আংশিক বাস্তব (পর্ব নং ১)
প্রথমেই বলে রাখছি, আজকের এই লেখাটি আমার দেখা একটি বাংলা নাটকের ভাবসম্প্রসারণ। নাটকের গল্পটি আমার কাছে আংশিক বাস্তব এবং শিক্ষানীয় মনে হয়েছে বলেই সেই নাটকের কাহিনিগুলো আপনাদের সামনে আমার দৃষ্টিকোণ থেকে লিখে প্রকাশ করার ক্ষুদ্র প্রয়াস করেছি মাত্র।উল্লেখ্য, পুরো গল্পটি এক পর্বে প্রকাশ করলে পাঠকের মনে বিরক্তির ছাপ পড়তে পারে। তাই ভেবে রেখেছি, সমগ্র গল্পটি ধারাবাহিক পর্বে প্রকাশ করার চেষ্টা করবো৷ লেখা শেষে নিচে অবশ্যই লিংক সংযুক্ত করে দিবো।
দুই ভাই, মা এবং বাবা। বাবা শিক্ষক, মা গৃহিণী। মা, বাবা এবং ছোট ভাই গ্রামের বাড়িতে একসাথে থাকে। বড় ভাই উচ্চ শিক্ষিত, পরিবার নিয়ে ঢাকায় কর্মরত৷ ছোট ভাই পড়াশোনা শেষ করে সদ্য বের হয়েছে, চাকরি হয়নি, বেকার৷ বাবার যে সম্পদ ছিলো তার কিছু অংশ ছোট ছেলের পিছে ব্যয় করলেও বেশির ভাগই ব্যয় হয়েছে বড় ছেলেকে প্রতিষ্ঠিত করতে৷ একমাত্র অবলম্বন ছিলো বসত ভিটা, সেটাও বন্ধক রাখতে হয়েছে বড় ছেলেকে ব্যবসা ধরিয়ে দিতে৷
তিন মাসের মধ্যে টাকা পরিশোধ করে বন্ধকী বসতভিটে ফিরিয়ে নেওয়ার কথা থাকলেও বড় ছেলে টাকা না পাঠানোর কারণে তিন মাস পরও ফিরিয়ে নিতে পারেনি বিধায় আমানতকারী তাদের সবাইকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে।ঢাকায় কর্মরত ছেলে তার কাজ নিয়ে প্রচুর ব্যস্ত, গ্রামে থাকা বাবা-মা'র খোঁজ খবরও রাখেননা ঠিকমতো। উপায়হীন বাবা-মা কোনো উপায় খুঁজে না পেয়ে ঢাকায় ছেলের বাড়িতে যাওয়ার জন্য রওনা দিলেন।
ঢাকায় পৌছানোর পর সেখানে থাকা ছেলে এবং ছেলের বউসহ সবাই হঠাৎ বাবা-মাকে দেখে অবাক হয়ে গিয়েছে। তারা বলাবলি করছিলো ছোট ছোট রুম, এতগুলো মানুষ একসাথে ক্যামনে থাকবে৷
অথচ একই বাড়িতে ছেলের শাশুড়ী, শ্যালক,শালিকা অনেক আগে থেকেই একত্রে বসবাস করে আসছে। সমস্যা সৃষ্টি হলো মা বাপ ভাই আসার পর৷ ছেলের বাড়ির লোকজনের ক্ষুদ্র অপমান গায়ে মাখে না মা বাবা এবং ভাই৷ বসতভিটা ফেরানোর টাকার কথা বলতে গেলে ব্যস্ততা দেখিয়ে কথা এড়িয়ে যায় বড় ছেলে৷ ছোট ছেলেটার একটু বুদ্ধি কম, সাদাসিধা রকমের, কেউ একটু সুযোগ পেলেই ইচ্ছা মতো অপমান করে তাকে৷
একটা সময় পর যখন বাবা মা দেখলো ছেলের বাড়ির লোকজন তাদের নিরব অপমান করেই চলছে অবিরত।
তখন সিদ্ধান্ত নিলো তারা আর এ বাড়িতে থাকবে না৷ রাতারাতি তারা বেড়িয়ে পড়বো ছেলের বাড়ি থেকে৷ বের তো হলো, এখন যাবে কোথায়..? ঢাকায় একমাত্র থাকার জায়গা ছেলের বাসা, সেখানকার অপমানে অসহ্য তারা, আর ওদিকে নিজস্ব বসতভিটাও অন্যের দখলে৷ তারা এখন রাস্তায়, ফেরার পথ আপাতত বন্ধ।
শহরের এক রাস্তার কোণায় বসে রাস্তার পাশের ছোট একটি দোকান থেকে চা খাচ্ছিলো তিনজনে, এমত অবস্থায় দেখা হলো শিক্ষক বাবার এক ছাত্রের সাথে, যিনি পেশায় একজন শহরের রিকশা চালক। ছাত্র শিক্ষককে চিনতে পারলেও ছাত্রকে চিনতে শিক্ষককে একটু বেগ পোহাতে হয়েছিল। এটাই তো হওয়ার কথা।কারণ, এক স্কুল কিংবা এক ক্লাসে অনেক শিক্ষার্থীই থাকে, কত জনের চেহারা কিংবা নাম ভালোভাবে মনে রাখা সম্ভব...?
আজ এপর্যন্তই। পরবর্তী অংশগুলো ধারাবাহিক পর্বে প্রকাশ করবো।
আসলে বর্তমান সময়ে বাবা মায়েরা ছেলেদেরকে শিক্ষিত করে মানুষের মত মানুষ করে বড় চাকরি কিংবা ব্যবসা ধরিয়ে দেয় শুধুমাত্র শেষ বয়সে একটু ভালো থাকবে বলে কিন্তু বাস্তবতার কাছে তাদের হেরে যেতে হয় তারা যতই নিজেদের টাকা-পয়সা শেষ করে বাড়ি বন্ধক দিয়ে ছেলেদেরকে মানুষ করুক না কেন দিনশেষে দেখা যায় তারা তাদের শেষ বয়সে এসে সেই সুখটা উপভোগ করতে পারেনা।
আপনার লেখা থেকেও তেমনটাই বাস্তবতা পরিণত হয়েছে আসলে বাস্তবটা এতটাই কঠিন অনেকেই মেনে নিতে চায় না কিছু মেয়ের ক্ষেত্রে দেখা যায় তারা শশুর শাশুড়ির জন্য কোন কিছুই করতে নারাজ আমার মনে হয় এই মেয়েদেরকে গলা টিপে হত্যা করা উচিত কারণ তারা হয়তো বা ভুলে যায় আমি যদি আমার বাবা-মাকে নিজের স্বামীর টাকা দিয়ে নিজের বাড়িতে রাখতে পারি তাহলে তার বাবা মার দোষ এখানে কোথায়।
কিন্তু বর্তমান সমাজের ছেলেরা বিশেষ করে কিছু ছেলেরা একেবারেই অন্ধ তারা অন্ধের মত চলাফেরা করে তারা নিজেদের বাবা-মায়ের কষ্ট কখনোই চোখ দিয়ে দেখতে পায় না তারা দেখতে পায় শুধুমাত্র শশুর শাশুড়ির কোথাও সমস্যা হচ্ছে কিনা নিজের বউয়ের কথাও কোন সমস্যা হয়েছে কিনা পরবর্তী লেখা পড়ার অবশ্যই অপেক্ষায় রইলাম ধন্যবাদ।
আপনার মতামতটি মুল্যবান মনে হয়েছে আমার কাছে, সবাই যদি আপনার মতো করে ভাবতো...!