের ক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ থাকে যেটা ওই ফুচকাওয়ালা ছেলের ক্ষেত্রে হয়েছে একটি অপ্রীতিকর ঘটনা। মেয়েদের কাছে ফুচকা খুবই প্রিয় সেজন্যই আপনাকে পথ রাস্তায় স্ট্রিট ফুড খেতে হয়েছে। এই ধরনের ঝামেলা সব জায়গাতেই কমবেশি ঘটছে।
জী ভাইয়া কিছু বখাটে ছেলের জন্য অপ্রীতিকর ঘটনাটা ঘটেছে। ধন্যবাদ।
আরে গত দুই দিন আগে গিয়েছিলাম আপনাদের সেই চাষাড়া শহীদ মিনারে। আবার দাড়িঁয়ে দাড়িঁয়ে প্রকৃতি উপভোগ করার সাথে সাথে একটু ফুচকাও খেয়েছিলাম। যাই বলেন ভাই পরিবেশটা কিন্তু বেশ খোলামেলা। তবে হ্যা এটা কিন্তু সত্য যে আজকাল রাস্তার হকারদের কিন্তু বেশ সাহস বেড়ে গেছে। আমার মতে ছা্ত্ররা ঠিক করেছে। এভাবেই আমাদের সকলের প্রতিবাদী হয়ে উঠা উচিত।
জী আপু যেখানে অন্যাই সেখানে প্রতিবাদ করলেই,অন্যাই অপরাধ কমে আসবে। ধন্যবাদ।
ভাইজান পথ চলতে গিয়ে কিছুটা ভালো লাগার মুহূর্ত অতিবাহিত করতে গিয়ে কখন যে কে কোন অবস্থার সম্মুখীন হয় তা ধারণা করা অসম্ভব। এই যে ফুচকা খেতে গিয়ে ইভটিজিং এর শিকার মেয়েদের জন্য এখানে সাংবাদিক উপস্থিত হয়ে গেছে। আর এ অবস্থায় বিভ্রান্তিকর একটি মুহূর্ত অতিবাহিত করতে হয়েছে আপনার, এমনটা হয়ে যায়। তবে বিস্তারিত বিষয়গুলো আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন দেখে ভালো লাগলো।
জী ভাইয়া ছাত্রদের হট্রগোল শুনে সাংবাদিক এসে হাজির। হকররা নিজের ব্যবসায় নিজেরাই আগুন দেয়। ধন্যবাদ।
বুড়িগঙ্গার পানিতে চুবিয়ে মারবেন?? খুব হাসি পেলো। হিহিহি 😃 যাক ফুচকাওয়ালার জন্য ঝামেলা হলেও হতে পারতো। ফুচকাওয়ালা পালিয়ে গেছে।কিন্তু পুলিশ তাকে ধরবেই।আপনি ও বাইরের খাবার খেতে পারেন না সমস্যা হয়।কিন্তু কারো পাল্লায় পরলে খান।আমি কারো পাল্লায় পরলেও খাই না।অবশ্য আমার সমস্যা হয়না।তবে সচেতনতার জন্য এভোয়েড করি এসব খাবার।অনুভুতি গুলো পড়ে খুব ভালো লাগলো। ধন্যবাদ ভাইয়া আপনাকে।
আপু আপনি আমার জাগায় থাকলে আপনিও পাল্লায় পড়তেন,হে হে হে। ধন্যবাদ।