রহস্যময় গল্প - শুকনো গোলাপ (দ্বিতীয় ও শেষ পর্ব)
শুকনো গোলাপ
কোথায় গেল অন্তরা?
তাহলে কি নিলয় অন্তরার কিছু করেছে??
চলুন আজকে রহস্য উদঘাটন করি।
ঘটনাটি মূলত সাত বছর আগের। দুটো মানুষ একে অপরকে প্রচন্ড ভালোবাসতো, ভালোবাসার কোনো কমতি ছিল না তাদের মধ্যে। একজন অপরজনকে চোখ বন্ধ করে বিশ্বাস করতো। ছেলেটি ছিল ধনী পরিবারের, কিন্তু মেয়েটি একদমই গরিব ছিল। যার বাড়িতে একটি ঘর ছাড়া আর কিছুই ছিল না। সৌন্দর্যের দিক দিয়ে হার মানাতো সবকিছু। সত্যিই বলতে ভালবাসা ধনী গরিব বিচার করে না, একবার এই মনে জায়গা করে নিলে তাকে সরিয়ে দেওয়া কোনো সহজ ব্যাপার নয়।
দিনের পর দিন কাটতে লাগলো, আর তাদেরও ভালোবাসা যেন বেড়েই চলেছে। প্রতিদিন একটি সময় করে দেখা করা, ঘুরতে যাওয়া, ছেলেটির পছন্দের শাড়ি পড়া। মেয়েটি মূলত ভালোবাসা জিনিসটা কখনোই আপন করে নিতে চাইনি এর আগে হাজারো ছেলে তাকে ভালোবেসেছে কিন্তু সে কখনো কারো ভালোবাসা গ্রহণ করেনি। যদিও এটা নিয়ে অনেকেই বলতো, তার রুপের অহংকারে হয়তো সে কোন ছেলেকে পাত্তা দেয় না। কিন্তু এটা ছিল ভুল, অবশেষে তাকে প্রেমে পড়তেই হয়েছে। আর মেয়েটি করবেই বা কি ? নাছোড়বান্দা তার পিছুই ছাড়ছিল না। দিনের পর দিন এতভাবে প্রপোজ করছিল যে সে মেয়েটি আর গ্রহণ না করে পারে নি।
আর এই ভালোবাসার মানুষকে নিয়ে স্বপ্ন দেখা শুরু করে মেয়েটি। সেই বিশাল পাহাড়ের উপরে ছোট্ট একটি ঘর, ঘরের আশেপাশে যতদূর চোখ যায় থাকবে শুধু ফুলে ফুলে ঘেরা, পাশেই থাকবে একটি ছোট্ট নদী আর মুক্ত-প্রশ্বাস নেয়ার মতো থাকবে একটি বিশাল আকাশ।
আর এই স্বপ্নের কথা মন খুলে বলতো তার ভালোবাসার মানুষকে, তার বিশ্বাস ছিল তার ভালোবাসার মানুষ অবশ্যই তার স্বপ্ন পূরণ করবে। আর দেখতে দেখতে একদিন সেই সময় এসে গেল। আজ তার স্বপ্ন পূরণ হওয়ার পালা, ভালোবাসার মানুষের হাতে হাত রেখে পা রাখল তার স্বপ্নের ঘরে। মেয়েটির বিশ্বাস ছিল তার ভালোবাসার মানুষ তার স্বপ্ন একদিন পূরণ করবেই আর আজ তার স্বপ্ন পূরণ হয়েছে।
স্বপ্ন পূরণের এত আনন্দ সে কোথায় রাখবে, তাই অতি আনন্দে জড়িয়ে ধরলো তার ভালোবাসার মানুষকে কিন্তু হঠাৎ দেখতে পেল ঘরে শুধু তারা দুজনে নয় আরো পাঁচজন মানুষ আগে থেকে অবস্থান করছে। তাদের দেখতে পেয়ে ভয় চিৎকার দিল মেয়েটি। আর সাথে সাথে বেরিয়ে আসলো ছেলেটির আসল রূপ।
সে বলতে লাগলো, তুমি এতদিন ভেবেছিলে আমি তোমায় ভালোবাসি কিন্তু তোমার মত সুন্দরী আর গরিব মেয়েদের শুধু ব্যবহার করা যায়, সংসার নয়। অনেকদিন যাবৎ অপেক্ষা করছিলাম এই দিনটির জন্য। অন্য মেয়েদের পটাতে এতটা কষ্ট হয়নি, তোমাকে পটাতে আমার যতটা কষ্ট হয়েছে। আর কষ্টের বিনিময়ে আজ আনন্দ করার পালা, তাই একা নয় সাথে কয়েকজনকে নিয়ে এসেছি।
নিজের ভালোবাসার মানুষটির মুখে এমন কথা শুনে সে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছিল পুরোপুরি। কোন উপায় ভেবে না পেয়ে ঘরের দরজা খুলে দৌড়ে বের হয়ে গেল, কিন্তু এটা এমন একটি জায়গা যে মাইল পর মাইল অতিক্রম করেও কোনো মানুষের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যাবে না। কিন্তু তবুও প্রাণপণে ছুটতে লাগল মেয়েটি, এক পর্যায়ে ছেলেটি তাকে ধরে ফেলে। আর নির্মমভাবে মেয়েটির উপর অত্যাচার চালায়। নির্যাতন আর অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে অবশেষে প্রাণ হারায় মেয়েটি। অন্তরা কোথাও হারিয়ে যায়নি, না সে কোথাও চলে গেছে নিলয় তাকে হত্যা করে তার লাশ ভাসিয়ে দিয়েছে নদীর স্রোতে।
সমাপ্ত
VOTE @bangla.witness as witness
OR
Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
_
আপু আপনার গল্পটা পড়ে অনেক খারাপ লাগলো অন্তরার জন্য। আসলে আপু নিলয়ের মতো এমন নরপিশাচদের ধিক্কার জানায়। সত্যি এরা মানুষ নয় এরা মানুষ নামের কলঙ্ক।এমন ঘটনা আমাদের সমাজে অনেক ঘটে। ধন্যবাদ আপু।
গল্পের শেষ টা এমন হবে সেটা ভাবতেই পারি নাই আপু।শেষ পর্যন্ত অন্তরাকে মেরে ফেললে নিলয়। এটা কেমন ভালোবাসা???
খুব খারাপ লাগলো অন্তরার জন্য। কত বিশ্বাস করেছিলো অন্তরা ছেলেটিকে। এমন রহস্যময় গল্প আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য অনেক ধন্যবাদ আপু।
গল্পের শেষটা পড়ে ভীষণ খারাপ লাগলো আপু।অন্তরা বিশ্বাস করে আজ শেষ হয়ে গেলো। ছেলেটা এমন কিছু করবে তা একটি বারের জন্য ও মনে আনেনি অন্তরা।এমন রহস্য ময় গল্পটি শেয়ার করার জন্য অনেক ধন্যবাদ আপু।