আমি তিথি (গল্পের তৃতীয় পর্ব )
আমি তিথি
আমি স্টুডেন্ট খারাপ না, যা করি সেটাও খারাপ কিছু না। কত কত মানুষের দোয়া আর ভালোবাসা পাচ্ছি রোজ তার হিসেব এই পুরো জীবনে মেলানো সম্ভব না। কিন্তু ওদের কাছে এইসব ব্যাপারগুলো অনর্থক কেনো সেটা আমার জানা নেই, জানার তেমন ইচ্ছেও নেই অবশ্য। সকালের নাশতা আর করলাম না ঘরে। তৈরি হয়ে কাধে ব্যাগটা নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম। আজিজের সাথে দেখা করে তারপর কিন্ডাগার্টেনে যাবো। সেখান থেকে কোচিং আর আর্টের স্কুলটা দেখে তারপর বাড়ি ফিরবো। আসার পথে গল্পগুলো নিয়ে আবার কিছু আলাপ আলোচনা করবো বান্ধুবীদের সাথে। সারাদিন আজকে অনেক কাজ বলা চলে...
- হেলো, আজিজ। তুমি একটু নদীর পাড়ে এসো তো। আমি ঐখানেই আছি..একটু তাড়াতাড়ি এসো।
- আচ্ছা, আসছি
আজিজ আমার খুব ভালো বন্ধু। ওর সাথে আংটি বদল হয়েছে গত শুক্রবার।পরিবার থেকে সবাই মেনে নিয়ে আমাদের এক করে দিয়েছেন। আমার ভার্সিটি পড়া শেষে বিয়েটা হবে এই কথা ঠিকঠাক করে রেখেছে সবাই। সে আমার সব কাজে আমাকে খুব সাহায্য করে। দারুন একটা ছেলে। ওকে ডেকেছি আজকে বড়ো খালার কথাগুলো ওকে বলার জন্য। খালার সামনে তো আর ওনার কথা শুনে হাসতে পারি নি তাই এখন হাসিটা হেসে নিতে হবে! সকালে কিছু খাইনি শুনে সে প্রায় জোর করে খেতে নিয়ে গেলো। রেস্টুরেন্টে বসে খেতে খেতে ওর সাথে খালার বলা কথাগুলো বললাম আর দুইজন মিলে হাসলাম। বেলা একটা পর্যন্ত ওর সাথেই ছিলাম বলা যায়। তারপর সেখান থেকে সোজা চলে গেলাম ফুপুর বাসায় তাকে নিয়ে। ওর সাথে যখন গল্প করছিলাম তখন হঠাৎ ফুপু মেসেজ দিয়ে জানালো তার বাসায় আজকে ভুনা খিচুরি আর গরুর মাংস রান্না হচ্ছে। আমার প্রিয় খাবার রান্না হলেই উনি আমাকে খাওয়ানোর জন্য ডাকেন। আমাকে রেখে খেতে চান না। মানুষটা এত ভালো যে বলে শেষ করা সম্ভব না...
- আরেকটু নে, এত কম কম খেলে কিভাবে হবে?
খাচ্ছি তো... ওকে দাও
কি খাও তুমি সেটা তো দেখছি আমি নিজেই। সারাদিন এতকাজ করিস, এতকিছু করছিস ... খাওয়াদাওয়া ঠিকমত করবি কিন্তু তা না ,
আচ্ছা ফুপু,করবো...একটা কথা বলো ত...তুমি আমাকে যে এত ভালবাসো, আমার সব কাজে আমাকে এত উৎসাহ দাও, মা আর বড়ো খালা একদম উল্টা।তাদের এইসব ভালই লাগে না। কখন আমি বিয়ে করবো,বাচ্চা পালবো সেই নিয়ে তাদের চিন্তার শেষ নেই।
আমার কথা শেষ না হতেই ফুপু আর আজিজ একসাথে হেসে উঠলো। বিকাল তিনটা পর্যন্ত আমরা একসাথে খুব গল্প করলাম। এরপর আমাকে কোচিংয়ের ওখানে নামিয়ে দিয়ে সে নিজের কাজে গেলো। আমি সেখানে বিকাল পাঁচটা পর্যন্ত পরিয়ে আর্টের স্কুলটা দেখতে গেলাম...
- আচ্ছা আপা,আমার মা এমন কেন?
কেমন,তুলি? কি বলেছেন তোমার মা?
মা কয় এত পড়ালেহা দিয়া কি অইবো? এইগুলি কোনো কামের না। দুইদিন পরে বিয়া দিয়া দিমু আর সংসার করবি মন দিয়া। এইগুলি কি সংসারে কামে দিবো? আপা, আপনেই কন.... এইগুলি কোনো কথা?
তুলির কথা শুনে মনটা খারাপ হয়ে গেলো খুব। এইটুকু একটা মেয়ে তাও কত বোঝে, পড়ালেখা করতে চায়, বড় কিছু হতে চায়। আর তার মা বোঝে না। হায়রে দুনিয়া....কোনটা ভালো কোনটা খারাপ আর কোনটা জীবনে কাজে দিবে সেটাই মানুষ বুঝলো না এখনো।
- এইসব কথার মধ্যে কান দেয়ার দরকার নেই তুলি। তুমি অনেক পড়ালেখা করবে, আর্ট শিখবে, অনেক বড় হবে। তখন তোমার বাবা মা তোমাকে নিয়ে খুব গর্ব করবে,দেখো।

- হ আপা, আমি অনেক পড়তে চাই, আপনার মত অনেক বড় হইতে চাই। দোয়া করবেন আপা আমার জন্যে।
(চলবে..........)
VOTE @bangla.witness as witness
OR
Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
_
আপু আপনার লেখা গল্পটি পড়ে সত্যি আমার কাছে অনেক ভালো লেগেছে। আপনার খুব ভালো বন্ধুর সাথে আপনার আংটি বদল হয়েছে গত শুক্রবার জেনে খুবই ভালো লাগলো। আপনাদের পরিবার মেনে নিয়ে দুজনকে এক করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আসলে ভালোবাসা এমনই হওয়া উচিত। আশা করি আপনাদের ভার্সিটি পড়া শেষ করার পর আপনাদের বিবাহিত জীবন খুব সুন্দর ভাবে অতিবাহিত হবে। ধন্যবাদ আপু এত সুন্দর একটি গল্প শেয়ার করার জন্য
সত্যি আপু দারুন একটি গল্প লিখেছেন যদিও গল্পের এর আগের দুই পর্ব আমার ওইভাবে পড়া হয়নি কিন্তু তৃতীয় পর্বটি পড়ে যা বুঝলাম যাকে নিয়ে গল্পটা সে হচ্ছে তিথি। গল্প পড়ে বোঝা যাচ্ছে তিথি মেয়েটি অনেক চালাক এবং চঞ্চল। তবে আর্ট স্কুলে তুলি মেয়েটির কথাটা বেশ ভালো লেগেছে। সেই সাথে তার যে পড়ার ইচ্ছা শক্তি এটা শুনে আরো বেশি ভালো লেগেছে। দারুন গল্প লিখেছেন আপু এভাবেই এগিয়ে যান, পরবর্তী পর্বের অপেক্ষায় রইলাম।
আপু আপনার গল্পের তৃতীয় পর্বটি বেশ চমৎকার ছিল। আর তুলির কথাগুলো পড়ে বুঝতে পারলাম আপনার গল্পটি দারুন একটি শিক্ষামূলক গল্পে রূপান্তরিত হতে যাচ্ছে। তবে তুলির উচিত লেখাপড়ায় আরো বেশি মনোযোগী হওয়া। গল্পটির পরবর্তী পর্বটি পড়ার অপেক্ষায় রইলাম।
আগের পর্ব দুটো পড়ে তিথির ব্যাপারে অনেক কিছুই জানতে পেরেছিলাম। তিথি হচ্ছে স্বাধীনচেতা এবং সাহসী একজন মেয়ে। আজিজের সাথে তিথির আংটিবদল হয়েছে এবং আজিজ তিথিকে অনেক কাজে সাহায্য করে জেনে খুব ভালো লাগলো। তাছাড়া তিথির ফুপুও তিথিকে সাপোর্ট করে। সবমিলিয়ে খুব ভালো লাগলো গল্পটি পড়ে। শেয়ার করার জন্য অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।