জীবন থিওরি (তৃতীয় ও শেষ পর্ব)
জীবন থিওরি
আমরা মানুষরা সত্যিই বড্ড অদ্ভুত। নিজের হাতে সব বিগড়ে দিয়ে অন্যের উপর দোষ চাপাই, নিজের আনন্দ নিজের হাতে পিষে তার দায়ভার অন্যের ঘরে বর্তে দেই, ছোটখাটো বিষয় পাহাড় সমান বানিয়ে নিয়ে রাগ অভিমানের দেয়াল গড়ে দেই চারপাশে। এতে আসলে নিজের ক্ষতি কিংবা বোকামি ছাড়া আর কিছুই হয় না। এইযে আমরা রাগ দেখাই, গুটিয়ে নেই নিজেদের, এতে আসলে কারও বিন্দুমাত্র কিছু হয় না। যা হওয়ার আমাদেরই হয়।
দিনশেষে আমরা একা বোধ করি, কান্না পায়, দম বন্ধ লাগে, ভেতরটা খুব বেশি ভারী মনে হয় আরো কত কত চাপা অনুভূতি যার শেষ নেই। এইজন্য কার কি আছে, আমার কেনো নেই, কে কি করলো তাতে মন খারাপ করাটা বেমানান। তার চেয়ে নিজের কি আছে, নিজে কি কি ভালো কাজ করতে পেরেছি, রোজ কয়টা মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে পেরেছি এইসব ভেবে দিনশেষে বড্ড সুখ পাওয়া যায়। একটা সুখী মানুষের মতো ঘুমানো যায়, ভেতরে একটা বেশ বড়সরো তৃপ্তি কাজ করে তখন।
ছোটবেলায় একটা দুটো চকোলেট কিংবা আইসক্রিম পেলেই কেমন আকাশ সমান খুশি হয়ে যেতাম আমরা, আর এখন পুরো দুনিয়াটাও যদি কেউ এনে দেয় আমরা খুশি হওয়ার বদলে দোষ খুঁজতে বসে পড়ি। মানুষ এমনই, তৃপ্তি কিংবা কৃতজ্ঞতা খুব কম তার মধ্যে। আর এই বিষয়টা অস্বাভাবিক হলেও আজকালকার দুনিয়ায় এটাতে সবাই খুব মানিয়ে নিয়েছে বলা চলে! প্রত্যেকটা বাবা মা কে যদি দেখি....তারা কোনোদিন কম করেনি আমাদের জন্য।
কয়টা মানুষ এমন আছে যারা আমাদের ভালোর জন্য দোআ করবে, যত্ন করবে, একটু অসুস্থ আছি শুনলেই অস্থির হয়ে উঠবে, মন খারাপ শুনলে শান্তনা দেবে, মাছের বড়ো টুকরাটা আমাদের জন্য উঠিয়ে রাখবে, নিজের পছন্দ হওয়া সত্বেও আমাদের কথা ভেবে সেটা থেকে নিজেকে সরিয়ে নিবে, আমাদের খরচ জোগাতে নিজেরা একজোড়া ভালো জুতো কিনে পড়বে না, এরকম মানুষ কয়টা হয়? হাতে গুনেও দুই তিনটার বেশি হবে না হয়তো।
কিন্তু এইযে বাবা মা রোজ রোজ আমাদের জন্য এতসব করে। বিনিময়ে কোনো শর্ত জুড়ে দেয় না, কোনো কিছু চেয়ে বসে না, আমাদের ভাগ থেকে চাইতে আসে না। দুনিয়াতে যদি মানুষ হিসেবে কাউকে সুন্দর বলতে হয় তাহলে বাবা মা সবচেয়ে সুন্দর মানুষ আর তাদের জীবনটা? তাদের জীবনটা অন্য সব মানুষের চাইতে অনেক কঠিন, অনেক কষ্টের, অনেক অপেক্ষা, ঘাম, না খেয়ে থাকার।
তার মানে কি? ভালো একটা মানুষের জীবন সবসময় একটু কষ্টের হয়। এটাতে আফসোস করাটা নেহাত বোকামি। তার চেয়ে নিজের ভালো মানুষীটা সবসময় পুষে রেখে দিনশেষে একটা তৃপ্তির নিঃশ্বাস নেয়াটাই সবচেয়ে আনন্দের। জীবন থিওরি আসলে শেষ হওয়ার মতো কিছু না, এটা খুব বিশাল কিছু। বইয়ের পাতায়, কলমের কালিতে কিংবা অন্য যত মাধ্যমেই হোক এটাকে কোনোদিন লিখে কিংবা বলে শেষ করা সম্ভব বলে মনে হয় না......
সমাপ্ত
VOTE @bangla.witness as witness
OR
Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
_
আপু যদিও বিগত দিনে দুটি পর্ব পড়ি নি ৷ তারপরেও আজকে পড়ে যতটুকু বুঝলাম ৷ আসলে আপনি বেশ গুছিয়ে লিখেছেন কথা গুলো ৷ যার প্রতিটি লাইনে ছিল সত্য আর বাস্তবিক ৷
আসলেই জীবনটা অদ্ভুত আর এই জীবনে অনেক কিছু অনুভব অনুভুতি করি ৷ বলা যায় জীবন যেখানে যেমন ৷ সর্বোপরি ভাল মানুষের জীবনে কষ্ট থাকেই ৷ অসংখ্য ধন্যবাদ সুন্দর ব্লগ শেয়ার করার জন্য ৷
আত্মতৃপ্তি বিষয়টা যদি থাকে তাহলে কখনোই কারো প্রাপ্তি বা সফলতা দেখে নিজের আফসোস করার কোন কারণ নেই। তবে আপু এটা ঠিক বলেছেন আমরা মানুষ হিসেবে নিজেদের আত্মতৃপ্তি বা কৃতজ্ঞতাবোধ খুবই কম। মা বাবা ছাড়া হয়তোবা হাতেগোনা দু একজন রয়েছে যারা এভাবেই চিন্তা করে। নিজের স্বার্থটাকে ত্যাগ করে অন্যকে কিভাবে ভালো রাখা যায় সেই চিন্তাটা সবার মাঝে কাজ করে না। আর যদি এটা হতো তাহলে পৃথিবীটা অনেক বেশি সুন্দর হতো।
জীবনে চলতে গেলে বিভিন্ন কারণে বিভিন্ন সময়ে কষ্ট হবেই। তাই আফসোস না করে মানিয়ে নেওয়াটা ই বুদ্ধিমানের কাজ। দিনদিন মানুষ এমন হয়ে যাচ্ছে অল্পতে কিছুতেই তুষ্ট হয় না। আর মানুষের মধ্যে এখন কৃতজ্ঞতা বোধ অনেক কমে গিয়েছে। যাইহোক জীবনের থিওরি অনেক জটিল। তিন পর্বের পোস্ট পড়ে খুব ভালো লাগলো আপু। আশা করি নতুন কিছু নিয়ে হাজির হবেন আমাদের মাঝে। সেই অপেক্ষায় রইলাম। সবসময় খুব ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন সেই কামনা করছি।
খুব সুন্দর ভাবে বাস্তবতাকে তুলে ধরেছেন। কথাগুলো খুব সত্যি।আসলে আমি মনে করি যে কোন কাজে নিজের তৃপ্তি হওয়াটা খুব জরুরী।অল্পতে তুস্ট থাকাও খুব জরুরী।ধন্যবাদ আপু লেখাগুলো আমাদের মাঝে তুলে ধরার জন্য।