বাড়ির পথে রওনা!
Hello Everyone,,,
আপনারা সবাই জানেন দু'দিন আগে আমি মামা বাড়িতে গিয়েছিলাম। সেখানে বিয়ের অনুষ্ঠানে যুক্ত হওয়ার জন্য মূলত গিয়েছিলাম আমি। বিয়েও শেষ হলো, বৌ ভাতও শেষ হলো আর তার পরদিনই আবার বাড়িতে চলে এসেছি।
প্রায় এক বছর পর মামা বাড়িতে গিয়েছিলাম তাই আমাকে আসতেই দিচ্ছিলো না, কয়েকদিন থাকার জন্য অনেক বেশি জোর করছিলো তবে আমি চলে এসেছি। যদিও নদী আমি খুব ভালোবাসি তবে ওখানে মেলামেশার মতো তেমন কেউ নেই। যে যার মতো কাজে ব্যস্ত। একা একা সব সময় কি ভালো লাগে!
জোয়ার - ভাঁটা নদীর জীবনের অংশ। এটা চাইলেও কেউ আটকাতে পারে না এমনকি নদী নিজেও আকটাতে পারে না। ঠিক যেমনটা, মানুষ চাইলেও তার জীবনের অনেক কিছু পরিবর্তন করতে পারে না। এটা নিয়তি আর এটা মেনে নিয়েই প্রকৃতি তার গতিতে ছুটে চলেছে !
যত দিন যাচ্ছে নদী ভাঙ্গন বেড়েই চলেছে। প্রচলিত আছে, নদীর একপাশ গড়ে আর অন্যপাশ ভাঙ্গে। উপরের ছবিতে যেখানে মাছ ধরার জন্য জাল টানানো দেখতে পাচ্ছেন ওখানে ছিলো আমার মামাদের ঘরবাড়ি৷ ঘরের সামনে বড় উঠান ছিলো আর তার পাশে পুকুর। পুকুরের পাশ দিয়ে ছিলো বড় বড় নারকেল গাছ।
মামা বাড়িতে এসে চাঁদের আলোয় কত যে উঠানে পাটি বিছিয়ে শুয়ে আছি তার ঠিক নেই। রাতের বেলায় নদী দিয়ে যখন জাহাজ যেত তখন নানা রঙ্গের আলো জলতো যেটা দেখতে আরও বেশি ভালো লাগতো আমার।
তবে নদী ভাঙ্গনে আজ সব কিছু নদীতে মিশিয়ে গিয়েছে। এখন নদীর থেকে অনেকটা ভিতরে গিয়ে বাড়ি করেছে এখানকার সবাই। এখন মামা বাড়িতে আসলে যখন নদীর পাশ দিয়ে হাঁটাহাটি করি তখন চোখ যায় সেসব স্থানে যেখানে বাড়ি ঘর ছিলো।
আমার দাদু বলে, যখন আমার মায়ের বিয়ে হয়েছিলো তখন এই নদী নাকি এত বড় ছিলো না। এখনকার অর্ধেক ছিলো তখন। তবে সময়ের সাথে সাথে নদী তার চলার পথকে আর বড় করে ফেলেছে। এখন নদীর পাশ দিয়ে বড় বড় কোম্পানি গড়ে উঠছে। নদীর পাশেই এখানে গ্যাস তৈরির কোম্পানি তৈরি করা হচ্ছিলো। অনেক দিন কাজও হয়েছিলো তবে কিছু আইনি সমস্যার কারনে কাজ সম্পূর্ণ করতে পারিনি। কোটি কোটি টাকার জিনিসপত্র নদীর পাশেই এমন অর্ধ প্রস্তত অবস্থায় পড়ে আছে।
আজ মামা বাড়ি থেকে আবারও বাড়িতে ফিরছি। যদিও যাওয়ার সময় গাড়িতেই গিয়েছিলাম তবে গাড়িতে গেলে তিনবার নদীতে পেরোতে হয় এবং সময়ও বেশি লাগে। অন্য দিকে নদী পথে গেলে একবারে চালনাতে চলে যাওয়া যায়।
তবে বর্তমানে নদী পথে যাওয়ার জন্য ট্রলার পাওয়া যায় না। সৌভাগ্যবশত আমরা একটা ট্রলার পেলাম যেটা চালনাতে আসছে। তাই আমরা সেই ট্রলে উঠে পড়লাম। অনেক দিন নদীর বুক চিরে ছুটে চলা হয় না।
নদীর পাশ দিয়ে তৈরি হয়েছে বড় বড় কোম্পানি যেগুলো বছর কয়েক আগে ছিলো না। নদী পথে যাতায়াত বা মালামাল পরিবহন করতে সুবিধা হয় বলে নদীর পাশেই কোম্পানিগুলো গড়ে ওঠে। আর কবে মামা বাড়ি আসবো জানি না, তবে নদীর সৌন্দর্যের টানে বারবার আসতে মন চায়!
এমন স্মৃতির কথা পড়ে সত্যিই ভালো লাগলো। নদীর পাশ দিয়ে যাতায়াত, পুরনো বাড়ি ঘর, সব কিছুই যেন জীবনের সাথে এক হয়ে গেছে। আপনার লেখার মধ্যে একটি বিশেষ অনুভূতি আছে দাদা যা আমাকে পুরনো দিনের কথা মনে করিয়ে দেয়। আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ দাদা এত সুন্দর একটি পোষ্ট আমাদেরকে উপহার দেওয়ার জন্য।
আমাদের এখানে নদী নেই তাই নদীর পথে যাত্রা করার সৌভাগ্যটা আমাদের হয়ে ওঠেনি আসলে নদীতে যখন জোয়ার ভাটা দেখা যায় তখন কিন্তু নদী এভাবে একেবারেই শুকিয়ে যায়। আপনার দাদু ঠিকই বলেছিলাম যখন আপনার মায়ের বিয়ে হয়েছিল তখন তো অনেক আগের কথা বছরের ব্যবধানে এখন অনেক কিছুই পরিবর্তন হয়ে গেছে ঠিক তেমনি নদী তার ভাঙ্গনের পরিবর্তে এখন অনেকটা বড় হয়ে গেছে অসংখ্য ধন্যবাদ মামার বাড়ি থেকে আসার পথে নদী পথের গল্প আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য ভালো থাকবেন।
ছোটবেলা যখন মামা বাড়িতে যেতাম তখন আমার মামা বাড়ির সামনেই নদী ছিলো। নদী দিয়ে বড় বড় জাহাজ চলাচল করো আর বাড়ির বারান্দায় বসে সেগুলো দেখে খুব মজা পেতাম। তবে নদী ভাঙ্গনের কারনে নদী থেকে কিছুটা ভিতরের দিকে এসে নতুন করে বাড়ি তৈরি করেছে সবাই। নদী পাড়ের মানুষের বাসস্থান অস্থায়ী। ভালো থাকবেন।
অনেকেই বলতে শুনেছি জোয়ার ভাটার সময় নদীর ভাঙ্গনে তাদের বাড়িঘর সব নিয়ে যাচ্ছে আসলে নদীর পাড়ে যারা বাড়ি তৈরি করে তাদের শান্তি মতো সেই বাড়িতে থাকতে দেয় না এই নিঠুর নদী ভেঙে নিয়ে যায় আমাদের এখানে নদী নেই যার কারণে এই দৃশ্যগুলো আমরা দেখতে পারি না যাই হোক নদী থেকে একটু ভিতরের দিকে গিয়ে নতুন বাড়ি করেছে বেশ ভালো করেছে তা না হলে প্রতিনিয়ত এভাবে বাড়ি ভাঙতে থাকলে সঠিকভাবে পৃথিবীতে বেঁচে থাকা কখনোই হবে না।